The Daily Ittefaq
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০১৩, ১৪ আষাঢ় ১৪২০ এবং ১৮ শাবান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ জিএসপি সুবিধা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র | কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালে ব্রাজিল-স্পেন | খুলনায় পিকআপ-ভ্যান গাড়ী সংর্ঘষে নবজাতকসহ নিহত ২

রহমতের ছায়া বিস্তার করেছে রমজানুল মুবারক

জাকির হোসাইন আজাদী

পশ্চিম আকাশে রমজানের একফালি চাঁদ উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবের চির শত্রু শয়তানকে শৃংখলিত করা হবে। বেহেশেতর দরজা খুলে দেয়া হবে। দোযখের দরজা গুলি বন্ধ করে দেয়া হবে। প্রত্যেক দিন একজন আহবানকারী গায়েব থেকে এই আহ্বান করবে-হে পুন্য সঞ্চয়কারী এগিয়ে এসো। হে পাপাত্মার দল পিছিয়ে যাও। কেননা এটা পাপ সঞ্চয়ের মাস নয়। আর ঐসময় প্রত্যেক ভালো কাজ সত্তরটি ভালো কাজের সমতুল্য হবে।

 

রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস পাবিত্র রমজানুল মুবারক আমাদের মাঝে ছায়া বিস্তার করেছে। যে মাস ধৈর্যের। আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত। সেই অবারিত রহমতের ফল্গুধারায় প্রসিক্ত সঞ্জিবীত বেহেশতি আবহে রোমাঞ্চিত মোবারক মাস আর গুনিত কয়েকটি দিন পরেই আগমন করবে। পশ্চিম আকাশে রমজানের একফালি চাঁদ উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবের চির শত্রু শয়তানকে শৃংখলিত করা হবে। বেহেশেতর দরজা খুলে দেয়া হবে। দোযখের দরজা গুলি বন্ধ করে দেয়া হবে। প্রত্যেক দিন একজন আহবানকারী গায়েব থেকে আহ্বান করবে-হে পুন্য সঞ্চয়কারী এগিয়ে এসো। হে পাপাত্মার দল পিছিয়ে যাও। আর ঐ সময় প্রত্যেক ভালো কাজ সত্তরটি ভালো কাজের সমতুল্য হবে। সে হিসেবে যে এক রাকায়াত ফরজ নামাজ পড়বে সে সত্তর রাকায়ত ফরজ নামাজ পড়বে পুন্য পাবে। যে ব্যক্তি এক রাকায়াত নফল নামাজ পড়বে তাকে এক রাকায়াত ফরজের সমতুল্য সওয়াব দেয়া হবে। আর তাছাড়া ঐ সময় এক টাকা দান করলে সত্তর টাকা দান করার সওয়াব প্রদান করা হবে। এ সকল দিক বিবেচনায় জগিবখ্যাত মুহাদ্দিসগন রমজান মাসকে জান্নাত লাভের মাস এবং জাহান্নমের আগুন থেকে নিস্কৃতির মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আর এই মাসের শেষ দশকে একটি রজনী রয়েছে যাকে লাইলাতুল ক্বদর বলা হয়েছে। যার পুন্য হলো জীবনের পূর্বের সকল গুনাহ হতে পরিত্রান পাওয়া ও হাজার মাস একাধারে ইবাদতের সমতুল্য সওয়াব প্রাপ্ত হওয়া। আর যখন এক মাসের ইবাদত শেষ হবে তারপর দিন ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ে যখন তারা বাড়ী ফিরবে তখন তারা সদ্য প্রসূত শিশুর মত নিষ্পাপ নিষ্কলুষ অবস্থায় বাড়ি ফিরবে। এসব কারণে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এই রমজানুল মুবারক পাওয়ার জন্য দুই মাস পূর্ব অর্থাত্ রজব মাস থেকে এই বলে দোয়া করতেন 'আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা ইলা রমাজানা' অর্থাত্- হে আল্লাহ আমাকে রজব ও শাবানে বরকত দিন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। এভাবে আর কোনো মাস পাওয়ার জন্য নবীজী (স.) দোয়া করতেন না। বরং সকল সময় তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতেন। এই পৃথিবীতে কোনো ব্যক্তি যদি প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য প্রস্তুত থেকে থাকেন তিনি হলেন সায়্যেদিনা হযরত মুহাম্ম (স.)। তিনি বলেছেন, আমি যখন নামাজে ডানে সালাম ফিরাই তখন আমার আশংকা হয় আমি বামে সালাম ফিরাতে পারবো কিনা? তার আগেই হয়তো আমার মৃত্যু এসে যেতে পারে। এ ছাড়াও যখন তার মৃত্যুর সময় এসেছে- তখন জিব্রাইল (আ.) রসূল (স.) কে আল্লাহর পক্ষ থেকে ছালাম দিয়ে পৃথিবীতে থাকার ও এখনি চলে যাওয়ার এখতিয়ার সম্বলিত ঘোষণা শুনান। সে সময় রসূল (স.) জীবনের শেষ খুত্বায় বলেছিলেন। আল্লাহ তাঁর কোনো এক বান্দাকে এই পৃথিবীতে থাকা ও বিদায় নেওয়ার এখতিয়ার দিয়াছেন কিন্তু সেই বান্দা বলেছে- 'আল্লাহুম্মার রফিকুল আ'লা আমি আমার পরম বন্ধু আল্লাহর সান্নিধ্যই বেছে নিলাম" অথচ সেই নবীজী রমজান পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে সময় চেয়েছেন। সেই জন্য প্রত্যেক উম্মতে মুহাম্মাদীর উচিত হলো পবিত্র রমজানুল মুবারককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া। এই মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র মাস আগমন করার পূর্বেই মন-মানসিকতা সবকিছুকে প্রস্তুত করা। এখন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আদায় করতে অভ্যস্ত হওয়া। আর নামাজের দোয়া তাসবীহ গুলি সহীহ শুদ্ধ ভাবে শিখে নেওয়ার জন্য চর্চা আরম্ভ করা। কেননা নামাজী ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই অশুদ্ধ ভাবে নামাজ পড়ায় লিপ্ত রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। অনেকে দীর্ঘ দিন যাবত নামাজ পড়ছেন অথচ সূরা ফাতেহাটা বিশুদ্ধরূপে পড়তে পারেন না, ছানাটা পড়তে পারেন না, আত্তাহিয়্যাতু দুরুদ শরীফ পড়তে পারেন না। অথচ এগুলো সহীহ-ভাবে পড়তে না পারলে নামাজ কবুল যোগ্য হিসাবে প্রতিপন্ন হবেনা। অনেকে এগুলি শিখতে পারেনা তার কারণ হলো লজ্জা, জড়তা ও ভয়। শরীয়ত শেখার ব্যাপারে কোনো লজ্জা করা যাবে না। জড়তা ঝেড়ে ফেলতে হবে। মানুষের ভয় করা চলবে না। কারণ এই দুনিয়ার মানুষের কাছে আপনি লজ্জা করে শিখলেন না। এইটা বড় লজ্জা? না কী বিচার দিবসে অগণিত মানুষের সম্মুখে ভুল নামাজ পড়ার কারণে আপনার নামাজগুলো একটা পোটলা করে আপনাকে ছুড়ে দেয়া হবে। বলা হবে এটাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। তখন আপনার কি অবস্থা হবে। সেইটা কি বড় এবং সীমাহীন লজ্জার বিষয় নয়? তাহলে আজ হতে নামাজের সকল আরকান-আহকাম, দোয়া-তাস্বীহ ও সূরা সমূহ বিশুদ্ধ রূপে শিখে নিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা পরিচালনা করতে সচেষ্ট হতে হবে। আর একটি প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো রমজান কুরআন নাজিলের মাস। কুরআনে বলা হয়েছে, ইন্না আনঝালনাহু কি লাইলাতিল ক্বদর অর্থাত্ নিশ্চয় আমি এটা (আল কুরআন) নাজিল করেছি লাইলাতুল ক্বদরে। আর ক্বদর রয়েছে রমজানুল মুবারকে। নবীজী (স.) প্রত্যেক বছর রমজান মাসে কুরআন খতম করতেন। তিনি (স.) পুরো কুরআন শরীফ জিব্রাইল (আ.) কে শোনাতেন। এই শুনা শুনিকে হাদীসের ভাষায় দাওর করা বলে। তাই যারা কুরআন পড়তে পারেন তাদের উচিত হলো পুরো কুরআন শরীফ অন্তত: পক্ষে একবার অর্থসহ পাঠ করা তবে যারা রমজানের তারাবীহ নামাজের উদাহরণ দেন যে, কর্মব্যস্ততার কারণে নিজে পড়তে সময় পাইন না। রাতে তারাবী হতে তো এক খতম শুনা হচ্ছেই। আর পড়া ও শুনাতো সমান সওয়াব। ঠিক আছে। কিন্তু তারাবীহতে যে খতম হয় সেখানে বেশির ভাগ হফেজ সাহেবকে তাড়াহুড়া করতে দেখা যায়। অথচ আল্লাহ বলেছেন, 'অরাত্তিলিল কুরআনা তারতিলা' অর্থাত্ তোমরা ধীর স্থীর ভাবে কুরআন পড়। সেই জন্য প্রত্যেক মসজিদ কমিটির উচিত্ হলো হাফেজ সাহেবকে ধীরস্থীরভাবে পড়তে নির্দেশ করা। কেননা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যা কমিটি ও মুসল্লিদের চাপাচাপিতে হাফেজ সাহেবগণ তাড়াহুড়া করতে বাধ্য হন। এ বিষয় সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো রমজান মাস আমাদের কী দিতে আসে সেই দিকে খেয়াল রাখা। কারণ রসূল (স.) বলেছেন যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ বিশুদ্ধ রূপে ইবাদত বন্দেগী করে জান্নাত হাছিল করতে পারলো না, তার চেয়ে হতভাগ্য ব্যক্তি আর কেউ নেই। আমরা যেন, দোয়া কবুলের সুমহান মাস রমজান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি এবং ঐ মাসের ইবাদত বন্দেগী সঠিকভাবে আদায় করে জান্নাতের রাইয়ান নামক দরজা পেতে পারি, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সেই তাওফীক দান করুণ, আমীন।

ই-মেইল: [email protected]

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
চলতি অধিবেশনেই দুদক আইন সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান। আপনি কি মনে করেন সরকার দুদক আইন সংশোধন করবে?
9 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ৬
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :