The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৩, ১০ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১৩ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অচিরেই দেশে আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন তারেক : শামসুজ্জামান দুদু | ঢাকা-চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা | আগামী রবিবার ১৮ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

বাজেটে আসছে বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা

আয়করই ভরসা

রিয়াদ হোসেন

আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিশাল রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে বাড়তি আয়কর আদায়কেই মূল নিয়ামক হিসেবে ধরতে যাচ্ছে সরকার। বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এটি ২১ শতাংশ বেশি। এটি এযাবত্কালের সর্বোচ্চ। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রত্যক্ষ কর বা আয়করই মূল ভরসা। এই খাতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়িয়ে আদায় করতে হবে ৪৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আদমানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উত্স থেকে রাজস্ব আহরণে জোর দেয়ার অংশ হিসেবে আয়কর আদায় বাড়ানো প্রতি মনযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার । এ জন্য নতুন করের চাইতে করের আওতা বাড়ানোর প্রতি মনযোগ দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে এনবিআরকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় আনা হবে।

তবে রাজস্বের বিশাল এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করেন এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। তিনি বলেন, 'সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতায় এই লক্ষ্য অর্জন নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।' এ লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটিতে আনতে অর্থমন্ত্রীর সাথে একাধিকবার দেনদরবার এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও চিঠি পাঠানো হয়েছে।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাতে চলতি বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বাড়তি লক্ষ্য ধরে ৫১ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বেশি আদায় করতে হবে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি বছর থেকে সামান্য বাড়িয়ে শুল্ক আদায় হবে ৩৫ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। চলতি বছর শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য কর বাবদ আরো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আাাদায়ের লক্ষ্য ঠিক হচ্ছে আগামী অর্থ বছরে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমপ্রতি এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বিশাল রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাকে এই ভাবে বন্টন করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের হিসাবে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কী উপায়ে অর্জন করতে হবে সে বিষয়ে একটি গাইড লাইন ঠিক করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। কর আদায়ে প্রত্যক্ষ করকে গুরুত্ব দেয়ার আন্তর্জাতিক রীতির চর্চার অংশ হিসেবে আয়করকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি। এ জন্য জেলা ও উপজেলায় কর অফিস স্থাপন, কর আদায়ের ক্ষেত্র বাড়ানোর উপর জোর দেয়া হবে আগামী অর্থবছরে। এ লক্ষ্যে আয়কর বিভাগে নতুন জনবলও নিয়োগ করা হবে।

সমপ্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশের জিডিপি'র বর্তমান আকার অনুযায়ী অন্তত ৬০ লাখ লোক কর দেয়ার কথা। অথচ এনবিআরের হিসাবে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৬ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ টিআইএনধারীর আয়কর ফাইল রয়েছে। বাকী টিআইএন ভুয়া বা নিষ্ক্রিয়। আবার ১৮ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে সবার আয়করযোগ্য নয়। এই অবস্থায় আগামী বছর টিআইএন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৃত করদাতা খোঁজার চেষ্টা চালানো হবে। এ লক্ষ্যে ট্রেড লাইসেন্স নেয়া ও শহরাঞ্চলে জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। এই উপায়ে করের বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার জন্য ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী এনবিআরের আয়কর বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তবে এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আয়করের এ বিশাল লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের আয়কর বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আগামী বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকার আশঙ্কা বেশি। এই অবস্থায় বিশাল কর আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। তবে আগামী বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকবে না বলে অর্থমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে টাকার হিসাবে সবচেয়ে বেশি কর আদায় করতে হবে ভ্যাট থেকে। এ লক্ষ্যে ভ্যাট আদায়ের প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার আসতে পারে। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ভ্যাট আদায় কার্যক্রম শক্তিশালী করতে একটি গাইডলাইন তৈরির কথা থাকবে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।

এদিকে গত তিন বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়তে যাচ্ছে চলতি অর্থবছরে। ইতিমধ্যে গত ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ে সোয়া ৪ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর। অর্থবছরের শেষ নাগাদ এই ঘাটতি ৫ হাজার কোটি টাকায় ঠেকতে পারে। এই অবস্থায় রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ২১ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃত আদায়ের উপর লক্ষ্যমাত্রা ২৭ শতাংশে ঠেকতে পারে বলে এনবিআর ধারণা করছে। এই কারণে লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। একই দাবি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকেও। বিভিন্ন সময় এনবিআর চেয়ারম্যান প্রকাশ্যেই নিজের অপারগতার কথা জানিয়েছেন। তবে অর্থমন্ত্রী তার অনড় অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত , চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে বিএনপি সরকারকে অনতিবিলম্বে সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। আপনি কি মনে করেন সংলাপ দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে?
6 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২০
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :