The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জুন ২০১৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২১, ১৩ শাবান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ দেশে সংকট নেই, বিএনপিই মহাসংকটে : নাসিম | রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ি দুই গ্রুপের 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২ | হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী হিসেবে ৫ বিচারপতির শপথ গ্রহণ | দেশে ফিরলেন সোমালিয়ায় অপহৃত ৭ বাংলাদেশি নাবিক

[ রা জ নী তি ]

ক্ষমতার বিষ এবং রাজনীতির ফরমালিন

অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী

ক্ষমতাকে 'বিষের' সাথে তুলনা করা যেমন নতুন কিছু নয়, তেমনি রাজনীতি তথা রাজনৈতিক দল সম্পর্কিত বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোন বিষের নাম হিসেবে 'ফরমালিন' উল্লেখ করাও অস্বাভাবিক নয়। ২০১৩ সালে ভারতীয় কংগ্রেসের জয়পুর চিন্তন শিবিরে রাহুল গান্ধী, তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীর উদ্ধৃতি দিয়ে 'ক্ষমতাকে বিষ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। পৃথিবীতে অসংখ্য ধরনের 'বিষ' আছে। 'ফরমালিন' একটি মারাত্মক বিষ। এটি মানুষের মৃতদেহের পচনশীলতা রোধ করার জন্য সাধারণত ব্যবহূত হয়ে থাকে। কিন্তু এটি খাদ্যদ্রব্যে ব্যাপকহারে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনেও রূপকার্থে 'ফরমালিন' বিষের ব্যবহার সম্পর্কিত কথকতার সূত্রপাত ঘটেছে। বর্তমান নিবন্ধের লক্ষ্য হচ্ছে 'ক্ষমতাকে বিষ হিসেবে আখ্যায়িত করার' এবং 'বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'ফরমালিন' শব্দটির অবতারণার' কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা।

'ক্ষমতার' ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Power. অক্সফোর্ড ডিক্শনারিতে 'ক্ষমতা' বা Power সম্পর্কে বলা হয়েছে, ্এটি হচ্ছে সর্বাধিক উচ্চারিত ১০০০ শব্দের মধ্যে অন্যতম একটি শব্দ। 'ক্ষমতা' হচ্ছে অন্যের আচরণ বা ঘটনাসমূহের গতি-প্রকৃতি নির্দিষ্ট করার বা প্রভাবিত করার যোগ্যতা বা সক্ষমতা। সামাজিক বিজ্ঞান ও রাজনীতিতে ক্ষমতা হচ্ছে জনগণের আচরণকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা।

অপরদিকে রাজনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Politics, ল্যাটিন শব্দ politikos থেকে উত্পত্তি লাভ করেছে। politikos শব্দ দ্বারা তত্কালীন গ্রীক নগর-রাষ্ট্রের নাগরিক সম্বন্ধীয় বিষয়াদি বোঝানো হতো। নাগরিক বা ব্যক্তি পর্যায়ে একে অন্যকে প্রভাবিত করার চর্চা হচ্ছে রাজনীতি। অবশ্য এই একটিই কেবল রাজনীতির সংজ্ঞা নয়, রাজনীতির অসংখ্য সংজ্ঞা পণ্ডিতব্যক্তিবর্গ এ যাবত্ প্রদান করেছেন। 'যার আছে এবং যার নাই'— এ দু'য়ের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বা সংঘাত হচ্ছে 'রাজনীতি'; 'কে পায়, কী পায়, কখন পায় এবং কীভাবে পায় তাই হচ্ছে রাজনীতি।' আবার রাজনীতি হচ্ছে 'সম্পদ বা মূল্যবান কোনকিছু বরাদ্দকরণ তথা বন্টন'। 'রাজনীতি হচ্ছে একটি ব্যবস্থা এবং একটি প্রক্রিয়া।' এমনিতর অনেক সংজ্ঞা রাজনীতির আছে। অধিকতর সঙ্কীর্ণ অর্থে, রাজনীতি বলতে সরকারের পদ-পদবী লাভ ও "ক্ষমতা" চর্চা বা অনুশীলন, প্রয়োগ এবং অপপ্রয়োগ প্রভৃতিকে বোঝায়। "রাজনীতির" মাধ্যমে "ক্ষমতা" চর্চার (অন্যতম একটি) লক্ষ্য হচ্ছে কোন ব্যক্তিকে বা কোন গোষ্ঠীকে বা কোন দলকে অথবা একটি মানব সম্প্রদায়কে, সুনির্দিষ্টভাবে একটি রাষ্ট্রকে সংগঠিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। বলাবাহুল্য, কোন ব্যক্তি বা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারি "ক্ষমতা" প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট মেয়াদকালব্যাপী রাজনীতির মাধ্যমে এই ক্ষমতা অর্জিত হতে পারে।

ফরমালিন হচ্ছে শতকরা ৩৭ ভাগ ফর্মালডিহাইড সলিউশন। ফর্মালডিহাইড হচ্ছে এক ধরনের রাসায়নিক সামগ্রী, যার রঙ নেই এবং খুব শক্তিশালী বিষযুক্ত গ্যাস এটি। তবে এটি তরল আকারেও রূপান্তরিত করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল টোক্সিকোলোজি প্রোগ্রাম কর্তৃক ফর্মালডিহাইডকে ক্যান্সার সৃষ্টির কারণ 'কারসিনোজেন' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফর্মালডিহাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়। এই গ্যাস বা এর ভ্যাপর চোখ, নাক এবং শ্বাসযন্ত্রে ব্যথার সৃষ্টি করে ঘা হয়ে যেতে পারে। ফলে হাঁচি, গলায় ঘা, স্বরযন্ত্রের প্রদাহ, ব্রঙ্কাইটিস এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। এত সাংঘাতিক ধরনের বিষাক্ত এই 'বিষ' বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি বহুল আলোচিত আতঙ্কের নাম হিসেবে অনেক আগে থেকেই কুখ্যাতি অর্জন করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো শত চেষ্টা করেও খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে ফরমালিন মেশানোর প্রবণতাকে কিছুতেই রোধ করতে পারছেন না। খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন মেশানোর কারণে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও উত্কণ্ঠার মধ্যে এদেশের জনগণকে বসবাস করতে হয়। এদেশের রাজনীতিবিদ্রাও এই আতঙ্কিত জনগণের অংশ। অধিকন্তু রাজনীতি করার কারণে বাড়তি আতঙ্ক উত্কণ্ঠা রাজনীতিবিদেদর নিত্যসঙ্গী। বলা চলে বাংলাদেশের মানুষ এখন 'ফরমালিন' ঝুঁকিতে আছে। এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা ও বক্তৃতা-বিবৃতিতে 'ফরমালিন' প্রসঙ্গের অবতারণা হয়েছে। কিন্তু যে বিষয় নিয়ে রাজনীতি আবর্তিত হয় সেই ক্ষমতাকে 'বিষ' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল সেই প্রসঙ্গে আসা যাক।

২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুর শহরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের চিন্তন শিবিরে রাহুল গান্ধীকে দলটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট করা হয়। দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে যথারীতি রাহুল গান্ধীর মা সোনিয়া গান্ধীকেই নির্বাচিত করা হয়েছিল। রাহুল গান্ধীকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট অর্থাত্ কংগ্রেসের দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করার কারণে দলের নবীন-প্রবীণ সব নেতাই রাহুল গান্ধীকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন! এটিই স্বাভাবিক। পরেরদিন অর্থাত্ ২০ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে ছিল রাহুলের বক্তৃতা। রাহুল তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই বললেন, "Last night each one of you congratulated me. My mother came to my room and she sat with me and she cried…because she understands that power, so many people seek, is actually a poison." অর্থাত্ গতরাতে আপনারা প্রত্যেকেই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। আমার মা আমার কক্ষে এসেছিলেন এবং আমার পাশে বসলেন এবং তিনি কাঁদলেন।...কারণ তিনি বোঝেন যে ক্ষমতা, যা এত মানুষ পেতে চায় তা আসলে একটি বিষ। এরপর রাহুল বললেন, 'বন্ধুর মত যার সাথে একসময় ব্যাডমিন্টন খেলতাম সেই (শিখ) নিরাপত্তা রক্ষির গুলিতেই আমার দাদী (ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী) প্রাণ হারান।' রাহুল গান্ধীর পিতা ভারতের আর একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীও আত্মঘাতী (তামিল) বোমা হামলাকারীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। রাহুল বললেন, 'আমাদের সবার জন্য (ক্ষমতা নামের) এই বিষের একমাত্র প্রতিষেধক হচ্ছে, আসলে এটা কি তা খতিয়ে দেখা এবং এর সাথে একাকার না হওয়া। ক্ষমতার গুণের জন্য আমাদের ক্ষমতার পিছে ছোটা উচিত নয়। আমাদের উচিত অন্যসব কণ্ঠকে জোরালো করতে বা অপরকে ক্ষমতাবান করতে এটিকে (ক্ষমতাকে) ব্যবহার করা।'

ক্ষমতার মধ্য থেকে অপরের স্বার্থে ক্ষমতাকে ব্যবহার করা এবং নিজের প্রয়োজনে এটিকে ব্যবহার না করার উদাহরণ রাজনীতিতে কম হলেও একেবারে বিরল নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পরীক্ষামূলক কর্মসূচি সফল করার পদক্ষেপ নেয়ার কারণে কুচক্রীদের হাতে সপরিবারে নিজের জীবন দিয়ে এর প্রমাণ রেখে গিয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জামাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড.এম.এ.ওয়াজেদ মিয়া এ ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি যখন বাংলাদেশ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র থেকে অবসরে যান তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ড.ওয়াজেদ মিয়া ইচ্ছা করলেই তাঁর চাকরির মেয়াদকাল বৃদ্ধি করিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এরকম আরো উদাহরণ দেয়া যায় ড.ওয়াজেদ মিয়ার জীবন ও কর্ম থেকে। জননেত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সবার ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মের উদাহরণ এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে।

এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এদেশে খাদ্যদ্রব্যে বিষাক্ত ফরমালিন মেশানোর জন্য দায়ী। পরের সেবায় নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়ার ব্রত হিসেবে যারা রাজনীতি করছেন তাদের কথা বাদ দিলে আমরা যদি বাংলাদেশের রাজনীতির দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায় এদেশের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই ব্যবসায়ী। যে ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্য তাদের এই "ফরমালিন" মেশানোর জন্য দায়ী করা সঙ্গত নয়, এটি তাত্ত্বিকভাবে ব্যবসায়ী-সংসদ সদস্যদের জন্য অসম্ভব একটি ব্যাপার। তবে মাছ, মাংস, ফল-মূলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে যারা "ফরমালিন" মিশিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছেন তারা কেউ না কেউ তো দায়ী ! এসব ব্যবসায়ীর অসাধু উপায় অবলম্বনের কারণে দেশের জনস্বাস্থ্য যখন ভয়াবহ হুমকির মুখে তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গণমাধ্যমের কল্যাণে খাদ্যদ্রব্যে 'ফরমালিন' মেশানোর ভয়াবহ চিত্র প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে স্থান পাচ্ছে! ফলে এই বিষাক্ত দ্রব্যটি (ফরমালিন) রাজনীতিবিদেদর কথা-বার্তা, বক্তৃতা-বিবৃতি প্রভৃতিতে স্থান করে নিচ্ছে।

প্রথমে এ সম্পর্কে বক্তব্য এসেছিল নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদকালে "ফরমালিন" দিয়ে টিকিয়ে রাখা সম্পর্কে। এর পরদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বর্তমান সরকারকে ফরমালিনের মতই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তারও পরে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ জাতীয় প্রাক্তন সৈনিক পার্টির প্রতিনিধি সম্মেলনে বলেন যে- তিনি যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে সাতদিনের মধ্যে খাদ্যে ফরমালিনের ব্যবহার বন্ধ করবেন।

রাজনীতিতে অনেক ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ করতে দেখা যায়, যার মধ্যে আছে জনগণের মধ্যে কারও নিজস্ব রাজনৈতিক মতামত এগিয়ে নেয়া, অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলের সাথে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে নেয়া, আইন ও বিধি-বিধান তৈরি করা, শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাসহ শক্তি প্রয়োগ করা প্রভৃতি। আধুনিক রাজনৈতিক সংলাপ গণতন্ত্র এবং জনগণ ও রাজনীতির সম্পর্কের উপর আলোকপাত করে। সরকারের ক্ষমতায় জনগণ কোন দলকে নির্বাচিত করবে এবং সরকারি নীতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে জনগণের পছন্দের প্রয়োজনে রাজনীতি করা হয়। বিংশ শতাব্দীর একজন সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট অ্যালেন ডাহ্ল তাঁর Who Governs? : Democracy and Power in American City শীর্ষক গ্রন্থে 'কে বা কারা ক্ষমতাবান' তা অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের জন্য এলিটবাদ, বহুত্ববাদ, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র, টেকনোক্র্যাসি প্রভৃতি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ক্ষমতাবান যাচাই করার জন্য এগুলোর মধ্য থেকে তিনি বহুত্ববাদকে বেছে নিয়েছেন। কারণ হচ্ছে এই পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনীতি সবার জন্য উন্মুক্ত। জনগণ এবং এলিট সবাই রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সবাই এসম্পর্কে বক্তব্য দিতে পারে। যেমনটি বাংলাদেশে সবাই, এমনকি 'ফরমালিন' পদবাচ্যটি ব্যবহার করেও বক্তব্য দিচ্ছেন। এভাবে সংসদের বাইরে এবং ভিতরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য আসা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্রিয়াশীলতার লক্ষণ। সংসদীয় ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত প্রণয়নে যারা অংশ নিতে আগ্রহী থাকে তারা সাধারণত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। কারণ কোন ইস্যু সম্পর্কে নিজেরা যথেষ্ট শক্তিশালী হলে এবং প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে তাদের মূল্যবোধ প্রকাশিত হোক তা চাইলে, তারা অংশগ্রহণ করবে। আর যদি অংশগ্রহণ না করে, (যেমনটি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনগত কারণে নবম জাতীয় সংসদে স্থান পাওয়া একটি দল অংশগ্রহণ করেনি। আবার আইনগতভাবে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোন কোন দল ইচ্ছাকৃতভাবে অংশগ্রহণ করেননি) তাহলে, রবার্ট ডাহলের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, অংশগ্রহণ না করা সঙ্গত কারণে অসন্তোষের অনুপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি সরকারি নেতারা যেভাবে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন তার প্রতি সমর্থনও বোঝায়। তবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর প্রচেষ্টার এই ক্রান্তিকালে ব্যতিক্রম কিছু থাকতেই পারে।

লেখক: চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আইন করে কঠোর শাস্তি করার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হবে কি?
4 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ১৮
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩৩
এশা৭:৪৯
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :