The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

'আগে সালামি শুধু পেতাম,এখন দিতেও হয়'

তাকে দেখলে স্কুল-বালক বলে ভুল করায় অন্যায় নেই। মনে হয় স্কুল ব্যাগটা পাশে রেখে ভুল করে টেস্ট মাঠে ঢুকে পড়েছেন। নিষ্পাপ, নিষ্কলুষ হাসিমুখের সেই মুমিনুল হক আস্তে আস্তে বড়ই হয়ে গেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে অবিস্মরণীয় সব পারফরম্যান্স করে বড়দের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তবে ক্রিকেট দিয়ে নয়, মুমিনুল বড় হয়ে যাওয়াটা টের পাচ্ছেন ঈদের সালামি দেয়া-নেয়ায় নিজের ভূমিকার পরিবর্তন দেখে!

ঈদ করতে ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছেন কক্সবাজারে। সেখান থেকেই ঈদের আনন্দ, মজা, পরিবারের গল্প নিয়ে কথা বললেন টেলিফোনে। ঈদ ও পরিবার নিয়ে মুমিনুল হকের এই একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়—

সুপ্রভাত, মুমিনুল। ঈদ কোথায় করছেন?

বাড়িতে। আমি এখন কক্সবাজারেই আছি। এখানেই ঈদ করবো। সবসময়ই তাই করি।

কিন্তু এখন কী আগের মতো করে ঈদ কাটাতে পারেন? তারকা হয়ে গেছেন....

না, তাতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি তো আগের মতোই আছি। আমার বাসা, আমার শহর আমার কাছে আগের মতোই আছে। ফলে এবারও সেই ছোটবেলার মতোই আনন্দ করছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি। ইনশাল্লাহ, ঈদটাও আগের মতো মজায় কাটবে।

তাহলে কোনো পরিবর্তনই টের পান না?

একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে। আগে ঈদে আমি শুধু সালামি পেতাম। এখন সালামি দিতেও হয়। এতে মনে হয়, একটু বড় হয়ে গেছি। হা হা হা....

আগের মতো করে সবার সঙ্গে মিশতে পারেন? আড্ডা দিতে বা হৈচৈ করতে একটু বাধোবাধো লাগে না?

একটুও না। বরং ঈদের সময় বেশি ভালো করে মেশা যায়। আরো যারা কক্সবাজারের বাইরে থাকে, তারা ফেরে। এই সময় তো তারকা, ছোট-বড়; এসব ব্যাপার মানুষের মাথায় খুব একটা থাকে না, তাই বরং বেশি মন খুলে মেশা যায়।

বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বের হন?

আড্ডা দিতে তো বের হই। এখনো খুব বের হই। হ্যাঁ, সব জায়গায় যাওয়া যায় না। আগে যেমন যে কোনো জায়গায় আড্ডা দেয়া যেত, ওটা করতে একটু সমস্যা হয়।

ভক্তরা বাগড়া দেয় এসে?

একটু। খুব বেশি বাগড়া দেয় না। একে তো আমাদের কক্সবাজারের মানুষ খুব একটা ক্রিকেট পাগল না। ফলে তারা খুব আগ্রহ দেখায় না। আর আমি তো এখানকার ছেলে। ফলে এখানকার লোকের তো চেনা মানুষ। তাই সমস্যাটা হলেও সেটা খুব অল্প হয়।

একটু সমুদ্রের কথা বলেন। আমরা তো কক্সবাজার গেলেই সমুদ্রে লাফি পড়ার কথা ভাবি। আপনারা কী করেন? সমুদ্র নিয়ে উচ্ছাস আছে?

সমুদ্র তো একটা উচ্ছাসের ব্যাপার; কিন্তু হয় কী, বাড়ির পাশে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসটা থাকলেও বাইরের লোকের মতো আগ্রহ একসময় আর থাকে না। সমুদ্র তো আমাদের রোজকার দৃশ্য। তাই পর্যটকদের মতো এলেই ঝাঁপ দিয়ে পড়ি না। হয়তো পুরো ছুটির মধ্যে একদিন নামলাম। এর বেশি না।

আড্ডাটা দেন কোথায়? সমুদ্রের পাড়ে, নাকি পাহাড়ের ওদিকে?

সমুদ্র বা পাহাড় কোনোটাতেই বেশি না। নিজেদের কারো বাসায় বা শহরের চেনা জায়গায়। পাহাড়-সমুদ্রের দিকগুলোতে যাই, খুব কম।

আপনি তো খু হৈচৈ করেন না। একটু চুপচাপ ধরনের বলে পরিচিত। আড্ডা দিতে ভালো লাগে?

তা ঠিক। অনেকের মতো খুব হৈচৈ করতে ভালো লাগে না; কিন্তু বাড়ি এলে, বন্ধুদের সঙ্গে আবার ঠিক ওরকম থাকি না। এখানে আড্ডা দেই, মজা করি। খুব হৈচৈ না করলেও মজা কম করি না।

একটু আপনার বাসার প্রসঙ্গে আসি। যখন ছোট ছিলেন, বিকেএসপি থেকে ছুটি পেলে আপনাকে এগিয়ে নিতে মা গেটের কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন; আপনিই গল্প করেছেন। এখন তো মা ওরকম পারেন না। বদলে গেছে সময়টা?

নাহ। মায়ের কাছে আমি আগের মতো ছোট আছি। এই জায়গাটা একদমই বদলায়নি। মা এখন শরীরের কারণে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়তো পারেন না। কষ্ট হয়; কিন্তু এখনো আমি আসার আগে গেটের কাছে চলে আসেন। একটা চেয়ার আনিয়ে সেখানে বসে থাকেন। আমার বাড়ি ফেরার এই দৃশ্যটা সেই আগের মতোই আছে। মা বসে আছেন আমার জন্য।

মায়ের এই অসুস্থতা আপনার জীবনে খুব প্রভাব ফেলেছে বলে আমরা জানি...

আসলে আমার জীবনেই মায়ের ভূমিকা তো অনেক। একেবারে ছোটবেলায় মা ক্রিকেটে খুব সাপোর্ট না দিলেও পরে মা-ই সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দিয়েছেন। আমার খেলা দেখে বলেছেন—তোর যেটা ভালো লাগবে করবি। মা একটা কথা আমার ছোটবেলায় বলতো, 'তোর সুখের দিনে আমি হয়তো দুঃখে থাকবো।' কেন বলতেন, জানি না। আজ মনে হয় মা ভবিষ্যত্ দেখতে পেতেন। এখন আমি অনেক ভালো আছি। আল্লাহ অনেক কিছু দিয়েছেন; কিন্তু মা অসুস্থ। যদিও মা আগের চেয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছে; কিন্তু মায়ের একটু কষ্টও তো সহ্য করতে কষ্ট হয়।

একটু ক্রিকেটের আলাপ। বেশি না। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। টেস্টের সাফল্যটা এখানে আনার জন্য কোনো বাড়তি চিন্তা আছে?

বাড়তি চিন্তা না; খুব ইচ্ছা আছে। টেস্টের মতো ফরম্যাটে আমি সফল হলে এই দুটো ফরম্যাটেও কেন হবো না? নিজেকে চ্যালেঞ্জ করি। যারা টেস্টে ভালো করে, তারা সব ফরাম্যাটেই ভালো করে। সেটাই করতে চাই।

আর ক্রিকেট নিয়ে ছুটির সময় বিরক্ত না করি। আপনাকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।

আপনাকে শুভেচ্ছা। আপনাদের ঈদ ভালো কাটুক। সারা দেশের মানুষের এবং আপনাদের জন্য শুভকামনা। ভালো থাকবেন।

font
আজকের নামাজের সময়সূচী
এপ্রিল - ২০
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :