The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ১ জুন ২০১৩, ১৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ২১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ওকলাহোমায় টর্নেডোর আঘাতে নিহত ৫ | নওয়াজ তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী | রবিবার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে শিবিরের অর্ধবেলা, সোমবার রংপুরে বিএনপির হরতাল | রবিবার ৩ পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | মাগুরায় চলন্ত বাসে গৃহবধূর সন্তান প্রসব | আশুলিয়ায় ৩ কারখানায় বিক্ষোভ | হাজারীবাগে ছাদ থেকে পড়ে ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু | নেতাদের মুক্তির বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে: স্পিকার ড. শিরীন | শান্তিরক্ষা মিশনে শহিদ চার বাংলাদেশি জাতিসংঘ পদক পেলেন | আশা করি বিরোধী দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

মানিক মিয়ার লেখা থেকে :স্তাবকতা প্রসঙ্গে

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খানের প্রতিকৃতি অফিস-আদালত হইতে অপসারণ করা হইয়াছে। যুক্তি দেওয়া হইয়াছে যে, তিনি এখন আর দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নহেন বলিয়াই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে। তিনি যে এখন প্রেসিডেন্ট বা দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নহেন, তা ঠিক; কিন্তু জনমনের জিজ্ঞাসা হইল, যিনি এক যুগ ধরিয়া এই দেশে দুর্দণ্ড প্রতাপে শাসনকার্য পরিচালনা করিয়াছেন, দশ বত্সরের অধিককাল যাবত্ যাঁহার ছবি দেশের অফিস-আদালতে, হোটেল-রেস্তোরাঁয়, দোকানপাটেই নয়, বিগত দশকে সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায়ও দৈনিক ছাপা হইত—কোন কোন পত্র-পত্রিকায় অনেক সময় একই দিনে বিভিন্ন ভঙ্গিতে তাঁহার চার-পাঁচটা ছবি পর্যন্ত ছাপা হইত, যাহা তাঁহার প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা-ভালবাসার নিদর্শন ছিল না, তাহা ছিল এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী সুবিধাবাদীর স্তাবকতার নিদর্শন। ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও প্রমোশন লাভ ইত্যাদি ছিল এই অতিশ্রদ্ধার মূল উদ্দেশ্য। পত্র-পত্রিকায় তাঁহার প্রতিকৃতি প্রকাশের এই বাড়াবাড়ি আমরা কোনদিন পছন্দ করি নাই।

ব্যক্তিপূজা ইসলামে নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, যাহারা ব্যক্তিপূজা করেন বা করিতে বাধ্য হয়, তাহারা শেষ পর্যন্ত স্তাবকে পরিণত হয়। তাহাদের আত্মসম্মানবোধ বা বিবেক বলিয়া কিছু অবশিষ্ট থাকে না। তাহাদের স্তাবকতায় তুষ্ট হইয়া প্রেসিডেন্ট আইয়ুব তাহাদের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করিয়াছেন, বিভিন্ন উচ্চপদে অবাঞ্ছিত ও অনুপযুক্ত লোকদের নিয়োগ করিয়াছেন বা আর্থিক সুবিধাদি প্রদান করিয়াছেন। এই কারণে এই দেশের গণমনে, বিশেষত শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন লোকদের মনে আইয়ুব সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হইয়াছিল। কিন্তু এই সম্বন্ধে কোন কথা বলার উপায় ছিল না। কোন কিছু বলিতে গেলে স্তাবক এবং অনুগ্রহভোগীরা খড়্গহস্ত হইয়া উঠিতেন। স্তাবকদের একজন ঢাকায় দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় রাজধানীর আইয়ুব নগর নামকরণের প্রস্তাব দিয়াছিলেন, তখন অবশ্য কেহ কেহ ভয় ও জড়তা কাটাইয়া তাহার প্রতিবাদ করিয়াছিলেন যে, কোন জাতীয় বীরের জীবদ্দশায় তাহার নামে শহর-বন্দর, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাটের নামকরণ করা উচিত নয়। এই সেদিনও এই যুক্তিতে আমরা বিরোধী দলীয় কোন কোন নেতার নামে রাস্তা বা পার্কের নামকরণের বিরোধিতা করিয়াছি।

কিন্তু স্তাবক শ্রেণীর লোকেরা কোনদিন যুক্তির ধার ধারে না, ইতিহাস হইতে শিক্ষা গ্রহণের মনোবৃত্তি তাহাদের নাই। আমাদের দুর্ভাগা দেশে মুষ্টিমেয় চিহ্নিত স্তাবক যে কত অনর্থ ঘটাইয়াছে তাহার হিসাবনিকাশ কেইবা করিবে? অথচ, এদের স্তাবকতার জন্য দেশবাসীকে কত দুঃখ-গ্লানি ভোগ করিতে হইয়াছে! জানি না, দেশবাসীর ভাগ্যে আরও কত দুর্গতি আছে। আইয়ুব খান সাহেব ক্ষমতাসীন থাকাকালে যেসব লোককে বিভিন্ন উচ্চপদে নিযুক্ত করিয়াছিলেন, তাঁহারা জানিতেন যে, যোগ্যতার দ্বারা মনিবকে সন্তুষ্ট করার সাধ্য তাঁহাদের নাই; সুতরাং স্তাবক বা জো-হুজুরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছাড়া তাঁহাদের গত্যন্তর ছিল না। তাই তাঁহারা স্তাবকতার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হইলেন। ইহার পরিণতি তাঁহারা ভাবিয়া দেখেন নাই। দেশের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া অপেক্ষা স্তাবকতায় এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধবাদীদের দাবাইয়া রাখিতেই তাঁহাদের অধিক সময় ব্যয়িত হইতে থাকে।

যে উন্নয়ন-দশক পালন উপলক্ষে সেইদিনও পাকিস্তানের সিনেমা হল, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন প্রভৃতি সরকারি ও বেসরকারি প্রচার মাহাত্ম্যে বিশ্বকে তাক লাগাইয়া দেওয়া হইয়াছিল, বিগত পাঁচ মাসের ঘটনাবলীর পর হঠাত্ শোনা গেল যে, দেশের অর্থভাণ্ডার শূন্য, দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত এবং আরও কত কি! অবশ্য সামরিক আইন প্রবর্তনের পূর্বে কল-কারখানায় এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যে, এক কথায় অর্থনীতিতে যে বিস্ময় দেখা দিয়াছিল, আমরা সেই পরিস্থিতির সমর্থন প্রদান করিতেছি না। কিন্তু আইয়ুব সাহেবের ক্ষমতা হস্তান্তরের পরও যে অর্থনীতি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয় অর্থাত্ জনকল্যাণমুখী নয়, তাহাও আজ স্পষ্টভাবে ধরা পড়িয়াছে। যেখানে আইয়ুব সরকার পাঁচ মাস পূর্বেও ছাত্র, শ্রমিক এবং কৃষকদের কোন সমস্যা আছে বলিয়া স্বীকার করেন নাই, স্তাবকের দল যাহাকে "ধিক্কৃত" রাজনীতিকদের উস্কানি বলিয়া উড়াইয়া দিতেন, সেখানে বর্তমান শাসকবর্গ শাসনব্যবস্থা গ্রহণকালেই এই তিনটি সমস্যার প্রতি আশু নজর দিবার প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। আমরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এই সকল সমস্যার প্রতি আইয়ুব সরকারের দৃষ্টি পুনঃ পুনঃ আকর্ষণ করিয়াছি, মুষ্টিমেয় লোকের তেলা মাথায় তেল দেওয়ার পরিবর্তে দেশের মেরুদণ্ড কৃষক, শ্রমিক ও জাতির ভবিষ্যত্ ছাত্রসমাজের প্রতি নজরদানের আহ্বান জানাইয়াছি। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও স্তাবকদের শোরগোলে কোন সমস্যাই উচ্চ পর্যায়ে বিবেচিত হইতে পারে নাই। দেশের সম্পদ ও বৈদেশিক ঋণ, সবকিছুর ফায়দা আশপাশের ভাগ্যবানরাই লুটিয়াছে। কৃষক তাহাদের সমস্যা নিয়া সংঘবদ্ধভাবে দেন-দরবার করিতে চাহিলে তাহাদের মাথায় ও পিঠে পুলিশের লাঠি পড়িয়াছে; কঠোর অনুশাসনের দাপটে শ্রমিকেরা তাহাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়া দেন-দরবার করিতে গেলে তাহাদের ভাগ্যেও জুটিয়াছে লাঠিসোটা আর জেল-জুলুম। ছাত্রসমাজের উপরও কী নির্যাতনই না চলিয়াছে। তাহাদের প্রতি শুভানুধ্যায়ী ও অভিভাবকসুলভ সহানুভূতিশীল মনোভাব গ্রহণের পরিবর্তে যুদ্ধংদেহী মনোভাব গ্রহণ করা হইয়াছে। তবে বর্তমানে যাঁহারা দেশের কর্তৃত্বভার গ্রহণ করিয়াছেন, তাঁহাদের প্রতি আমার শুধু এইটুকু আবেদন জানাইব যে, তাঁহারা নিজেরা ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষকদের সমস্যার গভীরে প্রবেশ করিয়া গোটা পরিস্থিতির পর্যালোচনাপূর্বক তাঁহাদের সমস্যাসমূহের প্রতি কার্যকর অগ্রাধিকার প্রদান করিবেন।

আমাদের দেশের শতকরা ৯০ জন কৃষক ও শ্রমিক—এই শ্রমশক্তির বদৌলতে পাকিস্তান টিকিয়া আছে। ভারত বিভাগের ফলে যাহারা মনে করিয়াছিল যে, অর্থনৈতিক দিক দিয়া পাকিস্তান ছয় মাসও টিকিতে পারিবে না, ভাঙ্গিয়া পড়িবে, তাহাদের ভবিষ্যত্ বাণী মিথ্যা প্রমাণিত করিয়াছিল আমাদেরই দেশের চাষী ও শ্রমিক ভাইয়েরা। তাহাদের পরিশ্রমলব্ধ পণ্য দ্বারাই পাকিস্তান স্থিতিশীল বাজেট প্রণয়নে সক্ষম হয়, পাকিস্তান বিশ্বের বুকে সসম্মানে টিকিয়া থাকে।

দেশকে শুধু টিকাইয়া রাখাই নয়, উন্নতির পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রেও তাহাদের অবদান সর্বাধিক। সরকারি কর্মচারীদের অবদান আমরা তুচ্ছ করিতে চাই না; পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ফলে সরকারি অফিস-আদালতে যেই শূন্যতার সৃষ্টি হইয়াছিল তাহা পূরণ করার ক্ষেত্রে তাহাদের অবদান কম ছিল না। কিন্তু কিছুকাল যাইতে না যাইতে তাহাদের অধিকাংশ প্রমোশন রোগে আক্রান্ত হইল। দুই-তিন দফা প্রমোশন পাইয়াও তাঁহারা যেন সন্তুষ্ট নন। সর্বোপরি উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত অফিসাররা দেশবাসীর, বিশেষতঃ কৃষক-শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে যেন বৃটিশ আমলের গণবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির উত্তরাধিকারী বনিলেন। ১৯৫৮ সালের অক্টোবর বিপ্লবের পর এই শ্রেণীর মনোভাব আরও তীব্র হইয়া উঠিল, লাগামহীন ক্ষমতায় তাহাদের ঔদ্ধত্য সীমা ছাড়াইয়া গেল। কৃষক-শ্রমিকদের পরিশ্রমে উত্পাদিত পণ্যের দ্বারা অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশকে শিল্পায়িত করার ব্যাপারে এক শ্রেণীর কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি অনুগ্রহ বিতরণে ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বোধগম্য কারণেই অতি আগ্রহী হইয়া পড়িলেন। তাহাদের 'ট্যাক্স হলিডে' 'বোনাস ভাউচার' কতকিছুর সুযোগ দেওয়া হইতে লাগিল! পক্ষান্তরে দেশের শতকরা ৯০ জন অধিবাসী অর্থাত্ কৃষক-শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্গতির কথা তুলিলে বা তাহদের ঋণদান ও খাজনা মওকুফের সুপারিশ করিলে এই সকল কর্মচারী তাহা সহানুভূতি সহকারে বিচার-বিবেচনা করিবার পরিবর্তে তেলে-বেগুনে জ্বলিয়া উঠিতেন। স্বাধীন দেশে আমলাতন্ত্রের যেই দৃষ্টিভঙ্গি দেশবাসী কামনা করেন, সেই কামনা আর পূর্ণ হইল না। আমাদের সর্বাধিক সমস্যা ও সাম্প্রতিক গণজাগরণের মূল কারণও এখানেই নিহিত। সামরিক শাসন কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে তদন্ত অনুষ্ঠান করিলে আমাদের অভিযোগের সত্যাসত্য নির্ধারণ করিতে পারিবেন। স্তাবক এবং স্বার্থান্ধ ব্যতীত কেহ এই যুগে কল্পনাও করিতে পারে না যে, দেশের শতকরা ৯০ জন অধিবাসীর সমস্যাকে বাদ দিয়া এবং তাহাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া উপেক্ষা করিয়া সত্যিকার অর্থে দেশের উন্নয়ন সাধন সম্ভব। উন্নয়ন-দশকের উন্নয়নের শত গুণগান সত্ত্বেও প্রকৃত প্রস্তাবে আমাদের দেশ গরীব দেশ; এখনও মাথাপিছু আয় বিশ্বে সর্বনিম্ন। এমতাবস্থায় বর্তমান শাসকমণ্ডলীর নিকট হইতে আমরা দেশের বিরাজমান সমস্ত সমস্যার সমাধান আশা করিতে পারি না। তাহাদের হাতে আলাদীনের প্রদীপ নাই। দেশকে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণগ্রস্ত করা হইয়াছে। প্রধানতঃ দেশের সম্পদ দ্বারাই দেশ গঠনে প্রবৃত্ত হইতে হইবে। এই ব্যাপারে বিত্তবানদের এবং সমাজের অন্যান্য সক্ষম মানুষের যথেষ্ট দায়িত্ব রহিয়াছে। ভাগ্যবানদের স্মরণ রাখা উচিত যে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাকালে কে কত টাকা পুঁজি নিয়া এখানে আসিয়াছিলেন এবং এখন তাহারা কত টাকা-পয়সা ও কল-কারখানার মালিক বনিয়াছেন। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার প্রবৃত্তি এবং সক্ষম ব্যক্তিদের কর পরিশোধ না করার মনোবৃত্তি পরিহার করিতে হইবে। তাহাদের স্মরণ রাখিতে হইবে যে, দেশের শতকরা ৯০ জনকে অভুক্ত-অসন্তুষ্ট রাখিয়া দেশের অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব নয়। একতরফাভাবে কায়েমী স্বার্থের পায়রবী করাও কোন সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের আর্থিক অবস্থার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সর্বপ্রথম যাহাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সুবিচার করা প্রয়োজন তাহারা হইল কৃষক, শ্রমিক ও স্বল্প বেতনভোগী কর্মচারীবৃন্দ। আমরা জানি যে, সামরিক বাহিনী—যাহারা দেশের শাসনভার গ্রহণ করিয়াছেন—তাহারা দেশরক্ষার কাজেই মূলতঃ নিয়োজিত ছিলেন এবং তাহাদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা সেই ক্ষেত্রেই রহিয়াছে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাহাদের জানা থাকিবার কথা নয়। এই ব্যাপারে সত্ কর্মচারী, দেশের সংবাদপত্র এবং জনসাধারণ তাহাদের সহিত সহযোগিতা করিবে; তবে প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের শাসন আমলে যে সকল স্তাবক নিজেদের ভাগ্য গড়িয়াছে এবং দেশবাসীর উপর ডান্ডা চালাইয়াছে, যাহারা তাহার পরামর্শদাতা হিসাবে তাহাকে ভুল পথে পরিচালিত করিয়াছে কিংবা অন্যায়, অবৈধ কার্যকলাপে তাহার সহায়ক ছিল এবং দেশে ব্যক্তিত্ব বা ব্যক্তিপূজার ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করিতে গরীব রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার অপচয় করিয়াছে, সংবাদপত্রের গঠনমূলক সমালোচনা স্তব্ধ করিবার জন্য 'ইত্তেফাক'কে প্রায় তিন বত্সর বন্ধ রাখিয়াও যাহারা নিয়তির বিধান হইতে নিষ্কৃতি পায় নাই, সেই শ্রেণীর স্তাবক ও উপদেষ্টাদের আর সযত্নে রাখা হইবে না, বর্তমান শাসন কর্তৃপক্ষের নিকট আমরা এতটুকু প্রত্যাশা করি।

ইত্তেফাক, ৬ই এপ্রিল, ১৯৬৯-এ প্রকাশিত।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নির্দলীয় অথবা দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। আপনি কি তার এই বক্তব্যের সাথে একমত?
3 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৭
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :