The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

জীববৈচিত্র্য

মরা বাঘও কোটি টাকা

হোসেন সোহেল

খোলপেটুয়া নদীতে ট্রলারের ঘট ঘট আওয়াজ তুলে ওরা এগিয়ে যাচ্ছিল। আমরা ৫০ ফুট দূরত্ব রেখে পিছু পিছু চলতে থাকলাম। একটি পূর্ণাঙ্গ বাঘের মরদেহ নিয়ে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এগিয়ে চলেছে বনকর্মীসহ টাইগার প্রজেক্ট ও পুলিশ সদস্যদের একটি দল। ২০১১ সালের ১২ মার্চের ঘটনা এটি। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের গোলাখালি থেকে প্রথম খবরটি দেন ফজলু নামের একজন। এরপরই একের পর এক খবর আসে, বাঘ পাশের মালঞ্চ নদী পার হয়ে গোলাখালি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। আমি 'জলে-জঙ্গলে'র দলটি গুছিয়ে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বেরিয়ে পড়লাম।

অন্ধকারে পথ এগিয়ে যায়, আর কত তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারব শ্যামনগরে সেই চিন্তাই করছিলাম, আর চোখের সামনে ভেসে উঠছিল হাতে লাঠি-সোটা, কুড়াল-খুন্তি নিয়ে ছোটাছুটি করে বেড়ানো কিছু হিংস্র মানুষের মুখ।

সুন্দরবনের গোলাখালি থেকে ফজলু জানান, বাঘটি জনৈক অরবিন্দের গোয়াল ঘরে ঢুকে ছয়টি ছাগল খেয়ে ফেলেছে। আমি নিশ্চিত হলাম, বাঘটি আর কোনোভাবে গোলাখালি গ্রাম থেকে বের হতে পারবে না। অদক্ষ বনকর্মী আর টাইগার প্রজেক্টের কর্মীরাও পারবে না জনগণের রোষানল থেকে বাঘের প্রাণ বাঁচাতে।

আমাদের গাড়ি ততক্ষণে মাগুরা ছেড়ে এসেছে। সহযোগী রোমেল ও আমি—কারোর চোখেই ঘুম নেই। গাড়ি চালক আসাদ বুঝতে পারেন, আমাদের কাজটি একটু বেশি জরুরি। তাই গতি একটু বাড়িয়ে দেন। হঠাত্ ফোন—বাঘটি মারা পড়েছে। চলার পথেই জানতে পারি, বনবিভাগের লোকজন রাতারাতি বাঘের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যেতে চায়। ফোনে বনকর্তাদের অনেকভাবে অনুরোধ করলাম, মৃত বাঘটি কিছু সময়ের জন্য রাখতে, আমরা কিছু ছবি নেব। তাঁরা রাখবেন কি না, জানি না। তবে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বনকর্তা জহিরউদ্দীন ও এসিএফ তৌফিকুল আশ্বাস দিলেন।

সকাল ছয়টা, দিনের আলো ফুটছে। ঠান্ডা বাতাস সরিয়ে দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যায় আমাদের গাড়ি। আর ঘণ্টাখানেক লাগবে। সকাল সাতটা, আমরা তখন সাতক্ষীরা অতিক্রম করছি। এসিএফ সাহেব কথা দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি, গোলাখালি গ্রাম থেকে মৃত বাঘটিকে নিয়ে বন বিভাগের দলটি ট্রলারে যাত্রা শুরু করে দিয়েছে। শ্যামনগরের ফজলু ও সাংবাদিক সালাউদ্দিন বাপ্পীর আগে থেকে ঠিক করা ট্রলারে উঠেই ছুটতে থাকলাম বাঘের মরদেহ বহনকারী ট্রলারের দিকে। একসময় ট্রলারটির দেখা পেয়ে যাই। বাঘের মৃতদেহ বহনকারী ট্রলারটির গন্তব্য কলাগাছি বন অফিস। গত সাত বছরের মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা আরও তিনটি বাঘ মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে কলাগাছি বন অফিসেই। বনবিভাগ মিডিয়াকে এড়িয়ে তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাচ্ছিল কেন? প্রশ্নটি এখনো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

ঘণ্টাখানেক খোলপেটুয়া নদীর পানিতে আলোড়ন তুলে ট্রলার একসময় থেমে যায় কলাগাছি বন অফিসের কাঠের জেটিতে। রোমেল আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল।

নদীতে আমাদের থেকে বাঘের মরদেহ বহনকারী ট্রলারটি যথেষ্ট দূরে দূরে থাকায় এতক্ষণ মৃত বাঘটি আমাদের চোখে পড়েনি। এবার কাছে যেতে চোখে পড়ল। চোখে পড়তেই ধক করে ওঠে হূদপিণ্ড! এত বড় একটি বাঘ! চকচকে ডোরাকাটা দাগ আর নেই। মালঞ্চ নদীর তীরে পিটিয়ে হত্যা করা বাঘটির সারা গায়ে কাদা মাখা। মাথায় জমাট বাধা কালো রক্ত। চোখের সামনে এভাবে বাঘটিকে পড়ে থাকতে দেখে বুকটা শূন্য হয়ে এল। মৃত বাঘটিকে সামনে রেখে উপস্থিত সবাই একটার পর একটা ছবি তুলতে থাকল। হাজার হলেও 'রয়েল বেঙ্গল টাইগার'।

৭ ফুট ১০ ইঞ্চি—বন্য বাঘটির দৈর্ঘ্য মেপে জানালেন বনবিভাগের এক কর্মী। চারপাশে একবার চোখ বুলালাম। শ্যামনগর থানার ৭-৮ জন পুলিশ সদস্যসহ উপস্থিত জনা তিরিশেক মানুষ আমরা মৃত বাঘটি দেখছি। বনবিভাগ কর্মকতা তৌফিকুল ইসলামের সাথে চোখচোখি হলো; আমাদের দেখে তাঁর ভুরু একটু কুঞ্চিত! সাতক্ষীরা সুন্দরবন এলাকাতে বাঘ মারা গেলে একজন পশু চিকিত্সক বাঘের পোস্টমর্টেম করতে আসেন। এ পর্যায়ে ডাক্তার অনুপস্থিত। জানলাম, ডাক্তার সাহেব আসছেন। রোমেল ক্যামেরায় মৃত বাঘটির ডিটেইল ছবি নিতে থাকল।

ডা. স্বপন কুমার রায় একজন পশু চিকিত্সক। তিনি এসে জানালেন, বাঘটির বয়স ছিল আনুমানিক বারো থেকে তেরো বছর। এটি স্ত্রী বাঘ (বাঘিনী)। ক্ষয়ে যাওয়া বাঘটির দাঁত দেখে ডাক্তার সাহেব জানালেন, বাঘটি শিকার করতে না পারায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে এসেছিল। সবাইকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ডাক্তার সাহেব বাঘটির পোস্টমর্টেমের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিলেন। আগে থেকে চাকু হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন আরম্ভ করলেন চামড়া ছিলার কাজ।

বাঘের চামড়া ছিলা চারটিখানি কথা নয়। ডোরাকাটা এই চামড়ার রাজকীয় মহিমা দেখেই ইংরেজ আমলে এদের নাম রাখা হয় 'রয়েল বেঙ্গল টাইগার'। আমাদের গৌরব 'বেঙ্গল টাইগার'সহ সারা বিশ্বে ডোরাকাটা বাঘের সংখ্যা কমে আজ ৩২০০টি অবশিষ্ট রয়েছে। ২০০৪ সালে একটি জরিপ থেকে বেরিয়ে আসে আমাদের সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি। সরকারি হিসাব অনুসারে ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল অর্থাত্ গত সাত বছরেও সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা এক জায়গাতেই স্থির হয়ে আছে। বনবিভাগের নথি অনুযায়ী ২০০৪ থেকে ২০১১ পযর্ন্ত ১৬টি বাঘ বিভিন্ন কারণে মারা গেছে। ষোলটি বাঘ বাদ দিয়ে সরকারি সে-হিসেবে ৪৪০টি বাঘের সংখ্যা বর্তমানে ৪২৪-এ নেমে আসার কথা। কিন্তু সাত বছরে বাঘের সংখ্যা কমেও না বাড়েও না! কেন বাঘ গণনা হয় না?—এমন প্রশ্নে বন কর্তাদের সরাসরি উত্তর—বন বিভাগের টাকাপয়সা নাই।

যা-ই হোক, রাজকীয় চামড়া খুলে ফেলে বাঘের মাংসপিণ্ডের পাশেই মেলে রাখা হলো চামড়াটি। এবার কিছুটা বোঝা গেল, কী নির্মমভাবে ছয়টি ছাগল হত্যার দায়ে বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকদের কী হবে?—এমন প্রশ্নের উত্তরে তৌফিক সাহেব বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা আইন অনুসারে ঘাতকদের চরম শাস্তি প্রদান করা হবে। চামড়া খুলে ফেলার পর, পড়ে থাকা মাংসপিণ্ডের কাছে সবাই এগিয়ে আসলেন। কেটে ফেলা পুরো লিভারটি হাতে নিয়ে ডাক্তার সাহেব বললেন, দেখুন এটাতে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন রয়েছে। বলেই ডাক্তার সাহেব কেটে ফেলা লিভারটি তাঁর সঙ্গে আসা সহযোগীর ব্যাগে রাখলেন। সবাই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাক্তার সাহেবের দিকে। এবার ফুসফুস কেটে নিয়ে ডাক্তার বললেন—এটা হলো ফুসফুস, এটাতেও নেকরোসিস হয়েছে। বলেই ফুসফুসটি ব্যাগে রাখলেন। প্রশ্ন করেই বসলাম, কেন বাঘের ফুসফুস ব্যাগে নিলেন? উত্তর, এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। রোগ নির্ণয়ের জন্য এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষাগারে ঢুকানো হবে। ডাক্তার থেমে থাকলেন না বাঘের নিতম্বের প্রায় কেজি দুয়েক মাংসও কেটে নিলেন। এটা কেন? উত্তরে জানালেন, এটাও নাকি পরীক্ষার কাজে লাগবে। আমি ভীষণ অবাক হলেও কাউকে বুঝতে দিলাম না।

এর মাঝেই প্রায় আট ফুট একটি গর্ত করেছেন দুজন বনকর্মী। হঠাত্ চাপা শোরগোল, ভাই আমাকে লেজ থেকে, আমাকে মাথা থেকে, মাথা ঘুরাতেই দেখি এক অন্যরকম দৃশ্য। প্রায় পলক না ফেলেই দেখতে থাকি চুপিসারে কেউ কেটে নিচ্ছে লেজ, কেউ মাংসপিণ্ড, কেউ আবার নাভির অংশ। আর সবাই মাটিতে ফেলে রাখা বাঘটিকে ঘিরে রেখেছে যাতে বন কর্তারও চোখে না পড়ে বিষয়টি। আমি দূরে সরে থাকা বনকর্তার দিকে তাকিয়ে দেখি আসলে তিনি সবই দেখছেন। অন্যদিকে যাঁরা বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাংস সংগ্রহ করছেন, তাঁদের মধ্যে আগত সব পুলিশ সদস্য, বনকর্মী এমনকি টাইগার প্রজেক্টের কোনো কর্মীও বাদ পড়েননি। আমাকে একজন চুপিসারে বলার চেষ্টা করলেন, ভাই, আপনার একটু মাংস লাগবে কি? আমি হেসে বলি, আমি নিয়ে কী করব? রোমেলকে কিছুই বলতে হয়নি। ঘুমহীন চোখে সে ক্যামেরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছবি নিতে থাকে, বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মাংস লুটপাটের দৃশ্য।

লোকটি পেশায় একজন ট্রলার চালক হলেও আমাকে একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলেন, বাঘের মাংস আমার বউ নিতে কইছিলো। কারণ, বাঘের মাংস দিয়ে সব রোগ সারানো যায়। কীভাবে রোগ সারানো যায় প্রশ্নের উত্তরে—এগুলো রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে অনেক দিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। অল্প অল্প করে দুধের সাথে খাইলে অনেক শক্তি পাওয়া যায়। ট্রলার চালক আরও একটি সত্যি কথা প্রকাশ করলেন, আমি তো অল্প পাইলাম ওরা যে পরিমাণে নিছে তাতে অনেক টাকা লাভ হবে। এক কেজি মাংস প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। অনেক কবিরাজ এই মাংস কেনার জন্য সারা বছর তাকায়ে থাকে। সারা বছর তাদের রোগ সারাতি হয় না ! বাঘ তো আর সব সময় মরে না। কথা বলতে বলতেই এবার দেখলাম, বাঘের গায়ে আর কোনো মাংস অবশিষ্ট নেই। মিডিয়া দেখে একটু তোড়জোড় শুরু করলেন তৌফিক সাহেব। এ কাজ কে করল? কিন্তু কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর। সবার পকেট ও ব্যাগে লিভার, ফুসফুস, মাংস সবই তো চোখের সামনেই লুট হয়ে গেল। সে মুহূর্তেই ব্যবসা হয়ে গেল প্রায় কয়েক লাখ টাকার। এই প্রশ্নের উত্তর কী? এমন প্রশ্নের উত্তরের আশা না করে, চেয়ে চেয়ে দেখলাম শুধু বাঘের কঙ্কালটি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে পাশের আট ফুট গর্তে ফেলে দিলেন দুজন লোক।

ছাগল হত্যার দায়ে নিহত বাঘটি যে ছাগল খেয়ে ফেলেছে, তার কি কোনো প্রমাণ আছে? আমার কথা শোনে ডাক্তার বললেন পাকস্থলী ফুটো করে দাও। ডাক্তারের নির্দেশে পাকস্থলী ফুটো করে দিলে দেখা যায়, ভেতরে শূন্য! পাকস্থলি থেকে ফুস করে বাতাস বের হলো, আর কিছুই না। শূন্য পেটে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আজ লোকালয়ে এসে নির্মমতার শিকারে মাটি চাপা পড়ল। অনেক শক্তপোক্ত করেই মাংসহীন কঙ্কাল পুঁতে রাখা হলো। বাঘের জীবন অবসান ও সেই সঙ্গে মাটি চাপা দেওয়ার দৃশ্য দেখে ফেলার কারণে অন্য কয়েকজনের মতো আমাকেও সরকারি ইতিহাসের পাতায় স্বীকারোক্তি দিতে হলো। তাতে লেখা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার সঠিকভাবেই 'চিরানিদ্রায়িত' হয়েছে। আমি ঠিকই স্বাক্ষর করলাম, কিন্তু ভিডিও টেপে থেকে গেল বাঘটিকে মাটি চাপা দেওয়ার প্রকৃত ইতিহাস।

দুই

চামড়া তো বটেই সেই সঙ্গে বাঘের নখ থেকে গোঁফ—সবই অনেক দামি। আন্তর্জাতিক চোরাই বাজারে চীনসহ বিভিন্ন দেশে বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ লাখ লাখ টাকায় কেনাবেচা হয়। ওই বাজারে আমাদের দেশ থেকেও পাচার হচ্ছে বাঘের হাড়-চামড়া।

'কলাগাছিয়া বন অফিসের মাটির নিচ থেকে বাঘের কঙ্কাল লাপাত্তা'—এরকম একটি খবরের সূত্র ধরে হাজির হওয়া সাতক্ষীরার কলাগাছিয়ায়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বললেন, হাতি বাঁচলে লাখ টাকা, মরলেও লাখ টাকা, এই গল্প শুনেছি এখন শুনছি মৃত বাঘ কোটি টাকা!

সন্ধান মিলেছে, গত দশ বছরে নানাভাবে মারা যাওয়া ২৬টি বাঘের কবরে আর ওদের হাড়গোড় নেই। তা গেল কোথায়? সুন্দরবন ও প্রাণীবিশেষজ্ঞরা জানান, স্তন্যপায়ী প্রাণীর কবর ও কবরে থাকা হাড়-গোড় নিয়ে কোনোধরনের গবেষণা আজও হয়নি, অবশ্য মাটির নিচে স্তন্যপায়ী প্রাণীর হাড় হাজার বছর পর্যন্ত প্রায় অক্ষত অবস্থায় থাকে বলে জানালেন প্রাণিবিদ ডক্টর গাজী আসমত, ডক্টর মোস্তফা ফিরোজ ও প্রত্নতত্ত্ববিদ ডক্টর সীমা হক।

সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী রেঞ্জ অফিসে দায়িত্বরত সহকারী বন সংরক্ষক তৌফিক সাহবের উল্টো সুর। বললেন, মাটির নিচে হাড় থাকবে না কেন? মাটির নিচেই আছে। কখনো দেখেছেন তা আছে কি না? সাফ কথা তৌফিকের, ওসব দেখার কী আছে! এ জীবনে এরকম কথা শুনি নাই। শুধুমাত্র বুড়িগোয়ালিনী রেঞ্জের কলাগাছি বন অফিসে চারটি মৃতবাঘ মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো এখনো মাটির নিচে আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় মাটি খুঁড়ে দেখা। কিন্তু তার জন্য উচ্চপর্যায়ের অনুমতি দরকার।

গত দশ বছরে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে ১৪টি বাঘ মারা পড়ে। তথ্যানুসারে চলতি বছরের একটি বাঘসহ চারটি বাঘের কবর রয়েছে কলাগাছিয়া বন অফিস চত্বরে। তবে কোথায় মৃত বাঘের কবর? বলতে পারলেন না কলাগাছি বন অফিসে দায়িত্বরত আবুল কামাল। তিনি বললেন, সিডর বা আইলাতে কবর-টবর কোথায় ভেসে গেছে তা কে জানে? তার সঙ্গে একই সুরে কথা বললেন, কলাগাছির সব বনকর্মী। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, সিডর, আইলা জলোচ্ছ্বাসসহ সব দুর্যোগ সুন্দরবনের মাটি ওলট-পালট করলেও কঙ্কালগুলো ভেসে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং কঙ্কালগুলো মাটির আরও গভীরেই চলে যাওয়ার কথা। তাহলে তো বাঘ-হাড় মাটির নিচেই থাকার কথা, এবার নিরুত্তর বনকর্মীরা।

'টিএমসি' ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন অব চীন। প্রায় ২ হাজার ৩০০ শ বছর থেকে ঐতিহ্যবাহী চীনা টোটকা চিকিত্সায় বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার হয়ে আসছে। মানব শরীরের চিকিত্সায় ওষুধ বানাতে ব্যবহার হয় বাঘ। যদিও আধুনিক বিজ্ঞান এসবে আমল দেয় না।

চীনের মতো একই বিশ্বাস রয়েছে হংকং, জাপান, কোরিয়া ও তাইওয়ানে। এনভায়রনমেন্ট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা সংক্ষেপে ইআইএ'র তথ্য মতে, বিশ্বে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য প্রতিদিন একটি করে বাঘ হত্যা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এক কেজি বাঘের হাড়ের গুঁড়ো প্রায় এক হাজার ৭০০ ডলার বা লাখ টাকার বেশি। মাটির নিচে থাকা একটি বাঘের কঙ্কালের ওজন বয়স অনুসারে বিশ থেকে ত্রিশ কেজি পর্যন্ত হয়। এই হিসাবে একটি বাঘের কঙ্কালের দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চলতি বছরে ১৭ মার্চ শরণখোলার বাংলাবাজারের জামাল ফকিরের কাছ থেকে ৩২ কেজি বাঘের হাড়, বাঘের চামড়া ও মাথা আটক হয়। শুধু হাড় নয়, বাঘ হত্যার পর তার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশেষ করে চোখ, গোঁফ, পায়ের নখ, দাঁত ও যৌনাঙ্গ, এমন কি রক্ত পর্যন্ত ব্যবহার হয় টিএমসি'তে। এ কারণে বাঘের মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হলেও মাটির নিচ থেকে তা দ্রুত উধাও হয়ে যায়।

ইতিমধ্যে সুন্দরবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত শরণখোলা। বাঘ হত্যা করার পর এই এলাকা দিয়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যায় বাঘের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং তারপর যায় আন্তর্জাতিক বাজারে। স্থানীয়রা এসব জানলেও রেঞ্জ অফিস থাকে অন্ধকারে, অথবা অন্ধকারে থাকার ভান করে। শুধু তা-ই নয়, শরণখোলা রেঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জার শহিদুল হক জানেন না অফিস চত্বরে নিহত বাঘের কবরটি কোন স্থানে। শুধু তা-ই নয়, করমজলে একটি বাঘের হাড় দর্শকদের জন্য সাজিয়ে রাখা হলেও চারটি বাঘের কঙ্কালের কোনো সন্ধান নেই। কেন নেই? উত্তর মেলেনি।

'বাঘ-হাড়ের কি অনেক দাম?' বললেন বন্যপ্রাণি সার্কেলের প্রধান তপন কুমার দে। যত্রতত্র বাঘের কবর দেওয়া হলেও পরে আর কোনো খবরদারি থাকে না বলে তিনি জানান। যদিও তিনি মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে মারা যাওয়া বাঘের কঙ্কালগুলো তুলে এনে সংরক্ষণ করা দরকার। কিন্তু সন্দেহ থেকেই যায় কঙ্কালগুলো এখনো কি মাটির নিচে খনন কাজের জন্য অপেক্ষা করছে কি না? সেটিই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূল্যবান বাঘের কঙ্কাল মাটি থেকে তুলে এনে জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক। সেই সঙ্গে এই কঙ্কালগুলো কোথায় রাখা হবে অথবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করা হবে কি না, সে-বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।

তিন

বাঘ বাঁচাতে না পারলেও বিভিন্ন সময় মৃত বাঘের চামড়া উদ্ধারে প্রশংসার দাবি রাখে বাংলাদেশ বনবিভাগসহ দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া নিজ হাতে স্পর্শ করার সৌভাগ্য আমার কখনো হয়নি। জীবন্ত নয় তাই মৃত চামড়া স্পর্শ করার তাড়নায় এবার ছুটলাম সুন্দরবনে। প্রথমেই যাই সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বনকর্তার কাছে।

২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে ১২টি ও পশ্চিম বিভাগে ১৪টি বাঘ মারা যায়। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে চোরা শিকারিরা বাঘ হত্যা করে বেশি। অন্যদিকে বাঘ-মানুষের সংঘর্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মারা পড়ে বেশির ভাগ বাঘ। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা পড়ে কয়েকটি বাঘ।

আর একটি হিসাবে ১৯৯০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে ২৪টি বাঘের চামড়া। চলতি বছরেও ১৭ মার্চ শরণখোলার বাংলাবাজার থেকে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড আটক করে বাঘের তিনটি মাথা ও চারটি চামড়াসহ অনেক হাড়গোড়। চলতি বছরে আটক চারটি চামড়া বাদ দিয়ে গত বিশ বছরে বনবিভাগের কাছে সংরক্ষিত আছে আটক ২৪টি বাঘের চামড়া। বিশ্ব বাজারে বর্তমানে যার মূল্য কমপক্ষে চার কোটি ৮০ লাখ টাকা। একেকটি পূর্ণাঙ্গ বাঘের চামড়ার বিনিময়ে আর্ন্তজাতিক বাজারে কমপক্ষে বিশ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

যা-ই হোক, চামড়া স্পর্শের কাতরতা নিয়ে মুখোমুখি হলাম সুন্দরবন পূর্ববিভাগের বাগেরহাট বনকর্তা মিহির কুমার দে-র কাছে। সরল বিশ্বাসে তিনি খুলে দিলেন চামড়া রাখার আলমারিটি। সংরক্ষিত কিছু হরিণের চামড়ার সঙ্গে পাঁচটি বাঘের চামড়া চোখে পড়তেই মনটা ভারী হয়ে গেল। চকচকে মৃত বাঘের চামড়া যদি এত রাজকীয় হয়, তাহলে জীবন্ত বাঘ প্রাণিজগতে কতখানি উচ্চবর্গীয় হতে পারে তা বলাই বাহুল্য। বনকর্তা জানালেন, তাঁর কাছে ১২টি বাঘের চামড়ার রেকর্ড থাকলেও দুটি চামড়া পচে যাওয়াসহ দুটি চামড়া ট্যানারিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ অবস্থায় রয়েছে। সে অর্থে ৮টি চামড়া থাকার কথা থাকলেও দেখা যায় ৫টি চামড়া। বাকি তিনটি বাঘের চামড়ার বর্তমান বাজার মূল্য কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা।

এবার আগ্রহ বাড়িয়ে নিয়ে ছুটে যাই সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী বন অফিসে। উপস্থিত এসিএফ তৌফিক সাহেব জানালেন, মিডিয়ার সাথে কথা বলতে তার অনুমতি লাগবে। এসিএফ সাহেবেরই বা দোষ কী! উচ্চ আসনে বসা কর্তাদের নিয়ম মেনেই তো তাদের চলতে হবে। তাই ফোন করি বিভাগীয় বনকর্তা জহিরউদ্দীন সাহেবের কাছে। ফোনে খুলনার বনকর্তা জানালেন, তার কাছে সব চামড়া সংরক্ষিত আছে কিন্তু তিনি অনেক ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন। তিনি বললেও পরে তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তার অধীনে ১৪টি বাঘের চামড়া খুলনার বন অফিসেই রয়েছে। এই সত্যতা অন্ধকারে থাকলেও মনটা খচ করে উঠল। বাঘ হত্যায় কত নির্মমতা ছিল তা চামড়াগুলো দেখলে হয়তো বোঝা যেত, কিন্তু কোনোভাবে চামড়া আর দেখা হলো না।

যা-ই হোক, বিষাদ মনে চিন্তা করি চামড়াগুলোর শেষ গন্তব্য কোথায়? নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বন কর্মচারী জানায়, চামড়াগুলো সংরক্ষণ করা হয় আরব দেশের শেখ বাদশাদের জন্য। তারা বাঘের চামড়া পেলে মহাখুশি হোন। সেই সাথে এদেশের অনেক গুণী মানুষের বাড়িতে বাঘের চামড়া ঝুলিয়ে অহংকার করতে দেখা যায়।

প্রতি বছরে বন বিভাগের কর্তা-কর্মচারীদের বদলির কারণে কোন চামড়া কোথায় যায়, কে বলতে পারে? তারপরও ছুটতে থাকলাম। এবার সুন্দরবন এলাকা ছেড়ে সরাসরি বাঘ রক্ষা কর্তাদের কাছেই গেলাম। একের পর এক ফোন দিয়েও বর্তমান প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক আহমেদ সাহেবের নাগাল পেলাম না। একজন সাংবাদিক হিসেবে বাঘের চামড়ার সঠিক তথ্য নিতে যাওয়া আমার জন্য ভুল ছিল নাকি সঠিক তথ্য প্রদানে তাদের কোনো কারচুপি আছে।

গত ২০ বছরে শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে যে ২৪টি বাঘের চামড়া উদ্ধার হয়েছে, তথ্য অনুসারে সেগুলো থাকার কথা ঢাকার বন অফিসে। প্রধান বন সংরক্ষকের দেখা না পেয়ে বন্যপ্রাণী সার্কেলের প্রধান ড. তপন কুমার দে-র কাছে গেলাম। কয়টি চামড়া আছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, সব চামড়াই তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। আমি আবারও বলি, সংখ্যায় কতগুলো হতে পারে? এবার তার উত্তর আসে ৬০টি চামড়া তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। আমার হিসাবে কিছুটা গোলমাল হলো ৬০টি চামড়ার কথা বলাতে। তাই ৬০টির পরিবর্তে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক শুধুমাত্র ২৪টি চামড়াই দেখতে চাইলাম। এবার তিনি শুরু করলেন টালবাহানা। বোঝা গেল, তার হিসাবে গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। আমি চামড়া দেখার আশায় ঠায় বসে থাকলাম। এক পর্যায়ে তিনি রাজি হলেন।

হেঁটে চলেছি আগারগাঁও বন অফিসের একটি করিডোর ধরে। চামড়া সংরক্ষিত স্থানের মূল ফটকে পৌঁছানোর আগে ভাবছিলাম অন্যকিছু। এত চামড়া একবারে দেখার সৌভাগ্য জীবনে এটাই প্রথম হবে। আলমারি খুলতেই চোখ ছানা-বড়া হয়ে যায়। কিছু হরিণের চামড়ার সাথে মাত্র দুটি বাঘের চামড়া আমার চোখে পড়ল। এরপরও আমি কক্ষের আশপাশে চোখ বুলাই আর কোনো আলমারি রয়েছে কি না, যেখানে থাকতে পারে আরও কিছু চামড়া! না আর পাওয়া গেল না কোনো আলমারি। বের হওয়া দুটো বাঘের চামড়ার একটিতে লাল কাপড় দিয়ে সেলাই করা। দেখলেই বোঝা যায়, এটি রাজপ্রাসাদের দেয়ালে অনেক মানানসই।

আমার আর কোনো প্রশ্ন করতে হয়নি ড. তপন কুমার দে-র কাছে। তাঁর কোনো উত্তর ছিল না আমাকে দেবার। তারপর নিরস মনে বন অফিস ত্যাগ করার আগে আরও একবার চেষ্টা করলাম নথিপত্র সংরক্ষণকারীদের কাছে। আপনাদের কাছে উধাও হওয়া বাঘের চামড়ার কোনো কাগজপত্র বা রেজিস্টার আছে কি না। উত্তরে কেউ বললেন, 'আমরা নতুন এসেছি' আবার কেউ বললেন, 'আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না'।

বন অফিসের দুটি বাদে ২২টি বাঘের চামড়ার মূল্য কমপক্ষে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে না দেখা ৩টি চামড়ার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। আর্ন্তজাতিক বাজারে এই ২৫টি বাঘের চামড়ার মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা। সেই সাথে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে ১৪টি চামড়া দেখতে না পাওয়ার হিসাব বাদ থেকে গেল। বাঘের চামড়াগুলো একদিনে নয়, খোদ বন অফিস থেকেই বছরে বছরে হাত বদল হয়ে উধাও হয়েছে দেশ ও দেশের বাইরে। বর্তমান অনেক বনকর্তা এ বিষয়ে জড়িত নয়, তা বলাই যায়। তারপরও এসব চামড়ার হিসাব আগের বনকর্তাদের কাছ থেকে বুঝে না নেওয়ার কারণে তারাও একই চক্রে সামিল হবেন—এটাও স্বাভাবিক। আর তাই বাঘের চামড়া যে বিভাগ থেকে উধাও হয়, সে বিভাগ আগামী দিনে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প কেমন করে পরিচালনা করবে, সরকারের সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 9 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :