The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৩, ৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অবশেষে আটক ১২ বাম নেতা-কর্মীকে ছেড়ে দিল পুলিশ | জয়পুরহাটে বিজিবির গুলিতে দুইজন নিহত | রাজশাহীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা | আশুলিয়ার ৫ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা | কিশোরগঞ্জ উপনির্বাচন ৩ জুলাই, গাজীপুর সিটি নির্বচন ৬ জুলাই | মানবতাবিরোধী অপরাধ: কায়সারের জামিন আবেদন নাকচ | সরকারি করা হলো ৮ কলেজ | মাহমুদুরের মা ও সংগ্রাম সম্পাদকের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট | আটকে গেল দুই ডিসিসির নির্বাচন | রাজধানীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২ | সাভার ভবন ধস: ১২১ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রধান | ৫ পোশাক মালিক ও রানাকে যাবজ্জীবন সাজার সুপারিশ তদন্ত কমিটির

কৃত্রিম বন্যা, দুর্ভোগে পড়েছে ডিএনডিবাসী

প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পের কাজ তিন বছরেও শুরু হয়নি

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রতিবছরের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ- ডেমরা) বাঁধের ভেতরে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের কারণে ডিএনডির অভ্যন্তরে অবস্থিত অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে স্থানীয় লোকজনকে নানামুখী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘরের আসবাবপত্র তুলে রাখা হয়েছে উঁচু স্থানে। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই গতকাল স্কুলে যেতে পারছে না। পানির সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ঢুকে পড়ায় অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

ডিএনডির পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালগুলো দিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও শাখা খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব ও অবৈধ দখলের কারণে সংকীর্ণ হয়ে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী ২৩৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্প সরকার গ্রহণ করলেও গত তিন বছরেও সেটা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই ডিএনডি এলাকাতে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে ডিএনডি বাঁধের ভেতর ৫৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ফতুল্ল¬ার রামার বাগ, সস্তাপুর, গাবতলা, কায়েমপুর, চাঁদমারী, ইসলাম বাগ, শহীদ নগর, মাসদাইর, ইসদাইর, গাবতলী, এনায়েত নগর, তল্লা, সবুজবাগ, কুতুবপুর, পাগলা, দেলপাড়া, আলীগঞ্জ, দাপা, পিলকুনি, ভুঁইগড়, রঘুনাথপুর, কুতুব আইল, নয়াআটি, লামাপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠান টুলি, হাজীগঞ্জ, গোপটা, গোদনাইল, ধনকুন্ডা ও জালকুড়িতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এরমধ্যে সবুজবাগের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে কৃত্রিম বন্যা দেখা দিয়েছে। তল্লা এলাকার দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ইসদাইর এলাকার সিদ্দিকুর রহমান জানান, তাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে খাটের উপর সকলকে বসে থাকতে হচ্ছে।

জানা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর, কল-কারখানা, অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করতে গিয়ে যে যেভাবে পেরেছে ডিএনডির পানি নিষ্কাশনের খালগুলো বেদখল করে ফেলেছে। এ খালগুলো দিয়ে ডিএনডির ভেতরে বর্ষার সময় জমে থাকা পানি প্রধান নিষ্কাশন খালে এসে জমা হয়। পরে জমে থাকা পানি শিমরাইলস্থ পাম্প হাউজের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প দ্বারা নিষ্কাশন করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা হয়।

জলাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে শিমরাইলের ডিএনডি পাম্প হাউজের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গোলাম সারোয়ার জানান, বৃষ্টিতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। প্রধান নিষ্কাশন খালগুলো দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই খালগুলোর পথগুলোও পরিষ্কার রয়েছে। কিন্তু শাখা খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব ও দখলের কারণে সরু হয়ে যাওয়াতে পানি প্রধান খাল পর্যন্ত যেতে পারছে না। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ডিএনডি'র জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত প্রকল্পটির ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়নের পথে। তবে এপর্যন্ত প্রকল্পের কাজ কতটুকু হয়েছে কিংবা প্রকল্পের টাকা ছাড় হয়েছে কি-না এ সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করতে অপারগত প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে দুটি ১২০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিট উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, 'ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও বাঁধে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা হবে'। প্রধানমন্ত্রীর ওই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিএনডির জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা শেষে চূড়ান্ত প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়। 'ড্রেনেজ ইমপ্রুভমেন্ট অব ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা প্রজেক্ট' শীর্ষক এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিএনডির অভ্যন্তরে অল্প বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। পাউবো বলছে, ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার তথা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আন্তরিক। কিন্তু কবে নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে সে ব্যাপারে তারা কিছুই জানাতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যে ২৩৩ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ডিএনডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। ঢাকা জেলার ডেমরা ও শ্যামপুর থানা এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ডিএনডি প্রকল্পের অবস্থান। কিন্তু প্রকল্পটি ঢাকা মহানগরীর উপকণ্ঠে হওয়ার কারণে প্রকল্প এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে নগরায়নের প্রসার ঘটায় সেচ প্রকল্পটি বর্তমানে আবাসিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। ডিএনডি সেচ প্রকল্পের খালগুলো বর্তমানে ডিএনডি আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে। কিন্তু অবৈধ দখল হওয়ায় এবং আবাসিক ও শিল্প বর্জ্য ফেলার কারণে খালসমূহের কার্যকারিতা হরাস পেয়েছে। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা বেড়ে যায়। ১৯৯২ সালে জাপানী সংস্থা জাইকা সমীক্ষা চালিয়ে ডিএনডিতে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বর্তমান পাম্প হাউজের মতো পাঁচটি নতুন পাম্প হাউজ স্থাপন ছাড়াও একাধিক প্রস্তাব রাখে। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্তৃপক্ষ এ প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করতে নামলেও পাঁচটি পাম্প আজ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। কিছুদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড জলাবদ্ধতা কমাতে মূল খাল ও শাখা খাল পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এতেও কোন লাভ হয়নি। জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি পায়নি হতভাগ্য ডিএনডিবাসী।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ড. আকবর আলি খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণে গণভোট হতে পারে। তার এই বক্তব্য আপনি কি সমর্থন করেন?
5 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :