The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ০১ জুন ২০১৪, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২১, ২ শাবান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের পুনর্গঠন প্রয়োজন: এটর্নি জেনারেল

বিএনপিকে ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখা হচ্ছে

জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

ফারাজী আজমল হোসেন

++মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলে খুনিরা লাভবান হবে

++জামায়াতের বিচারে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য বাস্তবসম্মত

++হঠাত্ করে র্যাব বিলুপ্ত করা

সম্ভব নয়

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া নিজেই পচে গেছেন। 'সরকারকে পচতে সময় দেয়া হচ্ছে' সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসনের এমন মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, 'এখন তো সব জায়গায় ফরমালিন। আমরা ফরমালিন দিয়ে বিএনপিকে তাজা রাখার চেষ্টা করছি। তা না হলে এত কথা উনি কিভাবে বলছেন?'

গতকাল শনিবার বিকালে গণভবনে আহূত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি চার দিনের জাপান সফরের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আবার জ্বালাও-পোড়াও, খুন-খারাবি শুরু হোক এটা কী আপনারা চান। যদি চান তাহলে নির্বাচন দিয়েই দেই। তবে বিএনপি যে সেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই নির্বাচন দিলে খুনি ও দুর্নীতিবাজরাই লাভবান হবে। আবার মানুষ পুড়িয়ে মারা হবে। আর শুরু হবে জ্বালাও-পোড়াও। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে। এ ভুলের খেসারত কেন জনগণ দেবে?

জামায়াত নিষিদ্ধ করা নিয়ে একজন সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে এত হৈ চৈ করার কি আছে, তা বুঝতে পারছি না। উচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে একটি মামলা এখন বিচারাধীন। সেই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত একই ধরনের মামলার রায় হতে পারে না। আর আইনমন্ত্রী এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত কথাই বলেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ১১ হাজার বন্দিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেন। গোলাম আযমসহ যেসব যুদ্ধাপরাধীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল তাদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। তখন কারা সমর্থন করেছিলেন আর কলাম লিখেছিলেন তা খুঁজলেই জানা যাবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এ বিচার নিয়েও অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আমরাই বিচার শুরু করেছি। কাদের মোল্লার ফাঁসি যাতে কার্যকর না হয় সেজন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ অনেকেই ফোন করেছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, এই ফোনের পর ফাঁসি কার্যকর করতে পারে এদেশে আর কে আছে। এটা বঙ্গবন্ধুর কন্যাই পারে। জীবনের প্রতি মায়া রেখে আমি রাজনীতি করি না। দেশের জন্য রাজনীতি করি।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া 'বর্তমান সরকার অবৈধ' বলে সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন সে ব্যাপারে একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, যারা সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তাদের কী বৈধতা ছিল? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোস্তাক জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়েছিলেন। এরপর একদিন জিয়াউর রহমান বিচারপতি সায়েমকে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে বললেন, তিনিই রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি সেনাপ্রধান হতে পারেন না। কিন্তু সংবিধান লংঘন করে জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধানও হয়েছিলেন। পরবর্তীতে জিয়া জাগদল গঠন করলেন, ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি করলেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে যে দলের জন্ম তারা এই সরকারকে অবৈধ বলে কোন মুখে? ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরো বলেন, এই নির্বাচন বানচাল করে বিএনপি দেশে অগণতান্ত্রিক কোন শক্তিকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। নির্বাচন হয়েছে। ৪০ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছে। অনেক উন্নত দেশেও এত ভোট পড়ে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে শৃঙ্খলা আছে বলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেক প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তাছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তো আইনে আছে। আর খেলার মাঠে যদি প্রতিপক্ষ না থাকে তাহলে তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হবেই। অথচ জ্ঞানী-গুণীদের অনেকে এখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু এসব জ্ঞানী-গুণী নির্বাচনে অংশ নেননি কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিল। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূলত হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই বিএনপির জন্ম। পঁচাত্তরের পর থেকে ৮৬ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রায় প্রতি রাতে কারফিউ ছিল। জিয়ার গণতন্ত্র ছিল কারফিউ গণতন্ত্র। আর এসব ঘটনার সময় তো কেউ কোন প্রশ্ন তুলেননি। অবশ্য সেসময় তো বঙ্গবন্ধু সরকারকে গালি এবং জিয়া সরকারকে প্রশংসায় ব্যস্ত ছিলেন অনেকে। আর এইসব ব্যক্তিরাই এখন বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন।

নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতের নতুন সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইতিপূর্বে ভারতের বিভিন্ন দলের পাঁচজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। আর এ সময় গঙ্গার পানি, টিপাইমুখ বাঁধ, দু'দেশের সীমানা নির্ধারণ, ছিটমহলের মতো ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, অনেক বিষয় সমাধানও হয়েছে। কিন্তু বিএনপির তিন মেয়াদে এবং এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় থেকে দুই দেশের সীমানা নির্ধারণের মতো বিষয়ে চিন্তাও করেনি। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একবার ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলেছিলেন, গঙ্গার পানির হিস্যার প্রসঙ্গ তোলার কথা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। 'সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়' বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল এটিই। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও ওই দেশে যাব। ভারত বিশাল দেশ হতে পারে। তবে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম। এটি মাথায় রেখেই আমাদের চলতে হবে। তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রহ থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরোধিতায় এ চুক্তি হয়নি। তবে এটিও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আমরা নদী খনন করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাও করছি।

র্যাব বিলুপ্ত করার বিষয়ে খালেদা জিয়ার দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, র্যাব এখন বাস্তবতা। রক্ষীবাহিনীকে কথায় কথায় গালি দিয়ে খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে র্যাব গঠন করেছিলেন। এরপর দুই বছরের মধ্যে র্যাব ১ হাজার মানুষ হত্যা করে। তখন র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশংসা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চট করে র্যাব বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়। কারণ র্যাব কিছু ভাল কাজও করেছে। অবশ্য র্যাবের কেউ অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশ ছিল জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান। তারা দেশের অগ্রগতি সব সময় পিছিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ৬ষ্ঠ বার্ষিকী পরিকল্পনা ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে কোনো ব্যবস্থাই নিত না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফেনীর একরামুল হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, একরামুল হত্যাকাণ্ডে বিএনপি এবং আমাদের দলেরও কিছু লোক জড়িত আছে। অপরাধী যেই হোক তার বিচার হবে। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নিয়ে অনেকের অনেক রকম মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যারা এ চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি বলেছিল তারাই এখন দাবি করেন এ চুক্তি বাস্তবায়নের।' বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসাবে দেখছে বলেও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি শেষও করতে চাই। বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সবই নেয়া হয়েছে।

'জাপান সফর দু'দেশের সুসম্পর্ককে

নতুন মাত্রায় নেবে'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার এবারের জাপান সফর অত্যন্ত সফল। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সুসম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলে আশা করছি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে'র সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং তার সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে জাপানের সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি এ সফরকে সফল করেছে।

২৫ থেকে ২৮ মে চারদিনের সরকারি সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে ২৯ মে তিনি দেশে ফেরেন। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই শেখ হাসিনার সরকারিভাবে প্রথম জাপান সফর। এর আগে ২০১০ ও ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সরকারি আমন্ত্রণে জাপান সফর করেন। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ১৯৯৪ সালে তিনি জাপানে শুভেচ্ছা সফরে যান।

বড় সফলতা ৬ বিলিয়ন ডলার সহায়তা

এবারের জাপান সফরের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এ সফরের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো বাংলাদেশকে জাপানের ৬ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি। এই সহায়তা আগামী ৪-৫ বছরে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হবে। এলক্ষ্যে জাপানী একটি অর্থনৈতিক সমীক্ষা দল অতিশিগগির বাংলাদেশ সফর করবে এবং আমাদের অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহ নির্ধারণ ও প্রণয়নে সমীক্ষা চালাবে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো হচ্ছে- গঙ্গা ব্যারেজ, বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে অপর একটি রেল সেতু নির্মাণ, যমুনা নদীর নিচে বহুমুখী ট্রানেল, ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণ এবং ঢাকার চারপাশের চারটি নদী দূষণমুক্তকরণ। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময় থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৪২ বছরে জাপান সরকার বাংলাদেশকে ১১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অনুদান ও ঋণের সিংহভাগই এসেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে।

সহজ শর্তে ১২০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেবে জাপান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী '৩৫তম ওডিএ লোক প্যাকেজ'- এর 'এক্সচেঞ্জ অব নোট্স' স্বাক্ষর করেন। এ লোন প্যাকেজের আওতায় জাপান সরকার বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ১২০ বিলিয়ন জাপানী ইয়েন (প্রায় ১ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেবে। এ প্যাকেজের আওতায় ১২শ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ প্লান্ট-'মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্লান্ট' স্থাপিত হবে।

'রুল্স অব অরিজিন' শিথিলের আশ্বাস

বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নীট পোশাক রপ্তানির ব্যাপারে 'রুল্স অব অরিজিন' আরও শিথিল করার বিষয়টি জাপান সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দু'দেশের পক্ষে সম্ভাব্য করণীয় পদক্ষেপসমূহ বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশে একটি 'পিসবিল্ডিং সেন্টার' স্থাপনের ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছে জাপান।

সরকারি কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান

সরকারের বৃত্তি বৃদ্ধির আশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু'দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কসহ অন্যান্য বিষয়ে নিয়মিত বার্ষিক আলোচনার জন্য 'ফরেন অফিস কনসালটেশনস'- এর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দু'দেশের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি প্রদানের ক্ষেত্রে শীর্ষ বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান সরকারের বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশের পাঁচটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে জাপানী ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০টি প্লট ও ২টি শিল্প ইমারত সংরক্ষিত রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এ বিষয়ে জাপানের জেট্রো এবং বাংলাদেশের বেপজার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক ২৭ মে স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া জাপানী বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবহার, সমুদ্র গবেষণা, নৌ-পরিবহন এবং পর্যটনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় 'এক্সপার্ট গ্রুপ মিটিং অন ব্লু ইকোনমিতে' জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশি আরো শ্রমিক নেয়ার অনুরোধ

বাংলাদেশে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনেও জাপান সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালে টোকিওতে অলিম্পিক ও প্যারা-অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। এ অলিম্পিক অনুষ্ঠান সংক্রান্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে বহু সংখ্যক বিদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিকের দরকার হবে। এছাড়া, জাপানের সুনামি বিধ্বস্ত এলাকায় চলমান পুনঃনির্মাণ ও পনুর্বাসন কার্যক্রমেও বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন আছে। এসব উল্লেখ করে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে এই নির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের আহ্বান জানান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ

সফরের আমন্ত্রণ

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০০ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এর ফলে বাংলাদেশ-জাপান বন্ধুত্ব সুদৃঢ় হয়। এবারও আমি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি, তিনি খুব শিগগির বাংলাদেশ সফরে আসবেন।

চীন সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, আমি চীন সফরে যাচ্ছি। আশা করি, এ সফরেও আমাদের কাঙ্ক্ষিত সফলতা থাকবে। এশিয়াসহ বিশ্বের অর্থনৈতিক জায়ান্টদের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক আরো দৃঢ় ও স্থায়ী করাই আমার সরকারের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশকে দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি বলেই বাংলাদেশ আজ নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচকেই অত্যন্ত ইতিবাচক ধারা আজ অব্যাহত।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করে এর দায়-দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আপনি কি তার দাবিকে যৌক্তিক মনে করেন?
2 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুলাই - ১৬
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:২০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :