The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ২৮ জুলাই ২০১৪, ১৩ শ্রাবণ ১৪২১, ২৯ রমজান ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ তোবায় আটকা শ্রমিক, বেতন দিচ্ছে বিজিএমইএ

গঙ্গাচড়ায় ঈদ আনন্দ বঞ্চিত জলাবদ্ধ ৫শ' পরিবার

ইউপি সদস্যের অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ

ওয়াদুদ আলী, রংপুর

গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক ইউপি সদস্য কর্তৃক অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের কারণে দীর্ঘ ১ মাস ধরে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে ২টি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার। এর ফলে ওইসব পরিবারের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে ঈদের আনন্দ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লক্ষ্মিটারী ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ নিজ স্বার্থে মরা তিস্তার পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় ইউনিয়নের শংকরদহ ও পশ্চিম ইচলী গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে গেছে ২ হাজার একর জমির আমন ক্ষেত ও বীজতলা। পানিবন্দী পরিবারগুলো বারবার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুফল পাচ্ছে না। এদিকে ঘর থেকে বের হতে না পেরে পবিত্র রমজানে পানিবন্দী ওইসব পরিবারের অনেকে পানি খেয়েই রোজা রাখছেন। ইফতারিও করছেন পানি দিয়েই। গতকাল রবিবার দুপুরে সরেজমিনে শংকরদহ ও পশ্চিম ইচলী গ্রামে গিয়ে পানিবন্দী মানুষজনের এই দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়ে। শংকরদহ গ্রামের চাষি আইয়ুব হোসেন (৫২) জানান, তার ১৭ একর জমির আমন ক্ষেত জলাবদ্ধতায় পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বীজতলা ডুবে থাকায় আমন চারাও সম্পূর্ণ পচে গেছে। নতুন করে চারা তৈরি করে আমন করার সময়ও আর নেই। তাছাড়া জলাবদ্ধতা দূর না হলে না খেয়ে ঘরেই মরে থাকতে হবে। একই গ্রামের কৃষক রমিজ উদ্দিন (৬০) জানান, তার বাড়ির ভিতরেও পানি। পানিতে তার ২০ একর আমন ধান ক্ষেত-বীজতলা সবই নষ্ট হয়ে গেছে। চাষি আতিয়ার রহমানের নষ্ট হয়েছে প্রায় ১৬ একর জমির আমন ক্ষেত। এছাড়া চাষি সিরাজুলের ১৪ একর, ছফিকুলের ১০ একর, মহির উদ্দিনের ৭ একর, আব্দুল কাদেরের ৭ একর, দুলু মিয়ার ৬ একর, ওয়াজেদ আলীর ৮ একর, মমিনুর ইসলামের ৭ একর জমির আমন ক্ষেত পচে গেছে। সকলের আমন বীজতলাও পচে গেছে। পানিবন্দী পরিবারের অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। গৃহপালিত পশু-পাখির ভোগান্তিরও শেষ নেই।

অভিযোগে জানা যায়, পশ্চিম ইচলী গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ নিজের সুবিধার্থে পশ্চিম ইচলী গ্রামে মরা তিস্তার পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করেন। এতে পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না রাখায় বর্ষার শুরু থেকে পানি জমতে থাকে। গত ১ মাস ধরে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেলে ইউপি চেয়ারম্যান ফয়ছাল হাসানের দ্বারস্থ হন এলাকাবাসী। চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদকে বাঁধ কেটে দিয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের নির্দেশ দেন ২ সপ্তাহ পূর্বেই। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা আজো না করায় এলাকায় ক্ষতির পরিমাণ প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ভোগান্তি বেড়েই চলেছে ২টি গ্রামের পানিবন্দী ৫শ' পরিবারের। ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে বাঁধ কেটে দিতে না পারে, সেজন্য ইউপি সদস্য তার নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনীকে পাহারায় রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী । তারা বিষয়টি সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ বাঁধটি কেটে দেয়া হবে বলে জানালেও কবে সেটি কাটা হবে, তা জানাননি। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার নজরে এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর -
font
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :