The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

পুরাকাহিনি

চীনের পুরাকাহিনি

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

ডাক নাম

উইয়াং ওয়েনচোং (১০০৭-১০৭২) সং রাজত্বকালের একজন বিখ্যাত কবি, লেখক ও রাজনীতিক ছিলেন। তিনি বৌদ্ধধর্ম অপছন্দ করতেন, কেউ এ সম্পর্কে কথা বললে কড়মড় করে তাকাতেন। তাঁর কনিষ্ঠ পুত্রের ডাক নাম ছিল ভিক্ষু। অন্যরা প্রায়ই তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন, 'আপনি যদি বৌদ্ধধর্ম দেখতেই না পারেন এবং তার এতই বিরোধিতা করেন, তবে কেন আপনার ছেলেকে ভিক্ষু বলে ডাকেন?'

তাঁর উত্তর, 'এইভাবে বৌদ্ধধর্মের প্রতি আমার অবজ্ঞা প্রকাশ করে থাকি। আমি আমার ছেলেকে 'ভিক্ষু' বলে ডাকি যেমন অন্যরা তাদের ছেলেপিলেদের ডাকে, 'ষাঁড়, গাধা'। প্রত্যেকে হেসে ওঠে এবং তাঁর যুক্তি অকাট্য বলে মেনে নেয়।

ওয়াং পিজি (১০২৩—?)

টানা লেখা

প্রধান মন্ত্রী চং টানা লেখা লিখতে ভালোবাসতেন, কিন্তু হাতের লেখা বোঝা ছিল বড়ই ভার। তাঁর সব বন্ধু-বান্ধব এ নিয়ে তাঁকে ঠাট্টা-মজা করতেন। কিন্তু এ নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যাথা ছিল না। একদিন তাঁর মাথায় একটা কথা খেলে গেলে তিনি তাঁর তুলি দিয়ে লিখে ফেললেন। কাগজে প্রাণবন্ত চিত্রাক্ষর দেখা গেল। তিনি তাঁর ভাইপোকে কপি তুলে নিতে বললেন। কপি করতে গিয়ে তাঁর ভাইপো একটা অস্পষ্ট চিত্রাক্ষরের সামনে থ বনে গেলেন। তিনি কাগজটা তাঁর কাকার কাছে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'এটা কী চিত্রাক্ষর?' প্রধান মন্ত্রী কিছুক্ষণ ধরে চেয়ে চেয়ে দেখলেন। কিন্তু তিনি কিছুই ঠাহর করতে পারলেন না। তিনি ভাইপোকে বকাঝকা করলেন, 'আমি ভুলে যাওয়ার আগেই তুমি আমাকে জিজ্ঞেস করলে না কেন?'

সিং জুমি ১০৬৮-১০৮৭

অনুষ্ঠান প্রধান

উত্তরাঞ্চলে যাঁরা উত্সব এবং আনন্দ ও শোকের অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন, তাঁদের পাইসি বলা হতো। তাঁদের ছিল বড়লোকি চাল এবং ভাঁড়ের ভূমিকায় তাঁদের অভিনয় করতে হতো। একদিন উ-র মহারাজ হান চি তাঁর জন্মশহর ইয়ে-তে ফিরে আসেন। সেখানে এক অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মজলিশে খাওয়ার জন্য তিনি একটু লিচু তুলে নেন। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে পাই-সি-রা চিত্কার করে উঠলেন, 'হুজুর লিচু তুলেছেন, আপনারা প্রত্যেকে দয়া করে তা-ই করুন।' হান এই ছেলেখেলায় বিরক্ত হন এবং লিচুর স্বাদ না নিয়েই তিনি তা রেখে দেন। এতে পাই-সি-রা আবার চিত্কার করে উঠলেন, 'হুজুর খুশি হননি। আমন্ত্রিতরা, আপনারও কি লিচু রেখে দেবেন? এর পর হান হেসে ব্যাপারটা উড়িয়ে দিলেন।

লু ইও (১১২৫-১২১০)

দুর্ভিক্ষের খবর

একজন লোক এক সরকারি কর্মচারীর কাছে দুর্ভিক্ষের খবর দিল। সরকারি কর্মচারী প্রশ্ন করলেন, 'এবার গমের ফলন কেমন হয়েছে?' লোকটি উত্তর দিল, 'যা সাধারণত হয় তার ত্রিশভাগ।'

'তুলো কত?'

'বিশ ভাগ।'

'ধান কত?'

'বিশ ভাগ'

সরকারি কর্মচারী খেপে গেল, 'তোমার ফসলের সত্তর ভাগ তুমি পেয়েছ, তার পরেও দুর্ভিক্ষের ঢোল বাজাচ্ছ?'

লোকটি উত্তর দিল, 'আমার একশত কয়েক কুড়ি বছরের জীবনে এমন দুর্ভিক্ষ দেখিনি।'

সরকারি কর্মচারী জিজ্ঞাসা করলেন, 'আপনি এত বছর বাঁচলেন কী করে?'

'দেখেন, আমার বয়স সত্তরের ওপরে। আমার বড় ছেলের চল্লিশ এবং আমার দ্বিতীয় ছেলের ত্রিশের ওপর বয়স। সব মিলে তো এক শত কয়েক কুড়ি বছর বটে।'

এই কথা শুনে সব লোকে হেসে খুন।

ইয়াং শেন (১৪৮৮-১৫৫৯)

পাখিরা কী বলে?

হেনান প্রদেশে এক তাওবাদী পুরোহিত বাস করতেন। তিনি গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করে বেড়াতেন। একদিন তাঁর খাওয়া শেষ বলে তিনি সোনালি হলদে-কালো পাখিগুলোকে গান করতে শুনলেন। ওদের গান শুনে কাছের লোকেদের বললেন, 'আপনারা আগুন থেকে সাবধান। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে পুরোহিত বললেন, তিনি পাখিদের বলতে শুনছেন, 'এমন এক বড় ভয়ানক আগুন যা নেভানো কঠিন হবে।'

পুরোহিতের কথায় লোকজন অবজ্ঞাভরে উপহাস করল এবং কোনোই সাবধানতা অবলম্বন করল না।

পরের দিন আগুন লাগলে বেশকিছু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেল। তখন লোকেদের হুঁশ হলো। কেউ কেউ তাঁকে অনুসরণ করতে লাগল এবং তাঁকে দেবতা বলে ডাকতে শুরু করল। তিনি উত্তর দেন, 'আমি অমর নই, আমি শুধু পাখিদের কথা বুঝি।'

গাছে যখন কিছু পাখি গাইছিল তখন যারা তাঁকে অনুসরণ করছিল তারা পুরোহিতকে জিজ্ঞাসা করল, 'পাখিরা কী বলছে?' তিনি বললেন, পাখিরা বলছে, 'ছয় তারিখে জন্ম ওই ছয় তারিখেই জন্ম, কিন্তু মারা যাবে চৌদ্দ ও ষোলো তারিখে।'

এর মানে এক পরিবারে দুই যমজের জন্ম হয়। আজকে দশ তারিখ, পাঁচ-ছদিনের মধ্যে দুজনই মারা যাবে।

এই শোনার পর তারা সেই পরিবারের খোঁজ করল—যেখানে যমজ দুইজন জন্মেছে। সত্যিই তারা যমজদের খোঁজ পেল যারা চড়ুই পাখিদের কথামতো পরে মারা যায়।

স্থানীয় হাকিম এসব শুনে পুরোহিতকে তাঁর বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন।

তাঁদের সাক্ষাতের সময় একদল হাঁস উড়ে যাচ্ছিল। হাকিম পুরোহিতকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ওরা কী বলছে?'

তিনি বললেন, 'আমার সন্দেহ হয়, হুজুরের বাড়িতে নিশ্চয় কোনো অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে তাই ওরা বলছে—থামো, থামো, তাঁর পক্ষ নাও তাঁর পক্ষ নাও।' হাকিমের প্রত্যয় হলো, তাঁর পত্নী এবং উপপত্নীরা ঝগড়া শুরু করেছে এবং গোলমাল এড়াতে তাঁর বাড়ি ছেড়ে যাওয়াই ভালো। তিনি পুরোহিতকে অতিথি হিসেবে রেখে দিতে মনস্থির করলেন এবং তাঁকে বড়ই সমাদর করলেন। প্রায়ই পুরোহিত তাঁর জন্য পাখিদের কথা ব্যাখ্যা করতেন এবং বেশির ভাগ সময় তা সত্য হতো, কিন্তু প্রায়ই তা সোজাসাপটা রূঢ় হয়ে যেত।

হাকিম ছিলেন একজন লোভী ব্যক্তি। সরকারের জিনিসপত্র বিক্রি করে তিনি তাঁর পকেট ভরতি করতেন। একদিন কিছু হাঁস উড়ে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'ওরা কী বলছে?' পুরোহিত উত্তর দিলেন, 'তারা যা বলল তা আগের চেয়ে আলাদা। তারা হুজুরের সঙ্গে ফয়সালা করতে চায়।'

'কী ফয়সালা?' হাকিম জিজ্ঞাসা করলে পুরোহিত বললেন—'মোমবাতির জন্য ১৮০টি সোনার মোহর এবং সিঁদুরের জন্য আঠারোশ।' হাকিম এই শুনে বড় লজ্জা পেলেন। তাঁর সন্দেহ হলো পুরোহিত তাঁকে নিয়ে মজা করছে। কিছুদিন পরে পুরোহিত বিদায় নিতে চাইলে হাকিম তাকে অনুমতি দিলেন না।

কয়েক দিন পর হাকিম তাঁর বন্ধুদের জন্য এক জলসার ব্যবস্থা করলেন, তখন এক কোকিলের ডাক শোনা গেল। একজন জিজ্ঞাসা করলেন, 'পাখিরা কী বলল?'

আর পুরোহিত বললেন, 'চাকরি থেকে বরখাস্ত।' উপস্থিত সবাই অবাক, হাকিম রেগে খাপ্পা। তিনি পুরোহিতকে টেনে বাড়ির বের করে দিলেন।

এর বেশি দিন পর নয়, হাকিম চাকরি থেকে পদচ্যুত হলেন। পুরোহিত তাঁকে সর্তক করে দিলেও তিনি তার কথা শুনতেন না। কারণ তিনি লোভে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।

বু সংলিং (১৬৩০-১৭১৫)

তোতাপাখি

লম্বা পাহাড় থেকে কোয়াং চোং-এর এক সওদাগর একটা নকুলে তোতা জোগাড় করে। সে পাখিটাকে বড় ভালোবাসত এবং নিজের হাতে তাকে খাওয়াত। একবার লোকটা কয়েকদিনের জন্য কারাগারে আটক থাকে। পরে সে ছাড়া পেলেও ও ব্যাপারটা নিয়ে বড় মন খারাপ করত। তোতা বলল, 'তুমি কারাগার ছিলে মাত্র দুদিনের জন্য এবং এতেই তোমার সব অসহ্য মনে হয়েছে। তোমার তোতা কয়েক বছর ধরে খাঁচায় আছে। এ ব্যাপারে তুমি কী ভাবো? লোকটার মন গলে যায় এবং পাখিটাকে মুক্ত করে।

এরপর ওই সওদাগরের জানাশোনার লোকেরা লম্বা পাহাড়ের কাছ দিয়ে গেলেই বনে বাস করা তোতা তাদের জিজ্ঞাসা করত, 'ভদ্রলোক কেমন আছেন? দয়া করে তোমরা তাঁকে আমার সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা জানিও। আমার সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা জানিও।'

ওয়াং ইয়ান

এক সারসপাখি

ছেনচৌ-এর বড় লাট লু দুটো সারস পালতেন। দুটোই বড় শান্তশিষ্ট ছিল। একদিন একটা সারস মারা গেলে অন্য পাখিটা বড় কান্নাকাটি করল এবং খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিল। লু-কে তাকে জোর করে খাওয়াতে হতো। একদিন যখন সারসটি লু-র পাশে কু-কু করছিল তখন লু বললেন, 'তুমি যদি ছেড়ে যেতে চাও, আমি তোমাকে বাধা দেব না।' সারসটি তার পাখা ঝাপটে ওপরে উঠে গেল এবং আকাশে কয়েকবার পাক দিয়ে উড়ে চলে গেল।

বৃদ্ধবয়সে পুত্রহীন লু রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। শেষ তিন বছর তিনি হুয়াং বু সি-তে কাটান। এক ঠান্ডা শরত্কালে একটা লাঠি নিয়ে তিনি বনে বেড়াতে যান। হঠাত্ একটা সারস তার ওপরে উড়ে উড়ে করুণ স্বরে ডাকতে শুরু করে। লু চোখ তুলে তাকে বললেন, 'তুমি ছেনচৌ-তে ছিলে না? যদি তা-ই হয় তবে নেমে আসো।' সারসটা নিচে নেমে তাঁর বুকে ঠেস দিল। সে তার ঠোঁট দিয়ে তাঁর কাপড় টানতে শুরু করে এবং তাঁকে ঘিরে অশান্তভাবে নাচতে থাকে। লু তাকে বাড়ি নিয়ে গেলেন।

যখন লু মারা যান তখন সারসটা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করল এবং শিগগির সেও মারা গেল। লু-এর আত্মীয়স্বজন তাঁর কবরের পাশেই সারসটাকে কবর দিলেন।

ওয়াং ইয়ান

চায়না ট্রান্সলেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন কর্পোরেশন, হংকং কমার্স প্রেসের উদ্যোগে প্রকাশিত মা জিয়াজ্যু (Ma Jiaju) কর্তৃক সংকলিত ও অনূদিত 'এনশিয়েন্ট চায়নিজ মিনিয়েচার স্টোরিজ' থেকে সংগৃহীত ও এখানে ইংরেজি থেকে বাংলায় অনূদিত।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
7 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :