The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৩, ৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অবশেষে আটক ১২ বাম নেতা-কর্মীকে ছেড়ে দিল পুলিশ | জয়পুরহাটে বিজিবির গুলিতে দুইজন নিহত | রাজশাহীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা | আশুলিয়ার ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা | কিশোরগঞ্জ উপনির্বাচন ৩ জুলাই, গাজীপুর সিটি নির্বচন ৬ জুলাই | মানবতাবিরোধী অপরাধ: কায়সারের জামিন আবেদন নাকচ | সরকারি করা হলো ৮ কলেজ | মাহমুদুরের মা ও সংগ্রাম সম্পাদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট | আটকে গেল দুই ডিসিসির নির্বাচন | রাজধানীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২ | সাভার ভবন ধস: ১২১ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রধান | ৫ পোশাক মালিক ও রানাকে যাবজ্জীবন সাজার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

প্রবাসী নারী কর্মীদের নিরাপত্তা

নূর-এ-জান্নাতুল ফেরদৌস রুহী

ঘটনা ১: সমপ্রতি সরকার বিদেশগামী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষা, দেশীয় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা ও ভিসা ট্রেডিং রোধ, রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান এবং বিদেশ ফেরত শ্রমিকের মামলা করার অধিকার ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে 'বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩'-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আইনে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা বা এ ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং অধিকারের বিষয়টিকে বাদ রেখে শুধুমাত্র অভিবাসনের কার্যপ্রণালীগত বিভিন্ন দিক নিয়ে ১৯৮২ সালের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী অধ্যাদেশটিকে যুগোপযোগী করতে এ আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মানব পাচারের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিল-২০১২' আইনে বলা হয়েছে— ভয় ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করে কোনো ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে যৌন শোষণ, শ্রম শোষণ বা নিপীড়নের উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা ক্রয় বা আটক করে রাখলে এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। কিন্তু সরকার নিজেই যখন এই জনশক্তি রপ্তানিকে 'বাণিজ্য' হিসেবে দেখছে, তখন এই আইনের প্রয়োগ কতটা সম্ভব— এমন প্রশ্ন সহজেই চলে আসে।

ঘটনা ২: সরকারি ব্যবস্থাপনায় গৃহপরিচারিকার কাজে জর্ডানে পাঠানো ১৮ জনের এক দল নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে খালি হাতে এই বছর মার্চে দেশে ফিরে আসেন। এই দলের দুইজন নারী জর্ডানে ২২ দিনের মধ্যে তিনটি বাড়িতেই গৃহকর্তা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হন। নির্যাতনের শিকার ও অতিরিক্ত পরিশ্রমে অসহ্য হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিলে তাদেরকে খালি হাতে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে তাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে জানান। গত মাসের শেষের দিকে একটি দৈনিকের এ ধরনের একটি খবর থেকে আরো জানা যায়, তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক টিটিসি যে তথ্যসহায়িকা দিয়েছে, তার পুরোটা জুড়েই রয়েছে নিরাপদ যৌনাচরণ বিষয়ে পরামর্শ। চলতি বছর সরকার আবার নতুন করে কয়েক হাজার নারীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৭ এপ্রিল থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং দালাল বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীরাই নারীদের চাকরির নামে পাচার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ আছে যে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো নারী শ্রমিকদের শর্ত ও চুক্তি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে সে দেশের বাসাবাড়ি এবং হোটেলে আটকে রেখে দেহব্যবসায় বাধ্য করছে। এজন্য সচেতন নারী ও তার পরিবার নিরাপত্তার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু সরকারও যদি নারীর সেই নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে প্রবাসী একজন নারীর নিরাপত্তাটা আসলে কোথায়?

কোনো সন্দেহ নেই, বাংলাদেশের উন্নয়নে নারী শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। গ্রামের পরিবারে কৃষিকাজে নিজেদের শ্রম থেকে শুরু করে বিদেশে তাদের ঘর্মাক্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবেই বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও এমনটাই মনে করেন। তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন, এ দেশের উন্নয়নে নারীদের অবদান এই অঞ্চলে অন্য যে কোনো দেশের নারীদের তুলনায় অনেক বেশি (২০১১)। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রফেসর নাসরীন খন্দকার সম্পাদিত গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড জেন্ডার-চেঞ্জিং প্যাটার্নস অফ ওম্যান অ্যাপ্লোয়েমেন্ট ইন বাংলাদেশ (২০০১) গবেষণা-কর্মের কম্পাইল গ্রন্থে বাংলাদেশে বিশ্বায়ন এবং অর্থনীতির ধারার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনীতিতে নারীর অবদানগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এদেশে ১৯৯০ সাল থেকে বিদেশে নারী জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ১৯৯১ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নারী জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ২০০,০০০ জন। ২০১২ সালে নারী শ্রমিক রপ্তানি করা হয়েছে ৩৭,৩০৪ জন। ২০১২ সালের আর্থিক বছরে রেমিটেন্স অর্জিত হয়েছে ১২.৮ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশের জিডিপির ১১ শতাংশ। নারীকর্মীরা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন ১,৪১৬ কোটি ডলার। অথচ তাদের ভালো-মন্দ, সুযোগ-সুবিধা, ন্যূনতম নিরাপত্তা দেখার জন্যও কোনো মহলে তত্পরতা নেই! এবার হয়রানির অভিযোগটা উঠলো সরকারি ব্যবস্থাপনাতেও।

বিষয়টা গা-সওয়া যেন!

প্রবাসী নারী শ্রমিকেরা বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি-হয়রানি ও বেতন-বৈষম্য এমনকি খুনের শিকারও হচ্ছেন অনেকে। মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের দেশে এ সমস্যাগুলো বেশি। এসব দেশে প্রায়ই দেখা যায়, নার্সের ও গৃহপরিচারিকার কাজ দেওয়ার কথা বলে নিচুস্তরের কাজ করতে দেওয়া হয়। গৃহপরিচারিকার কাজের নামে দেহব্যবসার মতো অনৈতিক কাজও করানো হচ্ছে। এতে রাজি না হলে তাদের খাবার না দেওয়া, ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া, মেরে ফেলার হুমকি, কখনো কখনো মেরে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটছে। আবার কখনো পাসপোর্ট জব্দ করার হুমকি প্রদান করা হয়। পাসপোর্ট না থাকার অভিযোগে একবার ধরা পড়লে দীর্ঘমেয়াদের জেল তো রয়েছেই, সেইসঙ্গে আছে নানান ভোগান্তি। এদিকে পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের মেয়েকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয় না। কারণ এজেন্সি বা দালালরা একবার কাউকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না বলে অভিযোগ আছে। আবার নারীরা অনেক সময় পাচার গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্নভাবে নিয়ে গিয়ে পতিতাপল্লীতে বিক্রিও করা হয়। শুধু চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানই যে প্রতারণা করছে তা নয়, দেশে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও বিভিন্নভাবে প্রতারণা করছে। ভুক্তভোগীরা এসব প্রতারণা বুঝতে পারেন বিদেশে যাওয়ার পর। এসব ক্ষেত্রে শ্রমিকরা দূতাবাসের শরণাপন্ন হলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। ফলে অনেকেই ফিরে আসেন খালি হাতে।

২১ দিনের প্রশিক্ষণ

বর্তমানে সরকারের বিএমইটি পরিচালিত প্রায় ৩৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাত্র ৬টি কেন্দ্র নারী শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ। এগুলোতে ভাষা, সংস্কৃতি, কমপিউটার, নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলেও গৃহকর্মীদের দেশভেদে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান প্রদানের জন্য হাউজকিপিং ট্রেডে মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা রয়েছে। গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো নারীদের ইন্দোনেশিয়ায় ৬ মাসের এবং ফিলিপাইনে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যারা এসব দেশ সম্পর্কে কিছুই জানে না তাদের ২১ দিনের প্রশিক্ষণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বিবেচনার দাবি রাখে। এছাড়া সমপ্রতি জর্ডান ফেরত দুই গৃহকর্মীর অভিযোগে জানা যায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার নামে টিটিসি তথ্যসহায়িকার পুরোটাই নিরাপদ যৌনাচরণ বিষয়ে পরামর্শ। তবে কি সরকারও সজ্ঞানে বিষয়টিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে?

জর্ডানে মানবাধিকার লঙ্ঘন, তবুও সরকারের আগ্রহ!

ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং শ্রীলংকা প্রায় ৭০ হাজারের মতো গৃহকর্মী জর্ডানে রপ্তানি করে। কিন্তু ২০০৬ সালে ফিলিপাইন এবং ২০১০ সালে শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়া সরকার জর্ডানে জনশক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যৌন নির্যাতন, পাসপোর্ট বাজেয়াপ্তকরণ, ঘরের মধ্যে বন্দি রাখা, বেতন পরিশোধ না করা এবং কোনো ধরনের ছুটি ছাড়াই দীর্ঘসময় কাজ করানো। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রম বাজার ধরতে এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখা দেয়।

গত বছর জর্ডান এবং বাংলাদেশ সরকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী জর্ডান সরকার বাংলাদেশী নারী শ্রমিক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০০৬ সালে জর্ডান সরকার বাংলাদেশী শ্রমিক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ২০১০ সালে এটা কিছুটা শিথিল করে তখন শুধু নারী শ্রমিকদের গার্মেন্টে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। গত বছর এমওইউ চুক্তির মাধ্যমে নারী শ্রমিকদের কাজের পরিধি বেড়ে যায়। বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশের প্রবাসী নারী জনশক্তির প্রায় নয় ভাগই আছে জর্ডানে। গত বছর প্রায় সাড়ে ১১ হাজার নারী শ্রমিক জর্ডানে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছেন। অথচ জর্ডানে এসব নারীকর্মী প্রায়ই যৌন হয়রানিসহ নানা রকম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, এমনকি এই নির্যাতনে কেউ কেউ প্রাণও হারাচ্ছেন।

২০০৩ সালে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য জর্ডান প্রথম আরব দেশ হিসেবে 'ইউনিফাইড স্টান্ডার্ড কনট্রাক ফর ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স' গ্রহণ করে। এবং ২০০৮ সালে জর্ডান সরকার এমনকি লেবার ল'-কেও এটার সঙ্গে সংযুক্ত করে। ২০০৯ সালে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট করে আইন করে। যেমন: দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা করে কাজ, দৈনিক সর্বনিম্ন ৮ ঘণ্টার বিরতিহীন বিশ্রাম, সপ্তাহে একদিন ছুটি বরাদ্দ এবং সময়মতো বেতন পরিশোধ করা। আবার ওই বছরই মানব পাচারের বিরুদ্ধেও তারা একটি আইন পাস করে। বছর বছর আইন করলেও এসব আইনের কোনো চর্চা এখনো সেখানে দেখা যায় না।

প্রকৃতপক্ষে, জর্ডানের আইন এখনো একজন প্রবাসী কর্মীর চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখে, নিয়োগকারীর বাসায় থাকার জন্য জোরারোপ করে। এমনকি শ্রমিকের সকল জিনিস নিজের কাছে রাখতেও অনুমোদন দেয় না। এগুলোর মধ্যে পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন নম্বরও আছে। চুক্তি শেষ হয়ে গেলেও শ্রমিককে তার নিয়োগকারী পরিবর্তন করার অধিকারও প্রদান করে না। বাসস্থানের বৈধ অনুমোদন না থাকা শ্রমিকদের ওপর জর্ডান সরকার কর আরোপ করে, অথচ এই বাসস্থানের অনুমোদনদাতা সেই নিয়োগকারী, যা সে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেয় না। আবার বৈধ বাসস্থানের অনুমোদন দিলেও পুলিশ সেসব শ্রমিককেও আটকে রাখে। কারণ নিয়োগকারীরা তাদের 'পলায়নরত' হিসেবে নিবন্ধন করেন।

ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং শ্রীলংকা জর্ডানে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ করলেও এটা বাংলাদেশের জন্য বিশাল একটা সুযোগ হয়ে আসে। এমন নিষেধাজ্ঞা আসায় জর্ডান সরকারও দ্রুত বাংলাদেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে শ্রমিক আমদানিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার শুধু তার বৈদেশিক আয়, রেমিটেন্সের কথাই বিবেচনা করেছে, বিবেচনা করেনি জর্ডানে প্রবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন ভয়াবহ চিত্রের কথা।

আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রবাসী নারীর অধিকার

আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ ১৯৯০ সালে সকল প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের অধিকারের নিরাপত্তা বিধান করতে কনভেনশন করে। এখানে প্রবাসীদের জন্য নতুন করে কোনো আইন করা হয়নি বরং এখানে দেশের নাগরিক শ্রমিকের মৌলিক অধিকারগুলোই প্রবাসীদের প্রাপ্য করা হয়েছে। কাজের পরিবেশ, সম মজুরি, শ্রমের জন্য নির্ধারিত সময়, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান যা দেশের শ্রমিকরা দাবি করেন। একইসঙ্গে এটা তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য আইনি বিধান রাখে। এছাড়াও নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ-১৯৭৯ বা সিডো সনদের প্রতিটা অনুচ্ছেদই প্রবাসী নারীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। সিডো সনদে প্রবাসী নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার কথা সাধারণ সুপারিশ ২৬-এ সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। এছাড়া সিডোর অনুচ্ছেদ ৬-এ নারী পাচার রোধ, অনুচ্ছেদ ১১ (১)-এ কর্মসংস্থানে সকল মানুষের মৌলিক অধিকার এবং অনুচ্ছেদ ১৫-তে নারী আইনগত এবং নাগরিক অধিকারের বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, জাতিসংঘ কনভেনশন এবং সিডো সনদের যথার্থ প্রয়োগই প্রবাসী নারীকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। আর এ দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই। প্রবাসী নারীদের নৈতিক এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তারা দেশে বিজ্ঞ মহলের সঙ্গে বহুপাক্ষিক-দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে পারে। একটি নৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে হয়রানিগুলোকে চিহ্নিত করে প্রবাসী নারীদের নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক শনাক্ত করতে পারেন। প্রবাসী নারীদের সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশে এবং প্রবাসে নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় এখনই যথার্থ পদক্ষেপ নিতে হবে।

জনশক্তি ব্যবসা বহু ক্ষেত্রেই প্রতারণার সমার্থক বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিদেশে কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা যায় তাদের জনপ্রতি খরচ সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের নাগরিকদের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি। মূলত নারী শ্রমিক বিদেশে এমন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ার জন্য অনেকেই দায়ী হলেও আমাদের শ্রম মন্ত্রণালয় এর জন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করেছে এমন দৃষ্টান্ত আজো দেখা যায়নি। অনেক সময় দেখা যায়, এমনকিছু ঘটনার জন্য সরকার রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহের শুধু লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করে সব দায় শেষ করে। কিন্তু যে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একজন নারীর জীবনকে অন্ধকারের পথে ঠেলে দিয়েছে, তাদের আরো কঠিন শাস্তির দরকার। এমন একটি চক্রে যদি সরকারও গা ভাসিয়ে দেয় তবে ক্ষুদ্র স্বার্থের মাঝে বৃহত্ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, অভিবাসন দারিদ্র্য দূরীকরণের একটা উপায়। এটা ব্যক্তির দারিদ্র্য দূর করার মাধ্যমে একটি সমপ্রদায়ের দারিদ্র্য দূর করছে এবং সর্বোপরি এটা জাতির বৃহত্ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অনিরাপদভাবে প্রবাসে যাওয়া নারীদের দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংগঠিত নীতি এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অভিবাসনকে নিরাপত্তা দিতে হবে।

ঢাকা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ড. আকবর আলি খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণে গণভোট হতে পারে। তার এই বক্তব্য আপনি কি সমর্থন করেন?
1 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৪
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :