The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৩, ১০ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ১৩ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ অচিরেই দেশে আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন তারেক : শামসুজ্জামান দুদু | ঢাকা-চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা | আগামী রবিবার ১৮ দলের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

ছাত্রলীগের গৌরবের পতাকা সমুন্নত রাখিতে হইবে

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করিয়া গত রবিবার সিলেট এমসি কলেজে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত হইয়াছিল ছাত্রলীগের দুইটি পক্ষ। গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটিয়াছে। সেই ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হইয়াছে। অভিযোগ আছে যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে এই ঘটনা সংঘটিত হইলেও তাহারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করিয়াছেন। কেন অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করা হইল না সেই প্রশ্নও উঠিয়াছে। অবশ্য ঘটনার একদিন পর সংঘর্ষে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রকাশ্যে অস্ত্রব্যবহারকারী এক তরুণকে আটক করা হইয়াছিল। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাহাকে ছিনাইয়া নিয়াছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করিয়াছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলাও হইয়াছে স্থানীয় শাহপরান থানায়। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা অকপটে স্বীকার করিয়াছেন যে, ছাত্রলীগের এইসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দলকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়িতে হইতেছে। সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত হওয়া এবং পুলিশের নিকট হইতে আসামী ছিনাইয়া নেওয়া বা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া নিন্দনীয় শুধু নয়, আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের পেশিপ্রদর্শন বা বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। সর্বোপরি, ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন হিসাবে ছাত্রলীগের এইসব কর্মকাণ্ডের দায় যে অনিবার্যভাবে সরকার ও দলের উপরই বর্তাইবে— তাহাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, ছাত্র বা যুব সংগঠনের নিজেদের মধ্যে বা প্রতিপক্ষের সাথে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত হওয়া কোনো আকস্মিক বিষয় নহে। বস্তুত স্বাধীনতার পর হইতে এই প্রবণতা চলিয়া আসিতেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাপরবর্তীকালে ক্ষমতালিপ্সু সামরিক স্বৈরশাসকদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে তাহা আরও সর্বনাশা রূপ ধারণ করিয়াছে। পরিতাপের বিষয় হইল, সামরিক শাসন অবসানের দুই যুগ পরেও শিক্ষাঙ্গনে সেই আত্মঘাতী সংঘাত কিংবা অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হয় নাই। এই প্রবণতা শুধু যে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহা নহে। বিরোধী দলের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র বা যুব সংগঠনগুলিও যে এই ক্ষেত্রে পিছাইয়া নাই তাহার উদাহরণও একেবারে কম নহে। তবে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের মধ্যে এই ধরনের সীমা লঙ্ঘনের প্রবণতা যে অত্যধিক তাহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই। ব্যতিক্রমহীনভাবে সকল সরকারের আমলেই আমরা তাহা লক্ষ্য করিয়া আসিতেছি। ইহার কারণও সর্বজনবিদিতই বলা যায়। আমাদের দেশে ক্ষমতায় থাকিলে যে সাত খুন মাফ হইয়া যায় তাহা কোনো নূতন কথা নহে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ইহা জানেন বলিয়াই তাহারা ধরাকে সরা জ্ঞান করিয়া থাকেন। ইহা অনস্বীকার্য যে, আইন তাহার নিজস্ব গতিতে চলিলে এবং প্রশাসন তাহার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিলে পেশিশক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা যেমন অনেকটা কমিয়া আসিত, তেমনি আইন-কানুন ও নিয়মনীতির প্রতি আস্থা বা শ্রদ্ধাবোধ গড়িয়া উঠিত সমাজের সর্বস্তরে।

ছাত্রলীগের একটি গৌরবময় অতীত ও সংগ্রামী ঐতিহ্য আছে। সংগঠনটির জন্মই হইয়াছিল পাকিস্তানি দুঃশাসন ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের বলিষ্ঠ প্রত্যয় ও সংকল্প লইয়া। তত্পরবর্তী ইতিহাস সকলেরই জানা। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন হইতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ অবধি আমাদের সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে সামনে থাকিয়া নেতৃত্ব দিয়াছে এই ছাত্রলীগ। কিন্তু কখনোই কোনো প্রলোভনের কিংবা রক্তচক্ষুর নিকট মাথা নত করেন নাই সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যাপরবর্তী সামরিক স্বৈরশাসনের কঠিন দিনগুলিতেও ছাত্রলীগের এই ভূমিকা অব্যাহত ছিল। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসিবার পর হইতে ছাত্রলীগের নামে এমন অনেক ঘটনাই ঘটিয়াছে বা ঘটানো হইয়াছে যাহা সংগঠনটির গৌরবময় ঐতিহ্যের সাথে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নহে। এইসব ঘটনায় ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী-সমর্থকের মাথা যেমন হেঁট হইয়া গিয়াছে, তেমনি বিব্রত ও বিরক্ত হইয়াছেন খোদ দলীয় সভানেত্রীও। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বৃহদংশই সংগঠনটির গৌরবময় ও সংগ্রামী ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন বলিয়াই আমাদের বিশ্বাস। গৌরবের সেই পতাকাকে সমুন্নত রাখা তাহাদের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য বলিয়া আমরা মনে করি।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
স্থায়ী কমিটির বিবৃতিতে বিএনপি সরকারকে অনতিবিলম্বে সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। আপনি কি মনে করেন সংলাপ দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে?
1 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
ফেব্রুয়ারী - ২৯
ফজর৫:০৫
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৬:২১সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :