The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯ আষাঢ় ১৪২০ এবং ২৩ শাবান ১৪৩৪

ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ে বিনামূল্যের সফটওয়্যার

ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার হিসেবে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডই সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয়ে থাকে। তবে এটির অরিজিনাল সংস্করণ টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করতে পারেন না অনেকেই। তাদের জন্য বিনামূল্যের কিছু ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের কথা এই লেখায় জানাচ্ছেন মোজাহেদুল ইসলাম

কেবল উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের কাছেই নয়, ম্যাক ব্যবহারকারীদের কাছেও ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। মাইক্রোসফট অফিস স্যুটের এই সফটওয়্যারটির বিকল্প খোঁজারও প্রয়োজন মনে করেন না অনেকে। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে টাকা খরচ করে অরিজিনাল মাইক্রোসফট অফিস বা ওয়ার্ড ব্যবহার করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে মাইক্রোসফটে ওয়ার্ডের পাইরেটেড কপির উপরেই নির্ভর করতে হয় আমাদের। তবে যারা পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজে বিনামূল্যের বেশকিছু সফটওয়্যার ও প্রোগ্রাম রয়েছে। মাইক্রোসফটের ওয়ার্ডের সাথে তুলনা করলে হয়ত এই সফটওয়্যার ব্যবহার করেও প্রায় সব ধরনের কাজই করা যাবে। এই লেখায় ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বিকল্প কিছু বিনামূল্যের সফটওয়্যারের পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

ওপেন অফিস রাইটার

মাইক্রোসফট অফিসের সাথে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছে ওপেন সোর্স ভিত্তিক ওপেন অফিস স্যুট। বিনামূল্যের এই সফটওয়্যার স্যুটের ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের নাম ওপেন অফিস রাইটার। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে যেসব ফিচার রয়েছে, তার সবগুলোই কম-বেশি রয়েছে ওপেন অফিস রাইটারে। ওপেন অফিস রাইটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ইন্টারফেসের দিক থেকে এটি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের সবচেয়ে কাছাকাছি। ফলে যারা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে অভ্যস্ত, তারা খুব সহজেই ওপেন অফিস রাইটার ব্যবহার করতে পারবেন। এটি মূলতই তৈরি করা হয়েছিল লিনাক্সের জন্য। পরবর্তীতে উইন্ডোজ এবং ম্যাকের জন্যও তৈরি করা হয়েছে এর সংস্করণ।

ইন্টারফেসের দিক থেকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের সাথে এর পার্থক্য হলো এতে আইকনের ব্যবহার একটু বেশি। আবার মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ২০০৭ ও পরবর্তী সংস্করণে নিচের দিকে স্থায়ীভাবে 'ওয়ার্ড কাউন্ট' দেখানোর ফিচারটি ওপেন অফিসেই আগে থেকে ছিল। আর এতে বাড়তি একটি সুবিধা হচ্ছে ওয়ার্ড ফাইলে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ফাইল (ছবি, ভিডিও, অডিও ক্লিপ-আর্ট) ব্যবহারের সুবিধা। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ফাইলগুলোও এতে খোলা যায় এবং সম্পাদনা করা যায়। ফলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের একটি ভালো বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ওপেন অফিস রাইটার। http://www.openoffice.org/download লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন এটি।

অ্যাবি ওয়ার্ড

বেসিক ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার হিসেবে হালকা-পাতলা একটি সফটওয়্যার অ্যাবিওয়ার্ড। টেক্সট স্টাইল, বুলেট, মেইল মার্জ, মার্জিন টেবিল প্রভৃতি ফিচার ব্যবহার করে চমত্কার ওয়ার্ড ফাইল তৈরি করা যায় অ্যাবিওয়ার্ড ব্যবহার করেই। তবে এর বড় একটি সুবিধা হচ্ছে একাধিক ব্যক্তি একইসাথে একটি ফাইল সম্পাদনা করতে পারবেন 'অ্যাবিকোলাব' নাম কোলাবরেশন ফিচার ব্যবহার করে। ওপেন সোর্স এবং ক্রস প্ল্যাটফর্মের অ্যাবিওয়ার্ড উইন্ডোজ ছাড়াও অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কাজ করতে সক্ষম। বেসিক ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের এই সফটওয়্যারে রয়েছে একটি অতিরিক্ত টুলবার যেখানে লাইনিং, সাবস্ক্রিপ্ট, সুপারস্ক্রিপ্ট, প্যারাগ্রাফ স্পেসিং, লাইন স্পেসিং, হেডার/ফুটার প্রভৃতি ফিচার। এতে প্রিফারেন্স মেন্যু ব্যবহার করে রুলার মেজারমেন্টকে ইঞ্চি ছাড়াও সেন্টিমিটার বা অন্যান্য এককে নির্ধারণ করা যায়। সব মিলিয়ে বেসিক ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজে অ্যাবিওয়ার্ড হতে পারে কার্যকরী। ডাউনলোড লিংক www.abisource.com/download।

জারটে

ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের বেসিক কাজগুলো নিয়ে আরেকটি ছোট সফটওয়্যার জারটে। অত্যন্ত দ্রুত বুট করতে সক্ষম জাারটে কাজও করে দ্রুতগতিতে। ক্যারোলিনা রোডের তৈরি বিনামূল্যের এই সফটওয়্যারের একটি পোর্টেবল সংস্করণও রয়েছে। ফলে আপনার পেনড্রাইভে পোর্টেবল সংস্করণও রয়েছে। ফলে আপনার পেনড্রাইভে পোর্টেবল জারটে নিয়ে রাখলে যেকোনো সময় যেকোনো পিসিতে বসেই কাজ করতে পারবেন। ইন্টারফেসের দিক থেকে অবশ্য এটি খুব বেশি আকর্ষণীয় নয়, বরং অনেকের কাছে কিছুটা কার্টুনের মতো লাগতে পারে এই ইন্টারফেস। এতে অন্যান্য ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের মতো নেই টুলবারের আধিক্য। বরং মেন্যুবার থেকেই এর বিভিন্ন অপশন ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি রয়েছে শর্টকাট কিবোর্ড কমান্ড। তিন ধরনের লেআউট কাজ করে জারটে-কমপ্যাক্ট, মিনিম্যাল এবং ক্ল্যাসিক। এতে একইসাথে একাধিক ফাইল ওপেন হয় বিভিন্ন ট্যাবে। ফলে একই উইন্ডো থেকেই ব্যবহার করা যায় একাধিক ফাইল। ডিকশনারি, থেসারাস, হেল্প লিংক প্রভৃতি ব্যবহার করা যাবে এতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে। স্পেল চেকারও রয়েছে এতে। ব্যতিক্রমী এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজে। জারটে ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন http://www.jarte.com/download.html।

ওয়ার্ড গ্রাফ

ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের ভালো আরেকটি সফটওয়্যারের নাম ওয়ার্ডগ্রাফ। এটিও অত্যন্ত হালকা একটি সফটওয়্যার। এর জন্য জাভা কিংবা ডটনেট-ইন্সটল থাকারও প্রয়োজন নেই। ইন্টারফেসের দিক থেকে এটি বেশ পরিচ্ছন্ন। মেন্যুবারে বিভিন্ন ফিচারের পাশাপাশি এতে বেশিরভাগ কাজের জন্যই রয়েছে টুলবার। এটি টেক্সট ফাইল এবং আরটিএফ ফাইলগুলো সম্পাদনা করা যায়। ওয়ার্ড ফাইলগুলোও সম্পাদনা করা যায় এতে। এর টুলবারটি অনেক বেশি কার্যকরী। দেখতেও অন্যান্য সফটওয়্যারের চাইতে বেশ ভালো। বেসিক ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারগুলোর চাইতে অনেক বেশি কাজ করতে সক্ষম এটি। ফলে যারা একটু অ্যাডভান্সড লেভেলের কাজ করতে চায়, তাদের জন্য ওয়ার্ডগ্রাফ সহায়ক হতে পারে। ডক্যুমেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর মাধ্যমে ডক্যুমেন্টকে লক করার সুবিধাও রয়েছে। এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে একাধিক ডক্যুমেন্ট এতে একই উইন্ডোতে আনুভূমিক বা উলম্বভাবে প্রদর্শন করা যায় টাইল আকারে। এতে অবশ্য গাণিতিক সমীকরণ লেখার সুবিধা বিল্ট-ইন নেই। এদেরই নিজস্ব একসেল সফটওয়্যার ইন্সটল করে সেই অভাব পূরণ করা যায়। সব মিলিয়ে চমত্কার ইন্টারফেসের সফটওয়্যারটি ব্যবহারের জন্য ভালোই। এই সফটওয়্যারের ডাউনলোড লিংক http://www.ssuitesoft.com/wordgraph.htm।

ওয়ার্ড প্যাড

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের বিকল্প হিসেবে ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে বিল্ট-ইন রয়েছে ওয়ার্ডপ্যাড প্রোগ্রামটি। সর্বশেষ সংস্করণের ওয়ার্ডপ্যাডগুলো মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মতোই কাজ করতে সক্ষম। ওয়ার্ডের সব ফিচার না থাকলেও মৌলিক কাজের প্রায় সব ফিচারই রয়েছে এতে। রিবন ইন্টারফেসের ওয়ার্ডপ্যাডে ডক্যুমেন্ট সম্পাদনার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে টেক্সট ফাইল থেকে শুরু করে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে তৈরি সব সংস্করণে ফাইলই সম্পাদনা করা যায় এতে। ছবি, ড্রয়িং এবং অবজেক্ট ইনসার্ট করার সুবিধাও রয়েছে এতে। শুধু তাই নয়, মাইক্রোসফট এক্সেলের ওয়ার্ড শিট ও পাওয়ার পয়েন্টের স্লাইডও যুক্ত করা যায় এতে। উইন্ডোজের বিল্ট-ইন প্রোগ্রাম হিসেবে ওয়ার্ডপ্যাড যথেষ্টই কার্যকর।

গুগল ডকস

ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের জন্য অনলাইনের একটি প্রোগ্রাম হচ্ছে গুগল ডক। অনলাইন জায়ান্ট গুগল'র এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রায় সব ধরনের কাজই করা যায়। তবে এতে বাড়তি কিছু সুবিধা রয়েছে অন্যান্য সফটওয়্যারের তুলনায়। যেমন, এতে তৈরি বা সম্পাদনা করা যেকোনো ফাইলকে ওয়ার্ড ফাইল আকারে যেমন সংরক্ষণ করা যায়, তেমনি পিডিএফ কিংবা এইচটিএমএল আকারেও সংরক্ষণ করা যায়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের যেকোনো সংস্করণের ফাইল এতে খোলা যায় এবং সম্পাদনা করা যায়। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে যেকোনো স্থানেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই। পাশাপাশি অনলাইনে একই ডক্যুমেন্ট সম্পাদনা করা যায় কয়েকজন মিলে, ফাইল শেয়ারও করা যায় অন্যদের সাথে। এটি ব্যবহার করার জন্য জিমেইল বা যেকোনো ধরনের একটি গুগল অ্যাকাউন্ট থাকাই যথেষ্ট। ওয়েব ব্রাউজার থেকে ব্যবহার করার সুবিধার সাথে সাথে এতে তৈরি ফাইল অনলাইনে যেমন সংরক্ষণ করা যায়, তেমনি হার্ডডিস্কেও সংরক্ষণ করা যায়। শুধু তাই নয়, পিসির পাশাপাশি ম্যাক বা মোবাইল ডিভাইস থেকেও ব্যবহার করা যায় গুগল ডকস। আধুনিক জীবনযাত্রায় তাই আপনার আদর্শ সঙ্গী হতে পারে গুগল ডকস।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, 'গ্রামীণ ব্যাংকের কাঠামোগত পরিবর্তনের দরকার নেই।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :