The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

স্মৃতি

আমার নুহাশপল্লী যাত্রা

মেহের আফরোজ শাওন

হুমায়ূন আহমেদ যখন প্রথমবার নুহাশপল্লী দেখতে যান তখন আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। ১৯৯৭ সাল। বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম (BCCP)-এর সহযোগিতায় ইউএসএইড (US Aid)-এর জন্য নির্মিত নাটক 'সবুজ সাথী'র কাজ তখন সবেমাত্র শেষ হয়েছে। শ্যুটিং হয়েছিল গাজীপুরের হোতাপাড়া পার হয়ে মনিপুর গ্রামে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি খামারবাড়িতে, নাম মনিপুর পিকনিক স্পট। শ্যুটিং চলার সময় হুমায়ূন আহমেদ সেরকম একটি জায়গার প্রতি নিজের আগ্রহের কথা প্রায়ই বলতেন। শ্যুটিং পরবর্তী সময়ে 'সবুজ সাথী' নাটকের কলাকুশলীদের দাওয়াত ছিল সেদিন, হুমায়ূন আহমেদ-এর প্রিয় মানুষ অভিনেতা সালেহ আহমেদ-এর বাসায়। দুপুরের খাবারের পর শিল্পীরা সবাই হুমায়ূন আহমেদ-এর মজার মজার গল্প শুনছিল। তখন ডা. এজাজুল ইসলাম (তখনও তিনি এত বিখ্যাত হয়ে ওঠেননি) জানালেন, মনিপুরের কাছেই পিরুজালী গ্রামে একটি জায়গার সন্ধান পেয়েছেন তিনি এবং তাঁর ধারণা, হুমায়ূন আহমেদ দেখলেই তা পছন্দ করবেন। সঙ্গে সঙ্গেই হুমায়ূন আহমেদ জায়গাটা দেখার আগ্রহ প্রকাশ করলেন—

আজ কি দেখা সম্ভব?

অবশ্যই স্যার।

দলবল নিয়ে ওখান থেকেই রওনা হলেন পিরুজালী গ্রামের উদ্দেশে। সালেহ আহমেদের উত্তরখানের বাসা থেকে নুহাশ চলচ্চিত্রের ১১ সিটের হাই-এস মাইক্রোবাসে গাদাগাদি করে বসে মনিপুর পৌঁছালাম। সামনে নদী, তাই গাড়ি আর যাবে না। চিকন খালের মতো লবনদহ নদী। তার ওপর নড়বড়ে একটি কাঠের ব্রিজ, দুই জনের বেশি উঠলে মনে হয় এখনি বুঝি ভেঙে পড়বে। দুই জন দুই জন করে কোনোরকমে ব্রিজ পার হলাম সবাই। ডা. এজাজ খুব গোছানো মানুষ। কোনোভাবেই যেন তাঁর হুমায়ূন স্যারের কষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সবসময় সচেষ্ট। তাই ব্রিজের ওপারে আরেকটি মাইক্রোবাস হুমায়ূন আহমেদ-এর দলের জন্য ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কিন্তু ১১ সিটের গাড়িতে চাপাচাপি করে এসেছিলাম ১৫ জন আর এখানে ৭ সিটের গাড়িতে জায়গা হবে কীভাবে? ভাগাভাগি করে উঠলাম। কেউ কেউ গাড়িতে বাকিরা রিকশায়। পিরুজালী গ্রামের লাল মাটির এবড়ো থেবড়ো কাঁচা রাস্তা। ঝাঁকি খেতে খেতে যখন গাড়ি চলছিল তখন বুঝলাম, রিকশায় করে যারা যাচ্ছেন তারা কতটা সৌভাগ্যবান। রাস্তা এতটাই খারাপ ছিল যে বেশিক্ষণ ঝালমুড়ির মতো ঝাঁকি খেতে হলো না। বাকি পথ পায়ে হেঁটে গেলাম। যাত্রা শেষে যে জায়গায় গিয়ে পৌঁছালাম তা দেখে খুবই হতাশ লাগল। শত শত গজারি গাছ, গাদাখানিক কাঁঠালগাছ আর অসংখ্য ছোট ছোট কাঁটাজাতীয় গাছ ছাড়া আর কিছুই নেই। এক টুকরো ফাঁকা জায়গা, সেখানে একটি পাটি পেতে বসার ব্যবস্থা করা হলো। পেঁয়াজ কাঁচামরিচ দিয়ে মাখিয়ে সবাইকে মুড়ি খেতে দিলেন ওই গ্রামের একজন বয়স্ক লোক। কিছুদূর গাড়িতে, তারপর রিকশায় এবং সবশেষে হণ্টন করে আসা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল মুড়ির বাটিতে। শুধু মুগ্ধ হুমায়ূন আহমেদ গুটুর গুটুর করে প্রশ্ন করছেন গ্রামের ওই লোকটিকে।

'বাংলাদেশের সব কাঁঠাল কি তোমাদের এখানেই হয় নাকি?'

'জ্বিন-ভূতের আসা যাওয়া কেমন?'

কিছুক্ষণ পরেই তিনি বলে উঠলেন—

ডাক্তার, জায়গাটা আমার পছন্দ হয়েছে। তুমি ব্যবস্থা করো।

গ্রামের ওই বয়স্ক লোকটি, যার নাম নুরুল হক, সেই থেকে যুক্ত হয়ে আছেন নুহাশপল্লীর সবচেয়ে পুরোনো কর্মচারী হিসেবে।

পিরুজালী গ্রামের সেই জংলা জায়গা হুমায়ূন আহমেদ-এর হাতের স্পর্শ পেয়ে নন্দনকানন নুহাশপল্লী হতে শুরু করল আস্তে আস্তে। তিনি চমত্কার একটা কাঠের বাংলো বানালেন সেখানে। শুরু হলো 'শ্রাবণ মেঘের দিন' চলচ্চিত্রের শ্যুটিং। ১৯৯৮ সালের সেই সময়টাতে পুরো দেশজুড়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। নুহাশপল্লী পরিণত হয়েছিল বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে। সেখানে যাওয়ার একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। শ্যুটিং শুরুর দিন খুব ভোরে বিশাল দুইটি নৌকায় নুহাশপল্লীর উদ্দেশে রওনা হলো পুরো ইউনিট। সবার সাথে যার যার বিছানা-বালিশ, তোশক। খালের মতো চিকন লবনদহ নদী বন্যার পানিতে হাওড়ের রূপ নিয়েছে। ইউনিটের সঙ্গে করে আনা সাউন্ডসিস্টেমে চলছে শ্রাবণ মেঘের দিন ছবিতে ব্যবহূত গান 'আষাঢ় মাইসা ভাসা পানিরে...'। হঠাত্ শুরু হলো বিরামহীন বৃষ্টি। ছই ছাড়া নৌকায় শ্যুটিং-এর কস্টিউম আর নিজ নিজ মাথা বাঁচাতে সবাই যার যার তোশকের নিচে ঢুকে পড়লাম। শুধু হুমায়ূন আহমেদ গান শুনতে শুনতে মনের সুখে বৃষ্টি গায়ে মাখতে লাগলেন। নুহাশপল্লীতে পৌঁছলাম একেবারে কাকভেজা হয়ে। কাঠের বাংলোর দুটি মাত্র রুমের একটিতে সব মেয়েরা ঢুকে পড়লাম। বিছানোর মতো একটি তোশক-চাদরও শুকনো ছিল না। শিল্পীরা যখন তৈরি হয়ে শ্যুটিংস্পটে যেতাম তখন একেকজনের পা এক ফুট কাদায় দেবে যেত। পোকামাকড়, ব্যাঙ এবং গুইসাপের বসতি ছিল আমাদের প্রায় সঙ্গেই। শিল্পীদের অসুবিধার কিছুটা অবসানের জন্য হুমায়ূন আহমেদ তিনটি টিনের ঘর বানালেন।

শ্রাবণ মেঘের দিন-এর পর নুহাশপল্লীতে ধারাবাহিক নাটক সবুজ ছায়া, এই মেঘ এই রৌদ্র, চলচ্চিত্র দুই দুয়ারী ছাড়াও বেশকিছু একপর্বের নাটকের কাজ হয়েছে পরবর্তী দুই বছরে। ২০০১ সালে বড় কন্যা নোভা আহমেদ-এর বিয়েতে লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর অতিথি হয়ে আসা উপলক্ষে হুমায়ূন আহমেদ তৈরি করলেন একটি আড্ডারুমসহ সাত বেডরুমের পাকা বাংলো। রুমগুলোর নাম রাখলেন নিজের লেখা পছন্দের আটটি বইয়ের নামে—দেবী, ইস্টিশন, ময়ূরাক্ষী, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, বৃষ্টিবিলাস, নি এবং চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক। নুহাশপল্লী ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হতে থাকল হুমায়ূন আহমেদের নিজের লাগানো দুর্লভ সব বনজ, ফলদ এবং ওষধি গাছে। পাশাপাশি চলতে থাকল চলচ্চিত্র চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া এবং উড়ে যায় বকপক্ষী, কালা কইতর-সহ আরও বহু নাটকের শ্যুটিং। অবাক হয়ে দেখতাম খেয়ালি হুমায়ূন আহমেদ একদিকে মাটি দিয়ে নারীমূর্তির বিশাল বিশাল ভাস্কর্য তৈরির আদেশ দিচ্ছেন, আবার বানানো শেষ হওয়ার পর পছন্দ না হওয়ায় তৈরির চেয়ে দ্বিগুণ খরচ করে মূর্তিগুলো ভেঙেও ফেলছেন। তৈরি হলো সুইমিংপুল, টিনের চালের বৃষ্টিবিলাস, দীঘি লীলাবতী—মহীরুহ হয়ে উঠতে লাগল তাঁর নিজ হাতে লাগানো কদমগাছ।

২০০৭ সালে পুত্র নিষাদ হুমায়ূনের জন্মের পর হুমায়ূন ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন কত তাড়াতাড়ি পুত্রকে নুহাশপল্লী ভ্রমণে নিয়ে যাবেন সেই অপেক্ষায়। ৪১ দিন বয়েসি নিষাদকে নিয়ে নুহাশপল্লী যাবার দিন সকালে আমার হাতে তাঁর কেনা নতুন লালপেড়ে গরদের শাড়ি তুলে দিলেন হুমায়ূন। বললেন—গরদের শাড়ি পরলে নাকি চেহারায় মা মা ভাব প্রবল হয়। তাঁর পছন্দের পোশাকে যখন নুহাশপল্লী পৌঁছালাম তখন যে বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। নুহাশপল্লীর মেইন গেট থেকে পুত্র নিষাদসহ আমাকে যখন পালকিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন সবকিছুই কেমন যেন স্বপ্নের মতো লাগছিল। নুহাশপল্লীর মাঠে হলুদ পাঞ্জাবি পড়া একদল হিমুর উত্তাল নাচের সাথে ব্যান্ডপার্টির ট্রাম্পেট আর ড্রামসের শব্দে কেঁদে ওঠা নিষাদকে শান্ত করাই যেন হুমায়ূনের একমাত্র কাজ। পুত্রের প্রথম নুহাশপল্লী গমনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য অতিথিদের একটি করে গাছ লাগাতে হলো। সারাদিনের আনন্দময় আয়োজন শেষে শোবার ঘরে ঢুকে দেখলাম, মেঝেতে বসে মিটিমিটি হাসছেন হুমায়ূন। তাঁর হাতে রঙিন কাগজে মোড়ানো একটি উপহারের প্যাকেট। সাথে চিঠি—

'এসো তোমার ঘরে

তোমাকে নিয়ে কতবার এসেছি নুহাশপল্লীতে। কত না সুখ-স্মৃতি! কত না বৃষ্টিস্নাত আনন্দময় রজনী। জোছনা বিধৌত প্রান্তর। কত না অশ্রুজল। কখনো ভাবিনি তোমার এবং আমার ব্যক্তিগত জগতে আরও একজন অপেক্ষা করে আছে। একদিন সেও আসবে। সেও মুগ্ধ কণ্ঠে বলবে বাহ কী সুন্দর। বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজে সে জ্বর বাঁধাবে। জোছনায় খোলা মাঠে দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে কাঁদতে শুরু করবে।

পরম করুণাময় আমাদের অসীম দয়া করেছেন। জানি না কেন করলেন। হয়তো নিজের অজান্তেই আমি অসীম কোনো পুণ্য করেছি। কিংবা তুমি করেছ।

আমি তোমার ঘরেই তোমাকে আহ্বান জানাচ্ছি। বলছি, এসো তোমার ঘরে। তোমার এই ঘর যেন কোনোদিন স্বপ্ন-শূন্য না হয়। এই শুভ কামনা।

হুমায়ূন আহমেদ

২০-৩-২০০৭

২০০৭ থেকে ২০১২। কতবার কত কাজেই না নুহাশপল্লী যাওয়া হয়েছে। সকালের ঘুমপ্রিয় এই আমাকে ভোরবেলা নুহাশে নিয়ে যেতে কত না ঝক্কি পোহাতে হতো তাঁকে। বেশি হাঁটতে পারতাম না বলে বাংলো থেকে লীলাবতী দীঘি পর্যন্ত আমাকে রিকশায় করে নেওয়ার ব্যবস্থা করতেন। কনিষ্ঠ পুত্র নিনিত হুমায়ূনের ৪১ দিন বয়সে নুহাশপল্লী যাওয়া নিয়ে আবারও এক আনন্দ আয়োজন। দুইপুত্রকে ঘিরে কত না নতুন নতুন স্বপ্ন বোনা!

আর আজ...? বৃষ্টিস্নাত রজনী আর আনন্দময় মনে হয় না। নুহাশপল্লীর জোছনাবিধৌত প্রান্তর আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো লাগে। আমার সেই ঘর এখন স্বপ্ন-শূন্য। শুধুমাত্র চাঁদহীন অমাবশ্যায় নুহাশপল্লীর বারান্দায় দাঁড়ালে লিচুতলার বাঁধানো বেদিতে তাঁকে বসে থাকতে দেখি। সেখান থেকে আবার আমার স্বপ্নের শুরু হয়। হাতের ইশারায় আমাকে ডাকেন তিনি। আমি তাঁর পাশে বসি। তারপর শুধুই তাঁর কথা শুনি।

কী? খুব ভয় পেয়েছিলে না? ভেবেছিলে আমি সত্যিই চলে গেছি?

আমি কোনো জবাব দিই না। নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও আমার অসহনীয় মনে হয়। মনে হয় হাত বাড়িয়ে তাঁকে একটু ছুঁয়ে দেখি। হাত বাড়াই না। ছুঁয়ে দিলে যদি স্বপ্ন ভেঙে যায়!

একসময় রাত ভোর হয়। আমার বড় পুত্র, হুমায়ূন আহমেদের—ট্যানটা বাবা নিষাদ—ঘুম থেকে উঠে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়।

মা, আমি না বাবাকে স্বপ্নে দেখেছি। দেখলাম বাবা আমাকে আর নিনিতকে নিয়ে...

আমি নিষাদের চোখ দিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :