The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯ আষাঢ় ১৪২০ এবং ২৩ শাবান ১৪৩৪

[ নি র্বা চ ন ]

গাজীপুর নগরবাসীর প্রত্যাশা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন

এইতো এসে গেলো গাজীপুর নগরবাসীর জন্য উপযুক্ত সুযোগ তাদের চাহিদাগুলো পূরণ করার লক্ষ্যে। তাদের কষ্ট ও ভোগান্তি নিরসন করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার একটি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা। তারা আগামী ৬ জুলাই একটি সুবিন্যস্ত গণতান্ত্রিক নগর ব্যবস্থাপনার শুভ সূচনা দেখতে পাবে। পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যা পায়নি, পায়নি ক্ষমতা ও অর্থানর্থের কারণে, এখন থেকে সেসব দুর্বলতা আর থাকবে না। কিন্তু কেবল আশা করলেই তো হলো না। অনেক জনদরদি ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের জন্য প্রাণান্ত করেছেন এবং করার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তারা যা দিয়েছেন, এখন থেকে নগর কর্তৃপক্ষ অধিক ক্ষমতা, কাজ করার আরো উন্নত কৌশল এবং অর্থসামর্থ্যের বলে নগরবাসীর দোরগোড়ায় তার চেয়ে অনেক অধিক উপহার উপযোগ পৌঁছে দিবেন। কিন্তু কি চায় নগরবাসী এখন?

নগরবাসী পূর্বে কিন্তু গাজীপুর নগরের বাসিন্দা ছিল না। তারা ছিল গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। দু'টি পৌরসভার বাইরের এলাকার পরিসর ছিল আরো বড়। সেসব এলাকা (গাজীপুর সদর থানার মির্জাপুর ও বাড়িয়া ইউনিয়ন বাদে) সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার মোট আয়তন প্রায় ৩৪০ বর্গকিলোমিটার। এই বিশাল এলাকার যে দুরাবস্থা এখনও বিরাজ করছে, কোটি লোক নানা সমস্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছে, তাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জীবন চিত্র। নগরবাসী আশা করছে, কর্পোরেশন তার গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে আশার দিন থেকে তাদের সমস্যাবলী অপসারিত হতে শুরু করবে। তাদের সে আশা শুধু আশাই নয়, সেগুলোই তাদের চাহিদা। অনেকগুলো সমস্যার বিধিবদ্ধ ও মানবিক সমাধান সে আশাগুলোকে পুষ্পমঞ্জুরিতে ফুটিয়ে তুলবে। এটা এক বাস্তবায়ন যোগ্য চাহিদার স্বরূপ। অযত্নে জন্ম লাভ করা ও কৈশোরে উপনীত সত্তাটিকে সযত্নে গড়ে তোলার সুুযোগ এসেছে।

নগরবাসী যানজটের জন্য নাকাল। এ বিষয়টা গাজীপুরে পূর্বে ছিল না আশির দশকে ঢাকা সদরনর্থের এ অঞ্চলটাকে মহকুমায় উন্নীত করার পর থেকে বদলে যেতে থাকে এ অঞ্চলের অবস্থা। ধীরে চলার অভ্যাস ঝেড়ে ফেলে গাজীপুরবাসী। সারাদেশের ব্যস্ততা যেন গাজীপুর কে গিলে ফেলে। চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ি, টঙ্গি, জয়দেবপুর রেলমোড় এবং রাজবাড়ির সাবরেজিষ্ট্রি অফিস পর্যন্ত ক্রমে ব্যস্ততায় ছেয়ে যায়। বাড়তে থাকে এসব এলাকায় জনতা ও যানবাহনের ভিড়। বিগত এই তিন দশকে গাজীপুরের ভূমি সম্পদের চাহিদা, এর মূল্য এবং জনতা ও যানবাহনের ভিড় কেবল বেড়েছে। এগুলোর নিয়ন্ত্রণের কোন চেষ্টা এলাকায় তো নয়ই, জাতীয়ভাবেও তেমন দানা বেঁধে ওঠেনি। আসছে দিনে যাদের হাতে পৌর এলাকার দণ্ড-মুণ্ডু নির্মীত হবে, তারা আন্তরিক ও সক্রিয় হলে গাজীপুরবাসী যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। এখানকার চান্দনা চৌরাস্তা, জয়দেবপুর, রেলগেট, টঙ্গি এবং উল্লেখিত স্থানগুলোতে স্বল্পদীর্ঘ ফ্লাইওভার বা অভারপাশ নির্মাণ করিয়ে এসব স্থান তথা সমগ্র গাজীপুরকে যানজটমুক্ত করবেন, এটাই গাজীপুরবাসীর চাহিদা। স্বল্প দৈর্ঘ্যতার বিষয়টি আর্থিক সংশ্লিষ্টতার সাথে বিবেচ্য।

দ্রুত নগরায়নের ফলে গাজীপুরে প্রায় সবগুলো মহাসড়কের আশপাশে বাড়িঘর, মিল কারখানা লাফিয়ে লাফিয়ে গড়ে ওঠেছে। যেসব সংযোগ ও সরু সড়ক ভেতর দিকে গেছে সেগুলোরও উভয়দিকে পাকা, সেমিপাকা ঘরদোর ঠাসাঠাসি করে নির্মাণ করা হয়েছে। কোন অবকাঠামোগত নিয়মনীতি, পরিবেশ রক্ষার কোন ব্যবস্থাই এসব ক্ষেত্রে মানা হয়নি। নগর গড়ার বিজ্ঞানসম্মত একটি নীতি ও পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা নগরবাসীর অত্যন্ত জরুরী এক চাহিদা। মহানগরীর শিক্ষিত জনগণ এ বিষয়ে সচেতন হলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগ কোন পদক্ষেপই তারা গ্রহণ করেননি। গাজীপুর ও টঙ্গি পৌরসভার অধীন এলাকাতে জনবসতি ও ব্যবসা কেন্দ্র অধিক গড়ে ওঠার ফলে অনিয়ম এই দুই পৌরসভার ভেতরই অধিক মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া চান্দনা, ভোগড়া, আউটপাড়া, দীঘির চালা, বারবৈকা, তেলীপাড়া, সালনা, কাথরা, বাসনা, কোনাবাড়ি, ছয়দানা এসব এলাকায় ছন্নছাড়া চালচিত্রে বসতবাড়ি, ব্যবসায় কেন্দ্র ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। মানুষ ও যানবাহনের চলাচলের ক্ষেত্রে যেমন অসহনীয় দুর্ভোগ, বর্জ্যপানি ও উচ্ছিষ্ট— প্রাণিবর্জ্য নিষ্কাশনে তেমনি অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা এসব এলাকাসহ পুরো দুই সাবেক পৌর এলাকাকে বসবাসের অনুপযুক্ত করে তুলেছে। বাস্তবভিত্তিক নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালালে এসব সমস্যার সমাধান করা যাবে। নগরবাসীর অন্যতম চাহিদা তাই একটি বিজ্ঞানসম্মত, পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শৃঙ্খলা বর্জিত বসতি গড়ন, অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণ এবং পয়:নিষ্কাশনের দৈন্যদশা থেকে মুক্তি চায় গাজীপুরবাসী। বর্জ্যপানি শোধনের একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি গড়ে তোলার জন্য গাজীপুরের কোন কোন শিক্ষিত ব্যক্তি ইতিমধ্যে পত্রপত্রিকায় নিবন্ধও প্রকাশ করেছেন। এই নিবন্ধের মতামতও এমনই। জাপানিগণ এরকম ব্যবস্থা ওসাকা এবং টোকিও নগরীতে গড়ে তুলেছে। এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং ঢাকা মহানগরীর চারপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত হবে। গাজীপুরবাসী একই সাথে মহানগরীর পশ্চিম এলাকায় বড় রাস্তা ও মদলের জলাভূমি, কাশিমপুর এলাকা থেকে টঙ্গি পর্যন্ত বিস্তৃত জলাভূমি, টঙ্গির পূর্বদিক থেকে পূবাইল এলাকা ও বেলাইয়ের জলাভূমি রক্ষা করে এসব নিচু অঞ্চলের ধার ঘেঁষে বাণিজ্য কেন্দ্র এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললে মহানগরীর সকল এলাকার পানি গড়াবার প্রাকৃতিক সুবিধাটা যেমন রক্ষা পাবে, মহানগরী পরিচ্ছন্ন থাকবে সুন্দর হবে এবং জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকবে বলে মনে করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি ভেবে দেখেছি এবং গাজীপুর নগর কর্তৃত্বে যারা আসবেন তাদেরকে এ বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য অনুরোধ করছি। একই সাথে তুরাগ, টঙ্গি খাল, চিলাই; বালু ও শীতলক্ষ্যার পানি প্রবাহ সচল, উদ্দাম ও স্বচ্ছ রাখার জন্য যথাযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণের চাহিদা রয়েছে গাজীপুর নগরবাসীর। গাজীপুর নগরবাসীর সন্তানদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষা সুবিধা সৃষ্টি নগরবাসীর অন্যতম চাহিদা। কর্পোরেশন এলাকার অভ্যন্তরে তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও তিনটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি উপযুক্ত মানের নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হলে উচ্চশিক্ষার্থী তরুণ-তরুণীদের জীবন গড়ার পথে এক প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ তিনটি জয়দেবপুর, সালনা ও টঙ্গিতে স্থাপিত হতে পারে। বলা বাহুল্য, ঢাকা মহানগরীতে এবং জাহাঙ্গীরনগরে অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে গাজীপুর এলাকার ৭০% এর মতো মেধাবী শিক্ষার্থী সঠিকমানের উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাজীপুর সিটি এলাকার উল্লেখিত স্থানে বা সংলগ্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলো স্থাপিত হলে সারা দেশের মেধাবী তরুণ-তরুণীর উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। নার্সিং কলেজ স্থাপিত হলে গাজীপুরের হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সামান উন্নত হবে। প্রসঙ্গত: গাজীপুর সদর হাসপাতালকে ১২০০ বেডশক্তিতে, টঙ্গি হাসপাতালকে ৫০০-৮০০ বেডশক্তিতে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে সম্প্রসারিত করা সময়ের চাহিদা।

গাজীপুর নগরবাসী সবাই জানেন যে, এখানকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষামান খুবই দুর্বল, তবে দুচারটি মাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যতীত। আর এসব স্কুল-কলেজে উপযুক্ত পরিসরের খেলার মাঠ নেই, সাঁতার শেখার পুকুর নেই। বসতি সম্প্রসারণ ও বাণিজ্য কেন্দ্রসমূহ গড়ে ওঠার সাথে সাথে এগুলোর অনুপযুক্ততা বেড়েছে, বিলুপ্ত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ ও সুন্দর শোভিত পুকুর ও দীঘিগুলো। আগামী নগর কর্তারা এদিকে সুদৃষ্টি দেবেন, এ প্রত্যাশা গাজীপুর নগরবাসীর।

গাজীপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন? এদিকে দৃষ্টিপাত করলে হতাশ হতে হয়, শঙ্কিত হতে হয়। গ্রামে গ্রামে, রাস্তার পাশের দোকানে দোকানে চলছে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অস্ত্রের প্রতিযোগিতা। চাঁদার শিকার হননি বা চাঁদাবাজির কারণে ছোটখাটো জলখাবারের দোকান বন্ধ করেননি, কোন এলাকায় এসব ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের অভাব নেই। এ সন্ত্রাসীদের মূলত: রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তবে ক্ষমতাসীনদের সাথে তাদের যোগাযোগ সৃষ্টি হয় সহজেই। নগর কর্তৃত্বে যারা যাবেন, এ বিষয়ে তাদের ভাল কাজ করার সুযোগ আছে।

মহানগরী ঢাকার সাথে ভালো যোগাযোগ থাকা এবং দূরত্ব কম হবার কারণে এবং বিস্তীর্ণ সমতল ও বন্যামুক্ত ভূমির পর্যাপ্ততার সুবাদে গাজীপুর নগর এলাকায় এখন শতশত পোশাক শিল্প, টাইলস ফ্যাক্টরি এবং অন্যান্য ভারি শিল্প গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ নিম্নমানের এবং বিভিন্নভাবে সুবিধা বঞ্চিত। টঙ্গি এলাকায় বিপুল সংখ্যক মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধও রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষকে এদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। মিল ফ্যাক্টরিগুলো চালু করে এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত কলকারখানা স্থাপন করে গাজীপুরবাসী তথা দেশের কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগানোর সুযোগ তাদের হাতে আসবে।

বিগত বছরগুলোতে এবং সাম্প্রতিককালে গাজীপুরের কি কি উন্নতি হয়েছে, তার পরিচয় উপরোক্ত বর্ণনায় এসে গেছে বলেই মনে হয়। অনেকেই হয়তো একমত হবেন, স্বাধীনতার পর দেশের উন্নয়নের সাথে তার টানে টানে, গাজীপুরেরও বেশ উন্নতি হয়েছে। তবে শ্রীহীন হয়েছে এর জীবন ব্যবস্থা ও পরিবেশ। গাজীপুর মহানগরীতে বা মহাস্লামে পরিণত হয়েছে। তবে এখনও সুযোগ আছে একে পরিকল্পিত, সুন্দর ও সুবাসন ব্যবস্থার নগরী হিসেবে গড়ে তোলার। নগর কর্তাদের জন্য সুযোগ রয়েছে সে লক্ষ্যে গাজীপুরের ভূ-বৈশিষ্ট্য নন্দিত বনভূমি ও নদনদী খালবিলগুলো কাজে লাগাবার।

লেখক : বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, 'গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামোগত পরিবর্তনের দরকার নেই।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :