The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ১ জুন ২০১৩, ১৮ জৈষ্ঠ্য ১৪২০, ২১ রজব ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ওকলাহোমায় টর্নেডোর আঘাতে নিহত ৫ | নওয়াজ তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী | রবিবার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে শিবিরের অর্ধবেলা, সোমবার রংপুরে বিএনপির হরতাল | রবিবার ৩ পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল | মাগুরায় চলন্ত বাসে গৃহবধূর সন্তান প্রসব | আশুলিয়ায় ৩ কারখানায় বিক্ষোভ | হাজারীবাগে ছাদ থেকে পড়ে ঢাবি ছাত্রীর মৃত্যু | নেতাদের মুক্তির বিষয়টি আদালত বিবেচনা করবে: স্পিকার ড. শিরীন | শান্তিরক্ষা মিশনে শহিদ চার বাংলাদেশি জাতিসংঘ পদক পেলেন | আশা করি বিরোধী দল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে: প্রধানমন্ত্রী

চিরঞ্জীব মানিক মিয়া

আজ ১লা জুন, এ দেশের সাংবাদিক জগতের অন্যতম পুরোধা-পুরুষ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। অধিকার বঞ্চিত গণমানুষের মুখে সংগ্রামের ভাষা এবং বুকে অমিত সাহস জোগাইবার ক্ষেত্রে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া তাঁহার কালজয়ী লেখনীর মাধ্যমে যে ভূমিকা পালন করিয়া গিয়াছেন তাহা এই দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গৌরবজনক অধ্যায়। বাংলাদেশের হতদরিদ্র, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত এবং শোষিত জনগোষ্ঠীকে অধিকার-সচেতন করিতে গিয়া তিনি বারবার কারারুদ্ধ হইয়াছেন, তাঁহার ইত্তেফাককে স্বৈরাচারী শাসকেরা একাধিকবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করিয়াছে কিন্তু মানিক মিয়াকে তাঁহার কর্তব্যকর্ম হইতে এক চুলও বিচ্যুত করা সম্ভব হয় নাই। এই দেশের নিগৃহীত, নিরন্ন ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াইয়া আমৃত্যু তিনি বরাভয়মন্ত্র উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন এবং জাতিকে অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা দিয়াছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নীতিনিষ্ঠা আর মতাদর্শের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটিতে দেখা যায় মানিক মিয়ার জীবনে। তাহাকে আমরা অনায়াসে সকল ভ্রূকুটি অগ্রাহ্য করিতে এবং সকল প্রকার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করিতে দেখিয়াছি। লেখনীর মাধ্যমে মানুষকে সবল ও সচেতন করিয়া তোলার ক্ষেত্রে মানিক মিয়ার 'রাজনৈতিক মঞ্চ' অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করিয়াছে। তাঁহার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, দিকনির্দেশনা এই দেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জন্য ছিল চলার প্রেরণা। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে গণদাবিতে পরিণত করিতে সংগ্রামী ও নির্ভীক সাংবাদিক মানিক মিয়া এককভাবে যে অবদান রাখিয়াছেন তাহা এককথায় বিস্ময়কর! এজন্য বারংবার তাঁহার এবং তাঁহার ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠানটির উপর অত্যাচারী শাসকদের খড়গ নামিয়া আসিয়াছে; জেল-জুলুম-নির্যাতন চালানো হইয়াছে তাঁহার উপর। কিন্তু তিনি সকল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই ছিলেন 'শির দেগা নেহি দেগা আমামা' অবস্থানে। গণমানুষের জন্য তিনি জেল খাটিয়াছেন, জুলুম সহ্য করিয়াছেন কিন্তু মুহূর্তের জন্যও শাসকদের নিকট মুচলেকা দিয়া পত্রিকা পুনঃপ্রকাশের কিংবা জেল হইতে বাহির হইবার কথা মনেও আনেন নাই। বরং জেলে বসিয়া লিখিয়াছেন 'কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে মৃত্যু হইলেই বরং আমি সুখি হইব। কেননা, সেক্ষেত্রে অন্তত: মনে এই সান্ত্বনা থাকিবে যে, দাসত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করিতে গিয়াই আমার মৃত্যু হইয়াছে।'

তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোন আপোষ করাকে ঘৃণা করিয়াছেন। তিনি রাজনীতির জন্য অর্থাত্ গণমানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য সাংবাদিকতা করিতেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মানিক মিয়া, মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু প্রমুখ যে সমাজ নির্মাণের এবং যেসকল মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিতেন ও যে জন্য তাঁহারা আজীবন নিরলস সংগ্রাম ও সর্বস্ব ত্যাগ করিয়া গিয়াছেন, আমরা কিন্তু আজও দেশে সেই পরিবেশ পরিস্থিতির সৃষ্টি করিতে পারি নাই। ব্যক্তিগত জীবন চর্চায় তাঁহারা ছিলেন সম্পূর্ণ নিরাভরণ এবং ব্যক্তিগত চাহিদাকে তাঁহারা কখনই আকাশ-ছোঁয়া পর্যায়ে লইয়া যান নাই। আমাদের আজিকার বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার দিকে তাকাইলে ঐ মনীষী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার সহিত উহার যে বৈসাদৃশ্য নজরে পড়ে তাহাতে এই উপসংহার অনায়াসেই টানা যায় যে, পদে পদে আপোষকামিতা ভিন্ন বর্তমানে এই বিলাস-ব্যসনপূর্ণ জীবন যাপন সম্ভবই নহে। কিন্তু মানিক মিয়ারা অতি সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ চিন্তায় সর্বক্ষণ নিয়োজিত থাকায় জনগণের জন্য সর্বস্ব ত্যাগের ব্যাপারে কখনই পিছপা ছিলেন না। আর ঐ একই কারণে জনস্বার্থের ব্যাপারে কোনপ্রকার আপোষকামী মনোভাব গ্রহণ তাঁহাদের স্বভাববিরুদ্ধ বিষয়ও হইয়া উঠিতে পারিয়াছে। যে সমাজের স্বপ্ন তিনি দেখিতেন সেই গণতান্ত্রিক সমাজ গড়িয়া তুলিতে হইলে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উচ্চকিত থাকা এবং নিরাপোষ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছাড়া কোন পথই খোলা নাই। এই সত্যোপলব্ধি আমাদের চেতনায় যদি ফিরিয়া আসে তবেই কেবল একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হইবে।

নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পরিপূর্ণভাবে আস্থাবান মানিক মিয়া আজ নাই সত্য, কিন্তু আছে তাঁহার স্মৃতির সুরভি, আছে তাঁহার কালজয়ী লেখনী। দৈনিক ইত্তেফাক তাঁহারই প্রদর্শিত পথ বাহিয়া আজ অনেকগুলি দশক পাড়ি দিয়াছে। জনস্বার্থের প্রশ্নে আপোষহীন ভূমিকা পালন করিয়া মানিক মিয়া নিজে কিংবদন্তী হইয়া উঠিয়াছেন আর দৈনিক ইত্তেফাককে জনকল্যাণের বাহনে পরিণত করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার কৃতী ও কীর্তি ইত্তেফাক পরিবারের চলার পথের পাথেয়।

বাংলাদেশের মানুষের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম 'গাইড এ্যান্ড ফিলোসফার' মানিক মিয়াসহ যাঁহারা এই বাঙলার মানুষের মুক্তির দিশারীর ভূমিকা পালন করিয়া গিয়াছেন তাঁহাদের অবদানের ব্যাপারে জাতিকে অবহিত রাখা সকলেরই কাম্য। ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক ভূমিকা যার যাহাই হউক না কেন, দৈনিক ইত্তেফাক নানা উত্থান-পতন, ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও মানিক মিয়ার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও আদর্শকে ধরিয়া রাখিবে। তাঁহার ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ইহাই আমাদের অঙ্গীকার।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'নির্দলীয় অথবা দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। আপনি কি তার এই বক্তব্যের সাথে একমত?
4 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ২১
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :