The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

গল্প

নৈবেদ্য

উম্মে মুসলিমা

মাথা খারাপ করে দিয়েছিল ইয়ার বন্ধুরা। বিশেষ করে সৈকত।

'আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। পঁচিশ বছর অব্দি কোনো মেয়ে কুমারী থাকতে পারে না'

'সবার ক্ষেত্রেই কি খাটে?'

'আলবত খাটে'

'তোর বড়আপার যে সাতাশ বছরে বিয়ে হয়েছিল, তাহলে..?'

'আমাদের পরিবারের কথা আলাদা। খোনকার বংশের মেয়েরা কিছুটা অসূর্যম্পশ্যা। মেয়েদের মাসিক শুরু হয়ে গেলে বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ'

'মাসিক কী?'

'মাসিক তোর মাথা। মেয়েদের শরীরের ইতিহাস জানিসনে আবার বিয়ে করতে লাফাচ্ছিস। বিয়ের দিন বউয়ের মাসিক হলে সাতদিন তোর পোড়া কপাল'

'কিন্তু তুই যে কুমারীত্বের কথা বলছিলি। এসব জানলি কোত্থেকে?'

'আমার মতো শর্মার হাতেকলমে অভিজ্ঞতা আছে। ফেল কড়ি মাখ তেল। সব বুঝিয়ে দেব'

মামা যখন প্রস্তাব এনেছে তখন তাকে না বলার সাধ্যি নেই কারোর—তাপসদের পরিবারের। মামা বড়লোক, প্রভাবশালী। তাপসের চাকরিটাও হয়েছে মামার তদবিরেই। তাপস দেখে এসেছে মেয়ে। ঘষামাজা নেই। একটা ছাইচাপা আগুন। বংশীয় মেয়ে বলে অনেক বাছতে বাছতে বয়স পঁচিশ পেরিয়েছে। কিন্তু তাপসের মাথায় সৈকতের দেওয়া 'পঁচিশ বছর'। কিন্তু একটা সান্ত্বনা ঘুরে ফিরে মাথায় ঘাই দিচ্ছে, বংশীয় মেয়ে—অসূর্যম্পশ্যা।

সকালে বউয়ের হলুদ রংয়ের শায়ায় জবাফুল দেখে সৈকতের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। বংশীয় মেয়ে, পঁচিশবছর, অসূর্যম্পশ্যা। তবুও একটু বাজিয়ে দেখতে দোষ কী?

'সোনা জান, মনে কোনো দ্বিধা নেইতো?'

'কিসের?'

'এই ধর, বয়স তো কারও কম হলো না। মনের আর দোষ কী বল?'

'বয়সের দোষ?'

'ধর তাই'

'দোষ তো শতেক'

ওরে বাবা বলে কী! উন্মুক্ত স্তনের ওপর রাখা হাত ঘেমে শিথিল হলো সৈকতের।

'যেমন?'

'যেমন উত্তম কুমারকে ভালোবাসি। একসময় নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে মনে মনে শুতাম। গ্রেগরি পেককে চুমো খেতাম, গৃহদাহের মহিমের জন্য কাঁদতাম ইত্যাদি'

'ওহ তা-ই বল। কিন্তু বাস্তবে কি কোনো...' ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লেও নিশ্চিত হতে খুব মন চায়।

'এ সবই তো বাস্তব। স্বপ্নেও তো কত উল্টা-পাল্টা দেখি। স্বপ্নেও শরীর নির্ভার হয়'

সৈকত আবারও জড়িয়ে ধরে ইতিকে। ফাজিল মেয়ে! কেবল বাজে কথা! তার বউ অনাঘ্রাতা পুষ্প। স্বপ্ন-ভাবনার সাথে অপবিত্রতার কোনো সম্পর্ক নেই। বাস্তবের কোনো রোমিও না থাকলেই হলো।

যে মেয়ে বাসরঘরে রক্তজবা উপহার দেয়, সে মেয়ে নিয়ে দুর্ভাবনা বোকামি জেনেও তাপস কেন জানি আশ্বস্ত হতে পারে না। বউকে চোখে চোখে রাখে। ইতির কোনো বিকার নেই। কিন্তু তাপসের ধাত বুঝে কেবল রাগানো। ও কোনোদিন ভুলেও জিজ্ঞাসা করে না—

'বিয়ের আগে তোমার কোনো প্রেমট্রেম ছিল না?'

বরং তাপস ইতির কানের পাশে ছোট্ট একটা কাটা দাগ আবিষ্কার করে ইতির রাত মাটি করে দেয়।

'এ দাগটা কিসের?'

'হেক্টরের দাঁতের'

'ফাজলামি করো না। সত্যি করে বল'

'ঠিকাছে বাবা, সত্যি বলছি সৌমিত্রের'

'সেটা কে?'

'অপু'

'অপু কে?'

'কাজলের বাবা'

বলেই ইতি তাপসের কানে কুটুস করে কামড়ে দিয়ে বলে—

'এবার বল কাজল কে?'

'জানি, জানি। কেবল তুমিই সত্যজিত্ দেখনি, মহা ফাজিল!'

ইতির বুকে কালো তিল। একটু উবু হয়ে কিছু তুলতে গেলেই ব্লাউজের গলা নেমে বেরিয়ে পড়ে। তাপসের বড় আপন জায়গা ওটা। রাতের উপন্যাসের শুরু ওখান থেকেই।

'এই তিলটা আগে কেউ দেখেছে?'

'না দেখার কী আছে?'

'মানে?'

'খুব সোজা'

'কে কে তাড়াতাড়ি বল'

'সমীরণদা, সলিল চৌধুরী, তিমির বাবু আর আলোক বসু'

'এসবের মানে কী? কারা এরা?'

'এরাই আমার তিলোত্তম'

'ইতি, ভালো হবে না কিন্তু। খুলে বল'

'বাংলা অভিধান খুলে দেখ'।

তবুও ইতিকে নিয়ে তাপসের সন্দেহ যায় না। অফিস থেকে টেলিফোন করে অনেক কাজের চাপের মধ্যেও। ফোন ধরতে একটু দেরি হলেই —

'কোথায় ছিলে? কী করছিলে? ফোন ধরতে এত সময় লাগল কেন?'

'সৈয়দ সাহেবকে নিয়ে একটু শুয়েছিলাম তো'

আজকাল ইতির ইয়ারকি বুঝে উঠতে সময় লাগে না তাপসের। সৈয়দ শামসুল হক পড়ছিল কদিন ধরে।

'ও, তাই বল। দক্ষিণের জানালাটা খোলো না। ওদিকের বিল্ডিং-এ এক ফাজিল ছোকরা থাকে। সেদিন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে ছিল'

'কিন্তু ও জানলায় যে সমীরণদা আসে। সারা গায়ে ওর আদর না পেলে আমার দম আটকে যায়'

'ফের ফাজলামি!'

ইতিকে বিশ্বাস না করার কিছুই খুঁজে পায় না সৈকত। তবুও অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় সরাসরি বাসার দিকে না গিয়ে পেছন দিক থেকে একবার চক্কর দিয়ে আসে। হয়তো মোড়ের দোকান থেকে মোমবাতি না কিনলেও চলে কিন্তু খামোখা ঘুরে যেতে ওর নিজেরও কেমন অস্বস্তি লাগে। কিছু একটা কিনতে কিনতে ওর বাসার আশপাশটা ক্যাজুয়ালি দেখে নেয়া যায়। ইতির কোনো মুগ্ধ প্রেমিক হাতে সিগারেট নিয়ে আকাশ দেখার নামে ওদের দক্ষিণের জানালায় দৃষ্টি রাখছে কি না, কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে উদাস হয়ে ফেরিওয়ালার ঢেউখেলানো ফেরিসুর নকল করা শিখতে গিয়ে ইতির ঘাড় থেকে আঁচল সরে গেল কি না, না দেখার ভান করে তাপস ঠিকঠাক সব নজরে নিয়ে আসে। সেরকম কিছু না পেলেও সিঁড়ি ভেঙে বাসায় ওঠার সময় সিগারেটের টুকরো খুঁজে বেড়ায়। মুখোমুখি দুটো ফ্ল্যাটের একটাতে ওরা আর একটাতে এক বৃদ্ধ দম্পতি। এরকম প্রতিবেশী পেয়ে তাপস মহাখুশি। অফিসকালীন সারাক্ষণ প্রতিবেশী নিয়ে মাথাব্যথার ব্যাপার নেই। একদিন সিঁড়ি ভেঙে উঠতে উঠতে নিত্যদিনের মতো সিগারেটের টুকরো খুঁজতে গিয়ে দুটো ফ্ল্যাটের মাঝামাঝি তার এতদিনের ইপ্সিত জিনিসটা পেয়ে যায়। ঠিক মাঝামাঝি নয়। একটু এদিক ওদিক হতে পারে। সৈকত দাঁড়িয়ে নিজের সাথে বাক্যালাপ চালাতে লাগল—

'সিগারেটের টুকরোটা মাপমতো আমার বাসার দিকে থাকলে নিশ্চয় কেউ এসেছিল। আর ওদিকটায় থাকলে ও বাসায় কেউ এলে আমার তাতে কিছুই যায়-আসে না'

'কিন্তু এমনও তো হতে পারে কোনো মাছঅলা বা সবজিঅলা এসে সিগারেট ফুঁকে টুকরোটা ফেলে রেখে গেছে'

'ফেরিঅলা ডাকা যাবে না, সেতো ইতিকে জানানোই আছে'

'সামনের ফ্ল্যাটের খালাম্মা তো ডাকতে পারেন'

'আরে বাবারে আগে মেপে তো দেখি, কোন দিকে পাল্লা ভারী'

অফিসের ব্যাগ দেয়ালে খাড়া করে তাপস হাঁটু গেড়ে বসে টুকরোটা থেকে নিজের দরজা পর্যন্ত হাত মেপে দেখল দুই হাতের একটু কম। ওদিকে খালাম্মাদের দরজা পর্যন্ত প্রায় দুই হাতই। সন্দেহ ঘোঁট পাকাচ্ছে। ঠিকাছে খালাম্মদেরই একটু জিজ্ঞাসা করা যাক না এ ব্যাপারে। কিন্তু কীভাবে শুরু করবে? খানিক ভেবে বৃদ্ধাঙ্গুলি আর তর্জনী মিলিয়ে টকাস করে ধ্বনি তুলে বেল বাজাল। দরজা খুললেন খালুজি।

'আরে তাপস বাবাজি! বউমা কই?'

'বুড়োর আবার ভিমরতিতে ধরল নাকি? বউমাকে কী দরকার বাপু? বুড়ো প্রতিবেশী বলে নিশ্চিত থাকারও জো নেই দেখছি'—মনে মনে গজগজ কিন্তু মুখে বত্রিশ বিকশিত করে বলল—

'বেশ কদিন খোঁজ-খবরই নেয়া হয়নি। ভাবলাম, বাসায় ঢোকার আগেই দায়িত্বটা পালন করে যাই। খালাম্মা আছেন ভালো?'

'হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভেতরে এস না'

'না, এখন আর যাব না। আপনার ছেলেরা বিদেশে। আমরাই তো আপনার কাছের লোক। সুবিধা-অসুবিধার কথা জানাবেন সপ্তাহান্তে'। সপ্তাহান্তে শব্দটায় একটু জোর দিয়ে আসল কথায় ফিরে এল—

'আত্মীয়-স্বজন তো আপনার আসেই না দেখি'

'নাহ। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। তোমরা আছ। এটাই ভরসা'।

যাক। তাহলে এ বাসায় কেউ আসেনি। আর কথা বাড়ানোর দরকার নেই। তবুও শেষটা জেনে নেয়া জরুরি।

'তবে মাছঅলা সবজিঅলাদের সম্পর্কে সাবধান থাকবেন খালুজি। ওরাও আজকাল ছদ্মবেশে চুরি-ডাকাতি করে যায়'

'আরে না, দারোয়ানকে বলা আছে। কেউ ওপরে আসতে পারে না'

ব্যস হয়ে গেল। তাহলে তো সন্দেহের আর কোনো অবকাশ নেই যে তাপসের বাসাতেই কেউ এসেছিল। বিদায় সম্ভাষণ না জানিয়েই আনমনে বেরিয়ে গেল সৈকত। বাসার বেল টিপল। সাধারণত দুবার বাজলেই ইতি খুলে দেয়। তিন বার, চার বার। দরজা ধাক্কাতে শুরু করার চিন্তার মুহূর্তেই ইতি খুলে দিল। আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ শেষে ইতির সাজগোজে তেমন কোনো পরিবর্তন না দেখলেও সন্ধ্যের সময় চুল ভেজা কেন—এ জিজ্ঞাসা মুখ থেকে পড়ার আগেই 'দেখবে এস, কে এসেছে'—বলে ইতি তাপসের হাত ধরে বসার ঘরে টেনে নিয়ে গেল। ঘরে ঢোকার আগে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে সৈকত সিগারেটের টুকরো, ইতির ভেজা চুল, দেরি করে দরজা খোলার কাহিনি সাজিয়ে ফেলল। বসার ঘরের ডিভানে লুঙ্গি পরে উপুড় হয়ে একজনকে ঘুমাতে দেখে ইতির চুলের মুঠি ধরার আগেই সে উঠে বসল।

'কিরে খবর-টবর না দিয়েই হাজির। কখন এলি?'

'দুপুরের ট্রেনে। কার্ড পেয়েছি। আগামী শনিবার পরীক্ষা'

'ও। তো শনিবার তো দেরি আছে। মা কেমন আছে?'

'আছে ভালো'।

পাশ করে বাড়ি বসে থাকা ছোটভাই এবার চাকরির পরীক্ষা দিতে এসেছে। রেজাল্ট যেনতেন। কিন্তু চাকরি একটা না পেলে মাকে নিয়ে এখানেই উঠবে। ইতির বয়সের কাছাকাছি বয়স। ওকে এখানে রাখা মানে তাপসের চাকরি-বাকরি লাটে ওঠা। শৈবাল মানে বেকারটা এখানে থাকলে তাপসের চাকরি ছেড়ে বাসায় বসে ইতি আর শৈবালকে পাহারা দিতে হবে। ইতি ইতিমধ্যে বিশ্বাসভঙ্গের কিছুই করেনি কিন্তু ও যেন কেমন। এমন উল্টোপাল্টা কথা বলে যে, তাপসের বুক ধড়ফড় করে। কোনটা বিশ্বাস্য আর কোনটা বানোয়াট বুঝে উঠতে ওর সময় লাগে। কমলাকান্ত বলেছিল, 'কুসুমে কীট আছে, স্ত্রীজাতি বঞ্চনা জানে'। তাই ইতির ভেজা চুলের রহস্য বের করতে কত ছল—

'এত বেলা করে গোসল করলে ঠান্ডা লাগবে না?'

'ঠান্ডা লাগলে যে হাঁচি দিতে ভালো লাগে'

'তোমার হাঁচির নিকুচি করি। এ বেলা গোসল করার কারণ কী?'—কোনোভাবেই অন্য প্রশ্ন দিয়ে এর কার্যকারণ টানা যাচ্ছিল না বলে তাপস সরাসরি জিজ্ঞাসা করে বসে।

'কারণ আছে কারণ, বলতে যেটা বারণ'—বলে ইতি রাতের খাবার সাজাচ্ছিল। অনেক পদের রান্না। সারা দুপুর রান্না করে ঘেমে নেয়ে বিকেলে গোসল করতেই পারে। আহ! এটাই তাহলে কারণ। কিন্তু তাপসের জন্য এত পদ তো কোনোদিনই রাঁধেনি ও। একটু বেশি বেশি মনে হচ্ছে। থাক। দেওর প্রথম এসেছে। একটু ভালো রান্না করল তো কী হয়েছে? কেন মাথার মধ্যে ওর এ রোগ জন্মাল? কেন সন্দেহের মাছি ক্ষতের ওপর বারবার ফিরে ফিরে আসে? ইতির মতো অক্ষতযোনিকে নিয়ে ওর এসব না ভাবলে চলে না? কিন্তু সৈকত ওর মাথাটা পুরোটাই বিগড়ে দিয়েছে। তা না হলে তাপস যখন পরদিন ইতিকে না জানিয়ে অফিস ছুটির আগেই বাসায় ফিরে এসে দেখে, দেবর-ভাবি দুটিতে টেবিলে বসে দিব্যি খাচ্ছে আর ওকে দেখে অবাক হয়ে চেয়ে আছে, তখন হাতের ব্যাগ সজোরে চেয়ারের ওপর রেখে রেগে যাওয়া অর্থহীন জেনেও ইতির উদ্দেশে ঝাঁঝালো প্রশ্ন—

'আর একটু অপেক্ষা করতে পারতে না আমার জন্য?'

'তুমি দুপুরেই ফিরবে বলনি তো ভাইয়া?'—শৈবাল প্লেট এগিয়ে দিতে দিতে বলল।

'বলে গেলে তো আর নাটক দেখতে পারতাম না'

'কোথায় নাটক? মহিলা সমিতিতে? কী নাটক? টিকেট এনেছ?'—নির্দোষ স্বরে নির্লিপ্ত জিজ্ঞাসা ইতির। সত্যিই কি ইতি ওর ভাবগতিক বোঝে না? না কি পরিস্থিতি সহজ করার কৌশল জানে ও? যা-ই হোক নিজের মাথাব্যথা এড়াতে শৈবাল যে কদিন আছে, ছুটি নিয়ে ওকে বাসায় বসে থাকতে হবে। ইতিকে বলবে গাধাটাকে একটু না পড়ালে পাসটাস ওর হবে না। যদিও তাপসের বস তাপসকে পছন্দ করে কিন্তু ছোট ভাইয়ের চাকরির অনুরোধ সে কিছুতেই করতে পারবে না। ছোঁড়াটার রেজাল্টও আহামরি কিছু নয় যে জোরগলায় ওর সম্পর্কে বলা যাবে। সবচে বড় কথা তাপসের বিয়ের পরপরই মামা গত হয়েছেন। মাথার ওপর কেউ নেই। একটাই সুযোগ হাতে আছে, সামনে শুক্রবার বসের মেয়ের জন্মদিনে একটা ভালো উপহার নিয়ে গিয়ে ভাইটাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। আর কিছু না থাকুক ছোঁড়ার চেহারাটা ভারি সুন্দর। তার ওপর সৈয়দ বংশ। ইতিকে দিয়ে হালকা-পাতলা তদবির করানো যায়। তাপসের একার বেতনে মা-ভাইকে টানা একেবারে অসম্ভব। শৈবালের কিছু না হলে সবাইকে নিয়ে ছোট একটা বাসায় লেজেগোবরে অবস্থা হবে। তার ওপর নজরদারির দুঃশ্চিন্তায় ওর নিজের শরীর-মেজাজ কোনোটাই ঠিক থাকবে না।



শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাইকে নিজের হাতে টাই বেঁধে দিয়ে, চুল আঁচড়িয়ে ফিটফাট করে দিল। ইতিকে বলল—

'একটা সাধারণ শাড়ি পরো। বেশি সাজগোজের দরকার নেই'

'বিয়ের শাড়িটা ছাড়া আমার সব শাড়িই তো সাধারণ'

'ওগুলো থেকেই একটা বেছে নাও'

একটা লম্বা বেনি, প্রসাধন নেই বললেই চলে, কেবল কপালে কুমকুমের টিপ। ওতেই ছিপছিপে লাবণ্যময়ী ইতির দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছিল না তাপস। কী ভেবে ওর টিপটা দিল মুছে।

'উঁহু, ঠিক মানাচ্ছে না'

'গাঁইয়া গাঁইয়া?'

'হ্যাঁ'—বলে আশ্বস্ত হওয়ার প্রচেষ্টা তাপসের। কিন্তু টিপটা মুছেও সৌন্দর্য খুব কমানো গেল না। একবার মনে হলো ইতিকে নিয়ে গিয়ে কাজ নেই। বিপত্নীক বসের মতিগতি কেমন কে জানে? কিন্তু এতদিনের চাকরিজীবনে কোনো বেতাল অবশ্য চোখে পড়েনি বলেই সাহস করে ইতিকে নিয়ে যাওয়া। বসও সস্ত্রীক দাওয়াত করেছেন। একা গেলে গাঁইয়া ভাবতে পারেন। কিন্তু শৈবালকে নিয়ে গেলে আরও বেশি গাঁইয়া ভাবাই তো স্বাভাবিক। মনে আছে ওদের বড় আপাকে কোনো অনুুষ্ঠানে দুলাভাই ভাগ্নেসহ দাওয়াত দিলে সে তার দেবর-ননদ-ভাসুরের ছেলেমেয়ে নিয়ে হাজির হতো। এমনকি তাপসের বিয়ের পর কক্সবাজারে গরিবানামতে তিন দিনের হানিমুনে যাওয়ার ব্যবস্থা হলে বড় আপা ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছিল ওদের সঙ্গী হবার জন্য। কিন্তু শৈবালের চাকরির জন্য এটুকু অস্বস্তি নিয়েই ওকে রওনা দিতে হলো।

বস ধনী জানা ছিল। কিন্তু বসের বাড়ি গিয়ে দেখে এক এলাহি কারবার। বাড়ির সামনে গাড়ির কাফেলা। আলোয় আলোয় ঝলমল করছে চারদিক। ট্যাক্সি ভাড়া মিটিয়ে লনে দাঁড়াতেই ইতির জন্য খারাপ লাগল। কেন এত সাধারণভাবে ওকে নিয়ে এল? বিয়ের শাড়িটা পরিয়েই আনা যেত। বসই বিনীতভাবে এগিয়ে এলেন। বয়স্ক বসরা জুনিয়র কলিগদের স্ত্রীদের 'বউমা' ডাকেন সচরাচর। কিন্তু তাপসের বিপত্নীক বস 'ভাবি' বলে একেবারে গদগদ।

'স্যার, আমার ছোটভাই'—তাপস দ্বিধার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।

'বেশ বেশ'—বলে ভেতরে নিয়ে গেলেন। কিছু মনে করেননি বলেই মনে হলো। শ্রীমান সুবেশ ভাইটিকে খুব প্রশংসার দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণের কোনো লক্ষণও দেখা গেল না। তবে তাপস বুঝে নিল, শৈবালের উপস্থিতির বিরক্তির সাথে ইতির রূপের মুগ্ধতা অনুপাতে বিশাল বসের কাছে। ইতির সাথে মেয়ের পরিচয় করিয়ে দিয়ে সবাইকে বসতে বললেন বস। জন্মদিনের চেয়ে মেয়ে আমেরিকায় এমএস করতে চলে যাচ্ছে বলেই এত বড় আয়োজন। তাপস দৃষ্টি প্রসারিত করে আমন্ত্রিত নারীদের দেখে নিল। অনেক দামি পোশাক, আভরণ, প্রসাধন কিন্তু সৌন্দর্যে কেউই ইতির সমকক্ষ নয়। বস ঘুরে এসে আরও একবার ইতির কাছাকাছি হলেন। পূর্বের নির্দেশমতো ইতি বসের সামনে তার মেয়ের হাতে উপহারের প্যাকেটটি তুলে দিল। মেয়েটি খুবই অমায়িক। সবার সামনে কোমল হাতে প্যাকেটটি যত্নের সাথে খুলে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করল। নামী কোম্পানির চমত্কার একটি হাতব্যাগ।

'অসাধারণ! আমেরিকায় যাবার দিন এটি আমি হাতে নেব। অনেক ধন্যবাদ ম্যাম। বাট ইউ আর মোর বিউটিফুল দ্যান দিস'—বলল বসের মেয়ে।

'আরে এত খরচ করতে কে বলেছে তোমাকে তাপস? চল চল, ভাবি চলুন খাবার রেডি'—বলে অন্যান্য গণ্যমাণ্য অতিথিদের সাথে একই টেবিলে ওদের বসালেন বস। তাপস বুঝল এ যতখানি না ভালো উপহারের গুণ তারচে বেশি ইতির সৌন্দর্য। কারণ, ওই টেবিলে এমন কিছু মানুষ বসেছে যাদের কাছে লাখ টাকার উপহারও নস্যি। খাবার আসার আগে সবাই কথা বলার ফাঁকে ইতিকে লুকিয়ে চুরিয়ে দেখে নিচ্ছিল। ইতির পাশের চেয়ারে বস। ইতিকে শিখিয়ে রাখা বুলি কখন ছাড়বে সেই অপেক্ষায় তাপস সুস্বাদু খাবারও গিলতে পারছিল না। যে উল্টোপাল্টা স্বভাব ইতির। কী বলতে কী বলে ফেলে আল্লা মালুম। বস ইতির প্লেটে রোস্ট তুলে দেবার সময় ইতি নিচু গলায় কী যেন বলল। তাপস বুঝতে না পেরে খরগোশের মতো কান খাড়া করে। বস শৈবালের দিকে তাকালে ইতির কথা একটু স্পষ্ট হয়—

'স্যার, কালই পরীক্ষা। ওর নাম-রোল নম্বর নিয়ে এসেছি। দেব?'

'ঠিকাছে খেয়ে নেন। পরে নিচ্ছি। তবে বলে রাখি, রিটেনে কিন্তু পাস করতে হবে'।

'না না সেতো বটেই। ও এমনিতে খুব ইন্টেলিজেন্ট। কিন্তু গ্রামের ছেলে তো'

'আপনি অ্যাপলাই করলেও তো পারতেন'—বস একটু ধরাগলায় বললেও তাপসের কান এড়িয়ে গেল না। এইরে! ইতি যে কী উত্তর দেয়!

'আমার তো কোয়ালিফিকেশনেই কভার করে না স্যার। না হলে তাপসের ভারি ইচ্ছে যে আমি কিছু করি'

'ও' বলে বস দুঃখিত হলেন। দিব্যি ঝেড়ে দিল ইতি যার কোনোটাই সত্যি নয়।

পরীক্ষা হয়ে গেল যথানিয়মে। পাস করার মতো পরীক্ষা দিয়েছে শৈবাল জানাল। কিন্তু তাপসের বকাবকি থামে না।

'খালি বাবুয়ানা। চাকরি ছেলের হাতের মোয়া? পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে না ভালো করে?'

'প্রস্তুতি তো তোমারও ছিল ভাইয়া। মামা ছাড়া হলো কিছু?'

'অন্তত রিটেনে তো পাস করে দেখিয়ে দিয়েছিলাম। তোর তো সে যোগ্যতাও নেই। কাল বাড়ি যা। মা একা আছে। পাস করলে খবর দেব।'

'রেজাল্ট না দেখেই যাব?'

'যদি একমাস পরে হয় তো এখানে বসে থাকবি?'

বসের মেয়ের জন্য উপহার আর মায়ের কাছে টাকা পাঠাতে এ মাসের বেতন প্রায় ফতুর। ভাগ্যিস যে, ইতির কোনো বাড়তি চাহিদা নেই। কিন্তু তাতেও ওর সৌন্দর্যে ঘাটতি পড়ে না। ইতিকে ওর বাবা কিছু টাকা দিয়েছিল বিয়ের সময়। হাতটান পড়লেই ইতি টাকা তুলে দিতে চায়। কিন্তু তাপসের পৌরুষে বাঁধে। ইতির সৌন্দর্য, টানাপোড়েন, সন্দেহবাতিকতা, ভাইয়ের চাকরি—তাপসের মাথা খারাপ হবার জোগাড়। শালা সৈকতের বাচ্চা এমন বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, বিয়ের পর থেকে দুদণ্ড শান্তি পেল না।

দশদিন পর বস ডাকলেন।

'তাপস বসো। এই নাও তোমার ভায়ের রেজাল্ট'—বলে শৈবালের নাম ও রোল নম্বরের সাথে রেজাল্ট লেখা এক টুকরো কাগজ এগিয়ে দিলেন। তাপস কয়েক মুহূর্ত দোলাচলে। পাস করলে ইতিকে নিয়ে একমাস পরেই তাজমহল দেখে আসবে। তাজমহল দেখার বড় শখ ইতির। ও প্রায়ই বলে 'কালের কপোল তলে শুভ্র সমুজ্জ্বল—এ তাজমহল'। মনে মনে 'কপোল' উচ্চারিত হতেই ইতির গালের টোল দেখতে পেল। একরাতে সত্যিই ওর টোলে এক ফোঁটা মধু রেখে ও চেটেছিল। ওমর খৈয়ামের মতো প্রিয়ার টোলে মদ ঢেলে খাওয়ার দুঃসাহস সত্সাহস ওর কোনোটাই নেই। কাগজটার অক্ষরগুলো থ্রি ডি দেখার মতো পাক খেতে লাগল। একশ-তে আটাশ। চোখ সোজা করে তাকাল। না, বিরাশি নয়। আটাশই।

'এখনও পাবলিশড হয়নি। তোমাকে আগেই জানালাম'

'কী আর করা স্যার। ভাগ্যে না থাকলে করার কিছু নেই'। পরিস্থিতি সহজ করার জন্য কথা অন্যদিকে ঘোরাল তাপস—

'স্যার, ম্যাডাম মানে আপনার ডটার কি চলে গেছেন?'—'আপনার মেয়ে' বললে বড়লোকের আমেরিকা পড়তে যাওয়া মেয়েকে যথেষ্ট সম্মান দেখানো হয় না বলেই ওর মনে হলো।

'হ্যাঁ, গতকাল ফ্লাই করেছে। একা। খুব একা হয়ে গেলাম তাপস'—চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে দীর্ঘশ্বাসের সাথে কথাগুলো বুক বরাবর নামিয়ে দিয়ে চোখ বুজলেন। বসের চোখ না খোলা অব্দি উঠে যাওয়া ঠিক হবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেল তাপস। চোখ খুলে আবার জানালার বাইরে তাকালেন। বসকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো চাকরির পজিশন তাপসের না। বড়জোর বলতে পারে স্যার, আপনিও কিছুদিন দেশের বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। ভালো লাগবে। তাকে বলতে হলো না। বসই বলে উঠলেন—

'একটু এদিক ওদিক গেলে বোধহয় ভালো লাগত'

'আমিও সে কথাই বলব ভাবছিলাম স্যার'

'তুমি তো একদিনও তোমার বাসায় আমাকে নিলে না'

'কী যে বলেন স্যার, আপনাকে বাসায় ডাকার যোগ্যতা কি আমার আছে?'

'এই হচ্ছে তোমাদের সমস্যা। অফিসের বাইরে আমি তোমার মতোই আটপৌরে। নিজেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবতে শেখ। এত ভাবার কিছু নেই। রেজাল্ট পাবলিশড যখন হয়নি তখন কিছু একটা করা যায় কি না ভেবে দেখব'

'স্যার, এটা আপনার মহানুভবতা। তাহলে মনে কিছু না করলে আগামীকাল সন্ধ্যেয় একবার আসুন আমার ওখানে'

'দুর পাগল। ও তো কথার কথা। কালই না। সামনের ফ্রাইডেতে চেষ্টা করব'—একটু কী ভেবে আবার বললেন—

'ভাবি ভালো আছেন তো? বিয়ের প্রথম প্রথম স্ত্রীরা তো কেবল বাপের বাড়ি বেড়াতে যেতে চান। আমার স্ত্রীর অবশ্য সে সমস্যা ছিল না। ঘরে ঘরে বিয়ে তো? মানে আমরা একে অন্যের কাজিন ছিলাম' বলে বিষয়ে হাসির উপাদান বিশেষ কিছু না থাকলেও বেশ হো হো করে হেসে দিলেন।

'না না এখানেই আছে। আপনি গেলে ও ভীষণ খুশি হবে'।

বস নিশ্চিত হলেন। তাপস নিজে ভেবে পেল না এরকম একজন ধনী গডফাদার তার বাসায় যেতে চাচ্ছে কিন্তু কিছুতেই কেন ইতিকে নিয়ে তার দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে না? ও কি ভালো হয়ে গেল? ভাইয়ের পরীক্ষার ওরকম রেজাল্ট শুনেও ওর বুকের ওপর থেকে জগদ্দল পাথর সরে যাচ্ছে কেন? এ তো ভারি জ্বালা!

ইতির জন্য ভালো শাড়ি, রান্নার উপকরণ, এমনকি সিদ্দিকা কবিরের 'রান্না খাদ্য পুষ্টি' বইটাও কিনে নিয়ে গেল তাপস। দুজনে মিলে পছন্দের রান্না করল পাঁচ-সাত পদ। শৈবালের রেজাল্ট গোপন করল ইতির কাছে। বিকেলে ইতিকে নতুন শাড়ি পরিয়ে কুমকুমের টিপ দিতে বলল—

'তুমি যে বল গাঁইয়া গাঁইয়া'

'একটু গাঁইয়া দেখানোই ভালো। নজর কম লাগবে'—আসলে টিপ পরলে কাউকে এত সুন্দর লাগে তাপস এর আগে দেখেনি। আজ ইতিকে মনে হচ্ছে রূপকথার রাজকন্যে। কোমর অব্দি ঘন খোলা চুল হাঁটার ভঙ্গিতে সুডৌল নিতম্বে বাড়ি খাচ্ছে। একবার হাতখোপা করে ফেললেও তাপস সাথে সাথে খুলে দিল। বুকের ওপর তা ছড়াতেই তাপস গেয়ে উঠল—

'তোমার কাজল কেশ ছড়াল বলে সুন্দর তুমি তাই'

'তোমাকে অচেনা মনে হচ্ছে'—ইতির কণ্ঠে কিন্তু বিষ্ময়ের সুর নেই।

'আসল আমিটা এরকমই'।

রাত ন-টায় এলেন বস। একগাদা উপহার ড্রাইভার পৌঁছে দিয়ে গেল বাসায়। বস ইতিকে দেখে কুশল জিজ্ঞাসা করবে কি থমকে থাকল কিছুক্ষণ। গুনগুন করে যে সুর ভাজল তার কথাগুলো অনুচ্চারিত থাকলেও যে গান চিনতে ইতি তাপস কারোরই ভুল হলো না তা—'তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয় সেকি মোর অপরাধ'। খুব আরাম করে নিজের ঘরে বসার মতো করে বসল বস। সহজে উঠবে তা মনে হলো না। খাবারে টেবিল সাজানো। ইতির যাওয়া আসা দুনয়ন ভরে দেখছে। চোখে কিসের জানি ঘোর। তাপস সরে এল ও ঘর থেকে পাশের বারান্দায়। বস আর ইতি শুনল তাপস যেন কার সাথে ফোনে উদ্বেগ প্রকাশ করছে—'কখন হলো? কীভাবে? জ্ঞান ফিরেছে? কত নম্বর কেবিনে? ঠিকাছে ঠিকাছে'

'কার কী হয়েছে? তাপস তাপস'—বস উঠে দাঁড়িয়ে অস্থির হলেন।

'স্যার, আমার খুব ঘনিষ্ট বন্ধু। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা আসার পথে এক্সিডেন্ট করেছে। সাভারের একটা ক্লিনিক থেকে আমাকে জানাল। আমি খুবই দুঃখিত স্যার। আপনাকে সঙ্গ দিতে পারলাম না। ঢাকা শহরে ওর কেউ নেই। আমি না গেলে খুব অমানবিক হবে। আপনি কিছু মনে করবেন না। ইতি তো রইলই।'

বস 'আচ্ছা আচ্ছা' বলে তাপসকে দরজা অব্দি এগিয়ে দিয়ে বলল—

'আমার গাড়িতেই লিফট নিয়ে নাও। আমি অন্য একটা আসতে বলি'

'না না স্যার। ওসবের কোনো দরকার নেই। আপনি কিন্তু নিজের বাসা মনে করে খাবেন'।

জিজ্ঞাসা না করলেই নয় তাই ইতি কেবল অবিস্মিত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল—

'কোন বন্ধু?'

'ওই তো জামিল, জামিল পারভেজ'

এ নাম ইতি এর আগে কোনোদিন শোনেনি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২৯
ফজর৫:০২
যোহর১১:৪৭
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :