The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৩, ১০ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১৩ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অচিরেই দেশে আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন তারেক : শামসুজ্জামান দুদু | ঢাকা-চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা | আগামী রবিবার ১৮ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

চাই এক মুঠো রোদ্দুর

ড. নিয়াজ পাশা

হাওরের কৃষি— ধান রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা, কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানো সব কাজই সম্পূর্ণ প্রকৃতির মর্জি- মেজাজের উপর নির্ভর করে। প্রায় ৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের হাওর এলাকায় প্রায় ১৯.৩৭ মিলিয়ন লোক বসবাস করে এবং মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে; মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ০.৭৩ মিলিয়ন হেক্টর, বছরে ধান উত্পাদন-৫.২৩ মিলিয়ন টন। জিডিপিতে হাওরের অবদান ০৩% এবং এর ২৫% আসে কৃষি থেকে। আগাম বন্যায় বছরে ক্ষতি-০.৩৩ মিলিয়ন হেক্টর, যার অর্থ মূল্য-৩.৪৮ মিলিয়ন টাকা। এ ক্ষতি জাতীয় কৃষির প্রায় ৩%।

হাওরের প্রকৃতি মতি গতি একটু বিগড়ে গেলেই সব কিছুর ছন্দ পতন ঘটে, লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। এ বছর প্রচণ্ড খরা সত্ত্বেও সব কিছু ঠিকঠাকমতো চলছিল। চৈত-বৈশাখ মাসের প্রথমদিকে বৃষ্টি না হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসেনি অকাল বন্যার সর্বগ্রাসী পানি। এ সুযোগে কৃষক রাত-দিন পরিশ্রম করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিচু এলাকার জমির ধান কেটে স্তূপ করে রেখেছে। কবিগুরু সম্ভবত চলনবিলের পাড়ে বসে 'সোনার তরী' কবিতাটি লিখেছিলেন। চলনবিলের প্রকৃতি, বর্ষার আগমন ও ধান কাটার বিষয়টি কবির মনে গভীর দাগ কেটেছিল। হাওরাঞ্চল ও চলনবিলের প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রায় অভিন্ন। বর্তমান অবস্থার বাস্তব প্রতিফলন সোনার তরী কবিতার প্রতিটি ছন্দে ছন্দে।

গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।

কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।

রাশি রাশি ভারা ভারা ধান-কাটা হল সারা,

ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা-

কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।।

হাওর এলাকায়ও সেরকম অবস্থা তৈরি হয়েছে। যে কোন সময় নেমে আসতে পারে মহাদুর্যোগ অকাল বন্যা। অন্য জমির ধানও তারা কাটতে ব্যস্ত। কোন বিপদ সংকেত না থাকলে হাওরবাসী কৃষক সাধারণত একসাথে ধান কাটে, মাড়াই, ঝাড়াই ও শুকানোর কাজ চালায়। ধান শুকানোর জন্য সূর্য়ের আলোই একমাত্র ভরসা। চব্বিশ ঘণ্টাই তাদের কর্মসময়। কিন্তু এবার বৈশাখ মাসের ২০ তারিখের পর হঠাত্ করেই অকাল বন্যা আঘাত করে। দ্রুত কৃষক ধান কেটে নিয়েছে, ধান তলিয়ে যায়নি সত্যি। তবে কাটা ধান স্তূপ করে রেখেছে কান্দা বা উঁচু স্থানে। চারদিকে পানি, ঝড়-বৃষ্টির মাঝেও এসব ধান পাহারা দিতে হচ্ছে। মাড়াই করা ধান প্রয়োজনীয় রোদ্দুর, সূর্য়ের আলোর অভাবে শুকাতে পারছে না । অহরহ, একনাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত শুকনো জায়গা নাই, যেখানে ধান শুকাবে, মাড়াই করবে। ধান শুকানোর 'খলা'/ ত্রেশিং ফ্লোর সবই পানির নিচে। ভিজা ধানে চারা গজাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষককে ভিজা ধান পানির দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। এ সময় ওজনে কৃষকদের দারুণভাবে ঠকানো হয়। সিদ্ধ ধান পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে। রোগ-বালাইও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধানের খড় পচে নষ্ট হয়ে যচ্ছে। এ খড়ই হচ্ছে বর্ষায় গবাদিপশুর একমাত্র খাদ্য এবং সারা বছর রান্নার লাকড়ি, জ্বালানি হিসাবে ব্যবহূত হয়। রোদের অভাবে সব কিছু পচে-গলে চারদিগ বিশ্রি অবস্থা।

প্রতি বছরই হাওরবাসীকে এরকম দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু বৈশাখ মাসে ঢলের পানি কেন হাওরে প্রবেশ করবে? এ পানিকে হাওরে প্রবেশ করতে না দিয়ে ভাটিতে নামিয়ে দিতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পানিকে যদি দুই সপ্তাহ পর্যন্ত আটকিয়ে হাওরে প্রবেশ করতে না দেয়া হয়, তবে কৃষক এ সময়ে ধান কেটে ঘরে তুলতে পরে। বাঁধ নির্মাণে বড় ধরনের শুভংকরের ফাঁকি থাকে। এ বছরও হয়েছে। ধান তলিয়ে যায়নি, তবে নষ্ট করছে। নীরবতার সুযোগে অনিয়ম চাপা পড়েছে। মৃত্যুই হয়ত একজন মানুষের জন্য কেয়ামত। তেমনি জানমালের/ ফসলের ক্ষতি মানুষের জীবনকে পঙ্গু করে দেয়। তা সিডর, মহাসেন বা অকাল বন্যা যে কারণেই হোক। সিডর, মহাসেন মানুষের জানমালের ক্ষতির চিহ্ন রেখে তাদের পর্যুদস্ত করে। আর অকাল বন্যা হাওরবাসীর একমাত্র সম্বল ফসল ধ্বংস করে খোলস রেখে জিন্দা লাশে পরিণত করে। কিন্তু সরকারি পক্ষ থেকে সেবা, সহযোগিতা বা মনোযোগ সমভাবে উত্সারিত হয় না। একই যাত্রা ও মাত্রার ক্ষতিতে দ্বিমুখী আচরণ আমাকে দারুণভাবে ব্যথিত করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে হাওরের প্রতিটি গ্রামে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী উঁচু , পাকা ভিটা তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে কৃষক ধান সংরক্ষণ, মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানোর কাজটি করবে। হাওর মহাপরিকল্পনায় আট বছরে ২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৪০টি ড্রাইয়ার কেনার কথা। আমার ধারণা, ড্রাইয়ার হাওর এলাকায় উপযোগী হবে না, ব্যয়বহুল হবে, লক্ষ লক্ষ মণ ধান শুকানোও সম্ভব না। এক সময় বলা হতো ধানই ধন। কৃষিপণ্যের মধ্যে ধানের মূল্য (চালের মূল্য কিন্তু নয়) সবচেয়ে কম। সমপরিমাণ ধান দিয়ে সমপরিমাণ কোন কিছুই বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। আধামরা ধানচাষি হাওরবাসী কৃষক এক মুঠো রোদ্দুরের জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া কিইবা করার আছে?

লেখক :কৃষি প্রকৌশলী

[email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে বিএনপি সরকারকে অনতিবিলম্বে সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। আপনি কি মনে করেন সংলাপ দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে?
8 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
ফেব্রুয়ারী - ২৯
ফজর৫:০৫
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৬:২১সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :