The Daily Ittefaq
ঢাকা, বুধবার ১০ জুলাই ২০১৪, ২৫ আষাঢ় ১৫২১, ১১ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ সমুদ্রে ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে: বিএনপি | নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: সিআইডির তদন্ত বন্ধের জন্য আবেদন খারিজ | রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে পোশাক কারখানায় আগুন, নিহত ১ | টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা (আর্জেন্টিনা ৪-২ নেদারল্যান্ডস)

চাকরি ছেড়ে দিতে চাইলে

চাকরির ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে যখন বর্তমান চাকরিতে যোগ্যতা থাকার পরও উন্নতি হচ্ছে না, তখন নতুন একটি চাকরিতে যোগ দেওয়াটা জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাই হয়তো এক সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরির পদত্যাগপত্র নিয়ে জমা দিতে গেলেন। কিন্তু সেখানেই পেয়ে গেলেন বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব। তখন খুশি মনে তা গ্রহণ করাটাই ভালো মনে হয়। কিন্তু একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করতে হয় না।

বর্তমানে যে চাকরিটি ছেড়ে দিতে চাইছেন তার পেছনের কারণ সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তারা অবগত। এ সিদ্ধান্ত যে কারণে কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন কিছু নয় সেগুলো হলো—

১. আপনার কাজের যোগ্যতা অনুপাতে কম বেতন দেওয়া হয় আপনাকে। হয়তো এ জন্য বসকে বলেছিলেন কোনো এক সময়।

২. বর্তমান কাজ আপনার কাছে বিরক্তিকর মনে হতে পারে। আরও চ্যালেঞ্জিং কাজ পেতে হয়তো বসকে বলেছিলেন।

৩. যদি অতি কাজের চাপে আপনার কর্মোদ্যম ধীরে ধীরে কমতে থাকে, এ জন্য হয়তো আপনি সপ্তাহে কম কাজ করতে চেয়েছিলেন।

এসব কারণ ছাড়া যে কারণেই আপনি চাকরি বদলে ফেলার পরিকল্পনা করুন না কেন, যতটা পারা যায় তার সমাধানের চেষ্টা করুন। অবশেষে সমাধানের পথ না পেয়েই নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন চাকরিতে চলে যাওয়ার। নতুন যে চাকরিতে গেলে ক্যারিয়ার সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে ভাবছেন, বর্তমান প্রতিষ্ঠানের বেশি বেতনের প্রস্তাবে কেন থেমে যাবেন?

তা ছাড়া এতদিন কাজ করার পরও আপনার বেতন বাড়ানো হয়নি। চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে এতদিনে কী কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে? সাধারণত কর্তৃপক্ষ চায় না কোনো বিভাগ হঠাত্ করেই একজন ভালো কর্মীর অভাবে পড়ে যাক। তাই এ ধরনের প্রস্তাব করা হয়।

তবে চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে না সরে যাওয়াই ভালো। নিজের সাধ্যমতো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার পর একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে তা ভালো কিছুই বয়ে আনে। এখানে যা এতদিন পাননি, তা পেতেই তো নতুন কোথাও যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেখানে নিশ্চয়ই ভালো সুযোগ রয়েছে। তাই পুরনো স্থানে পড়ে থাকার প্রয়োজন নেই।

আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে চাকরিপ্রার্থী মেধাবী তরুণের সংখ্যা। চাকরির পদের তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা অত্যাধিক বেশি থাকায় যেকোনো ধরনের চাকরি অর্জনের লক্ষ্যে নিরন্তর ছুঁটে চলতে হয় এসব তরুণদের। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পরও কাঙ্ক্ষিত চাকরি লাভে ব্যর্থ হওয়ায় দীর্ঘায়িত হয়ে চলে বেকারত্বের যন্ত্রণা। কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে যেকোনো ধরনের চাকরি অর্জনই তখন হয়ে উঠে মুখ্য উদ্দেশ্য। ফলে স্বল্প বেতন এবং অফিস প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হয়েই শুরু করতে হয় ক্যারিয়ার। নতুন চাকরিক্ষেত্রে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে গেলেও অনেকক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট হতে বিরূপ ব্যবহার পেয়ে থাকে তারা। বাংলাদেশে চাকরিক্ষেত্রে পদের তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর আধিক্য থাকায় নিয়োগপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন কম করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাজের যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার পাশাপাশি খারাপ ব্যবহারের সম্মুখীন হয়ে থাকে প্রতিনিয়ত। সেই সাথে চাকরির নিয়োগপত্রে উল্লেখিত কাজের দায়িত্বের অতিরিক্ত কাজ করার বিষয়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত ব্যক্তিদের বেতন বৃদ্ধি না করায় বিভিন্ন ব্যক্তি চেষ্টা চালিয়ে যায় নিজ যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পছন্দনীয় চাকরি অর্জনে। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে কর্মরত ব্যক্তিরা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেদের নিয়োজিত করার পাশাপাশি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মানজনক চাকরি অর্জনে। নিজ মেধা, যোগ্যতা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে যখন পছন্দনীয় চাকরি ক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ আসে তখন চাকরিরত প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে অনেকক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় মেধাবী তরুণদের। ফলে চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পাশাপাশি সম্মুখীন হতে হয় বিব্রত অবস্থার। অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বল্প বেতনে কর্মরত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যোগ্যতাসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি লাভ করার বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করে না।

মূলত প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনার মাধ্যমে এই সকল ব্যক্তিদের অনেকক্ষেত্রে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার বিষয়টিকে অহেতুকভাবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন করে তোলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দৈনিক পত্রিকার পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে ধরিয়ে দিন শিরোনামে বেশকিছু বিজ্ঞাপন, যেগুলোর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের অজ্ঞাতে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগদান করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রভূত ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির জরুরি কাগজসহ অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সময়েই দেখা গেছে, মেধাবী এবং প্রতিষ্ঠানের নিকট যোগ্য ব্যক্তি অন্য প্রতিষ্ঠানে যেন যোগদান না করতে সক্ষম হয় সে কারণেই এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। সেই সাথে রয়েছে যার নামে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে তার সামাজিক অবমূল্যায়নের বিষয়টিও। ফলে বিষয়টির প্রতি যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা মনে করছেন। সেই সাথে যেসকল ব্যক্তি নিজ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশ করবেন তাদেরও কিছু কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

১. চাকরিতে প্রবেশের পূর্বে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের শর্তানুযায়ী সময়ের পূর্বেই প্রতিষ্ঠানকেই অবহিত করুন আপনি নতুন চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করেছেন। ২. নতুন চাকরিতে প্রবেশের পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠানে আপনার দায়িত্বে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক কাগজসমূহ আপনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যাস্ত করুন।

৩. প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজ করার প্রেক্ষিতে অনেকসময় অর্থের লেনদেন করতে হওয়ায় প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার পূর্বে অর্থসংক্রান্ত বিষয়াদি নিষ্পত্তি করতে হবে।

৪. আপনি কেন বর্তমান কর্মক্ষেত্র হতে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে আগ্রহী সেই বিষয়ে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি কথা বলুন।

৫. আপনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিত কর্মরত প্রতিষ্ঠানের সমস্ত নিয়ম পালন করেই নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ব্যবস্থা করা।

৬. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই চাকরি হতে ইস্তফা দেওয়া উচিত।

৭. আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে হবে।

উপর্যুক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন কর্মরত প্রতিষ্ঠান হতে অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময়। এসব বিষয় মেনে চললে নতুন চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে পূর্বের প্রতিষ্ঠান সাধারণত কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে সক্ষম হয় না। তাই এগুলো মেনে চলুন। আর প্রয়োজনে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সহায়তাও নিতে পারেন।

 ইফতেখার হোসেন

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে টিআইবির প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আপনিও কি তাই মনে করেন?
9 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২৫
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :