The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার ১২ জুলাই ২০১৪, ২৮ আষাঢ় ১৪২১, ১৩ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ গোল্ডেন বলের জন্য মনোনীত ১০ খেলোয়াড় | গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ১৬ | ঝিনাইদহে 'বন্দুকযুদ্ধে' ২ চরমপন্থি নিহত

চারলেনের কাজে ধীরগতি ভোগান্তি যাত্রীদের

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

শেখ মহিউদ্দিন আহাম্মদ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

'ঢাকা যাওয়ার শখ মিটে গেছে। ঢাকা যাওয়া মানে সাজা ভোগ করা। আড়াই ঘন্টার পথ যেতে লাগে ৭/৮ ঘন্টা।' এমনই মন্তব্য করলেন ঢাকা থেকে ফিরে আসা যাত্রী আসাদ উল্লাহ। ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এ বক্তব্য শুধু আসাদ উল্লাহরই নয়। এই মহাসড়কে চলাচলকারী সকল যাত্রী ও চালকদেরও। বিড়ম্বনার কারণে অনেকেই বাসের পরিবর্তে ট্রেনে যাতায়াত করছেন। ঈদের আগে পরিস্থিতি আরো খারাপের আশংকা রয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ মন্থরগতিতে চলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। মহাসড়কের প্রায় ৯০ কিলোমিটার জুড়ে এই কাজ চলছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সড়কের এক পাশের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তার উপর অসংখ্য খানা-খন্দকের কারণে যানবাহন চলছে কচ্ছপ গতিতে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে প্রচণ্ড যানজট। বর্ষার শুরুতেই এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে রাস্তা কাদা-পানিতে একাকার। দফায় দফায় প্রকল্পের সময় বাড়ানোর ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ দিনদিন বাড়ছেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনবার প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর পরও গত চার বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৪৯.৫০%। ১ বছরে বাকি কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে যানবাহন ও যাত্রীদের আনাগোনা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বেহাল দশার কারণে ২ ঘণ্টার পথ যেতে এখন ৬/৭ ঘণ্টা লাগছে। যানজট প্রকট হলে সময় আরো বেশি লাগে। কাপড় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, 'রাস্তা ভাল থাকার সময় প্রতিদিনই ঢাকা যেয়ে নিজের পছন্দমত মালামাল কিনে নিয়ে আসা যেত। কিন্তু এখন মালামাল কিনে দিনে দিনে আসা যায় না।' বাস চালক মনির জানান, 'আগে একাধিক ট্রিপ মারা যেত কিন্তু রাস্তা খারপের কারণে এখন যাওয়া-আসাই কঠিন হয়ে পড়েছে।'

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর চৌরাস্তা, মাওনা চৌরাস্তা, ভালুকা, সীডস্টোর, ত্রিশাল, বৈলর, শিকারিকান্দাসহ আরো কয়েকটি জায়গায় সড়কের এক পাশের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। ফলে সড়ক বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে একাকার হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। পুরাতন সড়কের বিটুমিন সরিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করার জন্য ইটের কার্পেটিং ও বালু ফেলা হয়েছে। অসংখ্য জায়গায় ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা-পানি জমে থাকে। প্রবল বৃষ্টি হলে গর্তগুলো জলাশয়ের রূপ নেয়। রাস্তা খারাপের কারণে প্রায়শ বিভিন্ন যানবাহন গর্তে আটকা পড়ছে। যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া চারলেনের কাজ চলতে থাকায় গাড়ি চলাচল করে দুই লেনে। মাঝে মধ্যে গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে গাজীপুর, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মাওনা চৌরাস্তায় ওভারব্রিজের কাজ চলমান থাকায় সেখানে যানজট লেগেই থাকে। ভালুকা থানার মোড় থেকে নতুন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কটি বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। পিচ্ছিল সড়কে বিপদজনকভাবে যানবাহন চলাচল করে। ভালুকার হাজির বাজার থেকে সীডস্টোর বাজার পর্যন্ত এক পাশের কাজ শেষ হয়েছে। সীডস্টোর থেকে আমতলী পর্যন্ত সড়কের একপাশে ইট-সুরকি বিছানোর কাজ চলছে। বিভিন্নস্থানে পুরাতন সড়কের কার্পেটিং ও ইটের সয়েলিং বিলীন হয়ে গেছে। অসংখ্য খানা-খন্দকের কারণে যানবাহন চলছে কচ্ছপ গতিতে।

চালক মিলন মিয়া জানান, গর্ত অতিক্রমকালে যানবাহনগুলো 'হেলেদুলে' চলে ও 'থরথর' করে কাঁপতে থাকে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে চালক ও যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠে। সুলেমান, কবিরসহ অনেক বাস চালকদের মতে, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। চাকার ঘর্ষণে সড়কের ইট-সুরকি তীরের মতো ছুটে যায়। যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার ঘটনা নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রকল্পের কাজ একাধিকবার পরিদর্শনে এসেও কাজের গতি বাড়াতে পারেননি। গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে যোগাযোগমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে সেজন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারীদের সড়কটি চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মাওনা চৌরাস্তায় ওভারব্রিজ নির্মাণের জায়গায় খোঁড়াখুড়ি বন্ধসহ যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সূত্র জানায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ৯০২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়ে গেলে প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ব্যয় ৯৯২ কোটি ১০ লাখ টাকা করা হয়। ২০১০ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০১৩ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রথমবার ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়। পরে নানা কারণে আবারো প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এতে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৮১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে চার বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে অর্ধেকেরও কম। এখনো ৫০.৫০% কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজ শেষ করতে সময় আছে মাত্র এক বছর। অথচ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে গ্রহণ করা এই প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে কোন বিলম্ব ছিল না।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনোয়ার-উজ-জামান জানান, এ প্রকল্পের অধীনে ভালুকা, বানার, খীরু, সুতিয়া ও পাগারিয়া নদীর ওপর পাঁচটি সেতু, মাওনা চৌরাস্তায় ৪৫০ মিটার ফ্লাইওভার, সালনায় একটি রেলওয়ে ওভারপাস, জয়দেবপুর, ভালুকা, ত্রিশাল ও ময়মনসিংহে চারটি স্টিল ফুট ওভারব্রিজ এবং ১১১টি নতুন বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও ৩৯টি বক্স কালভার্ট বর্ধিতকরণ কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের মধ্যে দু'টি প্যাকেজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি সেতু ও রাস্তার ২১ কিলোমিটার এলাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২ লেনের ৪০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সালনা রেলওয়ে ওভারব্রিজ ৮৫% এবং মাওনা চৌরাস্তায় ফ্লাইওভার এর কাজ ৬০% শেষ হয়েছে। কাজ এখনো চলছে। কিন্তু জয়দেবপুর, ভালুকা, ত্রিশাল ও ময়মনসিংহে চারটি স্টিল ফুট ওভারব্রিজসহ ১৩টি বক্স কালভার্টের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। তিনি আরো জানান, সেনাবাহিনী প্রকল্পের শতকরা ৪৫% কাজ শেষ করেছে। শ্রীপুরের নয়নপুর থেকে ত্রিশালের রায়মণি পর্যন্ত প্যাকেজ-০৩ এর (২৯ দশমিক ৬০ কিলোমিটার সড়ক) অগ্রগতি শতকরা ৪৮ ভাগ এবং ত্রিশালের রায়মণি থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মোড় পর্যন্ত প্যাকেজ-০৪ এর (২৭ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার সড়ক) শতকরা ৫৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের কাজে ধীরগতির কথা স্বীকার করে প্রকল্প ব্যবস্থাপক বলেন, জমি অধিগ্রহণ, গ্যাস, বিদ্যুত্, টেলিফোনসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি শিফটিংএ ধীরগতি, বর্ষা মৌসুমের পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় মালামাল/যন্ত্রপাতি সংগ্রহের অপ্রতুলতা ও গাফিলতি এবং কার্যকরি ব্যবস্থাপনার অভাবেই কাজে মন্থরগতি ছিল।

সেনাবাহিনীর অংশের কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্পটির পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে ফোরলেন প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। তবে বর্তমানে এ প্রকল্পের কাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। যথাসময়েই কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় ঈদের আগে ৩ দিন এবং পরে ২ দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আপনি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন কি?
8 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৪
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :