The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৩, ১০ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১৩ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অচিরেই দেশে আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন তারেক : শামসুজ্জামান দুদু | ঢাকা-চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা | আগামী রবিবার ১৮ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

রানা প্লাজা ধসের এক মাস আজ

সাইদুল ইসলাম

২৪ এপ্রিল বুধবার। হরতালের দিনে খুব সকালে সাভারের রানা প্লাজার গার্মেন্টস কর্মীরা তাদের কর্মস্থলে আসতে শুরু করেছেন দুরু দুরু বুক নিয়ে। আগের দিন ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় অনেকের মনে শংকা বিরাজ করছিলো। ভবনের গেট পর্যন্ত এসে অনেকের পা আটকে যায়। অনেকে ভেতরে যেতে চাননি। আগের দিন ভবনটিতে ফাটল ধরায় এ আতংক। আবার ভবন মালিক সোহেল রানা সবাইকে বাধ্য করে কারখানায় গিয়ে কাজে যোগ দিতে। সেখানে অবস্থিত গার্মেন্টস কারখানাগুলোর মালিকরা শিপমেন্টকে সামনে রেখে কাজ চালিয়ে যেতে আদেশ দেয় কর্মকর্তাদের। চাকরি হারানোর ভয়ে শ্রমিকরা উঠে যান উপরের তলাগুলোতে। কিন্তু এগারশ'র বেশি মানুষ জানতো না এটাই তাদের শেষ যাওয়া। সকাল ৯টার দিকে ৯তলা রানা প্লাজা ধসে পড়ে কর্মরত শ্রমিকদের উপর। কেউ কেউ জীবন নিয়ে ফিরতে পারলেও তাদের সহকর্মীদের রেখে আসেন চাপা পড়া ভবনের নীচে। গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়া ঘটনা রানা প্লাজা ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিলো আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে।

ধসে পড়ার আগের দিন ভবনের তৃতীয় তলার পিলারে ফাটল দেখা দেয়। তখনই কর্তৃপক্ষ ওই ভবনে থাকা চারটি গার্মেন্টসে ছুটি দিয়ে দেয়। মার্কেটও বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই দিনই বেলা ১২টার দিকে পৌর মেয়র, থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতনরা ওই ভবনে যান। সবাই দেখে ভবনটি বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন। তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবনটি পরীক্ষ করে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। সেখানে অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখার কর্মকাণ্ডও গুটিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় রাজ্জাক নামে এক প্রকৌশলীকে ডেকে আনেন মালিক সোহেল রানা। ওই প্রকৌশলী বলেন, এ ফাটলে কোন সমস্যা নেই। ভবনে কাজ করা যাবে। পরে রাতেই থানা নির্বাহী কর্মকর্তা তার সুর বদল করে বলেন, ভবনে কাজ চলতে পারে। রাতেই সোহেল রানার সিদ্ধান্তে গার্মেন্টসের সব শ্রমিককে পরদিন কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

সকাল ৯টার ঠিক কয়েক মিনিট আগে বিদ্যুত্ চলে যায়। ভবনের উপরে সেট করা বিশাল জেনারেটর চালু করে কর্তৃপক্ষ। এই জেনারেটর চালুর সময় একটা ঝাঁকুনি দিয়েই হুড়মুড় করে ধসে পড়ে ৯তলা এ ভবনটি। ভবনের বেইজমেন্টে মার্কেটের অফিস ও গ্যারেজ, নিচতলায় ব্রাক ব্যাংকের এটিএম বুথ ও বিভিন্ন আইটেমের দোকান, দোতলায় ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা ও ফাস্টফুডের দোকান এবং বিভিন্ন আইটেমের দোকান। তৃতীয় তলায় নিউ ওয়েভ বাটন লিমিটেড, ৪ ও ৬ তলায় ইথার টেক্স লিমিটেড, ৫ম তলায় বারটেক্স লিমিটেড এবং ৭ ও ৮ম তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড নামে একটি গার্মেন্টস ছিল।

টানা ২১ দিন উদ্ধার অভিযান শেষে এ ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ১২৭ জন। ২৯১টি মৃতদেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ৩১৬ জন নিখোঁজের তালিকা তৈরি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। এদের মধ্যে অকেইে চিরতরে তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। হাত-পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন অনেকেই।

আহতদের চিকিত্সার জন্য অর্থ সংগ্রহ, রক্তদান, ভেতরে আটকা পড়াদের জন্য খাবারসহ চিকিত্সা সামগ্রী, স্বেচ্ছাসেবীর কাজ প্রভৃতি করে অনেকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন জাতিকে। এছাড়া ঘটনার পর পর বেসরকারি এনাম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিত্সা দিয়ে যে উদাহরণ তৈরি করেছে তা অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে বিএনপি সরকারকে অনতিবিলম্বে সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। আপনি কি মনে করেন সংলাপ দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে?
6 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২১
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :