The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ১ জুন ২০১৩, ১৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ২১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ওকলাহোমায় টর্নেডোর আঘাতে নিহত ৫ | নওয়াজ তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী | রবিবার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে শিবিরের অর্ধবেলা, সোমবার রংপুরে বিএনপির হরতাল | রবিবার ৩ পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | মাগুরায় চলন্ত বাসে গৃহবধূর সন্তান প্রসব | আশুলিয়ায় ৩ কারখানায় বিক্ষোভ | হাজারীবাগে ছাদ থেকে পড়ে ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু | নেতাদের মুক্তির বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে: স্পিকার ড. শিরীন | শান্তিরক্ষা মিশনে শহিদ চার বাংলাদেশি জাতিসংঘ পদক পেলেন | আশা করি বিরোধী দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা নিল অগ্রণী ব্যাংক

কোটি টাকা হাতিয়ে নিল জালিয়াত চক্র

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করলো অগ্রণী ব্যাংক। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার 'কিছুক্ষণ আগে' ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের একটি অনুলিপি কর্তৃপক্ষ পেলেও 'সময়ের অভাবে' তা যাচাই করেনি। সরকারি এ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদের এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় এবং সেই প্রশ্নেই পরীক্ষা গ্রহণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।

এদিকে ফাঁস প্রশ্নপত্র বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াতরা। এ জালিয়াতচক্রের সাথে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোবাইলে এসএমএসে'র মাধ্যমে অসদুপায়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন পরীক্ষার্থীদের এক অংশ। এ প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার বজলুল হক বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে শুনেছি। আমি তেমন একটি অনুলিপি পেয়েছি। অনেকগুলো মিল পেয়েছি। হুবহু মিল রয়েছে এমন তথ্য জানালে তিনি বলেনঃ পুরোটা এখনও মিলিয়ে দেখিনি। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যদি প্রমাণ পাই, তাহলে ফল প্রকাশ স্থগিত করা হবে। ব্যাংকের পক্ষে প্রয়োজনীয় ও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভুঁইয়া বলেনঃ বৃহস্পতিবার থেকেই বিভিন্ন সূত্রে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ পাচ্ছিলাম। কিন্তু ঐ প্রশ্নের অনুলিপি কেউ এনে দিতে পারেনি। আজ (শুক্রবার) বিকালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগে এমন একটি কপি আমিসহ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা পান। কিন্তু তখন কিছু করার ছিল না। সময়ের অভাবে তা যাচাই করা যায়নি। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফাঁস প্রশ্নের সাথে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের মিল রয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। কমিটির সকলে বসবো। এ বিষয়ে কমিটি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করবো।

ব্যাংকের পরীক্ষা কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস, চাকরিপ্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দে অগ্রণী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (সিনিয়র অফিসার) পদের নিয়োগের জন্য এ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৭৫টি প্রশ্নের পূর্ণমান ৭৫। অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ৭৫টি প্রশ্নসম্বলিত প্রশ্নপত্রের সাথে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। দুই প্রশ্নপত্রের মধ্যে পার্থক্য শুধু ক্রমিক নম্বরে।

অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরীক্ষার ৭৫টি প্রশ্নই ফাঁস হওয়া ৭৫টি প্রশ্নের সাথে মিল রয়েছে। ফাঁসকৃত প্রশ্নটি হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এর কয়েকটি প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর বদলে দেয়া হয়েছে। মূল প্রশ্নপত্রে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন উল্লেখ করে পাঁচটি বিকল্প প্রশ্ন উল্লেখ করা হয়েছে। আর ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে একটি প্রশ্নের সাথে শুধু উত্তরই দেয়া রয়েছে। বিকল্পগুলো বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

পরীক্ষার্থী এবং ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পেয়েছেন এমন চাকরিপ্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতেই অগ্রণী ব্যাংকের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, নীলক্ষেত, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় প্রশ্নপত্রের অনুলিপি বিক্রি হয়। পরীক্ষায় কমন পড়লেই ক্রেতারা জালিয়াতকারীদের টাকা দিবে নইলে নয়, এমন শর্তেই অধিকাংশ লেনদেন হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াত চক্রগুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হলগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা তেমন ছড়িয়ে পড়েনি। অনেকেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাননি। তবে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে তা ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে। জগন্নাথ হল, সূর্যসেন হল, এসএম হল, বঙ্গবন্ধু হল, জিয়া হল, কবি জসিমউদ্দিন হল, রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, কুয়েত মৈত্রী হলে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র বেশি বিক্রি হয়।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে অবস্থানরত ছাত্রলীগের একজন সহ-সভাপতি, সূর্যসেন হলে অবস্থানরত যুগ্ম সম্পাদক, জগন্নাথ হলে অবস্থানরত একজন সহসভাপতি ও এক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রায় দশজন নেতার হাত ধরেই মূলত ক্যাম্পাসে ফাঁস প্রশ্নপত্র বিক্রি হয়। পরে কনিষ্ঠ নেতারাও ফাঁসকৃত প্রশ্ন বিক্রি করেন। ফাঁস প্রশ্ন পেয়েছেন এমন পরীক্ষার্থীরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে মোবাইলে এসএমএস ব্যবহার করেও পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ উত্তর দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর ইডেন কলেজের গ্রন্থাগারের দোতলার পরীক্ষাকেন্দে অন্তত দুইজন পরীক্ষার্থীকে মোবাইলের মাধ্যমে উত্তর জেনে তা খাতায় লিখতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন অপর এক পরীক্ষার্থী। তিতুমীর কলেজে, তেজগাঁও কলেজসহ বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দে ছাত্রলীগের নেতারা প্রবেশ করে দায়িত্বরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শাসিয়ে তাদের প্রার্থীরা মোবাইল ব্যবহার করবে এমন সুযোগ প্রদান নিশ্চিত করে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নির্দলীয় অথবা দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। আপনি কি তার এই বক্তব্যের সাথে একমত?
5 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২৩
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :