The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৩, ১০ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১৩ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অচিরেই দেশে আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন তারেক : শামসুজ্জামান দুদু | ঢাকা-চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা | আগামী রবিবার ১৮ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

টেলিফোনে পাঠকের মতামত

নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান অন্তরায় কী?

সংলাপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে স্পিকার বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সাথে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। আমরা তার এই উদারতার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

সোহাগ

ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা

আসন্ন আগামী নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে বিরোধী দলের সাথে আলোচনায় রাজি। কিন্তু উভয় দলের মধ্যে মতভেদ থাকায় তা সমাধান হয়ে উঠছে না। সুতরাং এ বিষয়গুলোকে নিয়ে এখনই বসা দরকার।

খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে সরকারের সদিচ্ছার অভাব মন্ত্রীদের মধ্যে কথাবার্তায় অসংলগ্নতা ও সমন্বয়হীনতা প্রধান অন্তরায় বলে আমি মনে করি। আমি এও মনে করি দেশের জনগণের জন্যই সংবিধান। যেমন প্রয়োজন হলে একবার নয় হাজার বার সংবিধান সংশোধন করতে হবে। দেশের জনগণ যেহেতু নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় তাই সরকারকে প্রয়োজনে আরো একবার সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সরকার মনে করলে এ ব্যাপারে গণভোটের আয়োজন করতে পারেন। এ ছাড়া এমন আইন করা উচিত যাতে এক ব্যক্তি জীবনে দুইবারের বেশী রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী না হতে পারেন। এমন আইন করলে নির্বাচনে কোন অন্তরায় থাকবে না বলে আমি মনে করি।

শাহীদুর রহমান

কাকিনা, লালমনিরহাট

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। আর বিষয়টি যদি পরিষ্কার করা যায় তাহলে উভয় দল সহজভাবে এগিয়ে আসতে পারেন। পৃথিবীর কোন দেশেই রাজনৈতিক অবস্থা এমনটি নেই।

হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী

কবিরহাট, নোয়াখালী

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায় হচ্ছে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থান। শাসক ও বিরোধীদলের পরস্পর বিরোধীভাব ও বক্তব্য থেকেই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গণতন্ত্রকেই উপেক্ষা করে গণবিরোধী অবস্থান থেকে উভয় দলের সরে আসা উচিত। বিশ্বের কোন দেশ বাংলাদেশের অবস্থানে নেই। তাই দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে উভয় দল অনড় থাকলে দেশের মঙ্গল হবে না। সুতরাং শাসকদল ও বিরোধীদলের নির্বাচনমুখী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এটা রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে জাতিকেই বিবেচনা করতে হবে।

শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরো

কালিহাতি, টাঙ্গাইল

বিগত মাগুরা নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতিবারই জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমরা হোঁচট খাচ্ছি। সেই হোঁচট থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে ১৯৯৬ সালে কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টেফেন দূতিয়ালী করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। ২০০১ সালে পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে গিয়ে যে অস্থিরতা দেখা দেয় তা নিরসনে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এসেও কূল-কিনারা করতে পারেননি। তবে তার মন্তব্য, "বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে চরম অন্তরায় দু'টো প্রধান দলের মধ্যকার বৈরিতা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মতভেদ ও হানাহানি" প্রণিধানযোগ্য। ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে বিয়োগান্তক নাটক শুরু হলো তার রেশ চলে বিগত দু'বছরের অধিককাল ধরে। বর্তমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও ইতিহাসের সেই একই পুনরাবৃত্তিই নতুন আঙ্গিকে ঘটছে। কেউ জানে না এর রেশ কতদিন পর্যন্ত চলবে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারবানকো এসে সরকারি ও বিরোধী দলের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়ে গেছেন। অথচ সরকার মহামান্য আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এগুতে চাচ্ছে। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল সে বন্দুকের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছে। কাজেই সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঘটনার নিষ্পত্তি না ঘটলে জাতির ললাটে যে কী আছে তা একমাত্র ভবিতব্যই জানে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ লোকদের সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ আওয়ামী লীগের দাবিকৃত নির্বাচিতদের মধ্যে থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলে বর্তমান সংসদে সংখ্যানুপাতে আওয়ামী লীগ দশ জনের মধ্যে ৮ জন পাবে। কাজেই শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান না হলেও প্রধান হবেন আওয়ামী লীগের একজন। ফলে বিএনপি সেটা চাচ্ছে না। এ অবস্থায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জট খুলতে হলে আওয়ামী লীগকেই উদার মন-মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া আমরা মনে করি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান অন্তরায় রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা, জনগণের প্রতি বিশ্বাস ও দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা দেখাতে কার্পণ্য। অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচন নিয়ে গোঁ ধরতে গিয়েই জনমনে সরকারি দল সম্পর্কে নানা সত্য-মিথ্যা গুজব, অবিশ্বাস ও সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠে। ফলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেই সরকারি দলেরই ভরাডুবি ঘটে । যেহেতু জনগণের রায়ই চূড়ান্ত বলে সকল রাজনৈতিক দল মানেন, সেহেতু সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন করাই উচিত। কে বা কার অধীনে নির্বাচন হলো সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত নয়।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

৫ বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩

আওয়ামী লীগ বলছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবেই নির্বাচন হবে। বর্তমানে দেশ যেভাবে চলছে এটাকে কি গণতন্ত্র বলা যায়? অতি সমপ্রতি হেফাজতের সমাবেশকে যে কায়দায় পণ্ড করে দেয়া হলো এটা কি কোন গণতান্ত্রিক দেশে ঘটতে পারে? বিরোধী দলসহ সকল দলের সভা-সমাবেশ এমনকি মানববন্ধনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পত্রিকা, টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়াকে কি গণতন্ত্র বলে? সরকারের এহেন স্বেচ্ছাচারিতাকে কোন গণতন্ত্র বলা যায়। এমন একটা পরিবেশে, কোন বিশ্বাসে বিরোধী দল এ সরকারের অধীনে কিভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে বার বার ১/১১-এর কথা মনে করিয়ে দেন। সে সময় তো শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বিরোধী দল (বিএনপি) তার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। এতকিছুর পরও যদি বিএনপি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইতে পারে। তাহলে আওয়ামী লীগের সে সত্ সাহস নেই কেন? সরকারি দল বার বার বিএনপিকে সংসদে গিয়ে আলোচনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সংসদ অধিবেশনে বিএনপি যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এখন দেখা যাবে, বিএনপি সংসদে গিয়ে কি কথা বলে আর কথা বলার ব্যাপারে সরকারি দল কতটা সহযোগিতা করে? চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আগামী নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে দুই নেত্রীর সহাবস্থান অপরিহার্য। এক্ষেত্রে দুই নেত্রীর সদিচ্ছাই যথেষ্ট কিন্তু বাদ সেধেছে দুই নেত্রীর একে অপরের উপর নগ্ন আক্রমণ। সহাবস্থানের জন্য আগে দুই নেত্রীর মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। যেহেতু অবিশ্বাসের রাজনীতি চলছে তাই নিজেদের মধ্যকার হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে দুই নেত্রী অন্তত সহাবস্থানে আসবেন। সমঝোতার জন্য যা যা করা দরকার তাই করতে হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের। দুই দল সমঝোতায় পৌঁছতে পারলে অন্য কোন শক্তির পক্ষে দেশে অরাজকতা করা সম্ভব নয়। সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমরা রাজনৈতিক এ অস্থিরতা থেকে মুক্তি চাই।

মো. আবদুল্লাহ আল মামুন

সারিয়াকান্দী, বগুড়া

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রথম ও প্রধান অন্তরায় হচ্ছে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' আদালতের দোহাই দিয়ে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয়া। যে পরিবেশ-পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি আস্থা ফিরে পেয়েছিল, সে পরিবেশ-পরিস্থিতির উন্নতি তো হয়ইনি, বরং পরিস্থিতির আরো বেশি অবনতি হয়েছে। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সর্বরোগের অষ্টধাতুর মাদুলি। এই মাদুলি ছিঁড়ে ফেলে নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর গলায় পুনরায় পরিয়ে, রোগাগ্রস্ত তড়পানো রাজনীতিক রোগীদের নিরাময়ের ব্যবস্থা নিলে, আগামী নির্বাচনে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা তথা অন্তরায় থাকে না। জন্ডিস কোন রোগের নাম নয়, একাধিক রোগের উপসর্গ মাত্র। পক্ষান্তরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা তিরোহিত হওয়ায়, রাজনীতিকদের সাথে সাথে দেশ ও জাতি মহারোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিয়েছে সর্বক্ষেত্রে দিগম্বরি ভাব। দেশের ভাবমূর্তি হয়ে পড়েছে 'গরিবের বৌ সবার ভাবী'র মতো। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, কূটনীতিকদের দ্বারা, রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মহাজন রাষ্ট্রের মাধ্যমে। দলীয় প্রধানদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে রাজনীতি। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয় গোপন প্রতিশ্রুতির ম্যারাথন দৌড়। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রভাবশালী দেশগুলোর কোলঘেঁষে বসতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তথাপিও আমরা দলের প্রতি গোলামি আনুগত্য দেখিয়ে, তিন নম্বরি বাচ্চার মতো তাধিন-ধিন করে নাচতে থাকি।

মুরাদ হোসেন

মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর

দশম সংসদ নির্বাচন বলা যায় সন্নিকটে। এখনো পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারেনি নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে হবে? তবে সরকারি দলের ধীর অবস্থান থেকে আমরা ধরে নিতে পারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আশা সঙ্কীর্ণ। সে হিসেবে সকলে নিশ্চিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদ্ধতির মাধ্যমেই নির্বাচন হবে। ঠিক আছে তাই হোক। কিন্তু এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন? এটা নিয়ে তো দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অন্ত নেই। রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত কেউ? আমাদের দেশে কি অতো বিশ্বস্ত রাজনীতিবিদ আছেন? যিনি স্বচ্ছ একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন? তাই বলা যায়, এখন আমাদের প্রধান সমস্যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবে? যাই হোক, সমস্যা যেখানে হয়েছে নিশ্চয় এর সমাধানও আছে। সবাই যেহেতু বলছে সংলাপের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, আমরাও তাই চাই। দেখা যাক কী হয়?

জসিম মজুমদার

পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা নেই। প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। কিন্তু দ্বন্দ্বের কোন সুযোগ নেই। দেশের জনগণের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মৃত পশুর মাংসের মত হারাম। ১/১১-তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যা দেখিয়েছে দেশের মানুষ আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। অনির্বাচিত ব্যক্তির কাছে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধান নেই। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে সকল দলকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন কারো অপেক্ষায় থাকবে না । অপরাজনৈতিক তর্ক জনগণ শুনতে চায় না।

ডা. এস এম মোশারফ হোসেন

[email protected]

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আজ এখানে উন্নয়ন নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আর এজন্য আমি বলবো দুই নেত্রীরই এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। এখনই দরকার দু'নেত্রীর দুজন দুজনার হাতে হাত মিলিয়ে দেশের জন্য জনগণের স্বার্থে সব ভুলে গিয়ে সামনের দিকে দিকনির্দেশনা দেয়া। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুজনারই উচিত ছাড় দেয়া। একেবারে অনড়-অটল না থেকে সহমর্মিতা ও আন্তরিকতার টানে এগিয়ে আসুন। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। দেশের মানুষ ঐ দৃশ্য দেখেই সব ভুলে যাবে।

সৈয়দা নাসরিন সুলতানা

স্যানিসাইড, নিউইয়র্ক

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স। এটা মনে রেখেই সরকারের উচিত পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা। অর্থাত্ বিরোধী দলের দাবিকে মেনে নিয়ে নির্বাচনের আয়োজন করা।

পারভীন সুলতানা

ঝিনাইদহ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দরকার এখন পরমতসহিষ্ণুতা। এটা যতক্ষণ না হবে ততক্ষণ কিছুই হবে না। যেহেতু এটা দেশে এখন হারিয়ে গেছে।

আইরিন সুলতানা সনজু

ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম

আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলেও আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে এখনো রাজনৈতিক সমঝোতা হয়নি। তাই বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।

শিশির

আজিমপুর, ঢাকা

দেশের সামগ্রিক স্বার্থে, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে উভয় রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান অন্তরায় না রেখে এর সমাধান দরকার।

মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম

শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যে টালবাহানা শুরু করেছে তা মোটেও শোভনীয় নয়। তারা যতই ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ চালাক কেন? তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক কিংবা যে কোন সমস্যা হলে তারা সংসদে গিয়ে জনগণের দাবি সংসদে উপস্থাপন করতে পারতো। এ নিয়ে হট্টগোল করার কোন প্রয়োজন ছিল না। আমাদের দেশে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে যখন হট্টগোল চলছে তখন এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ সংলাপ প্রশ্নে দেশের দুই বড় দলের সাথে কথা বলেছে। সংলাপ নিয়ে জাতিসংঘ বা কোন দেশের কথা বলার প্রয়োজন কেন পড়ে? একটি গণতান্ত্রিক দেশ জনগণের মত যথার্থভাবে মূল্যায়ন করলে তার সমস্যা, সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢেউ তুলতে পারে না। আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশে যে সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তা নিরসনের জন্য দেশবাসী প্রধান দু'দলের নিঃস্বার্থ সংলাপ আশা করছে। আজকের উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহলও একই কথা বলছে। এটা সবল গণতন্ত্রের জন্য লক্ষণ নয়। জনগণের নামে দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করলে অতীতের মত এবারও সংলাপ করে সংকটের সুরাহা করা যাবে না। দেশবাসী সংঘাত চায় না। এজন্য আগামী নির্বাচনে সব দলকেই অংশ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দলকে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে- আগামী নির্বাচন কিভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

নির্বাচন হলো ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়া। গণতন্ত্র চর্চায় যে প্রক্রিয়া অনস্বীকার্য, সে প্রক্রিয়া হওয়া চাই স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু। চমত্কারভাবে নির্বাচন করার জন্য চাই শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্দলীয় সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় কমিটি। এই কমিটির অনুপস্থিতিই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রধান অন্তরায়।

সালাউদ্দিন

মাস্টার্স, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নির্বাচন অনুষ্ঠানের একমাত্র অন্তরায় হলো দুই নেত্রীর সত্ ইচ্ছার অভাব। দুই নেত্রীর কাছে ক্ষমতাই বড়, ক্ষমতায় যাওয়ার ও থাকার জন্যই তারা কিনা করছে। মূলত দুই নেত্রীর মূল নীতিই হলো এক রকম।

মো. আবদুর রশিদ

সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

বর্তমানে বিরোধী দল দেশকে যেভাবে জ্বালাও-পোড়াও করছে এতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে। আমি বলতে চাই আপনারা সংসদে আসুন, ওখানে গিয়ে বলেন।

মাসুদ আলম

লালবাগ, উর্দু রোড, ঢাকা

এবারের নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রয়োজন। অন্যদিকে নিরপেক্ষ প্রশাসন প্রয়োজন এবং বর্তমান সরকারের কিছু লোকজনের উত্পাত বন্ধ করা প্রয়োজন। বিরোধীদলের প্রয়োজন আছে তবে ক্ষমতা দখলের লোভে দেশকে ক্ষতি করার মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। আমি মনে করি এটাই ভালো হবে দেশের জন্য এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য মঙ্গল হবে।

সৈয়দ হায়দার আলী

মহাখালী, ঢাকা

সংকট এখন দেখা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার কে হবেন তা নিয়ে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে এটাই আসলে প্রধান বাধা।

শহীদুল ইসলাম মোখলেছী

পল্লবী, ঢাকা

আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে বিরোধী দলের সাথে আলোচনা করতে রাজি। তবে দলটি বলছে এ সরকার প্রধান যিনি হবেন তাকে অবশ্যই নির্বাচিত হতে হবে। অন্যদিকে বিরোধীদলের প্রধান শর্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবির ব্যাপারে সরকারের পদ থেকে বলা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচন আসন্ন। অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।

এস কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন,

কর্মসূচি সমন্বয়কারী,

প্রশিক্ষা কেন্দ্রীয় কার্যালয়,

মিরপুর, ঢাকা

আর দেরি নয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সুতরাং দু' দলকে বলছি কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সংলাপে বসে সমঝোতায় পৌঁছানো দরকার।

মো. শওকত আলী

ডিওএইচএস, মহাখালী

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই আগামী দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে এ সকল বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

হোসনে আরা নীলু

এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা

প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে দল নিরপেক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

নীলুফা আক্তার

টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা

আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান অন্তরায় সংসদ ভেঙে দেবার পর কে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের আসনটি অলংকৃত করবেন। আর প্রথম অন্তরায় এর অহংকার জেদ ও গোয়ারতুমী। আমাদের অভিমত এই প্রধান ও প্রথম এই দুই অন্তরায়ই প্রথমে অবসান ঘটাতে পারেন আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা। আর এই মুর্হূতে এখনই একাই পারেন মাননীয় প্রধান নির্বাহী।

মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান

এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা

বহুকাঙ্ক্ষিত সেই সংলাপ সংসদেই হবে আমরা আশা করছি। আর আশা করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কাউছার আকন্দ

মতিঝিল, ঢাকা

আমি মনে করি প্রধান বড় দু'দলের দু'নেত্রীর খুব তাড়াতাড়ি বসা উচিত। আগে দু'জনার সাক্ষাত্ হওয়া দরকার। দেশ এবং গণতন্ত্রের রক্ষার স্বার্থে প্রথম দু'জনার কথা বলা উচিত। অত্যন্ত দুঃখজনক- এঁরা দেখা হলে সাধারণত সৌজন্যটুকুও দেখান না। এটা সত্যি জাতির জন্য লজ্জাকর বিষয়। যে প্রথম কথা বলবে সে কখনও খাটো হয়ে যাবে না। এদিক থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগে কথা বলা উচিত। তিনি বর্তমান জাতির কর্ণধার। গণতন্ত্রের মানস কন্যা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা। কথা বললে অন্তত তখন কেউ বলতে পারবেন না যে, তিনি কথা বলেননি। এ দোষে কেউ দোষী করতে পারবে না। তিনিও দোষী হবেন না। বিষয়টি আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।

আলপনা জাহান সানি

ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর

আমি কোন দল করি না। পেশায় একজন গৃহিণী। সরকার তত্ত্বাবধায়ক চাচ্ছেন না। সরকার ভালো করেই জানেন নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ওনারা ২০/২২টির বেশি আসন পাবেন না। যা গত নির্বাচনে বিএনপির সীমাহীন দুর্নীতির জবাব জনগণ দিয়েছিল। এ সরকারের দুর্নীতির পাল্লা বিগত সরকারের চেয়েও ভারি। পদ্মা সেতু, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মানুষ মরছে পাখির মত কোন জবাব নেই। দলীয় পরিচয়ে পার পেয়ে যাওয়ায় বিষয়টি। সাভার ট্রাজেডির জন্য আমার মনে হয় এজন্য সরকার ও বিরোধীদল উভয় দায়ী। কারণ একজন ক্ষমতায় যাবার জন্য হরতাল দিয়েছে অন্যজন প্রতিরোধ করেছে। যার জন্য এতগুলো আধাপেটা খেটে খাওয়া মানুষের করুণ মৃত্যু হলো। এ বেদনাদায়ক ক্ষোভ জাতি কখনও ভুলতে পারবে না। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে এ সরকার মানুষ বড় আশা করে ভোট দিয়েছিল। আলেম-ওলামারাও স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছিল। যার প্রতিদান গত ৫ মে গভীর রাতে সরকার দিয়েছেন। যা দেশ-বিদেশে সবাই দেখেছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ আজ অতিষ্ঠ। দেশবাসী একজন ভাল প্রতিনিধি চায়। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আগাম সতর্কতার কারণে প্রাণহানি অনেক কম হয়েছে, এর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দেয়া যায়। নির্বাচনের অন্তরায় দু'দলই।

তাহমিনা আক্তার মিনু

ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর

বিরোধী দলের দাবি তত্ত্বাবধায়ক। সরকারি দল বলছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিরোধী দল এও বলছে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে মানবে না। এ অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে জাতি এখনও অন্ধকারে। এরকম অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেজন্য বিরোধী দলের প্রধান দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অবাধ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমরা আশা করছি। যদিও স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপের ব্যাপার নিয়ে তিনি যে কোন ভূমিকা নিতে প্রস্তুত আছেন। সুতরাং আমরা আশা করছি সরকার এখনই তত্ত্বাবধায়ক বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

লাড্লা

পিলখানা, ঢাকা

আমাদের দেশে গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও সত্যিকার অর্থে বা বাস্তবে আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি নেই। আছে ক্ষমতার লড়াই আর সীমাহীন বৈরিতা। সংসদ আর নির্বাচন নিয়ে যে এত রক্তক্ষয় তার প্রতি আমাদের রাজনীতিবিদদের কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। সুতরাং এ থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। তাহলেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে সুন্দর ও স্বচ্ছ। অনিশ্চয়তা ছিল, ছিল হামলার হুমকি, এর পরেও ইতিহাস রচিত হয়েছে পাকিস্তানের। ৬৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং আমাদের এখানে গণতন্ত্র আরো ভালো তবে এটাকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন দু'দলের মধ্যে সমঝোতা ও ঐক্য।

মো. রবিউল হুসাইন রবি

চেয়ারম্যান,

বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, ধানমন্ডি

আমরা মনে করি সংলাপ হতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়ে, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে এবং তা অবশ্যই জাতীয় সংসদে।

মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ

মিরপুর ১, ঢাকা

৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে লাল সবুজের পতাকার সোনার বাংলাদেশ। সেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরো বেগবান, সমৃদ্ধশালী, আত্মনির্ভরশীল করে গড়ার লক্ষ্যে এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে নির্বাচন অপরিহার্য। নির্বাচন সম্পর্কে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে কোন মতভেদ নেই। তবে মতভেদ রয়েছে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে। কে হবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান। এখনও সময় আছে। বর্তমান চলমান রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য দু'নেত্রীর সদিচ্ছাই পারে দেশের মানুষকে শান্তি দিতে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে ফিরিয়ে আনতে এবং বন্ধ করতে পারে রাজনৈতিক সহিংসতা, হানাহানি, টিয়ারগ্যাস, গোলাগুলি, পুলিশের হামলা, রাজনৈতিক মামলা, গ্রেফতার এবং জ্বালাও, পোড়াও।

মঞ্জু খন্দকার

চুয়াডাঙ্গা

এক এক করে মহাজোট সরকার উপনীত হলো পঞ্চম বছরে। এ বছরের শেষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বড় দুই রাজনৈতিক দল। বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামটির পরিবর্তে সরকারের পছন্দনীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নামটি মেনে নিলেও তাদের দাবি এ সরকার হবে অনির্বাচিত, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ। কিন্তু সরকারি দল চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হবেন সরকারি দলের নির্বাচিত কেউ, অনেকে প্রধানমন্ত্রীর নামও প্রকাশ করেছেন। এ সবের অর্থ যা দাঁড়ায়- সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চায়। বাংলাদেশে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করবে এমন সততা, সহমর্মিতা, বিশ্বস্ততা কেউ অর্জন করতে পারেনি। যদি তাই হয় তবে এই একটি ইস্যুতে রাজপথ এতো উত্তপ্ত হতো না। তাই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান বাধা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ক্ষমতায় থেকে সরকারের নির্বাচন করার মনোভাব।

ডা. মর্জিনা আক্তার

বারিধারা পাইলস কিউর সেন্টার,

বারিধারা, ঢাকা

দশম সংসদ নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাই সরকার ও বিরোধী দলকে আস্থার মনোভাব অর্জন করে এগিয়ে আসতে হবে।

জাহাঙ্গীর খান বাবু

মতিঝিল, ঢাকা

একটি মহল দেশে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও বিশৃংখলাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সরকার দেশের শান্তি-শৃংখলা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাধাহীন যোগাযোগব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল রাজনীতিক অবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে যথোপযুক্ত সংলাপের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা নিরূপণের রূপরেখা নির্ণয় এবং জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধা অপসারণের লক্ষ্যে সর্বোপরি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে অন্তরায় দূর দূরীভূত করার জন্য সংলাপের পদক্ষেপ নিতে পারেন।

নাছিরউদ্দিন সিদ্দিকী

৩৬১ নং খন্দার রোড,

জুরাইন মাজার শরীফ এলাকা,

শেপপুর, ঢাকা ১২০৪

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাধা মনে করলে অনেক। আবার বাধা মনে না করলে কিছুই না। কারণ এ বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনীতিবিদদের চিন্তা-চেতনার ফসল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরো দুই টার্ম নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বিচারপতি খায়রুল হক উল্লেখ করেছিলেন। অপরদিকে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছেন। এখন রাজনীতিতে এই দুটো মৌলিক বিষয় বিদ্যমান নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপটে। তাই আমরা সরকার ও বিরোধী দলকে অনুরোধ জানাবো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলোচনায় বসে উপরোক্ত বিষয়ে একটা ঐকমত্যে পৌঁছার ব্যবস্থা করুন। জাতীয় নির্বাচন যথাসম্ভব সুষ্ঠুভাবে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে বিরোধী দলের বহু নেতা কারাগারে। এরা রাজনৈতিক বন্দী। তাদেরকেও মুক্তি দিয়ে তারা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সে উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। সরকার এই বিষয়টি যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করবে ততই মঙ্গল।

ওয়াহিদ মুরাদ

নেছারাবাদ, পিরোজপুর

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রেখে অন্তর্বর্তী সরকারব্যবস্থাই প্রধান অন্তরায়। নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনে এদেশের নির্বাচন হতে হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করা আর না করা সমান।

সফিউর রহমান

কাকলি, বনানী, ঢাকা

নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রধান অন্তরায় সরকারি দল ও বিরোধী দল। তাদের এই বিরোধিতার জন্যই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনের সকল দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক জটিলতায় এখন বড় সমস্যা হচ্ছে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে। কোন পরিস্থিতিতে নির্বাচন হবে সেটাই সমস্যা। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকার ও বিরোধী দল যদি ইচ্ছা করে তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারে। অন্যায়ভাবে জেদ না ধরে থেকে একটা সমাধানে আসতে হবে। পথ পথিককে সৃষ্টি করে না। পথিকই পথ সৃষ্টি করে। সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যগণকেই পথ তৈরি করতে হবে।

আশা এলিজাবেত গোমেজ

লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১০০০

নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে প্রধান অন্তরায় বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার অভাব এবং একগুঁয়েমি মনোভাব। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশ্নে গণভোট দিয়ে সকল সংশয় দূর করা উচিত।

মো. ফকরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে বিএনপি সরকারকে অনতিবিলম্বে সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। আপনি কি মনে করেন সংলাপ দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে?
8 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
ফেব্রুয়ারী - ২৪
ফজর৫:০৯
যোহর১২:১২
আসর৪:২২
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৬:২৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :