The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

গল্প

জোড়া তালগাছ

রুহুল আমিন বাচ্চু

জিরানী বাজার? হ্যাঁ বলেন—লিখছি। কাশিমপুর রাস্তা দিয়ে মোল্লাপাড়া শিখারটেক। ওখানে গিয়ে আপনার নাম বললে... বুঝেছি আর বলতে হবে না। সবাই চিনে এই তো...

খুব ভোরে স্ত্রীর ঘুম না ভাঙিয়ে চুপে চুপে উঠে তৈরি হলাম। প্যান্ট পরে শার্টটা তুলে নিতেই পকেট থেকে কলম পড়ে ছোট্ট একটা শব্দ হলো। স্ত্রীর জড়ানো কণ্ঠ, কই যাও এত রাইতে? বললাম, রাত শেষ। সাভার যাব।

স্ত্রী মোচড় মেরে উল্টো দিকে শুলো। ভোরে নাশতা চাইনি ভেবে মনে মনে নিশ্চয় দায়মুক্ত হলো। সাতটা বাজার আগেই নেমে পড়ি তিনতলা থেকে। বন্ধু কালু তার অফিসের পাজেরো জিপটা নিয়ে এসে যাবে। গত রাতের কমফার্মড প্রোগ্রাম। ছুটির দিন। সময়ের আগেই বাসার সামনের রাস্তায় নামলাম। জিপটা যদি আগেই এসে যায়, তাহলে ড্রাইভার হর্ন বাজাতে থাকবে। চৌদ্দফুট রাস্তার দু-পাশে লাগালাগি সব ফ্ল্যাট বাড়ি। এ মুহূর্তে মানুষ শীতভোরে ঘুমের শেষ আমেজে মত্ত। মনে হচ্ছে তালা তালা কবরস্থানের নীরবতা দুপাশে। ঘটে যেটুকু বুদ্ধি আছে তা-ই নিয়ে অপেক্ষা করছি। ড্রাইভারজি তো কাছাকাছি এসে কয়েকবার হর্ন বাজিয়ে কড়া একখানা ব্রেক মারবে।

ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সুখনিদ্রা ভঙ্গ হলে, না দেখা শব্দ উত্পাদকের উদ্দেশে বিরক্তিভাবে শালা শব্দটা ছুড়ে মারবে। সে শব্দ ইথারে ছড়িয়ে পড়ুক আর না-ই পড়ুক, উপলব্ধির আঁচড়টা আমার মনে দাগ কাটবে অবশ্যই।

মানুষ হিসেবে নিজেকে অবোধ ভাবার অবকাশ নেই।

সাড়ে সাতটা পার হলো। অধৈর্য হইনি। কালু আসবে গাড়ি নিয়ে আমি নিশ্চিত। সে আমার গ্রামের বাড়ির মানুষ। চাচাত ভাই সম্পর্কীয়। এক সাথে নেংটা বেলা থেকে মধ্যবয়সেও মনের কাছাকাছি। ভাই-বন্ধু যা-ই বলি না কেন আমার স্বার্থ সে দেখবে, যেমনটা আমিও করি।

বন্ধুর পাজেরো জিপের গর্জন শোনা গেল দু-শ গজ দূরে মসজিদের বাঁকে। নিজের অবস্থান দেখানোর জন্য তৈরি থাকলাম যাতে না ড্রাইভার তার কারিশমা জাহির করতে অযথা হর্ন বাজিয়ে বার্তা ছড়িয়ে দেয় ইথারে। নাহ, আমার সত্ উদ্দেশ্যটা আহত হলো। মোড় ঘুরেই দৃশ্যমান গাড়ির ড্রাইভার হর্ন বাজিয়েই ছাড়ল। নিশ্চয়ই বরাবরের মতো তার দৃষ্টি আমার ফ্ল্যাটের তিনতলার বারান্দায়। আমি যতই ইশারা করছি ততই ওর কুিসত হর্নটা শব্দনাশ করে চলছে। ভোরের ঝিমধরা বাতাসে এর বিক্রিয়া ঘটছে ঘুমন্ত-আধা ঘুমন্ত প্রতিবেশীদের কানে।

আরও চারবার হর্ন বাজিয়ে থামল। নিশ্চয় পেছনের সিটে বসা কালুর নজরে পড়েছি। ড্রাইভার গাড়ির গতি কামিয়ে আস্তে ব্রেক কষলো। ফিফটি পার্সেন্ট সাকসেস নিয়ে জিপে উঠে পড়লাম। তার আগে রাস্তার দুপাশের ফ্ল্যাটগুলোর জানালা দিয়ে উঁকি মারা কোনো দৃষ্টি আছে কি না, আড় চোখে দেখলাম। না, নেই। শালা! গালিটা শীত সকালের কাঁথা কম্বলেই জড়িয়ে আছে, উপলব্ধি করলাম।

ছোটকালে ওকে ডাকতাম কাল্লা বলে, এখন সে ধাক্কামারা অপশব্দটা বর্জন করেছে সবাই। কেউ কালু ভাই, কেউ কালু সাহেব। তার স্ট্যাটাস এবং বয়সের অবস্থান সবার কাছে পরিষ্কার। কি গাঁয়ে, কি শহরে। অফিসিয়াল নাম আব্দুল আলী। ডাকনাম কালু। বড়, মেঝো বস ডাকেন মি. আলী বলে। আব্দুল শব্দের মধ্যে আজকাল গৃহকর্মীর ঘ্রাণ পাওয়া যায় টিভি নাটকের কল্যাণে। পাজেরো জিপটা সরকারি। ট্রান্সপোর্ট পুলের নিম্নমানের কর্তা হলেও সরকারি গাড়ি ব্যবহারে কারও অনুমতির দরকার বোধ করে না। ড্রাইভার মোস্ট সিনসিয়ার না হলে ওভারটাইম কাটা যাবে নয়তো মেরামতের ফাঁকিজুকি বিষয়ক জটিলতায় বিলে লাল কালির আঁচড় লাগে। আজকাল জ্বালানিতে ড্রাইভারদের সুবিধা নেই। সেই পেট্রোল, অকটেনের দিনগুলোর কথা ভেবে ওরা হায় আফসোস এখনো করে। গ্যাসের স্লিপে পার্সেন্টেজ ওয়ানটেন্থ-এ নেমেছে। আসলে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় চলছে সবকিছু। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ম্যানেজ করা।

শহরের বাইরে একখণ্ড জমি কিনব। এর আগেও কালুর গাড়িটা নিয়ে ছুটির দিনে দু-চারটা প্লট দেখেছি। জমির অবস্থান আর দাম দুটো এক মিলে আসেনি। দেখিনা চেষ্টা করে। বৈষয়িক বিষয়গুলো আমার জন্য বেশ জটিল। পরনির্ভর হয়ে সব কাজ সাজে না। জমির মধ্যস্বত্বভোগীর তো অভাব নেই। নাক বাড়িয়ে একটু ঘ্রাণ নিতে পারলেই পার্সেন্টেজ। এতদিনে দাগ, খতিয়ান, বায়া দলিল, মূল দলিল বিষয়ক জটিলতার অনেকখানি ভেতরে ঢুকে পড়েছি। কালুকে বললাম, দোস্ত তুইওনে, যে প্লটটা দেখতে যাব, দেড় বিঘার প্লট। আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। ওর এক কথা— শহরে জমি কিনবে না। চাকরি শেষ তো গ্রামের বাড়িতে স্থায়ী আস্তানা। শেষ বয়সে বাক্সবন্দি হয়ে গ্রামে যেতে রাজি না।

জমির দাম যেভাবে বাড়ছে, নো রিস্ক নো গেইন ফর্মুলায় ফেলে পা বাড়িয়েছি। দেখা তো আর কেনা নয়। না দেখলে আবার কেনার আগ্রহ হবে কোত্থেকে। ঢাকা শহরের যে অবস্থা, একখণ্ড জমি প্রাকৃতিক পরিবেশে পেলে সপ্তাহে অন্তত একদিন শ্বাস নেয়া ও ফেলার জন্যও তো আসতে পারব। শহরতলিতে জমি কেনার জন্য যতরকমের ফন্দি-ফিকির দরকার পজেটিভ ওয়েতে মস্তিষ্কে ধারণ করে নিজেকে উজ্জীবিত করতে করতে সাভার পৌঁছলাম। বাকি পথের নির্দেশনা ড্রাইভারকে দিয়ে দোস্তকে বল্লাম, জমিতে দুটো তালগাছ আছে, ভাগ করে নেব। উঁচু জমি। শুনেছি রাস্তাও আছে প্লট ঘেঁষে।

পরক্ষণে মনে হলো জোড়া তাল গাছ। দেড় বিঘা জমিনের প্লট করলে জোড়া তালগাছ ভাগ হবে কীভাবে, চিন্তায় পড়লাম।

তালগাছের বিচারের রায়টা মনে পড়ল, 'বিচার মানি, তবে তালগাছ আমার থাকবে।' বন্ধুর অগোচরে মুচকি হাসলাম। মনে মনে ভাবলাম, কাল্লা জমি তুই নিবি না জানি। যদি নিতে চাস তালগাছ দুটো আমার ভাগেই থাকবে। ছোটবেলায় গ্রামে কাটিয়েছি। দিনে রাতে চলার পথে কত তাল কুড়িয়েছি। তালগাছের প্রতি আমার আকর্ষণ চিরকালের। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে এলাকার সব তালগাছ চলে গেছে স-মিলে। নতুন গাছের চারা দু-চারটা রাস্তার পাশে দেখা যায়, কিন্ু্ত কবে বেড়ে উঠবে আর কবে তাল পাকবে কে জানে!

মোল্লাপাড়া একটা ছোট হাটুরে বাজার পার হতেই পেছন থেকে আওয়াজ পেলাম, স্যার স্যার, আমি আমি কাদের মোল্লা। লোকটা দৌড়ে এসে ড্রাইভারের দিকে ইশারা করল, ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললাম। গাড়ি সাইড করার আগেই বাইরে থেকে দরজাটা খুলে ফেলল। বলল, আমি কাদের মোল্লা স্যার। আপনারা ঢাকা থেইক্যা আইছেন জমি দেখবার। বললাম, গাড়িতে ওঠেন, জমি দেখান। জমি তো দেখবেনই, আমাগো এলাকায় আইছেন, মেহমান মানুষ। নামেন বিস্কুট, চা, কলা খান। তার পীড়াপীড়িতে গাড়ি সামনে সাইড করে আমরা পেছনে হাঁটলাম। হাটুরে চা দোকান একটা পেছনে। পরোটা বানানো হচ্ছে বিরাট তাওয়ায়। কর্মচারীর দুহাতের সঞ্চালন দেখে মনে হলো, এ অজপাড়া-গাঁয়েও সকালের খদ্দের কম নয়। আজকাল মানুষের রুচি বদলেছে। ঘরের বউ খাবে পান্তা ভাত, স্বামী দোকানে বসে পরোটা-ভাজি মেরে গরম চায়ের ধোঁয়ায় রাজনীতি আওড়াবে।

দুজন স্বাস্থ্যবান লোককে দেখলাম দোকানে ঢুকে কজনকে ইশারায় বের করে দিতে। খাওয়া শেষে ওরা সিগ্রেট টানছিল।

সকালের নাশতা হয়নি। নিজেই পারোটা ভাজির আদেশ দিলাম। মোল্লা সাথে যোগ করল, নাশতা অয়নাই সায়েব গো, ওই কালু, তেল ছাড়া পরোটা দে লগে ডিম পোচ। সবরি কলা ভালারে? ভালাতো অইবই তোরাতো আর ওষুদ মারস না। নেন স্যার। চা কইলাম খাঁটি গরুর দুধের।

বন্ধু কালু মোল্লার এক হাঁকে ভড়কে গেল। সে সায়েব কালু, ওই ব্যাটা পরোটার কারিগর সেও কালু। একটু বিগড়ে আছে সে। মনে মনে গরুর খাঁটি দুধের ফায়সালাটা দিতে গিয়ে উচ্চারিত হলো না তার মুখ দিয়ে।

খাবার শেষে বিল কত হলো জিজ্ঞেস করলাম। দোকানদার মুচকি হাসল। মোল্লা বাইরে গিয়ে একটা সিগ্রেট ধরিয়ে হাত পিছনে লুকিয়ে নিজের বেয়াদপি ঢেকে নিয়ে বলল, নিবোনা স্যার। কইছিলাম না, আপনারা মেহমান। আমাগো ইজ্জত। চলেন স্যার। ডাইনের আইল ধইরা একটু হাঁটতে অইবো।

ঘুরে দাঁড়িয়ে দোকানে দেখা দুজন স্বাস্থ্যবান যুবকের উদ্দেশে কি যেন ইশারা করল, আমার বোধগম্য হলো না।

রাস্তা ছেড়ে এক কিলোমিটার হাঁটলাম। একটু দূরে নজরে পড়ল জোড়া তালগাছ। নিশ্চিত হলাম মনে মনে। এই সেই প্লট। জমিটা আশপাশের জমির চাইতে বেশ উঁচু। চারদিকে আল বাঁধানো। অন্যসব জমিতে ধান চাষ হলেও এ প্লটটা খালি। ঘাসের সবুজ বিছানা।

মোল্লা আলে পা দিয়ে খুশিতে ডগমগ হয়ে বলল, ঠিক পাইছেন তো স্যারেরা। ডাইনে পাশ কাইট্যা বারফুট রাস্তা।

কালু প্রশ্ন করল কোথায় রাস্তা?

দিমু তো কইরা। রেজিস্ট্রির আগেই পাইলেই তো চলবো। ঘুইরা ফিইরা দেখেন।

মোল্লা আমাকে আশপাশের জমির সাথে এ প্লটের তুলনা বোঝাতে থাকে। কালুকে লক্ষ করলাম, পশ্চিম পাশের প্লট পেরিয়ে একটা বাড়িতে ঢুকেছে। ভাবলাম প্রাকৃতিক। মুচকি হাসল মোল্লা।

মোল্লা তার হাতের মোড়ানো কাগজের নকশা বের করে দেখাতে লাগল, সাথে একটা দলিলের ফটোকপি। আমার থেইকা জমিন নিবেন, এক্কেরে খাঁটি, ভেজালে আমি নাই।

আমিও বললাম ভাই, নগদ টাকা দিয়ে ভেজাল কিনতে যাব না। দরদাম যা বলল, আমার আইডিয়ার সাথে খুব ফারাক মনে হলো না।

বাড়ি করবেন? অহনই পারবেন। এক ফোটা মাডি লাগবো না। কুলগাছ লাগাইবেন? আরে আপেলকুল, দেখবেন কেমন অয়। দেইখ্যা হুইন্যা আমিই রাখমু। আপনাগোর কাম টাকা দেওন, আমার কাম জমি দেখন। মোল্লা তার কথা বলে যাচ্ছে, আমি হিসাব করছি কী করে পুরোটা নেওয়া যায়। প্রভিডেন্ট ফান্ড, এফডিয়ার, ডিপিএস, নগদ টাকা মিলিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেলাম। কালু ফিরে এসেছে। বলল, চল দোস্ত।

আমাকে ইশারা করল মোল্লার কাছ থেকে আলাদা হতে।

বললাম, টয়লেট ভালো থাকলে আমিও...।

ও ধমকে উঠল, আমি কি মুততে গেছি? গেছি পাত্তা লাগাতে। দু-চারজনের সাথে আলাপ করেছি। ওরা বলল, নিচু জমিগুলো দেড়-দুই লাখ টাকা কাঠা বিক্রি হচ্ছে। এটা যদি দেড় লাখ করে হয় ভালো। ওরা সায় দিল নিতে পারেন। আপনেরা ভালা মানুষ কাছে থাকলে রাস্তাঘাট অইব, আমরাও ভালা থাকুম। ঠিক আছে তুই যখন বলেছিস আধা জমি দিস আমাকে।

ওর শেষ ডায়লগে আমার হিসাব নিকাশের বায়বীয় খসড়ার অঙ্ক মিলিয়ে গেল মগজ থেকে। কিছু না বলে গাড়ির কাছাকাছি এলাম। ড্রাইভারের কাছে বসে একটা লোক গল্প করছে। আরেকজন দুটি পাঁচ লিটারের দুধের কন্টেইনার উঠিয়ে দিল গাড়িতে। দুই লিটারের এক বোতল ড্রাইভারের হাতে।

বললাম, এসব কী?

—আমার নিজের পালা গাইয়ের। এক্কেরে খাঁটি। বাংলাদেশের কোনো খানে পাইবেন না স্যার। খান তো ভেজাল। ঢাহা শহর যাওন বাদ দিছি। বাতাসে বিষ, বাজারে বিষ, দোকানে বিষ, কিয়ের লাইগা যামু! সবই তো আমাগো ধারে-কাছে আছে। আহেন একবার দেখবেন বার বার মন চাইবো আইতে।

একটু দম নিয়ে পানের খিলি মুখে ঠেসে আবার বলল, আমার কাহার জমিন, বয়স শয়ের উপরে। কোন সময় যে যায়গা কেডা জানে। পাওয়ার দিয়া দিছে আমারে। যদি চান কাহাও রেজিস্ট্রি কইরা দিতে পারবো। তয় সাবরেজিস্টাররে কমিশনে বাড়িত আনন লাগবো। খরচ একটু বাড়লেও অসুবিধা নাই।

গাড়ি স্টার্ট দিতেই মোল্লা ড্রাইভারের পাশের সিটে দরজা খুলে খোশমেজাজে বসে পড়ল। মেহমানদের আউগাইয়া দেওন ছুন্নত। যান, ডেরাইভার সাব। জিপের গতির সাথে সাথে মোল্লার ডায়লগও চলছে। জমিনের ইতিহাস, ঢাকা শহর থেকে ৩০ কি. মি. হিসাব মতে আধ ঘণ্টার রাস্তা।

আমরা দেড় ঘণ্টায় এলাম, আর কমপক্ষে দু-ঘণ্টায় ফিরব, জবাব দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। আসলে হিসাবের গরু আর গোয়ালের গরুর চিরদিনের পার্থক্য।

মোল্লা দেড় কি. মি. এগিয়ে চৌরাস্তার মোড়ে নেমে গেল। নামতে নামতে বলল, ডাইনের রাস্তায় তিন-চাইর কি. মি. আউগাইলেই মেইন রাস্তা। কালকা বিয়ানে কাগজপত্র লইয়া আইমু।

সামনের বাঁকটা পার হতেই জিপের সামনে এক বুড়ো দাঁড়িয়ে যায়। হাত তুলে ইশারায় জিপ থামাতে বলে। ড্রাইভার পাশ কেটে যেতে চাইলে বললাম, আবদুল্লা থামাও। লোকটি জানালার কাছে এগিয়ে এল।

দেখছি, বিয়ানে আইতে। মোল্লার জমিন দেখছেন! জোড়া তালগাছ!

কইন চাইন দেখি, যে তালগাছ লাগায় হে খাইতে পারে না ক্যান? জবাবের আশা না করে বলে, অন্য মানুষের অইয়া যায়। জানোয়ার! জানোয়ার, সব জানোয়ার চিত্কার করতে করতে লোকটা পেছনে দৌড়ে যায়।

ড্রাইভার যেন এক্সিলেটারে চাপ দিতে ভুলে গেল। পরক্ষণে দুধের জগ হাতে মধ্য বয়েসি একটা লোক এগিয়ে এল। বলল, ভালামানুষটা পাগল অইয়া গেছে গো। জোড়া তালগাছের জমিনডা আছিল হের। তাল গাছও লাগাইছিল। মোল্লার বাপে ভুয়া দলিল কইরা বেচছে। বাপে তো মরলো, মোল্লাও দিছে এক বেচন, মামলা চলতাছে। হুনছি আবার বেচনের বাও ধরছে। ধান্দালের গোষ্ঠী হালারা, বলে লোকটা এগিয়ে গেল।

ড্রাইভার পেছনে তাকাল, স্যার, যে লোকটা আমার লগে গপেপা করছিল : বুঝলাম অহন, হেরা মোল্লার মানুষ। আমারে কোনো দিকে সরতেও দেয় নাই। কাউরে আমার কাছে আইতেও দেয় নাই, খালি এই কথা হেই কথা। ড্রাইভার ইঞ্জিন স্টার্ট রেখে নেমে পড়ল। লক্ষ করলাম, অদূরে একটা তালগাছের আড়ালে সে প্যান্টের চেইন খুলে বসে পড়ল।

কালু গভীরভাবে তাকায় আমার দিকে। হয়তো ভাবছে, জমির পাশের বাড়ির লোকগুলো কি মোল্লার সাজানো চরিত্র। এমনই তো হয়। ড্রাইভার ফিরে আসে। তালগাছের মাথা থেকে কাল্পনিক দৃষ্টি নেমে আসে জমিনে। দিবাস্বপ্ন তিরোহিত হতে থকে গাড়ির গতির সাথে।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
6 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২৯
ফজর৫:০২
যোহর১১:৪৭
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :