The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

গল্প

আত্মঅবলোকন

মনি হায়দার

প্রিয় সুধী,

এখন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন আজকের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ, পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণ গল্পকার আহমেদ মুনির।

জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দৈনিক দিবাকর কর্তৃপক্ষ। দেশের প্রথম শ্রেণীর পত্রিকা দিবাকর। সুতরাং তাদের অনুষ্ঠানে ঢাকা শহরের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রধান প্রধান মোড়লেরা এসেছেন। আসন গেড়ে বসেছেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে মোড়লদের হাতে হাতে পানীয়ের গ্লাস দেওয়া হচ্ছে। তারা হালকা আলাপের অবসরে আলতো চুমুক দিচ্ছেন গ্লাসে। বাজছে হালকা মৃদু যন্ত্র সংগীত।

এক ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। প্রধান অতিথি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছে আহমেদ মুনির। এতক্ষণ ধরে চলছে দৈনিক দিবাকর পত্রিকার সম্পাদক কফিলউদ্দিনের বক্তৃতা। পরে আহমেদ মুনিরের রচনার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন বিদগ্ধ পণ্ডিত খায়রুজ্জামান ও সৈয়দ নেয়ামাল করিম।

অনুষ্ঠানের সর্বশেষ সংযুক্তি পুরস্কার পাওয়া গল্পকার আহমেদ মুনিরের প্রতিক্রিয়া। মাইক্রোফোনে সুন্দরী ঘোষক মিস এলিয়েটার কণ্ঠের ধ্বনি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর হাততালি। মঞ্চে অতিথির সঙ্গে বসা গল্পকার আহমেদ মুনির দাঁড়াল। ধীর পায়ে হেঁটে মাইক্রোনের সামনে এসে তাকাল অভ্যাগত অতিথিদের দিকে। এ জাতীয় অনুষ্ঠানে, যারা শত্রু তারাও আসে। আর মিত্ররা তো আসেই।

আমি অবাক হয়েছি, বিস্মিত হয়েছি দৈনিক দিবাকর কর্তৃপক্ষ যখন এবারের পুরস্কারের জন্য আমার নাম ঘোষণা করেছে— মাইক্রোফোনে বলছে আহমেদ মুনির। কারণ—পত্রিকাটির সাহিত্য পাতা যে বা যারা সম্পাদনা করে তারা কোনোদিন আমার কোনো গল্প ছাপায়নি। কোনোদিন গল্পও চায়নি। যদিও আমি একজন গল্প শ্রমিক। গত পঁচিশ বছর ধরে ছোট গল্পই লিখে চলেছি। গল্পই আমার প্রাণ। গল্প লিখব বলেই আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছি মাত্র তিরানব্বই টাকা সম্বল করে। তারপর থেকে এই ইট-সিমেন্টের শহরে কেবল লড়াই করছি। এবং আনন্দের সঙ্গে সেই লড়াই আজও করছি। আমি জানি, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা ডালপালা থাকে। থাকে অনেক রকম কোন্দল। আমি কোনোদিন কোনো কোন্দল বা দল বা উপদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হইনি। কেবল গল্প লিখেছি। তবে সব সময় সচেতন থেকেছি, যাতে আমার গল্প স্বাধীনতা বিরোধীদের কোনো পত্রিকায় ছাপা না হয়। কারণ, আমি ওদের ঘৃণা করি। এবং আমি বিশ্বাস করি, এ দেশের যেকোনো সচেতন স্বাভাবিক মানুষই ওদের ঘৃণা করেন।

আমার চলার পথ সেই শুরু থেকেই মসৃণ ছিল না। অনেককে আজ মনে পড়ছে। অনেক গল্পকার বন্ধু ছিলেন আমার অনুপ্রেরণা। আবার অনেক সাহিত্য সম্পাদক আমাকে অবহেলা করেছেন, অবজ্ঞা করেছেন। অনেক সাহিত্য সমালোচক বন্ধু আমার গল্পের বিরূপ সমালোচনা করেছেন। সমালোচনা করছেন—এটাইতো স্বাভাবিক। কিন্তু তারা আমার গল্প না পড়েই সমালোচনা করছেন। ফলে আমি পাঠক বা গণমানুষের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছি। আজ এই মুহূর্তে—যারা অনুপ্রেরণার উত্স হয়েছেন, যারা অবহেলা বা অবজ্ঞা প্রর্দশন করেছেন—সবাইকে জানাই অভিবাদন। কারণ—তাদের অবহেলা বা অবজ্ঞা আমাকে প্রতিবার নতুন করে গল্প লিখতে নতুনভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাড়িত করেছে। প্রলুব্ধ করেছে। নবায়ণ করেছে। কারণ, আমিতো গল্পই লিখতে চাই। কারণ, গল্প লেখা ছাড়া আমি আর কিছু পারি না।

প্রিয় সুধী,

আজ আমার জীবনের একটি ঘটনা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে আমি আমার কথা শেষ করব। আমার ধারণা—ঘটনাটা আপনাদের খারাপ লাগবে না। তাছাড়া আমি আমার জীবনের যে লড়াইয়ের কথা বলেছি—তার একটা প্রমাণও পাবেন। একজন মানুষের লেখক বা শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে কত ত্যাগ আর সাধনার কারুকাজ থাকে, গোপনে কত বিরহ আর রক্তক্ষরণ থাকে, নিজেকে নিজে অতিক্রম করার কত বুভুক্ষু মানচিত্র থাকে—তার মানচিত্র পাওয়া যায় শিল্পী বা লেখকের রোজনামচায়, ফেলে আসা দিনরাত্রির নিরীহ কবজে। আর অন্য কথা নয়, আসুন এবার প্রবেশ করি আমার ঘটনায়।

আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বা ত্রিশ বছর আগে, ধরুন সময়টা আশির দশকের প্রথম বা মাঝামাঝি দিকে। তখনও ঢাকা এতটা মানুষের বসবাসের অনুপোযোগী শহর হয়ে ওঠেনি। এত লোক ঢাকায় বাস করত না। এখানে যারা উপস্থিত আছেন, আশির দশকের মানুষ, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ঢাকা শহরে তখন বিআরটিসির লাল রংয়ের লম্বা এক তলা বাস চলত। দোতলা বাসও চলত। উল্টে পড়ার ভয়ে আমি পারতপক্ষে দোতলা বাসে চড়তাম না। হয়তো অনেকে হাসছেন। আমি থাকতাম রামপুরায়, উলন রোডের মাথায় মসজিদ মেসে। মেসে আমার কয়েকজন দেশি মানুষও ছিল। ছিলাম হাসি-কান্নায়, আনন্দে-বেদনায়। আত্মীয়তার সুবাদে বাংলাদেশ বেতারে আমার একটি এক ধরনের চাকরি হলো। এক ধরনের বলছি, কারণ—চাকরিটির নিয়ম হলো নো ওর্য়াক, নো পে। অর্থাত্ মাসিক একটি চুক্তিপ্রত্র হতো। মাসের সরকারি ছুটির দিন বাদে বাকি দিন হিসাব করে বেতন নির্ধারিত হতো। আমার মনে আছে—মাসে সাত শত টাকায় আমার সেই চাকরিটি হয়েছিল। একদিন না গেলে দিন হিসাবে টাকা টাকা কেটে রাখত। সাতশত টাকায় মেসে থাকা, খাওয়া, নিজে চলা আবার বাড়িতে সামান্য কিছু হলেও পাঠাতে হতো। কষ্টে দিন যাচ্ছে। তখন আমার এক অল্প শিক্ষিত বন্ধু আলাউদ্দিন এসে আমাকে বলল— লজিং থাকবা?

কোথায়?

সিপাহীবাগ।

অনেক দূর—আমি বললাম।

হয়, অনেক দূর। কিন্তু তোমার থাকা-খাওয়ার টাহাডতো বাঁচবে।

আমিও মাথা নেড়ে জিজ্ঞেস করলাম—ঠিকই বলেছিস। কিন্ত কয়জনকে পড়াতে হবে?

তিন জনরে।

কোন ক্লাসের ছাত্র?

একজন ফাইভে, একজন থ্রি, আর একজন ছোট—তারে ক খ শিখাইতে অইবে।

অনেক ভেবে আমি রাজি হলাম। আমাকে পরের দিন আলাউদ্দিন নিয়ে গেল সিপাহীবাগ। রামপুরা থেকে রিকশায় সিপাহীবাগের রাস্তার মাথায় নেমে হাঁটতে লাগলাম। হাঁটতে হাঁটতে গ্রামে পড়লাম। ভাঙা ইটের ভাঙা রাস্তা। এমনই ভাঙা, রিকশাও চলে না। আমি হতবাক—আলাউদ্দিন আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? আসলে আমার জন্য আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। কিছুদূর হাঁটার পর আলাউদ্দিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিলের দিকে তাকিয়ে কাউকে নাম ধরে ডাকছে। রাস্তার পাশে পানি। পানির মধ্যে চলছে ধান চাষ। কয়েকটা ছেলেকে দেখলাম কোমর পানিতে গোসল করছে। নালা পার হয়ে ওপারে ছোট্ট একটা দ্বীপ। সেই দ্বীপ থেকে একটা ছেলে ডিঙ্গি নিয়ে আসে। ছেলেটা আলাউদ্দিনের ছাত্র। ডিঙ্গিতে চড়ে বিল পার হয়ে দ্বীপে উঠলাম। দ্বীপটার চারদিকে পানি। দ্বীপে বেশ কয়েকটা ঘর। ইলেকট্রিসিটি আছে। আমাকে একটা ঘরের সামনে নিয়ে আমার ছাত্র ও তাদের মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় আলাউদ্দিন—এই আপনাদের মাস্টার।

আমি ছাত্রদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। ফাইভে পড়া ছাত্রটি দেখতে লাটিমের মতো গোল। চোখজোড়া উজ্জ্বল। দ্বিতীয়টি বেশ প্যাকাটে। ছোটটার চেহারা আমার মনে নেই। আগামীকাল আসার কথা বলে আমি চলে আসলাম। বড় ছাত্রটি নৌকায় পার করে দিল। আলাউদ্দিন ওই দ্বীপের আর একটি ঘরে লজিং থাকে। সেই সূত্রে আমাকে নিয়ে গেছে ওই দ্বীপে। নৌকায় পার হতে হতে আমারও দ্বীপটিকে ভালো লেগে গেল। পরের দিন অফিস করে মেস থেকে আমার বই, বিছানা নিয়ে লজিংবাড়ি দ্বীপে উঠে এলাম। আমার লজিং মালিকের ঘরটা বেশ বড়। নিচটা পাকা। চালে টিন। তবে দ্বীপে এত গাছপালা—দুপুরে টিনের তাপও লাগে না। আমি সন্ধ্যার মধ্যে আমার বিছানা, বই গুছিয়ে ছাত্রদের নিয়ে পড়তে বসছি, তখন একজন বয়স্ক দাঁড়িঅলা লোক এসে দরজায় দাঁড়াল। বড় ছাত্রটি বলেল—আমার দাদা।

আমি সালাম দিলাম। ভদ্রলোক সালামের কোনো প্রত্যুত্তর না দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল বেশ অনেকক্ষণ। আমি বেশ অস্বস্তিতে পড়লাম। ভদ্রলোক চলে গেল। আমি ছাত্রদের পড়াতে থাকি। নিজেও পড়ি। কারণ—আমি ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। রাতে খেতে বসেছি। ছাত্রের মা, তার চেহারাও আমি প্রায় ভুলে গেছি এতদিনে। যতদূর মনে পড়ে তার মুখও ছিল বড় ছাত্রটির মতো গোলাকার, আর স্বাস্থ্যবতী। মুখে মিষ্টি হাসি তার। কপালটা বেশ চওড়া। দরজার কাছ থেকে আমাকে বলল—এখানে থাকলে আপনার একটু অসুবিধা হবে স্যার।

আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করি—কিসের অসুবিধা?

খাওয়া থাকার কোনো অসুবিধা আপনার হবে না।

তাহলে?

আমার শ্বশুর একটু অন্য রকম মানুষ। উনি উল্টাপাল্টা কথা বলতে পারে—আপনি কিছু মনে করবেন না।

আমি হাসব না কাঁদব, বুঝতে পারছি না। ভদ্রমহিলার শ্বশুর ভদ্রলোক আমাকে বকবে কেন? কেন আমাকে উল্টাপাল্টা কথা বলবে? আমি তো তার নাতিদেরই পড়াব। তাহলে সে কি চায় না, তার নাতিরা পড়াশোনা করুক?

আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আপনার কথা।

যাক কয়েকদিন, আমি আপনাকে বুঝিয়ে বলব—ভদ্রমহিলা চলে যায়। যাবার আগে বলে যায়—আর আপনের যহন যা লাগবে আমাকে বলবেন। কোনো সংকোচ করবেন না।

আমি খাওয়া শেষ করে একটা গল্প লিখতে বসি। অনেক রাত পর্যন্ত লিখে ঘুমুতে যাই। সকালে উঠে নাস্তা করে অফিসে চলে গেলাম। আমার আসা যাওয়ার পথটা আপনাদের জানিয়ে দিই। লজিংবাড়ি থেকে নৌকায় দ্বীপ পার হয়ে সিপাহীবাগের রাস্তায় এসে হাঁটতে থাকি। হাঁটতে হাঁটতে খিলগাও চৌরাস্তায় আসি। খিলগাও চৌরাস্তা মানে খিলগাও কলেজের সামনে। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে চলে আসি চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের সামনে। আবুল হোটেলের সামনে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করলে পাওয়া যেত মুড়ির টিন নামের এক অদ্ভুত বাস। যার গায়ের রং ছিল তামাটে সবুজ আর মাথাটা বউয়ের ঘোমটার মতো ঢেউ খেলানো। এখন রামপুরার রাস্তাটা অনেক বড় আর ব্যস্ত, তখন তেমন ছিল না। কারণ, বাস চলাচল করত সদরঘাট থেকে রামপুরা টেলিভিশন পর্যন্ত। সেই বাসে উঠে মালিবাগ মোড় নয়তো মৌচাকে নামতাম। সেখান থেকে বিআরটিসির লাল বাসে চড়ে মগবাজার, বাংলামটর, ফার্মগেট, মানিকমিয়া এভিনিউ, আসাদ গেট হয়ে শ্যামলী। শ্যামলী নেমে আবার হেঁটে বেতার স্টেশনে। যতদূর মনে পড়ে মালিবাগ থেকে শ্যামলীর বাসা ভাড়া ছিল পঞ্চাশ পয়সা। রিকশায় উঠতাম না কখনোই। বাবুগিরি করব রিকশায় উঠে, ভাড়া কোথায়? কয়েক দিন যাবার পর আমি একটু একটু করে আমার অসুবিধা বুঝতে শুরু করলাম। ছাত্রদের দাদা আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকে। আমি বাড়িতে থাকলে ভদ্রলোক আমার রুমের আশেপাশেই খালি গায়ে লুঙ্গি পরে বসে থাকে।

দ্বীপ ভূখণ্ডটি আমার ভীষণ ভালো লাগে। ছুটির দিনে সারাটা দিন লজিংবাড়িতে থাকি। ছাত্রদের সঙ্গে বড়শি দিয়ে মাছ ধরি। বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় ছাত্রদের মা এসে আমাদের সঙ্গে দাঁড়ায়। সঙ্গে বাড়ির অন্যান্য মহিলারাও থাকে। তারা আমার কাণ্ড দেখে হাসে। আগে যারা লজিং থাকত, তারা ছাত্রদের সঙ্গে এমন করে মিশত না। সময় পেলে আমি ছাত্রদের নিয়ে নৌকায় বেরিয়ে পড়ি। বিলের ভেতরে অনেক দূরে চলে যাই। ছাত্রদের সঙ্গে আমার একটা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ওদের কাছে আমি একজন অন্যরকম মানুষ, কারণ আমি লিখি। আমার গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়। ওরা আমার লেখা পড়ে। পত্রিকায় ছাপা আমার নাম দেখে অবাক। ওদের ধারণা ছিল, যাদের লেখা ওরা পড়ে বইয়ে, তারা মানুষ না অন্যকিছু। তারা মাটিতে থাকে না, আসমানে থাকে। ওদের ধারণায় আমি হাসি। এবং লেখালেখির ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। আমি এক অজপাড়াগাঁয়ের মানুষ। ঢাকা শহরের এই দ্বীপটি আমাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। দু-এক রাতে আমি একাই নৌকা নিয়ে বিলে বেরিয়ে পড়ি। বিলে বিলে নৌকা বাই আর হেরে গলায় গান গাই—নদীর এ কূল ভাঙ্গে ও কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা...। পরে জানতে পারি, রাতে বিলে ডাকাতেরা হানা দিয়ে মানুষ মেরে বিলে ভাসিয়ে দেয়। ভয়ে আর রাতে নৌকা নিয়ে বের হতাম না।

অবাক ব্যাপার ছিল, আমার ছাত্রদের বাবাকে দেখি বেশ কয়েকদিন পর। আমি ছাত্রদের কাছে ওদের বাবা সম্পর্কে জানতে চাইলে, বড় ছাত্রটি বলেছিল, ওদের বাবা নারায়ণগঞ্জে চাকরি করে। কিন্তু আমাকে আলাউদ্দিন জানিয়েছিল—আমার ছাত্রদের বাবা নারায়ণগঞ্জেই বেশির ভাগ সময় থাকে।

আমি কারণ জানতে চাইলে আলাউদ্দিন বলে—সে থাহে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে বেশ্যাগো লগে। লোকটা কোনো কামের না। বাউরা একখান।

তার বাবার অনেক জমিজমা ছিল, এখনো আছে কিছু। সেই জমি বিক্রি করে আর টানবাজারে পড়ে থাকে। মজার ব্যাপার, লোকটা এসে তার বাবাকে বললেই বাবা ভদ্রলোক জমি বিক্রি করে ছেলের হাতে টাকা তুলে দেয়। মনে হয়—তার দামড়া ছেলে টানবাজারের কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শিখতে যাচ্ছে। সুতরাং বাবা হিসেবে ছেলেকে তো টাকা-পয়সা দিতেই হয়। তো লোকটা আবলুশ কাঠের মতো কালো। চোখ দুটো লালে লাল—রক্তজবা। চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। আমার বাড়ি কোথায়, কী করি—দু-একটা প্রশ্ন করে লোকটা চলে যায়। ছাত্রদের বাবার সঙ্গে এটাই আমার প্রথম ও শেষ দেখা।

এক দুপুরে ছাত্রদের মা আমাকে নিজেই ভাত বেড়ে দিতে দিতে বলে—ভাই, আপনার অনেক কষ্ট হবে আমার বাড়িতে। কিন্তু আমার অনুরোধ, ছেলেমেয়েদের ছেড়ে যাবেন না। ওরা আপনাকে বড় পছন্দ করেছে।

কেন ছেড়ে যাব? আমি ওদের পড়াচ্ছিতো।

আমার শ্বশুর মানুষটা অন্য রকম।

কী রকম?

আপনাকে পরে বলব। শুধু এই টুকু বলি—আমার বাপের বাড়ির সবাই শিক্ষিত। আমাকে বিয়া দিছে যহন আমি পড়ি টেনে। আমি অনেক চেষ্টা করছি বিয়ের পর লেখাপড়া করার, পারি নাই। আমার স্বামী রাজি থাকলেও শ্বশুর রাজি ছিল না। আমি লেখাপড়া করতে পারি নাই। কিন্তু আমি এহন চাই—আমার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করুক। আমার ছেলেমেয়েরা যদি লেখা পড়া না করে, কোথাও দাঁড়াইতে পারবে না। আমার ছেলেদের কাছে শুনছি—আপনি গল্প লেখেন। আপনি আমার কষ্টটা বুঝবেন। আমি এক সময়ে খুব গল্প-উপন্যাস পড়তাম। ভদ্রমহিলা একটু চুপ থেকে বললেন—আপনার যত কষ্টই হউক, আমার ছেলেমেয়েদের ছাইড়া যাইবেন না।

আমি বুঝতে পারি না, ভদ্রমহিলার ব্যাক্তিগত কষ্ট বোঝার সঙ্গে আমার গল্প লেখার কী সম্পর্ক? আমি অবাক হয়ে মহিলার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। ভদ্রমহিলার চোখে কি জল নেমেছিল? এতদিন পর আর মনে করতে পারছি না। আমি এটুকু বুঝতে পারছিলাম, আমার সামনে মোটামুটি সুন্দরী, কিছুটা বিদুষী যে নারী, তার স্বামী থাকে বেশ্যার বাড়ি। শ্বশুর নিজের জমি বিক্রি করে ছেলের বেশ্যা পালার খরচের টাকা দেয়। ভদ্রমহিলা তিনটি ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথায় যাবে? সে বুঝতে পারে, বেঁচে থাকার জন্য ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াটা জরুরি। তার প্রতি আমার মমতা-মায়া এবং শ্রদ্ধা বেড়ে গেল।

আমি তাকে বলি—আপনি চিন্তা করবেন না। আমি থাকব।

এক বিকালে বাড়ি ফিলে শুনি, বুড়ো একা একা গালি দিচ্ছে। হারামজাদা, কুত্তা, ইবলিশ... আর কোনোহানে জাগা নাই? তোরা দলে দলে আমার বাড়ি আহো ক্যান? হিসাব করলে গালি আমাকেই দিচ্ছে মনে হচ্ছে। গালির আরও বিবরণ এ রকম—হালারা দেশে ভাত পায় না, আমার বাড়িতে জাতক লয়। আর আমার ইজ্জতের ওপর হামলা করে। আমিও বইসা আছি—চোখে একবার দেখলে—কল্লা নামাইয়া দিমু।

বুড়োর এই অদ্ভুত আচরণের ব্যাপারে আলাউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে ও মুচকি হাসতে হাসতে বলে—বুইড়া হারামজাদা মনে করে, তুই হের ছেলের বউয়ের লগে ইটিস পিটিস করতেছিস।

মানে? আমার মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল।

আমি তো এই ঘরে আছি ছয় মাস অইলো। এই ছয় মাসের মইধ্যে দুইজন লজিংমাস্টার এই বাড়িতে আইচে আর গেচে। একজন ছেলো পনেরো দিন আর একজন ছেলো একমাস তিনদিন।

কেন তারা থাকতে পারেনি?

ওই যে কইলাম বুইড়া সন্দেহ করে।

কী সন্দেহ করে?

আলাউদ্দিন তার ছাগলের মতো দাড়িগুলোতে পরম মমতায় হাত বুলাতে বুলাতে উদাস চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—বুইড়ার সন্দেহ হ্যার পুতের বউয়ের লগে লজিং মাস্টারগো পেরেম অয়।

বলিস কী?

আরও উদাস হয়ে যায় আলাউদ্দিন—যা কইতেছি, সত্য কইতেছি। কয়দিন থাক—ভালোমতো টের পাবি।

তুই এতসব আমাকে আগে বলিসনি কেন?

কইলে তুই কি আইতি?

মানে?

একলা একলা এই দ্বীপে আমার ভালো লাগে না। আমি তো বেশি লেহাপড়াও করি নাই। ওয়ান টুর ছেলেমেয়ে পড়াই। এই দ্বীপের বাইরে গেলে আর লজিং পামু না। আর তোর মতো একজন কাছে থাকলে আমার মনে সাহস অয়। ভালো লাগে।

আলাউদ্দিনের কথায় হাসব না কাঁদব, বুঝতে পারছি না। আলাউদ্দিনের সমস্যাটাও বুঝি। মনটা খারাপ হয়ে গেল। শালা, যেখানেই যাই, জীবনটা ক্রমশ জটিল হয়ে যাচ্ছে। সহজে কোনোকিছু হয় না। লজিংটা পেয়ে আমার ভালোই লাগছিল। হাঁটার কষ্ট ছাড়া—সবই ঠিক আছে। বাড়িতে প্রতিমাসে মাকে বেশি টাকা পাঠাতে পারব। মনের ভেতর একটা শক্তি এসেছিল। দ্বীপের পশ্চিম পাশে বসার একটা জায়গা আছে। একা একা বসে বিলের পানির ভেতরে সূর্যাস্ত দেখতাম। রাতে যখন মন খারাপ হয় দ্বীপে হাঁটি। বিলের পানিতে চাঁদের টলটলায়মান দৃশ্য দেখি। আমার দিন রাত আর গল্প লেখা ভালোই চলছে।

ছাত্ররা জানাল, রাতে তাদের মা পিঠা বানাবে। ছুটি দিতে হবে। আমি বললাম—এক ঘণ্টা পড়, তারপরে ছুটি। কিন্তু ছাত্রর মা-র সহ্য হলো না। সে রান্নাঘর থেকে উঠে এসে আমাকে অনুরোধ করে—আজকে এখন ছুটি দিয়ে দেন। কালকে ওরা বেশি করে পড়বে।

আচ্ছা যাও—আমি ছুটি দিলাম। ওরা চলে গেল। আমি বিছানায় শুয়ে মাহমুদুল হকের 'অনুর পাঠশালা' উপন্যাস পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে অনু আর সরুদাসীর সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর ছাত্ররা আমাকে ডেকে রান্নাঘরে নিয়ে গেল। রান্নাঘরে বসেই ছাত্র আর তাদের মায়ের সঙ্গে আমার ফেলে যাওয়া বাড়ির গল্প করতে করতে পিঠা খেলাম। একটু হাসাহাসিও করছিলাম। খাওয়া যখন শেষের দিকে, দেখি পিছনে দাঁড়ানো বুড়ো। তার চোখ থেকে আগুন ঠিকরে বেরুচ্ছে। ছাত্রদের মা বিমুঢ়। ছাত্ররা ভয়ে কম্পমান।

পরিস্থিতি সহজ করার জন্য আমি বললাম—দাদা, আসেন পিঠা খান।

আমার দিকে শুয়োরের মতো তাকিয়ে থাকতে থাকতে লোকটা এক দলা থুতু ফেলে চলে যায়। ফিসফিসিয়ে ভদ্রমহিলা বলে—স্যার, আপনি আপনার ঘরে চলে যান। আমার শ্বশুড়ের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না।

ঠিক আছে।

আমি রান্নাঘর থেকে চলে এলাম। রাতে ঘুমালাম। সকালে অফিসে চলে গেলাম। ফিরলাম সন্ধ্যার একটু আগে। নৌকা থেকে দ্বীপে নেমেই মনে হলো, দ্বীপের আবহাওয়ায় আগুন লেগেছে। সব কিছু কেমন থমথম করছে। বাড়ির পেছন থেকে কর্কশ গলায় বুড়োর নিকৃষ্ট গালিগালাজ ভেসে আসছে। আমি উঠোনে ঢুকেই দেখতে পেলাম, আমার বিছানা, বইপত্র উঠোনে পড়ে আছে এলোমেলো হয়ে। কয়েকটা বইয়ের পৃষ্ঠা বাতাসে ফরফর করছে। পুরো পরিস্থিতিটা দেখে বুঝতে পারলাম—এখানে এই বাড়িতে থাকা আর সম্ভব নয়। কষ্ট লাগল আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয় বইগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে বাতাসে উড়তে দেখে। ছাত্ররা ভয়ে জড়োসরো হয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। ওদের মা উঠোনের এক কোনায় মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদছে। আশপাশের বাড়ির মহিলা বাচ্চারা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে কৌতুক দেখছে। যা বোঝার এক লহমায় বুঝে গেলাম। আমার হাতে সময় কম। এখনই ভাগতে হবে। দ্বীপের ওপারে একটা মেসে আমার গ্রামের একজন বড় ভাই নবী নেওয়াজ থাকে। রাত হবার আগেই তার কাছে পৌঁছুনোই উত্তম। নইলে রাতে কোথায় থাকব? এই বাড়িতে আর এক মুহূর্তও থাকা সম্ভব নয়। বুড়ো গালাগাল দিয়েই যাচ্ছে।

বড় ছাত্রটাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বই, বিছানাপত্র গোছাতে থাকি। চারপাশের লোকজন নারী-পুরুষ দেখছে আমার বই গোছানো। কেউ হাসছে। কিন্তু তাদের হাসি দেখার সময় নেই। আমাকে দ্রুত ভাগতে হবে। আলাউদ্দিনকে খুঁজলাম। ও এখনও এসে পৌঁছায় নাই। সুর্য ডুবছে প্রায়। দ্বীপের সবুজ গাছপালায় শেষ বিকেলের হলুদ আলো আছড়ে পড়ছে। ছাত্রদের মা কাঁদছে। আমার কী করার আছে? ছেলেটার কাঁধে বিছানা দিয়ে আমি বই নিয়ে নৌকার দিকে ছুটলাম। বড় ছেলেটা নৌকা নিয়ে এসেছে। নৌকার মাঝখানে পাটাতনে আমার বই বিছানা রাখা। বাড়ির সবাই এসে দাঁড়িয়েছে পাশে। আমি নৌকায় উঠেছি। আমার একটাই লক্ষ্য, সামান্য আলো থাকতেই ওই পারে পৌঁছে নবী নেওয়াজকে খুুঁজে বের করতে হবে। রাতের আশ্রয় জোটানো সবচেয়ে জরুরি। ছাত্রদের মা নৌকার পাশে, মাটির ওপর দাঁড়ানো। তার চোখ-মুখ থমথমে। প্রায় ত্রিশ-চল্লিশজন মানুষ আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। মানুষজনদের বেশির ভাগ নারী আর শিশু। আমি বিষণ্ন, বিপন্ন। রাতের খাবার, রাতের আশ্রয়... মাথা আমার ভোঁ ভোঁ করছে।

ভাই! ভদ্রমহিলা আমাকে ডাকল।

সন্ধ্যার শেষ লগ্ন। দেখতে পাচ্ছি বিলের বর্ণিল আলোয় পশ্চিমে সূর্য ডুবে যাচ্ছে। দ্বীপের পাখিরা কিচিরমিচির করছে। দূরে আলো-আঁধারের গাঢ় ছায়া। আমাকে আমার কাছে খুব অসহায় লাগছে। আলাউদ্দিনকে পেলে ওর মাথা চিবিয়ে খেতাম।

ভাই! আপনি আমাকে ভুল বুঝবেন না—আমাকে বলছে ভদ্রমহিলা। আর আপনার সঙ্গে দেখা হবে না। তবে আমার কথা—আপনে লেখা ছাড়বেন না। যেখানেই যেভাবে থাকবেন লেখা চালাইয়া যাইবেন।

আমি কিছু না বলে মহিলার দিকে তাকিয়ে রইলাম। বড় ছাত্রটি নৌকা ছেড়ে দেয়। আমি নৌকার গলুইয়ে দাঁড়িয়ে দ্বীপ, দ্বীপের গাছপালা মানুষজন দেখি শেষবারের মতো। বুকটা আমার ভেঙে যাচ্ছে—আমার খুব প্রিয় হয়ে ওঠা জায়গা থেকে চলে যেতে হচ্ছে। চারদিকে শোক থৈ থৈ করছে। দ্বীপ, দ্বীপের মানুষ, গাছপালা দেখতে দেখতে আর দেখি না। নৌকা এপারে লেগেছে। আমি বই আর বিছানা দুই হাতে নিয়ে সিপাহীবাগের রাস্তায় ওঠি। আমি ছাত্রটার দিকেও ফিরে তাকাই না। আমাকে আশ্রয় খুঁজতে হবে।

প্রিয় সুধী,

ঘটনা শেষ। শেষ থেকে আবার বলছি—সেই ভদ্রমহিলা, দ্বীপ আমার করোটির ভেতরে অনেকদিন ছিল না। ক্রোধে আমি সেই দ্বীপ, বুড়ো, ছাত্র, তাদের মা—সবাইকে ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন ধরে সেই দ্বীপ, সেই ভদ্রমহিলা আমার স্মৃতির ভেতরে হানা দিচ্ছে। আমার মনে পড়ছে, আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি—সেই গাঢ় সন্ধ্যা, বিলের টলমলো হলুদ রং পানি, সেই মানুষজন, সেই নৌকা। সন্ধ্যার সেই প্রগাঢ় ছায়া আর একজন অসাধারণ ভদ্রমহিলার সেই কথা—ভাই, আপনে লেখা ছাড়বেন না।

আমি জানি, সেই বাড়ি, সেই দ্বীপে আর কোনোদিন আমার যাওয়া হবে না। মানুষ মাত্রই স্মৃতির প্রতারক। বুকের গভীরে সেই স্মৃতি, সেই মহিলা জাগরুক থাক। আর আমার আজকের এই পুরস্কার সেই নারীকে উত্সর্গ করছি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
8 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :