The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯ আষাঢ় ১৪২০ এবং ২৩ শাবান ১৪৩৪

মোবারকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী

রাজাকারদের সহযোগিতায় ৩৩ জনকে হত্যা করা হয়

ইত্তেফাক রিপোর্ট

একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী আলী আকবর। আজ বুধবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২২ আগস্ট মোবারক আলীসহ কয়েকজন রাজাকারের সহযোগিতায় গঙ্গাসাগর দিঘীর পাড়ে ৩৩ জনকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়।

আখাউড়া থানার টানমান্দাইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স আমার ছিলো ২২ বছর। ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট আমাদের গ্রামের পাশের তিনলাখপীর নামক স্থানের ব্রিজ এলাকাবাসীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা ভেঙে দেয়। ২১ আগস্ট বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ২২ আগস্ট রাজাকার মোবারক আলী, মুক্তা মিয়া, বজু মিয়া, শহীদ মিয়া, গ্রামের নুর বক্সের বাড়িতে গ্রামের লোকজনকে জড়ো হতে বলে। ঐদিন তিনটার দিকে আমরা গ্রামের ১৩০-১৩২ জন লোক নূর বক্সের বাড়িতে জড়ো হই। জড়ো হওয়ার পর মোবরক আলীসহ অন্য রাজাকাররা জানতে চায় কার কার আত্মীয় মুক্তিযুদ্ধে গেছে। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা নূর বক্সের বাড়ি ঘিরে ফেলে। সেনাদের নির্দেশে রাজাকাররা আমাদের পাটের রশি দিয়ে আমাদের বেঁধে ফেলে। পরে নৌকাযোগে আমাদের গঙ্গাসাগর দিঘীর পাড়ে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সেনারা আমাদের মারধর করে।

পরে ৩৩ জনের তালিকা করে তাদের তেরঝুড়িতে (রাজকাচারি হাজতখানা) আটকে রাখা হয়। আর আমাদের একটি মসজিদে রাখে। পরে ঐ ৩৩ জনকে নিয়ে রাত আটটার দিকে গঙ্গাসাগর দিঘীর পাড়ে নিয়ে তাদের দিয়ে গর্ত খোড়ায়। এরপর সেখানেই ব্রাশ ফায়ার করে তাদের হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়। ব্রাশ ফায়ারের সময় মসজিদে থেকেই আমরা তাদের চিত্কার শুনতে পাই। ঐদিন যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে শহীদ ফয়েজ মিয়া, তারু মিয়া, মন্নাফ মিয়া, আবুল হাশেম মোল্লা, সোবহান মিয়া, তাহের ডাক্তার, গণি মিয়া অন্যতম। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। মোবারকের বিরুদ্ধে গত ২৩ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়।

এদিকে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রাষ্ট্রপক্ষের ৩২তম সাক্ষী রফিকুল ইসলাম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি এ মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দিতে তিনি বলেন, বর্তমানে আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। ২০১১ সালের এপ্রিলে তিনি বগুড়া থেকে প্রকাশিত 'দৈনিক বাংলাদেশ'এ বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করা অবস্থায় এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিছু পত্রিকা জব্দ করেন। জবানবন্দিতে রফিকুল তদন্ত কর্মকর্তার জব্দকৃত ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে 'দৈনিক বাংলাদেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত তিনটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম কাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরকৃত জামায়াতের নায়েবে আমীর একেএম ইউসুফের মামলার বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য কাল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

সর্বশেষ আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, 'গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামোগত পরিবর্তনের দরকার নেই।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ৪
ফজর৪:০৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০২
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :