The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

গল্প

প্রকৃতির সুবাস ছোবল

নাসরীন জাহান

আসমানে মিহি সুতোয় বোনা মসলিনের শাড়ির মতোন পাতলা জমাট শিশিরে মোড়ানো প্রকৃতির মধ্যে পরানে হু হু এক নস্টালজিক আনন্দ কী বেদনার তুমুল ঘ্রাণ নওশীনকে বিমোহিত করে তোলে।

সহসা আত্মবুঁদ অবস্থা থেকে ফের রাজহাঁসের মতো গ্রীবা উচ্চকিত করে চারপাশের ধু-ধু প্রান্তর ধরে সোনার টুকরো দানার মতো ধানের কণা শত শত গাছের সম্ভারে এমনভাবে ঢেউ তুলছে যেন তা স্থির জলের এক কোনায় কেউ নেড়ে দিল... তাই কুচি-কুচি ঢেউ আঁচল তুলে তুলে অন্য প্রান্তে গিয়ে হাঁপ ছাড়ল।

বিকেলের বাতাসের এই ঘ্রাণ ঢেউ তোলা শস্যের না আসন্ন শীতের দূরবর্তী জায়গায় দাঁড়ানো প্রাণের মধ্যে না জানা কষ্টের বিরহ তোলা হেমন্তের, নওশীন জানে না।

এই হেমন্তেই জন্ম হয়েছিল তার, শহরতলীর এক ছিন্ন বিচ্ছিন্ন কক্ষে।

এই জন্যই কী সে আজন্ম তারিখ না জেনেও ইট-পাথরের মধ্যে থেকেও হেমন্তের গন্ধ পায়?

ক্ষেতের ভাঁজের মেঠোপথ ধরে সে রিকশা-ভ্যানে পা ঝুলিয়ে বসে চলতে চলতে নিজের বয়স, অবস্থানের ভেদ ভুলে যায়।

শহরে ননদের বাড়ি। হাজব্যান্ডের পিঠাপিঠি এই বোনটির কাছেই নওশীন চিরকাল অপূর্ব এক মাতৃছায়া পেয়েছে। তার দুই কন্যাও এই ফুপুটিকে ভালো করে চেনে, ফলে শাশুড়িকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় তারা এখানে দু কন্যাকে রেখে যেতে নওশীন অসহজ বোধ করেনি। মুনিয়াকে নিয়েই চিন্তা ছিল বেশি। অপরিচিত কোথাও গেলে বোধ করে সাঁতার না জানা অবস্থায় তাকে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ননদের দু-মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বাচ্চারা আসে বলে ওদের জন্য এ বাড়িতে কম্পিউটার রাখা হয়েছে। তাতেই দুবোন খড়কুটো পায়। মুনিয়ার বিপণ্নতা জেনে এক্ষেত্রে মৌটুসি তাকে যদ্দুর সম্ভব ছাড় দিয়ে বোনের পাশে রাখছে।

ঝাঁক ঝাঁক পাখি মিহি রোদ্দুরে ঝাপটাঝাপটি করছে। এ পাশের ধানের গোড়ায় এখনো কাস্তে পড়েনি। কিন্তু দূরে কোলাহলে ধান কাটার শব্দ শোনা যায়। শাশুড়ির পীড়াপিড়িতে হলেও মনে হয় নগর থেকে এখানে এসে যেন সে বহুদিন পর এক অনাবিল মুক্তির নিঃশ্ব্বাস নিচ্ছে।

পাকা রাস্তা দিয়েও আসা যেত।

কিন্তু মেঠোপথের এই মজাটা নওশীন নিতে চাওয়ায় গ্রামবাসীও মজা পেয়েছে।

ননদের বাড়ি ঢাকা থেকে প্লেনে আসার জার্নিটা গায়ে লাগেনি। ফলে বিকেলেই সে ননদ আর দু-কন্যার সাথে দিনাজপুর শহরের বড় মাঠে চক্কর খেতে গিয়েছিল। পাশেই অফিসার্স কোয়ার্টারের বাবা, মা, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবী, ছেলেমেয়ে দলদের অনেকেই পায়ে কেড্স পরে হাঁটতে নেমেছিল। একটা তেপান্তরের মতো মাঠের ওপারে আরেকটা মাঠ। পুরো মাঠে হাঁপছাড়া মানুষের চলমান কোরাসের মধ্যেও যখন ছায়া নামছিল, একটি গাছে হেলান দিয়ে নওশীন দেখছিল প্রকৃতি মানুষকে কত বদলে দেয়, শহরে কারণে অকারণে চিরঅসুস্থ বড় বোনটিকে নিয়ে খিটমিট করলেও এখানে ঠিক যেন মুনিয়ার মা মৌটুসি, এমন কেয়ারিং-এ বড় বোনটির হাত ধরে ধীরে ধীরে তাকে চলতে সাহায্য করছিল। আচমকা হাতে এক বিন্দু শিশির কণা...

রীতিমতো শিহরিত নওশীন ভ্যান থেকে মাথা ঊর্ধ্বমুখী করে। শহরের কাছাকাছি একঘরে তাল গাছের নিচ দিয়ে তারা যাচ্ছে। শিশুর মতো চিল্লায় নওশীন—শিশির পড়েছে, এই সিজনেই? এতক্ষণ চুপ করে থাকা দেবর হাসে, অস্ফুটের কথায় আন্দাজ করা যায়, ভাবির চোখ মানুষী দেখে সে অবাক হয়ে কিছু মন্তব্য করেছে, যা আন্দাজ করে নিজের মধ্যেই নিঃশব্দে সেঁধিয়ে যায় নওশীন।

অল্প বয়সে ঢাকার ছেলের সাথে বিয়ে হয় ননদ শিউলী আপার। চাকরিসূত্রে তিনি তখন দিনাজপুর ছিলেন। শেষে অনেক শহর ঘুরে ননদের কাঙ্ক্ষাতেই দিনাজপুরে তারা স্থায়ী হলেও তাদের চাল-চলন, ভাষায় কোনো বিশেষ অঞ্চলের ভাষা মূর্ত হয় না।

ভোরে তেতুলিয়ায় যাওয়া হবে। মাইক্রোবাস ভাড়া থেকে সব আয়োজন করছে ননদ জামাই। ননদের চাচাত ভাই পঞ্চগড় জেলার ডিসি। সেই সূত্রে সেখানকার ডাক বাংলায় আজ রাতের মধ্যে কেউ না এলে ওরা ওখানে এক রাত কাটাবে।

এখানে আসার পর থেকেই নওশীনের শিরা-উপশিরায় শিরশির করছে হরিণিয়ার নাম। এখন সে কোথায়? গ্রামে এ প্রসঙ্গে এবার ওই অল্প সময়ের মধ্যে মুখ খোলেনি। শিউলী আপাও শহরে বসে তার খবর রাখে না বলেই মনে হয়। কিন্তু যে প্রসঙ্গ না শুনতেই প্রাণে আরাম হয়, তা জানতে কেন এত দুর্মর কৌতূহল?

রাতে আড্ডা শেষে ঘুমের আগে শফিউলের আকুতিময় কণ্ঠে নওশীন মুনিয়া মৌটুসিকে 'আই মিস ইউ' শুনে একটা স্বস্তির স্থিততা নিয়ে তলিয়ে যায়।

সকালে শিউলী আপা প্রচুর খাবার দাবার নিয়ে মাইক্রোবাসে উঠলে হাসে নওশীন, তুমি পারোও।

আমরা ঢাকা গেলে তুমি কম করো?

মাইক্রোবাস যাচ্ছে নাতিশীতোষ্ণ বাতাসের সে াত কেটে কেটে। ঠাকুরগাঁও আসতেই আরেকটা কারের মুখোমুখি দাঁড়ায় তারা।

চাচাতো দেবর নেমে এসেছেন। বলছেন, আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি, কোনো প্রব্লেম হবে না। তাকে দেখে গাড়ি থেকে নেমে আসে নওশীনও, থ্যাংকস আপনাকে। একটা রেকর্ড করতে যাচ্ছি। টেকনাফ তো গিয়েছিই, তেতুলিয়ায় গেলেই পুরো বাংলাদেশ ঘোরার কৃতিত্ব নেব হা হা।

গাড়ির দিকে তাকিয়ে চাচাতো ভাই অবাক কণ্ঠে বলে, সফিউল আসেনি?

না, ঢাকায় ওর অনেক কাজ।

তাহলে অসুস্থ হরিণিয়া ভাবির কাছে কে আছে? তাকেও তো দেখছি না।

এক ভূমণ্ডল চক্করে নওশীনের সাথে সাথে সবাই যেন কেঁপে ওঠে। সরল মানুষটার চোখে এসব পড়ে না, সে নিজ মনেই বলে যায়, পরশু ঢাকার রাস্তায় বিকশায় দুজনকে দেখে আমি গাড়ি থামালাম, বলল, ভাবিকে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে শফিউল, লিফট দিতে চাইলাম, নিলো না।

গলায় নিঃশ্বাস আটকে নওশীন প্রাণপণে ব্যাপারটাকে সামাল দেয়, এই শহরে পড়াশোনা করা মানুষটা ওদের সম্পর্কের ব্যাপারে কিছু জানে না, বলে, এই জন্যইতো ছুটি নিয়ে শফিউল রয়ে গেল, এছাড়া আমার বাবার বাড়ির মানুষও আছে। আম্মা বাড়ি আসার জন্য এত অস্থির হলেন যে...।

চলো, দেরি হচ্ছে, যেন এতক্ষণ নিঃশ্বাস আটকে ছিল শিউলী আপা, দম ছাড়া কণ্ঠে তাড়া দিলে ফের গাড়ি চলতে থাকে।

দিনের মধ্যে ঢুকে যায় অন্ধকার আলোর হল্লোড়বাজি। ঠাকুরগাঁওয়ের ছিমছাম পথ। ছোট বড় নিরিবিলি বিল্ডিংয়ে চোখ রেখে জ্বালা জ্বালা বুক নিয়ে রীতিমতো কাঁপে নওশীন। বিয়ের অনেক পরে জেনেছিল সে, বিধবা ভাবির সাথে কৈশোর থেকেই শফিউলের দেহমন সর্বস্ব প্রেমের কথা। শেষে আত্মীয়-স্বজন এক হয়ে ভাবিকে বাপের বাড়ি পাঠালে কন্যাদের মাথা ছুঁয়ে কিরা কেটেছিলেন শফিউল। এখন আর হরিণিয়া ভাবির খোঁজ রাখে না সে।

কিন্তু ঢাকাতে কদিনের আচরণেই সন্দেহ হচ্ছিল নওশীনের। কিন্তু সেটাকে আর খামোখা প্রলম্বিত হতে দেয়নি সে।

অবস্থা বুঝে ননদ জামাই মুনিয়া মৌটুসিকে সামনের সিটে নিয়ে গেছে। চাপা কণ্ঠে ঝাঁঁঝাতে থাকে শিউলী আপা, বিকৃতি, আমার ভাইটা বিকৃতিতে পড়েছে। প্রিন্স চার্লসের রোগে ধরেছে ওরে। ডায়ানার মতো রূপসী যুবতী রেখে একটা খিটখিটে বুড়ির জন্য কী-না করে ছাড়ল ব্যাটা। বুড়াদের ছুঁড়ি রোগ অনেক শুনেছি, কিন্তু, আমি তো কয় মাস আগে মার্কেটে দেখছি হরিণিয়ারে। চামড়া কুঁচকা বুড়ি, এই বয়সে বেটির খাইয়ের শেষ নাই, আমার ভাইয়ের জীবনের মজা ওইখানেই। জোয়ান বয়সে তার চাইতে সাত বছরের ছোট দেবরটার দেহমন কী নষ্ট করছে। এত চালাক, অনেক বছর আমরা কেউই টের পাই নাই। তো তখন যা গেছে তা গেছে, আমার ভাই সংসার করছে, বউ বাচ্চা আছে, এখন... দুর ওরে একা দোষ দেই ক্যান? আমার ভাইজান দুধের বাচ্চা? ভাবি লাত্থি দিয়া তুমিই আমার ভাইরে ত্যাগ করে ঘরে যাও... সত্যি...।

না... না...অস্ফুটে হাত ধরে নওশীন, শিউলী আপা ততদূর মায়ায় নওশীনের দিকে তাকায়।

মুনিয়া জন্মগতভাবে অসুস্থ, মৌটুসিও তার বাবা ছাড়া কিছু ভাবতে পারে না।

ননদ জামাই গলা হাঁকায়, এখন কারও জন্য জার্নির মজা নষ্ট করে লাভ নাই, এটা নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বসা যাবে... এইতো মুনিয়া, আমরা পঞ্চগড় এসে গেছি। কিছু খাবে? কিনে আনব?

আরে দুনিয়ার খাবার এনেছি, এর পরেও বাইরের খাবার, শিউলী আপার কথার ওপর দিয়ে বিষণ্ন বসে থাকা মুনিয়া বলে, আইসক্রিম খাব।

আরে এই সিজন বদলানোর সময়ে ঠাণ্ডা...

মুনিয়াকে নওশীন চেনে। অনেক অটিস্টিক সন্তানের মতো তারও স্বাভাবিকের বাইরে কিছু ক্ষমতা বা উপলব্ধি ওর মধ্যেও আছে। কানে ওয়াকম্যান লাগিয়ে গান শুনছে মৌটুসি। মুনিয়া এইসব কথোপকথনেই বিপদের ঘ্রাণ পাচ্ছে। যখন ছোট ছিল, হরিণিয়াকে নিয়ে তুমুল ঝগড়ার মধ্যে দরজা আঁকড়ে কুঁকড়ে থাকত সে। শেষে আচমকা দেখা গেল, সে বাবার হাত ধরে তাকে চুমুতে ভাসিয়ে বলছে, আম্মুকে ছেড়ে, আমাকে ছেড়ে চলে যেওনা। তুমি চলে গেলে আমি মরে যাব। মেয়েকে সস্নেহে মানিয়ে শফিউল ঝাঁপ দিত নওশীনের ওপরই, নিজে না পেরে অসুস্থ ছোট্ট মেয়েটাকে এই সব শেখাচ্ছ?

না আমি না... অবিশ্বাস করলেও পরেও যখন বাবা মার ঝগড়া বা মন খারাপের মাঝে এসে যখন এ জাতীয় কথা বলত ভেতরে ভেতরে দমে যেতো শফিউল।

মৌটুসি এসএসসির সময় আত্মীয়দের মাধ্যমে এই কথা শুনে বলেছিল বাবাকে, তুমি এমন কাজ করলে আমি স্পষ্ট রাস্তায় যাকে পাই তার হাত ধরেই ভেগে যাব।

খাব আইসক্রিম, বলে নেতিয়ে যেতে থাকা মেয়েটাকে পেছনে এনে কোলের কাছে ওর ঠ্যাঙ্গা দেহটাকে বসিয়ে চুলে হাত বুলায়, শরীর খারাপ লাগছে? বলে শিউলী আপাকে ইশরা দিয়ে একটি হাস্যমুখর পরিবেশের ব্যবস্থা করে।

গাড়িটা বড় গেট পেরিয়ে দেয়াল পরিবেষ্টিত ফুলে সজ্জিত গেস্ট হাউসে থামে।

দুই

সামনে মহানন্দা নদী, জল কই? ভূঁই ফুঁড়ে উঠা চরের বিস্তার। মিনি পাহাড়ের মতো ঢাল বেয়ে শিউলী আপা বরসহ মৌটুসিকে নিয়ে সেই চরের মধ্যে পা ভেজাচ্ছে। ওপারে কাঁটাতার দেখা যায়। কোলকাতা দেখা যায়। অনেক ভেবে বিন্যস্ত করেছে নিজেকে নওশীন। না, জীবনের এই পর্যায় ওই গোপন প্রসঙ্গটা সে আর তুলবেই না শফিউলের সামনে। পুরোটা জীবন যেহেতু অজান্তে চলে গেছে আর সবচেয়ে বড় কথা শফিউল যেহেতু এর মাঝে বিয়ের মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নওশীনসহ কন্যা দুটোর জীবন তছনছ করেনি, তবে নওশীন কেন জীবনের এই পর্যায়ে এসে? বুকটা বড় হালকা লাগে। কিছু জল, কিছু জলহীন মহানন্দার ওপরের ধূ-ধূ আকাশে দূরবর্তী সীমাহীন ফাঁকা, আবার কোনো পাশের বৃক্ষময়তায় আবার হেমন্তের ঘ্রাণটা বুকটা চিড়ে চিড়ে খায়। মনে পড়ে ভ্যানগাড়িতে করে আসার দৃশ্য। মনে পড়ে জীবনানন্দকে 'শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের ওপর মাথা রেখে, অলস গেঁয়োর মতো এই খালে কার্তিকের ক্ষেতে, মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার, চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে পেকে উঠে ধান।'

তখন কেন কবিতাটি মনে পড়েনি?

কী জানি।

নদীর আসমানের শিশির চোখে ছানি পড়ার মতন। 'এই জীবন সংসারে জীবন মৃত্যুর টোক্করের মধ্য দিয়ে এই যে প্রাণগতি প্রবহমান হেমন্তের রুক্ষতার মধ্য যে মিহি আবেগের ঘ্রাণ বাঁচিয়ে রাখে সংবেদনশীল মানুষকে। গ্রীষ্মের দাবাগ্নির করাল গ্রাসও যা শীতের তীব্র নিষ্ঠুর ছোবল না—এই হেমন্তে দুহাত প্রসারিত করে নওশীন আকুলভাবে প্রকৃতির কাছে কী যেন বিরবির করে মঙ্গলময়ভাবে আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে, যা গাছের নিচে হেলান দিয়ে বসে থাকা মুনিয়াকে বিস্মিত করে।

অস্তিত্ব কাঁপিয়ে ফোন বেজে ওঠে, বহুদিন পর নরম প্রেমজ কণ্ঠে শফিউলকে কিছু বলতে গিয়ে ফোনে কান পেতে কাঁপতে কাঁপতে স্ট্যাচু হয়ে যায় নওশীন।

তিন

বিয়ে করেছে শফিউল। জীবন একটাই... নওশীন অ্যাকশন নিলে সে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে সব সম্পর্ক ত্যাগ করবে। আর যদি মেনে নেয় তবে অধিকারের সাথে দাম্পত্যে যুক্ত হবে হরিণিয়া আর নওশীন তার জায়গাতেই থাকবে—এ জাতীয় অনেক কথা বলেছে। সবাই ঘুমিয়ে। বারান্দা পেরিয়ে বাগানে এসে হু হু বাতাসের নদীর সামনে দাঁড়ায় নওশীন। মাথার ওপর থেকে হালকা শিশিরের ভাপে ডুবতে ডুবতে বহুকাল পর একটি ভয় থেকে বেরিয়ে নিজেকে বড় নির্ভার অনুভব করে। এই অদ্ভুত মুক্তির স্বাদের সাথে হেমন্তের বুনো শিশির একাকার হয়ে নওশীনের চোখ ভিজিয়ে দেয়।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :