The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৩, ৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অবশেষে আটক ১২ বাম নেতা-কর্মীকে ছেড়ে দিল পুলিশ | জয়পুরহাটে বিজিবির গুলিতে দুইজন নিহত | রাজশাহীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা | আশুলিয়ার ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা | কিশোরগঞ্জ উপনির্বাচন ৩ জুলাই, গাজীপুর সিটি নির্বচন ৬ জুলাই | মানবতাবিরোধী অপরাধ: কায়সারের জামিন আবেদন নাকচ | সরকারি করা হলো ৮ কলেজ | মাহমুদুরের মা ও সংগ্রাম সম্পাদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট | আটকে গেল দুই ডিসিসির নির্বাচন | রাজধানীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২ | সাভার ভবন ধস: ১২১ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রধান | ৫ পোশাক মালিক ও রানাকে যাবজ্জীবন সাজার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

অবসর সুবিধা পেতে ভোগান্তিতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা

টাকা পেতে লাগছে তিন বছরের বেশি

নিজামুল হক

রাজধানীর নীলক্ষেতের বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইজ) ভবনের অবসর সুবিধা বোর্ডের অফিসে এসে যে কেউ থমকে যাবে। এ প্রতিষ্ঠানটির বারান্দায় বসে আছেন কিছু বয়স্ক মানুষ, যার অনেকেই ঠিকমতো চলতেও পারেন না। রফিক নামে ষাটোর্ধ্ব এক এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক জানালেন, 'অবসর সুবিধার টাকার জন্য দুই বছর ধরে অপেক্ষায় আছি। কবে পাব জানি না। আজ খোঁজ নিতে এসেছি। অফিস থেকে আমাকে বলা হয়েছে, আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।' এই শিক্ষক বলেন, 'যতদিন চাকরি ছিল বেতন পেয়েছি। আশা ছিল অবসর সুবিধার টাকা পেয়ে সংসারটা সামলানো যাবে। কিন্তু এই দুই বছর খুব খারাপ কাটছে। টাকা ঋণ নিয়ে সংসারের খরচ চালাচ্ছি। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এমন অপেক্ষা আর ভালো লাগে না।'

ব্যানবেইজের বারান্দার এসব শিক্ষকের উপস্থিতির চিত্র বলে দেয় অবসর সুবিধার বর্তমান পরিস্থিতি। প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে এই অফিসে। অবসর সুবিধার টাকার জন্যই তাদের এই উপস্থিতি। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির একাউন্টে যে পরিমাণ টাকা জমা হয় তার চেয়ে বেশি টাকার চাহিদা রয়েছে। এ কারণেই বেসরকারি শিক্ষকরা আবেদন করার তিন বছরেও টাকা পান না। শিক্ষকরা বলছেন, 'অবসর গ্রহণ করেছি, এখন অবসর সুবিধা চাই। ভোগান্তি চাই না।' তথ্য অনুসারে ২০০২ সালে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা দেয়ার জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সাল থেকে অবসরগ্রহণকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা প্রদানের জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে মাসিক ৪ শতাংশ হারে টাকা কেটে রাখা হয়। অবসর শেষে একজন শিক্ষককে এক বছরের জন্য মূল বেতনের তিনগুণ করে অবসর সুবিধা দেয়া হয়। সেই হিসাবে পূর্ণ মেয়াদ চাকরি শেষে একজন সহকারী অধ্যাপক ১৬ লাখ টাকা, প্রধান শিক্ষক ১২ লাখ টাকা এবং সহকারী শিক্ষক কম-বেশি ৬ লাখ টাকা অবসর সুবিধা পান। কিন্তু এই টাকার সংস্থান করতে পারছে না এই বোর্ড। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

বর্তমানে দেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। অবসর সুবিধা দেয়ার জন্য তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৪ শতাংশ হারে অর্থ কেটে রাখা হয়। সে হিসাবে বর্তমানে প্রতি মাসে আদায় হচ্ছে ১৬ কোটি টাকা। কিন্তু শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধার টাকা দিতে প্রতি মাসে প্রয়োজন হচ্ছে ৫৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতি মাসে ঘাটতি ৪০ কোটি টাকা, যা পূরণের জন্য শিক্ষক- কর্মচারীদের ৪ শতাংশ চাঁদা এবং এফডিআর-এর মুনাফা থেকে প্রাপ্ত অর্থের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে আবেদন জমা হচ্ছে এক হাজারের বেশি। আগের আবেদন জমা আছে ২৩ হাজারের বেশি। এ আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষ হলেও টাকার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, টাকা সংকটের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব আসাদুল হক বলেন, 'আমাদের প্রধান সংকট অর্থ।' অর্থ পেলেই শিক্ষকদের যথাসময়ে অবসর সুবিধা দেয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সরকার বা অন্য কোন উত্স থেকে ঘাটতি পূরণ করা হলেই তাত্ক্ষণিকভাবে আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, এই ঘাটতি পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে ২০১০ সালে আবেদন করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। সরকার যদি বড় কোন বরাদ্দ না দেয় তাহলে আবেদনের ৫ বছরেও শিক্ষকদের অবসর সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে না। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ড. আকবর আলি খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণে গণভোট হতে পারে। তার এই বক্তব্য আপনি কি সমর্থন করেন?
9 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২২
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :