The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৩, ৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অবশেষে আটক ১২ বাম নেতা-কর্মীকে ছেড়ে দিল পুলিশ | জয়পুরহাটে বিজিবির গুলিতে দুইজন নিহত | রাজশাহীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা | আশুলিয়ার ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা | কিশোরগঞ্জ উপনির্বাচন ৩ জুলাই, গাজীপুর সিটি নির্বচন ৬ জুলাই | মানবতাবিরোধী অপরাধ: কায়সারের জামিন আবেদন নাকচ | সরকারি করা হলো ৮ কলেজ | মাহমুদুরের মা ও সংগ্রাম সম্পাদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট | আটকে গেল দুই ডিসিসির নির্বাচন | রাজধানীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২ | সাভার ভবন ধস: ১২১ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রধান | ৫ পোশাক মালিক ও রানাকে যাবজ্জীবন সাজার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

টিভি সম্প্রচার বন্ধকরণ আইন প্রসঙ্গে

(প্রথম পৃষ্ঠার পর)

বন্ধের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক দিগন্ত ও ইসলামিক টিভির অনুকূলে ইতোপূর্বে বরাদ্দকৃত তরঙ্গ স্থগিত করার মাধ্যমে। এর পেছনের কাহিনী এই যে, ৫ মে সন্ধ্যা হতে ঐ দুই টিভি জনশান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার লক্ষ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করছিল উল্লেখ করে তা আশু বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে। এতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের করণীয় কিছু নেই বলে ওই দায়িত্ব বিটিআরসিকে দেয়া হয়। বিটিআরসি তরঙ্গ হাতিয়ার ব্যবহার করে তাত্ক্ষণিকভাবে ঐ দুই টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এই দুই টিভির সম্প্রচার বন্ধে উদ্বেগ প্রকাশ এবং সম্প্রচার অবিলম্বে চালুর দাবি করে ১৫টি দৈনিকের সম্পাদক বিবৃতি দিয়েছেন। শাপলা চত্বরের ঘটনায় টিভি চ্যানেল দুটি যে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছে তাতে তারা ১৮৬০ সানের দণ্ডবিধির ১৫৩ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন। এটা ধর্তব্য অপরাধ। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করা সংগত ছিল কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদিকে অগ্রসর হয়নি। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কোন ব্যক্তিকে আটক রাখার যে বিধান আছে তা সকলের বিবেচনায় কালো আইন কিন্তু সেই আইনের ৬ ধারায় আটককৃত ব্যক্তিকে আটকের পনর দিনের মধ্যে কারণ অবহিত করতে হবে যাতে তিনি তার বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না। কিন্তু সরকার বা বিটিআরসি চ্যানেল দুইটির সম্প্রচার বন্ধ রাখার কোন কারণ এ পর্যন্ত তাদের জানা নেই, এমনকি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থেও প্রকাশ করেনি। এটা দারুণভাবে সুসাশনের পরিপন্থি। অপরদিকে দিগন্ত টিভি তার ওয়েবসাইটে লিখে প্রকাশ করেছে যে, "সোমবার (৬ মার্চ ২০১৩) ভোর ৪ : ২৪ মিনিটে দিগন্তের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।" তার নিচে লিখেছে যে, "বাংলাদেশের কোটি মানুষের প্রিয় টিভি চ্যানেল দিগন্ত টেলিভিশন সরকারের নির্বাহী আদেশে বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ, র্যাব ও বিটিআরসি। .............তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা সৃষ্টিতে সরকারের এহেন সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক।" সত্যই তারা হতবাক। বাকরুদ্ধতার কারণেই তারা ওয়েবসাইটে এসব কথা লিখে বিশ্বকে জানান দিচ্ছে।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হয় ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে। সেই সময় দিগন্ত ও ইসলামিক টিভিকে সম্প্রচারের জন্য আলাদা আলাদা অনাপত্তিপত্র দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। দিগন্ত টিভির উদ্যোক্তা জামায়াতে ইসলামীর মীর কাশেম আলী এবং ইসলামী টিভির উদ্যোক্তা তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর আপন ভাই মরহুম মেজর (অব.) সায়ীদ ইস্কান্দার। অনাপত্তিপত্র নিয়ে তারা বিটিআরসির নিকট প্রয়োজনীয় তরঙ্গ বরাদ্দ চায় এবং যথাসময়ে পেয়েও যায়। ২০০৭ সালের এপ্রিলে ইসলামিক টিভি এবং ২০০৮ সালের আগস্টে দিগন্ত টিভি সম্প্রচার শুরু করে। কিন্তু টিভি সম্প্রচার চালাতে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহূত হয় সেগুলোর আইনগত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স আছে কিনা সেই প্রশ্ন কেউ করেনি। প্রকৃতপক্ষে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী টিভি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে কি কি কাগজপত্র ও লাইসেন্স অপরিহার্য তা আলোচনার আগে একটু নিকট অতীতের দিকে তাকানো প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে টিভি সম্প্রচার বন্ধের এটা দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে একুশে টিভি বন্ধ করা হয়েছিল ২০০২ সালে। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায়। জনসাধারণের মাঝে এই কথাটি বেশ চালু করা হয়েছিল যে, সরকার একুশে টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে একুশে টিভির মালিক আবু সায়ীদ মাহমুদের নিজের দোষেই উচ্চ আদালতের রায়ে চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে চ্যানেল আই-এর উদ্যোক্তাগণ স্যাটেলাইট নিউজ গেদারিং ইকুইপমেন্ট (এসএনজিই) আমদানি করে। তা বন্দরে এসে পৌঁছামাত্র একুশে টিভির এ এস মাহমুদ সাহেব কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট এই মর্মে আপত্তি দায়ের করেন যে, চ্যানেল আই-এর উদ্যোক্তা কর্তৃক আমদানিকৃত এসএনজিই-এর অনুকূলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র নেই এবং কোন লাইসেন্সও নেই। সেই আপত্তি পেয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসএনজিই আটক করে রাখে। তখন ফরিদুর রেজা সাগর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন যে, ১৯৯৭-২০০২ আমদানি নীতি আদেশ এবং ১৯৩৩ সালের ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট বিধান না জানার কারণে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র ও লাইসেন্স ব্যতিরেকে এসএনজিই আমদানি করে ভুল করে ফেলেছেন। তারা সেজন্য মার্জনা চান। তখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মঈনুল হোসেন চৌধুরী ভ্রান্তি মার্জনা করে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র ইস্যু করার ব্যবস্থা করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাগণ ডাক বিভাগের মহাপরিচালকের নিকট হতে ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট, ১৯৩৩-এর ধারা ৫ অনুসারে লাইসেন্স গ্রহণ এবং অনাপত্তিপত্র ও লাইসেন্সের কপি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করে এসএনজিই ছাড় করিয়ে নেন। পরে বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ডের স্পেক্ট্রাম কমিটির নিকট হতে তরঙ্গ বরাদ্দ নেন এবং চ্যানেল আই টিভি সম্প্রচার শুরু করেন।

এদিকে আমদানি নীতি আদেশ অনুসারে টিভি সম্প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির পূর্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ না করে এবং ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট অনুসারে লাইসেন্স না নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে বেআইনি চুক্তি করে একুশে টিভি সম্প্রচার চালাচ্ছে মর্মে অভিযোগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসির অধ্যাপক চৌধুরী মাহমুদ হাসান, অপর একজন শিক্ষক এবং সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর-৫০৫০/২০০১ দায়ের করেন। প্রসংগত স্মর্তব্য যে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ৬ সেপ্টেম্বর ২০০১ তারিখের এক পত্রমূলে একুশে টিভির অনুকূলে প্রয়োজনীয় লাইসেন্সাদি সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ করলে এএস মাহমুদ বলেন যে, তদ্রূপ লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। কারণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পাদিত তার চুক্তির বিষয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ হাইকোর্ট এক রায়ে একুশে টিভির সম্প্রচার অবৈধ ঘোষিত করে [৫৪ ডিএলআর পৃষ্ঠা ৫৩৭-৫৫০]। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সিপিএলএ নং-৫০৪, ৫১০, ৫১৬, ৫১৭ এবং ৬৩৬/২০০২ দায়ের হয়। এসব সিপিএলএ একসাথে শুনানি শেষে ২০০২ সালের ২ জুলাই প্রদত্ত রায়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন [৫৪ ডিএলআর (এডি) পৃষ্ঠা ১৩১-১৪৬]। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিউ পিটিশন নং ৭৮, ৭৯ এবং ৮০/২০০২ দায়ের হয়। সেই পিটিশন তিনটির উপর একসাথে শুনানি করে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট পূর্ব রায় বহাল রাখা হয় [৫৪ ডিএলআর (এডি) পৃষ্ঠা ২৬-৩০]। অর্থাত্ একুশে টিভি যে বিনা লাইসেন্সে অবৈধভাবে চালানো হচ্ছিল তা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়। এসব রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, টেলিভিশন সম্প্রচারের যন্ত্রপাতি আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট আমদানি নীতি আদেশ অনুসারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বা ক্ষেত্রমত বিটিআরসি হতে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। তারপর ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট, ১৯৩৩-এর ধারা ৫ অনুসারে বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের ডাইরেক্টর জেনারেলের নিকট হতে লাইসেন্স নিতে হবে। দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভির সেই অনাপত্তিপত্র ও লাইসেন্স ছিল কিনা তা না দেখেই তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের অনুকূলে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে এবং বিটিআরসি তরঙ্গ বরাদ্দ করেছে। অর্থাত্ চ্যানেল দুইটির অপরাধমূলক কাজে তারা সহায়তা করেছে। আমদানি নীতির বিধান অনুসারে টেলিভিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনাপত্তিপত্র নেয়া অপরিহার্য। অনাপত্তিপত্র ব্যতিরেকে টেলিভিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতি আমদানি করা ইম্পোর্টস এন্ড এক্সপোর্টস (কন্ট্রোল) এ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ৫ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ। ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট, ১৯৩৩-এর ধারা ৫-এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ না করে টেলিভিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতি ধারণ করা বা দখলে রাখা ঐ আইনের ৬ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্তযোগ্য। উল্লিখিত অপরাধ দুইটি অধর্তব্য বিধায় এ সংক্রান্ত মামলা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দায়ের করতে হবে। সরাসরি থানায় দায়ের করা যাবে না। তবে মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দায়েরের পর ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারা অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট তা থানায় পাঠাতে পারবেন । সেইক্ষেত্রে থানা তদন্ত সম্পন্ন করে ১৯৪৩ সালের পুলিশ প্রবিধানমালার প্রবিধি ২৫৪ মোতাবেক নন-এফআইআর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দাখিল করবে। তারপর বিচার হবে। বিচারে আসামি দোষী সাব্যস্ত হলে টেলিভিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্তির আদেশ দিবেন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট। একুশে টিভির মামলায় টেলিগ্রাফ এ্যাক্ট, ১৮৮৫-এর প্রসঙ্গটিও উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু আদালত কোন সিদ্ধান্ত দেননি। ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট, ১৯৩৩-এর ধারা ৫-এর উপ-ধারা (২)-এ বিধান করা হয়েছে যে, টেলিগ্রাফ এ্যাক্ট, ১৮৮৫-এর ধারা ৪-এ যা কিছু থাকুক না কেন টেলিভিশন গ্রহণ যন্ত্রের জন্য সেই আইনে কোন লাইসেন্স প্রয়োজন হবে না। এর অর্থ দাঁড়ায় যে, টেলিভিশন সম্প্রচার যন্ত্রের ক্ষেত্রে টেলিগ্রাফ এ্যাক্ট, ১৮৮৫-এর ধারা ৪-এর অধীনও লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে এবং তদ্রূপ লাইসেন্স ব্যতিরেকে টেলিভিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন, সংরক্ষণ বা পরিচালন ধারা ২০- এর অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ যা অধর্তব্য। আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম এবং একমাত্র জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা, ১৯৯৮ প্রণয়ন ও প্রবর্তন করে। সেই নীতিমালার ৯ অনুচ্ছেদে নির্ধারণ করা হয়েছিল যে, টেলিগ্রাফ এ্যাক্ট ১৮৮৫, ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট ১৯৩৩, রেডিও ব্রডকাস্টিং এ্যাক্ট ১৯৭৫ এবং টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং এ্যাক্ট ১৯৬৫, ইত্যাদি আইনসমূহ একত্র করে একটি টেলিযোগাযোগ আইন প্রণয়ন করতে হবে। তারপর প্রায় ৩ বছর কসরত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১ প্রণয়ন করা হয়। সেই আইনের ৪ ধারায় দেখা যায় যে, টেলিগ্রাফ এ্যাক্ট ১৮৮৫ এবং ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট ১৯৩৩ যথারীতি বহাল রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১-এর ধারা ৫৫ পাঠে প্রতীয়মান হয় যে, টিভি সম্প্রচার যন্ত্রপাতির জন্য সেই ধারায়ও লাইসেন্স নিতে হবে। প্রকৃতপক্ষে তদ্রূপ লাইসেন্স নিতে হবে না। কারণ আইনটির ধারা ৩- এর উপ-ধারা (২)-এ বিধান করা হয়েছে যে, ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া টেলিভিশন সম্প্রচার সংক্রান্ত অন্য কোন ক্ষেত্রে আইনটি প্রযোজ্য হবে না। যেসব চ্যানেল ইম্পোর্টস এন্ড এক্সপোর্টস (কন্ট্রোল) এ্যাক্ট ১৯৫০ বা ওয়ারলেস টেলিগ্রাফি এ্যাক্ট ১৯৩৩-এ অপরাধ করে চলেছে তাদের সেই অপরাধের ব্যাপারে এখন মামলা দায়ের করতে গেলে কেউ কেউ হয়তো ভাববেন যে, এতদিন পর কিভাবে মামলা করবো ? তাদের স্মরণ রাখা দরকার যে, বাংলাদেশের আইনে অপরাধের তামাদিসীমা নেই। ১৯৭৫ সালে সংঘটিত বঙ্গবন্ধু হত্যা সংক্রান্ত মামলার বিচার হয়েছে অনেক বছর পর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও হচ্ছে অনেক বছর পর। কোন কোন সরকারি কর্মকর্তা মামলা করার দায়িত্ব পরিহার করে চলতে চান। তাদের স্মরণে রাখা দরকার যে, অপরাধের মামলা দায়ের করার দায়িত্ব যার তিনি যদি তা না করেন তাতে তিনি ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ২০২ ও ২১৭ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ করবেন এবং সেজন্য তার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করে দিয়ে তাকে ঝুলিয়ে দিতে পারে।

লেখক :আইন ও সংবিধানের একজন বিশ্লেষক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ড. আকবর আলি খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণে গণভোট হতে পারে। তার এই বক্তব্য আপনি কি সমর্থন করেন?
4 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ১৭
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :