The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৩, ৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অবশেষে আটক ১২ বাম নেতা-কর্মীকে ছেড়ে দিল পুলিশ | জয়পুরহাটে বিজিবির গুলিতে দুইজন নিহত | রাজশাহীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা | আশুলিয়ার ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা | কিশোরগঞ্জ উপনির্বাচন ৩ জুলাই, গাজীপুর সিটি নির্বচন ৬ জুলাই | মানবতাবিরোধী অপরাধ: কায়সারের জামিন আবেদন নাকচ | সরকারি করা হলো ৮ কলেজ | মাহমুদুরের মা ও সংগ্রাম সম্পাদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট | আটকে গেল দুই ডিসিসির নির্বাচন | রাজধানীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২ | সাভার ভবন ধস: ১২১ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রধান | ৫ পোশাক মালিক ও রানাকে যাবজ্জীবন সাজার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান নিয়েই আটকে যাচ্ছে সব কিছু

আওয়ামী লীগ চায় নির্বাচিতদের নিয়ে সরকার গঠন; কিন্তু বিএনপি চায় নির্দলীয় কাউকে, সংবিধান অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হতে হবে

আশিস সৈকত

দশম সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের অবসান হচ্ছে না। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদ্ধতির ব্যাপারে তাদের অবস্থানের এখনও তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। সবচেয়ে বেশি সংকটের জায়গা তৈরি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান কে হবেন তা নিয়ে। ফলে ক্রমশ এক অনিশ্চিত অবস্থার দিকে যাচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচনের ভবিষ্যত্। সংবিধান অনুসারে, আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে।

সরকারি দল আওয়ামী লীগ পরিষ্কারভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা নির্বাচিতদের মধ্য থেকে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার কথা বলছেন। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী ওই সরকারে প্রধানও হবেন একজন নির্বাচিত ব্যক্তি। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সরকার প্রধান থাকবেন কিনা তা নিয়ে সরকারি দলে নানা রকম কথা শোনা যাচ্ছে।

যদিও গত রবিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিরোধী দল আলোচনায় বসলে সেখানেও ঠিক হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হবেন। তিনি বলেন, সংবিধানে যা আছে সে মতেই যদি হয় তাহলেতো আর আলোচনার দরকার পড়ে না। বিরোধী দলের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েই তো সরকার আলোচনা করতে চায়। সেখানেই হয়ত ঠিক হতে পারে সব কিছু।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ইত্তেফাককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সংলাপের আহ্বান করেছেন, তাতে সাড়া দিলে অনেক সংকটেরই সমাধান হতে পারে। বিরোধী দলের উচিত আলোচনায় বসে আগামী নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসা। সংসদে এ আলোচনা হলে তা হবে আরো অর্থবহ।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ লোকদের সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করতে যার অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ওই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত কাউকে মানতে রাজি নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য এ ব্যাপারে বলেন, নির্বাচিতদের মধ্য থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলে বর্তমান সংসদে সংখ্যানুপাতে আওয়ামী লীগ দশ জনের মধ্যে আটজন পাবে। সেক্ষেত্রে ওই সরকার প্রধান যদি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও না হন তবু আওয়ামী লীগের একজন যে হবেন সেটা নিশ্চিত। সে কারণেই বিএনপি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে থাকবে না। তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জায়গা থেকে সরে এলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে চাইবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ইত্তেফাককে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। নির্বাচনকালীন ওই সরকারের নাম অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা তত্ত্বাবধায়ক যাই হোক না কেন। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকার প্রধানের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সংলাপের উপর গুরুত্বঃ মুখে সংলাপের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও অনুষ্ঠানিক কোন প্রস্তাব এখনও বিরোধী দলের কাছে পাঠানো হয়নি। গত সপ্তাহে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংলাপের ব্যাপারে চিঠি দেবেন বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল নিয়ে আলোচনা হলে সেখানে তারা যেতে রাজি আছেন। অন্যদিকে সরকারি দল শর্ত দিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান ইত্তেফাককে বলেন, আলোচনায় উভয় পক্ষকে বসতে হবে খোলা মন নিয়ে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে দেশ ইতিমধ্যে এক চরম সংকটের দিকে যাচ্ছে। সে কারণে এ সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে দুই দলকে বসে নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি ঠিক করতে হবে। আলোচনার শিরোনাম হতে পারে, নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইত্তেফাককে বলেন, দুই দল সংলাপে বসে শুধু নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নয়, নির্বাচন পরবর্তী বিষয়েও সমঝোতা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে সংকট চলছে তা থেকে বের হওয়ার সুযোগ হতে পারে সংলাপের মাধ্যমেই। তাই সরকারি এবং বিরোধী দলকে দায়িত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সংলাপ সফল করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ড. আকবর আলি খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণে গণভোট হতে পারে। তার এই বক্তব্য আপনি কি সমর্থন করেন?
8 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২০
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :