The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ১ জুন ২০১৩, ১৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ২১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ওকলাহোমায় টর্নেডোর আঘাতে নিহত ৫ | নওয়াজ তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী | রবিবার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে শিবিরের অর্ধবেলা, সোমবার রংপুরে বিএনপির হরতাল | রবিবার ৩ পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | মাগুরায় চলন্ত বাসে গৃহবধূর সন্তান প্রসব | আশুলিয়ায় ৩ কারখানায় বিক্ষোভ | হাজারীবাগে ছাদ থেকে পড়ে ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু | নেতাদের মুক্তির বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে: স্পিকার ড. শিরীন | শান্তিরক্ষা মিশনে শহিদ চার বাংলাদেশি জাতিসংঘ পদক পেলেন | আশা করি বিরোধী দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

দশক জুড়ে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ

কখনোই গুরুত্ব দেয়নি বিসিবি

স্পোর্টস রিপোর্টার

আকসু'র আহবানে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যাব) গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করেছে বলে জানা গেছে। আবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিজেদের উদ্যোগে বিপিএল নিয়ে কিছু তদন্ত করছে। এরপরও প্রশ্ন থেকেই যায়- বিসিবি এই জটিল পরিস্থিতি তৈরির আগে এসব সংস্থার কাছে একবারও কেন যাওয়ার প্রয়োজন মনে করল না?

শুরুতে মোহাম্মদ আশরাফুলসহ বর্তমানের তিন ক্রিকেটারের নাম এলো। এরপর শোনা গেল,স্পট ফিক্সিং ক্লাবে জড়িত বাংলাদেশের 'কিংবদন্তিতুল্য' তিন সাবেক ক্রিকেটারও! আশরাফুলকে ছাপিয়েও এখন তাই ক্রিকেট সমর্থকদের বেশি আহাজারি খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ ও মোহাম্মদ রফিককে নিয়ে! পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে উঠেছে এই ঘটনাগুলো নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ।

স্পট ফিক্সিং নিয়ে এই তোলপাড় হওয়াটা বাংলাদেশের ক্রিকেটামোদীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু এই অন্ধকার জগতের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হওয়াটা এই প্রথম নয়। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ ২০০৪ সালের কথা বলছেন; কিন্তু দলিল-দস্তাবেজ বলছে, ২০০৩ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির জন্য আলোচিত হয়। সেই থেকে একটার পর একটা অভিযোগ সবসময়ই উঠেছে। কিন্তু কখনোই সত্যি সত্যি বাংলাদেশের ক্রিকেট এই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

এর জন্য অনেকেই বিসিবি চিরকালের উদাসীনতাকেই বেশি দায়ী করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক ক্রিকেটার বললেন, 'বিসিবি অভিযোগ চেপে রাখার প্রবণতা না দেখালে এতোদূর গড়াতো না ঘটনা।' আবার এই কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেন সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান। তিনি বলছেন, 'অভিযোগ উঠলেও বিসিবির সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো সবসময় পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে বিসিবি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।'

রকিবুলের কথার সাথেও একমত হতে পারলেন না আরেক সাবেক ক্রিকেটার। তিনি বিসিবির উদাসীনতাকেই দায় দিচ্ছেন।

ম্যাচ পাতানো বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদাসীনতার নজির খুঁজতে সেই ২০০৩ সালেই ফিরে যেতে হবে। সে বছর বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বিস্ময়করভাবে বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকা কানাডা ও আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার কাছে হার মানে। পরের আইসিসি এই ম্যাচ দুটিকে সন্দেহভাজন হিসেবে 'কালোতালিকা'ভুক্তও করে। কিন্তু শুরুতে যথারীতি বিসিবি ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার একটা চেষ্টা করেছিল।

পরে অবশ্য একটি তদন্ত কমিটি করেছিল বিসিবি। সেই তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশ করলেও সেসব বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ আছে। আজ কেউ অভিযোগ করতে পারেন—সে দিনই আসলে শুরু হয়েছিল ছাড় দেয়ার এই চর্চা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হওয়ার পরপরই এই চর্চাটার চরম একটা রূপ দেখা গেল। বিপিএলের শুরু থেকেই স্পট ফিক্সিং; এমনকি ম্যাচ পাতানোও হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। আসলে শঙ্কাটা প্রথম দেখা গেল বিপিএল শুরুর আগেই। বিপিএল আয়োজনের জন্য যে সংস্থাটিতে দায়িত্ব পেল, দেখা গেল সেই 'গেম অন স্পোর্টস' এর অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা হলেন নিষিদ্ধ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল) ঢাকা ওয়ারিয়র্সের ম্যানেজার কৌস্তভ লাহিড়ী। লাহিড়ীকে ঘিরে অনেকেই বাঁকা চোখে তাকালেন বিপিএলের দিকে। বিসিবি থেকে বলা হল, আইসিএল পর্ব মিটে গেছে, ফলে এটা আর সমস্যা না।

এরপর খেলা শুরু হলে কিছু কিছু অভিযোগও উঠতে থাকলো। কিন্তু বিপিএল কমিটি বা বিসিবি; কারোরই খুব হেলদোল দেখা গেল না। প্রথম আসরেই মাশরাফি বিন মুর্তজা অভিযোগ করলেন, তাকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক এক ক্রিকেটার।

এই অভিযোগ যখন প্রথম প্রকাশ পেল বিসিবি প্রাণান্ত চেষ্টা করল, এটাকে 'কিছু না' বলে প্রমাণ করার। কেউ বললেন মজা করে বলেছে, কেউ বললেন মাশরাফি ভুল বুঝেছে। মোদ্দা কথা, বোর্ড কর্মকর্তারা মানতেই চাইলেন না যে, গুরুতর কিছু একটা ঘটতে চলেছে। পরে সেই ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা গেল, সত্যিই কিছু ঘটেছে। পরের ঘটনা সকলেরই জানা, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক ক্রিকেটার শরিফুল ইসলাম প্লাবনকে আজীবন নিষিদ্ধও করা হল।

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রেই, বিসিবির প্রবণতা একই। বিপিএলের প্রথম আসরেই চিটাগং কিংস দলের মালিক সামির কাদের চৌধুরী অভিযোগ করলেন, ম্যাচ পাতানো হচ্ছে। এ নিয়ে তদন্ত তো দূরে থাক; সবাই হেসে উড়িয়ে দিল অভিযোগটি। এরপর একে একে রংপুরের অভিযোগ, ঢাকার দুটি ম্যাচ নিয়ে অভিযোগ, আম্পায়ার নাদির শাহর গোপন ক্যামেরার সামনে স্বীকৃতি; পত্র-পত্রিকায় অনেক খবরই শিরোনাম হয়েছে, কিন্তু কখনোই বিসিবি এসব আমলে নিতে চায়নি। অথচ নাদির শাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সূত্র ধরেই ব্যাপকতর তদন্ত করা যেত বিপিএল নিয়ে!

ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের যে ম্যাচ নিয়ে এখন তোলপাড়; সেদিনের খেলাটিকে নিয়ে প্রতিটি শীর্ষ দৈনিকে সন্দেহ করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু বিসিবির তরফে এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবৃতি দিলেন, আকসু এই ম্যাচকে 'পরিষ্কার' বলে দিয়েছে! তাহলে তিনি কি মিথ্যে বলেছিলেন?

বিসিবি কর্মকর্তারা এ প্রসঙ্গে তাদের আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে থাকেন। এটা ঠিক যে, সারা দুনিয়ার সব ক্রিকেট বোর্ডের মতো তাদেরও আইনি ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। তাদের দুর্নীতি দমন ইউনিটও চাইলেই কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না, কারো ফোনে আড়ি পাততে পারে না। এরপরও বিসিবি চাইলে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ একটি টুর্নামেন্টে অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সাহায্য চাইতে পারতো। জানা গেছে, আজ পর্যন্ত কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে বিসিবি রাষ্ট্রের কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সাহায্য চায়নি।

রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিজের দায়িত্বে এবং নিজের উদ্যোগে কিছু তত্পরতা চালালেও বিসিবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় এগুতে পারেনি। আকসু'র আহবানে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যাব) গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করেছে বলে জানা গেছে। আবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিজেদের উদ্যোগে বিপিএল নিয়ে কিছু তদন্ত করছে। এরপরও প্রশ্ন থেকেই যায়- বিসিবি এই জটিল পরিস্থিতি তৈরির আগে এসব সংস্থার কাছে একবারও কেন যাওয়ার প্রয়োজন মনে করল না?

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নির্দলীয় অথবা দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। আপনি কি তার এই বক্তব্যের সাথে একমত?
9 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :