The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ১ জুন ২০১৩, ১৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ২১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ওকলাহোমায় টর্নেডোর আঘাতে নিহত ৫ | নওয়াজ তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী | রবিবার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে শিবিরের অর্ধবেলা, সোমবার রংপুরে বিএনপির হরতাল | রবিবার ৩ পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | মাগুরায় চলন্ত বাসে গৃহবধূর সন্তান প্রসব | আশুলিয়ায় ৩ কারখানায় বিক্ষোভ | হাজারীবাগে ছাদ থেকে পড়ে ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু | নেতাদের মুক্তির বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে: স্পিকার ড. শিরীন | শান্তিরক্ষা মিশনে শহিদ চার বাংলাদেশি জাতিসংঘ পদক পেলেন | আশা করি বিরোধী দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানিক মিয়া

দেলওয়ার হাসান

আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা স্বীকার করা হয়, সমাজ ব্যবস্থার বিকাশের কারণেই। সংবাদপত্রকে যদি বলা যায় সমাজের দর্পণ, তবে যে চিত্র, যে সংবাদ সেখানে বিধৃত হবে, তার মালমসল্লার যোগান পাওয়া যাবে সমসাময়িক সমাজ ও সমাজভূমি থেকে। রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় চরিত্র, যা সেই রাষ্ট্রের সমাজ অর্থনীতি ও জীবনব্যবস্থার প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে অনিবার্যরূপে, তার অপ্রতিরোধ্য প্রভাব সংবাদপত্রের ওপরও বর্তায়। রাষ্ট্রের প্রকৃতির ওপরই নির্ভর করে সেই রাষ্ট্রের সংবাদপত্রের আসল চিত্র। রাষ্ট্রের কাঠামোভাগ উদার গণতান্ত্রিক উপাদানে সমৃদ্ধ হলে সংবাদপত্রও সমাজের সহজ ও স্বাভাবিক দর্পণ হয়ে উঠতে পারে। এর অন্যথা হলে সংবাদপত্র আর সংবাদপত্র হিসেবে বিকশিত হতে পারে না। তা হয়ে পড়ে নিছক সংবাদ বাহক। সমাজ সেখানে অনুপস্থিত থাকে বহুল পরিমাণে। প্রকাশিত সংবাদ তখন মানুষ আর সমাজের আসল খবর বহন করে না। সমাজবিচ্ছিন্ন সংবাদপত্র তখন আর কোনো বাস্তব সামাজিক উপদানকে ধারণ করতে পারে না। সংবাদপত্র তখন সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সংবাদপত্রের এ বিপর্যয়ের অবসানকল্পেই বলা হয় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা। বলা হয় সংবাদপত্রের সমাজ নিয়ামকী গুরুত্বের কথা।

সংবাদপত্র যে প্রকৃত পক্ষে 'ফোর্থ স্টেট' এ ধারণাটিও মূলত শতাব্দী পুরোনো। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গ্যালারিতে উপস্থিত সংবাদপত্র প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে এডমন্ড বার্ক বলেছিলেন, তারা এই রাষ্ট্রের 'ফোর্থ স্টেট'। রাষ্ট্র কাঠামোতে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা বুঝাতে যে তাত্ক্ষণিক উক্তিটি করেছিলেন বার্ক, সেটাই সংবাদপত্রের একটি বিশেষ পরিচয়কে তুলে ধরেছে এবং সে পরিচয় এখনও মূর্তমান। 'ফোর্ট স্টেট' সম্পর্কে বলা হয়, 'The fourth estate is a term that Positions the Press (newspapers) as a fourth branch of government and on that is important to a functioning democracy.'

সংবাদপত্রকে গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার বিকল্পহীন প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এ কারণেই গণতন্ত্র বিপন্ন হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিপর্যয় ঘটতে পারে। আবার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব হলে গণতন্ত্রও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। সংবাদপত্র মূলত পাঠকের জন্য এবং সে পাঠক অবশ্যই সমাজমনস্ক পাঠক। সংবাদপত্র যখন নির্বিঘ্নে সমাজের অবিকৃত নানা ঘটনার একটি নিরপেক্ষ সংবাদচিত্র পাঠকদের উপহার দিতে পারে, তখন সে সংবাদপত্র শুধু পাঠকের খোরাক যোগায় না, একজন সাধারণ পাঠককেও সপ্রতিভ নাগরিক করে তোলে। আজকাল একজন নাগরিককে আর রাজনীতি থেকে আলাদা করে ভাবা হয় না। ভাববার অবকাশও নেই। একজন নাগরিক রাজনৈতিকভাবে সচেতন না হলে সে যেমন জাতির কল্যাণ সাধন করতে পারে না, তেমনি নিজের কল্যাণ সাধনও তার পক্ষে সার্থকভাবে করা সম্ভব নয়। নাগরিকদের রাজনৈতিক জ্ঞান অর্জনের যত উপায় আছে, তার মধ্যে সংবাদপত্রের স্থান সর্বাগ্রে। সংবাদপত্রের জগতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় এবং পৃথিবীর গণমাধ্যমগুলো অতিবৈজ্ঞানিক ত্বরিত সেবা প্রদান করতে সক্ষম হওয়ায় সংবাদপত্রের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদপত্রের গুরুত্ব যে কতখানি, তা একটি ঘটনার উল্লেখ করলে আরও স্পষ্ট হবে। জেফার একবার কোনো এক সাংবাদিককে লিখেছিলেন যে, তাঁকে যদি সংবাদপত্রহীন সরকার এবং সরকারবিহীন সংবাদপত্র বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে তিনি সরকারবিহীন সংবাদপত্রের জগত্ই বেছে নেবেন। জেফার দু'বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সংবাদপত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের কারণে সংবাদপত্রের কঠোর সমালোচনাও হজম করতে পেরেছিলেন। এমনকি, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করার পরও তিনি সংবাদপত্রের প্রতি শ্রদ্ধা হারাননি। তিনি আবারও বললেন, 'সংবাদপত্র যেখানে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং জনসাধারণ যেখানে পড়তে জানে সেখানে সবকিছুই নিরাপদ।'

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে কোনো সময়ই সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে, ব্রিটিশ আমল থেকে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য কমবেশি নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্নটি অভিন্ন হওয়ায় যখনই গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে, তখনই সংবাদপত্রেরও কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। সংবাদপত্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সেন্সরশিপ, প্রণয়ন করা হয়েছে বিভিন্ন কালাকানুন। এমনকি সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ এবং প্রেস পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশেষত পাকিস্তানি তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর কাছে এটা ছিল একটি অমোঘ অস্ত্র। যখনই গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, তখনই এ সেন্সর ও আইনের নির্মম প্রয়োগ নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। পূর্ববাংলায় তত্কালীন শাসকগোষ্ঠীর এ কালো আইনের কোপানলে পড়ে যে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানটি সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা হলো 'ইত্তেফাক' এবং যে মহান সংগ্রামী সাংবাদিক সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন, তিনি হলেন মানিক মিয়া।

পূর্ববাংলায় এর প্রতিবাদ যে হয়নি, তা নয়, তবে সে সময়ে প্রতিবাদে সবচেয়ে যিনি বেশি সোচ্চার ছিলেন, ক্ষমতাসীনদের জেল-জুলুমকে উপেক্ষা করে যে নিরলস সংগ্রামী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য বলিষ্ঠ লেখনী চালিয়েছেন, তিনি হলেন মানিক মিয়া। তাঁর প্রাণপ্রিয় পত্রিকা, প্রেস কিংবা নিজেকে ক্ষমতাসীনদের রোষানল থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি কলম হাতে ধরেননি, তিনি কলম হাতে ধরেছিলেন যথার্থভাবেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধিকার অর্জনের জন্য।

মানিক মিয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে মনে করতেন, স্বাধীন জনমত। তাঁর ধারণা ছিল, জনমতের কণ্ঠরোধে গোটা সামাজিক স্বাধীনতারই তাত্পর্যই মূল্যহীন হয়ে পড়ে। মানিক মিয়া স্পষ্টতই মনে করতেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানেই জনসমাজ তথা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা। স্বাধীনতার স্বপ্ন মানিক মিয়া দেখতেন। আর তাঁর সেই স্বাধীনতার স্বপ্নবোধের প্রতীকী ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। তিনি জানতেন, সংবাদপত্রের স্বাধীন ভূমিকা না থাকলে স্বাধীনতাও মূলত অর্থহীন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্বরূপ উল্লেখ করে মানিক মিয়া লর্ড ফ্রান্সিস উইলিয়ামের একটি উদ্ধৃতি প্রায়ই ব্যবহার করতেন। ফ্রান্সিস উইলিয়াম বলেছিলেন, 'The Press is a weapon of freedom, a sword in the hands of those fighting old and new tyrannies- the one indispensable weapon in the armory of freedom.' সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে একবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মানিক মিয়া বলেছিলেন, 'বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতা লাভের ইতিহাস যাঁরা অবগত আছেন, তাঁরা জানেন, সকল দেশেই এই স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে অগ্রপথিক সেনানীর ভূমিকা পালন করেছে সংবাদপত্র। স্বাধীন জনসমাজ আর স্বাধীন সংবাদপত্র কথা দুটি তাই একটি অন্যটির পরিপূরক। আমরা যখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলি, তখন ব্যাপক অর্থে জনসমাজের স্বাধীনতা বা গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রামের কথাই বলি। এই অধিকার ছাড়া কোনো জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অর্থহীন।'

মানিক মিয়া শৃঙ্খলিত সংবাদপত্রকে শৃঙ্খলিত জনসমাজের প্রতীক মনে করতেন। শৃঙ্খলিত জনসমাজের আত্মবিকাশ যেমন অসম্ভব, তেমনিভাবে শৃঙ্খলিত সমাজে ব্যক্তিমানসের স্ফুরণও অকল্পনীয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে তাই প্রতিটি উন্নত ও স্বাধীন দেশেই অলঙ্ঘনীয় বিধান বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর দেশে দেশে সংবাদপত্রের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি একবার লিখেছিলেন, আমাদের দেশের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনেও সংবাদপত্রের ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আফ্রো-এশিয়ার দেশে দেশে জনসাধারণের পাশাপাশি সংবাদপত্রের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ফলে পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন হয়েছে বটে, কিন্তু বহু দেশেই আজ সেই শৃঙ্খল আবার সংবাদপত্রের হাতেই এঁটে দেওয়া হয়েছে। কারণ, নতুন দেশীয় শাসকেরা জানেন, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধই হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশে জনমতের যথার্থ কণ্ঠরোধ। তাই রাষ্ট্রীয়করণ, বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রণাদেশ আরোপ প্রভৃতি নানাভাবে নানা নামে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ খর্ব ও খণ্ডিত হচ্ছে। একবিংশ শতাব্দীর এ নব্যস্বাধীন ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সবচাইতে বড় ট্রাজেডিই সম্ভবত সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অপমৃত্যু অথবা মুমূর্ষু অবস্থা। এমন অবস্থাকে বেশিদিন চলতে দেওয়া মানে একটি স্বাধীন জনসমাজের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কাকে ত্বরাণ্বিত করা। তাই শুধু সংবাদপত্রসেবী হিসেবেই নয়; সবাদপত্রের পাঠক বিপুলায়তন জনসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে এ ভয়াবহ আশঙ্কাকে প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশেরই সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা তথা জনসমাজের স্বাধীনতার জন্যই মানিক মিয়া নাগরিক ঐক্যের কথা বলেছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার ব্যাপারটি তার সময়ে এত ঘটেছিলে যে, শৃঙ্খলিত সংবাদপত্রের অবস্থান এবং জনসমাজে দুর্গতি তিনি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে পেরেছিলেন। আমাদের জানামতে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনগণের স্বাধীনতার কথা মানিক মিয়ার মতো এত জোরালোভাবে কেউ বলে যেতে পারেননি। মানিক মিয়া বলতেন, সংবাদপত্র আদপেই যখন জনসাধারণের খবরাখবর, সুখ-দুঃখ ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কাহিনী প্রকাশের মাধ্যম, তখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র ব্যাখ্যা দাঁড়ায় জনসাধারণকেই নিয়ন্ত্রণ করা। মানিক মিয়াও তাঁর একটি ভাষণে একবার বলেছিলেন, 'সংগ্রামের ঐতিহ্যের অধিকারী বলেই ব্রিটেনের জনসমাজের নাগরিক স্বাধীনতা আজ এতটা সুরক্ষিত, সেখানে স্বাধীন সংবাদপত্রের ভূমিকা এতটা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু একটি সাপ্তাহিক কাগজের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা নিয়ে। রাশিয়ার কমুনিস্ট বিপ্লবে 'ইসক্রার' ভূমিকা আজ ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। পাক-ভারত উপমহাদেশেও স্বাধীনতা আন্দোলন সংগঠনে ও স্বাধীনতা পরবর্তী জাতিগঠনমূলক কাজে জাতীয় সংবাদপত্রের ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ভূমিকা আজ কোনো কারণে খণ্ডিত বা খর্বিত হলে জাতীয় চেতনারই একটা অংশ তাতে বিপন্ন হবে।'

মানিক মিয়া বরাবরই সংবাদপত্র ও স্বাধীনতাকে সমার্থক মনে করতেন। তিনি নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন বলে গণতন্ত্রের কথা যেমন বলতেন অকপটে, তেমনিভাবে স্বাধীনতার অস্তিত্ব বোঝাতে বাকস্বাধীনতাকেই বুঝতেন। এর সপক্ষে জোরালোভাবে তিনি কলম ধরেছেন। সভা-সমিতিতে বক্তব্য রেখেছেন। এ ক্ষেত্রে আপসকামিতা তাঁর ছিল না। যারা রাজনীতির নামে সংবাদিকতার নামে আপসবাদী ছিলেন, তাদেরকে তিনি মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন। মানিক মিয়া বিশ্বাস করতেন পেশাগত সততায়। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হোক, রাজনীতির ক্ষেত্রে হোক, বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার ক্ষেত্রে হোক, সততা ও বস্তুনিষ্ঠা না থাকলে তার আবেদন থাকে না, থাকতে পারে না। সময়ে তা আঁস্তকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে বাধ্য।

মানিক মিয়ার 'রাজনৈতিক মঞ্চ'-এ যে অমিত সাহসের সূর্যতেজ, তার পেছনে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নীতিবোধ ছিল প্রবল। মানিক মিয়ার লেখনী এ নীতিবোধ দ্বারা তাড়িত ছিল বলেই তাঁর পদস্খলন ঘটেনি। রাজনৈতিক তোষামোদ তিনি পছন্দ করতেন না। তিনি বলেছিলেন, 'আপনারা যারা আমাকে রাজনৈতিক মঞ্চের লেখক 'মোসাফির' হিসেবে চেনেন, তারা জানেন, মোসাফিরের কলমও চেম্বারলেনের ছাতার বাট দিয়ে তৈরি নয়। Appeasement Policy কাকে বলে, তা আমার জানা ছিল না। যা সত্য ও ন্যায় বলে ভেবেছি, তাকে দ্বিধাহীনভাবে প্রকাশ করেছি।' তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মূলত স্বাধীন জনগোষ্ঠী তৈরির পূর্বশর্ত হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি তাঁর 'রাজনৈতিক মঞ্চ'-এর মাধ্যমে সংবাদপত্রসেবী, সংবাদপত্র মালিক ও গণতন্ত্রের সকল সহায়ক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বারবার। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা উঠলে তিনিই হতে পারেন একমাত্র প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন এবং বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মানিক মিয়ার অবদান নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক ও চির উজ্জ্বল।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নির্দলীয় অথবা দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। আপনি কি তার এই বক্তব্যের সাথে একমত?
9 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :