The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

নিবন্ধ

পোশাক কারখানায় নারীশ্রম

মাজহার সরকার

বাংলাদেশের পোশাক উত্পাদন কারখানাগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নারীর ব্যাপক সংখ্যাধিক্য। অন্যান্য কলের মালিকরা পুরুষ শ্রমিক নিয়োগ করতে চায়। অন্যদিকে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিকরা কমবয়েসি মেয়েদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করতে চায়। আর এরাই হচ্ছে, এই সেক্টরের প্রধান অংশ। বাংলাদেশের কোনো গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির ভেতরে গেলে লম্বা লাইন জুড়ে সেলাই কর্মরত নারীদেরই দেখা যাবে, যারা সেলাই মেশিনের ওপর ঝুঁকে কাজ করে চলছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টে নারী শ্রমিকরা অধিকাংশই কারখানার শ্রমিক, গৃহভিত্তিক বা শ্রমিক বা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ শ্রমজীবী নারী নয়। স্বাধীনতার পর আধুনিক ম্যানুফেকচারিং সেক্টরের সাফল্যের কারণ হচ্ছে রেডিমেড গার্মেন্ট শিল্প। বাংলাদেশে ট্রাউজার, শার্ট ও অন্যান্য আধুনিক পোশাক উত্পাদনের যে সেক্টর আছে, সেই সেক্টরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার বিস্ময়কর বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার। এই সেক্টরের অভ্যুদয়ের ফলেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীরা সর্বপ্রথম কারখানায় দলবদ্ধভাবে শ্রমিক হিসেবে ব্যাপক পরিমাণে নিয়োজিত হয়েছে। প্রতি উত্পাদনী ইউনিটে তাদের সংখ্যা ১০০ অথবা ১৫০ থেকে ১৫০০ অথবা তারও বেশি হয়ে থাকে। উপরন্তু এই উত্পাদন প্রধানত রপ্তানির জন্য করা হয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত থেকে বলা যায় যে, আধুনিককালে তৃতীয় বিশ্বের কোটি কোটি কম বয়েসি নারী 'বিশ্ব বাজার কারখানায়' নিয়োজিত রয়েছে। রপ্তানি অভিমুখী প্রবৃদ্ধি কৌশলে তারাই হচ্ছে শোষণের লক্ষ্যবস্তু। কার্ল মার্ক্স তাঁর অর্থনৈতিক শোষণের তত্ত্ব নির্মাণ করেছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটেনের কারখানার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। আজকের বাংলাদেশি কারখানাসমূহের অবস্থার সাথেও তার অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যাবে।

বিশ্বঅর্থনীতিতে টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট শিল্প সেক্টরের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কয়েক দশক ধরে এই শিল্পের স্থান ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। প্রথমে বিশ্ব শিল্পকেন্দ্র ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হয়। সম্প্রতি কোম্পানিগুলো তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য অংশে স্থানান্তরিত হয়েছে, সোভিয়েত ব্লকের সাবেক সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে, অর্থাত্ রশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহেও স্থানান্তরিত হয়েছে। এই যে অন্যত্র টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট উত্পাদন কেন্দ্রকে স্থানান্তর করা, তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো উত্তরের উচ্চ মজুরি এড়িয়ে যাওয়া। তাছাড়া যেসব দেশে শিল্প শ্রমিকের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই, সেইসব দেশ থেকে এই না থাকার সুবিধা গ্রহণ করাও আরেকটি উদ্দেশ্য। এই প্রক্রিয়াটি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপর সমভাবে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কর্তৃক চপিয়ে দেওয়া কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস কর্মসূচির (Structural Adjustment Programme) কারণে। এই দেশগুলো একটি চাপের মধ্যে রয়েছে, যেমন করে হোক তাদের রপ্তানিদ্রব্যের মূল্য বাড়াতে হবে, যাতে তারা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য স্থিতিশীল মুদ্রা (Hard Currency) অর্জন করতে পারে। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধির কথা হলো, 'হয় রপ্তানি করো না হয় মরো'। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম কারখানা স্থাপিত হবার পর গার্মেন্ট সেক্টর এখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮৪ সালে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৭-এ। ১৯৯২ সালে এই ফ্যাক্টরির সংখ্যা ১১০০-তে উন্নীত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫ হাজার গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছে অন্তত ৪৫ লাখ শ্রমিক। আর এই বিপুল পরিমাণ শ্রমিকের মোট আশি ভাগই নারী কর্মী।

বাংলাদেশের গার্মেন্ট উত্পাদনের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, অধীনচুক্তিগত (Subcontracting) সম্পর্ক। বাংলাদেশের শার্ট, ট্রাউজার ও অন্যান্য পোশাকের জন্য বেশিরভাগ অর্ডার আসে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত বড় বড় খুচরা ব্যবসায়ী ফার্মের কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক গার্মেন্ট সেক্টরের যে উত্পাদন পিরামিড রয়েছে, তার সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থান করে ওইসব ফার্ম। পুঁজি ও মুনাফা দুই হিসাবেই এই সর্বোচ্চ অবস্থানটি নির্ধারিত। বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরিশ্রমের বিনিময়ে যে মুনাফা অর্জিত হয়, তার মূল অংশ ভোগ করে বিদেশি কোম্পানিগুলো। কানাডার অর্থশান্ত্রের অধ্যাপক মাইকেল চযুডোভস্কির (Micheal Choasudovosker) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রস্তুত শার্ট উন্নত দেশে আমদানি দামের ৫ থেকে ১০ গুণ দামে বিক্রি হয়। গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির শ্রমিকের মধ্যে রয়েছে পুরুষ শ্রমিক, তরুণী ও বয়স্ক নারীশ্রমিক ও ২৪ বছরের নিচে শিশু শ্রমিক। অফিস কর্ম ও কাপড় কাটার মতো কাজ, যাকে দক্ষ শ্রম বলে অভিহিত করা হয়, সেইসব কাজের জন্য মালিকরা পুরুষ শ্রমিক নিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু শ্রমের বেশিরভাগ অংশটি হচ্ছে সেলাইয়ের কাজ। এ কাজটি সম্পূর্ণরূপে মেয়েদের দ্বারা সম্পন্ন হয়। শিশু শ্রমিকদের রিক্রুট করা হয় সহকারী হিসেবে, যারা সুতো কাটার মতো কাজ করে। সামাজিক পটভূমির প্রেক্ষাপটে নারী শ্রমিকদের মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

শ্রমিকদের একটি সাক্ষাত্কারে জানা যায়, শতকরা ৬০ ভাগ নারীশ্রমিক সরাসরি গ্রাম থেকে এখানে এসেছে। তারা গরিব কৃষক পরিবার থেকে আগত। বাকি শতকরা ৪০ ভাগের অর্ধেক শহরের গরিব পরিবার থেকে এসেছে। এই নারী শ্রমিকদের অনেকেই গ্রাম থেকে ঢাকা ও অন্যান্য শহরের বস্তি এলাকায় বাস করে। জমি থেকে ব্যাপক হারে কৃষকের উচ্ছেদের সাথে এই ঘটনাটি জড়িত। তৃতীয় বর্গের নারী শ্রমিকরা আসছে শহরে নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে। তাই গার্মেন্ট সেক্টরে বিভিন্ন পটভূমির নারীরা এসে জড়ো হচ্ছে। নারী সেলাই মেশিন চালকদের সাক্ষাত্কার থেকে এটা সুনিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অন্য জায়গা থেকে উঠে আসা নারীদের অনেকেই গৃহভৃত্য হবার চেয়ে সেলাইয়ের কাজ পছন্দ করে। কারণ তারা গৃহভৃত্যের কাজকে অসম্মানজনক মনে করে। এ অবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশে অতি উঁচুমাত্রার বেকারত্বের সম্পর্ক আছে। তবে গার্মেন্ট মালিকরা সচেতনভাবে যে নিয়োগনীতি গ্রহণ করেছে, সে-কারণেও সেখানকার শ্রমশক্তির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ পাওয়া যাচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়ন ও সাংবাদিকদের সূত্র থেকেও জানা যায় যে, নারীশ্রমিকদের শতকরা ৮০ ভাগ অবিবাহিতা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের মতোই, এখানেও মালিকরা কম বয়েসি (১৬ থেকে ২০ বছর বয়স্ক) মেয়েদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেয়। তার একটি কারণ হচ্ছে, তারা শ্রমিকদের শান্ত আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায়। আরেকটি কারণ হচ্ছে, তারা প্রসবকালীন সুবিধাদি প্রদান প্রসঙ্গে আইনগত বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যেতে চায়।

উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের কৃষি প্রাথমিক পুঁজি সঞ্চয়ের এলিট প্রক্রিয়া। কার্ল মার্ক্স তাঁর 'পুঁজি' গ্রন্থে গত শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের প্রাথমিক পুঁজি সঞ্চয়ের বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকের ব্রিটিশ শিল্পে মার্ক্স শ্রম পরিবেশের যে বিবরণ দিয়েছেন, তার সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ইত্যাদি প্রধান শহরের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির শ্রম পরিবেশের অনেকদিক দিয়েই মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। মার্ক্সের মতে, ''পুঁজিবাদী উত্পাদন ব্যবস্থার দ্বারা পরিচালিত আন্তর্জাতিক বাজারের' মধ্যে জনগণকে যত বেশি করে টেনে আনা হচ্ছে, যত বেশি করে বৈদেশিক রপ্তানির মাধ্যমে উত্পাদিত পণ্য বিক্রয়ই হয়ে উঠছে উদ্যোক্তাদের প্রধান লক্ষ্য, ততবেশি করে জোর করে বেশি খাটানোই সাধারণ নিয়মে পরিণত হচ্ছে। সর্বোচ্চ মুনাফার এই যে ইচ্ছা তাইই প্রতিফলিত হচ্ছে শ্রম দিবসকে বাড়িয়ে নেবার এই নিষ্ঠুর প্রচেষ্টার মধ্যে।'' এইভাবে শ্রম দিবসের সময়কে বাড়িয়ে নেওয়াকে মার্ক্স ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন 'অনাপেক্ষিক' (Absolute) উদ্বৃত্তমূল্য কথাটি দ্বারা। এক শতাব্দী আগে মার্ক্স ব্রিটিশ শিল্পের ক্ষেত্রে যে বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন, আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতায় ঠিক সেই বৈশিষ্ট্যই দেখা যাচ্ছে।

গত শতাব্দীর ৮০-র দশক থেকে শুরু হওয়া গার্মেন্ট শিল্পের রাতারাতি এতটাই বিকাশ হয় যে, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের আনাচে-কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গার্মেন্ট শিল্প গড়ে উঠেছে। বিজিএমইএ সূত্রমতে, তাদের তালিকভুক্ত গার্মেন্টসের সংখ্যাই ৫ হাজার ৬শ । তাতে শ্রমিকসংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ। সাম্রাজ্যবাদের সস্তা শ্রম লুণ্ঠন এবং মালিকদের অতি মুনাফা অর্জনের যাঁতাকলে শ্রমিকরা পিষ্ট হচ্ছেন। রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শতকরা ৭৬ ভাগ আসে এই গার্মেন্টস শিল্প থেকে। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থায় শ্রমিকদের দৈন্যদশা থাকলেও বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিকরা প্রায় মধ্যযুগীয় দাস প্রথার মধ্যেই রয়ে গেছেন। গার্মেন্টসগুলোতে অসুস্থতাজনিত বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে একদিন হাজির না থাকলে বেতন কেটে নেওয়া হয় এবং হাজির না থাকার কারণে বেতন আটকে রাখা হয়। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দাবি করে থাকেন যে, তারা চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্যের চর্চা করেন না কিন্তু গার্মেন্টসগুলোতে লিঙ্গীয় বৈষম্য প্রকটভাবে দেখা যায়। চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেলাইসহ অন্যান্য Operating Sector-এ নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু সেখানে ব্যবস্থাপনাসহ প্রশাসনিক কাজ করে থাকে পুরুষরা, বেতন/মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও দেখা যায় নারী শ্রমিকেরাই সাধারণত কম মজুরিতে কাজ করেন। যেখানে ন্যূনতম মজুরির নিচে কাজ করে গড়ে ৪২% নারী শ্রমিক, সেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ১৭%। গার্মেন্ট সেক্টরে কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের লিঙ্গীয় বৈষম্যের জন্য কতগুলো কারণ চিহ্নিত করা যায়।

১। দক্ষতা ও শিক্ষার অভাব : সাধারণত বলা হয়ে থাকে যে, নারীদের দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, তাই তাদের প্রশাসনিক কাজে নিয়োগ দেওয়া হয় না।

২। শারীরিক/জৈবিক অবস্থা : বলা হয়ে থাকে নারীদের দেহ কাঠামো, আঙুলের গড়ন, Mobility ইত্যাদি কারণে তারা সেলাইয়ের কাজে পুরুষের তুলনায় বেশি পারদর্শী। যেখানে পুরুষরা তাদের স্বভাবসূলভ নেতৃত্ব ও কঠোরতম কারণে Mupervising ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে বেশি সাবলীল।

৩। বিদ্যমান সমাজ কাঠামো ও মতাদর্শ : বিদ্যমান সমাজ কাঠামো ও মতাদর্শ এই লিঙ্গীয় বৈষম্যের অনুকূলে। পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় এটা স্বীকৃত যে, পুরুষরা নারীদের Dominate করবে। তাই কর্মক্ষেত্রে পুরুষ কর্তৃক এই শোষণ নারীরা মেনে নেয়।

ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটেনের কারখানায় অর্থনৈতিক শোষণের বিষয়টি উন্মোচিত করে মার্ক্সীয় তত্ত্ব এটাই তুলে ধরেছে যে, 'উদ্বৃত্ত-মূল্য' আত্মসাতের মাধ্যমেই পুঁজির সঞ্চয় সম্ভব হয়েছে। মজুরি শ্রমিকরা অবশ্য নিজের বাঁচার প্রয়োজনেই এই মূল্য উত্পাদন করে। সরকারি উত্স থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করে মার্ক্স দেখিয়েছেন যে, ব্রিটিশ উদ্যোক্তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছিল, অর্থাত্ পুঁজির সঞ্চয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল অনেকগুলো পদ্ধতি অবলম্বন করে। তার মধ্যে শ্রমদিবসকে সীমাহীনভাবে বাড়িয়ে তোলাও একটি পদ্ধতি। একেই মার্ক্স বলেছেন, অনাপেক্ষিক উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাতের পদ্ধতি। বাংলাদেশের গার্মেন্ট কারখানার মালিকানা ঊনবিংশ শতাব্দীর মালিকদের মতোই লক্ষণীয়ভাবে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে। শুধু কিছু কাঠামোগত পার্থক্য আছে। এ প্রবন্ধের প্রথমাংশে বলা হয়েছে যে, গার্মেন্ট উত্পাদনের স্থান বারবার তৃতীয় বিশ্বের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে এসেছে। উদ্দেশ্য, সস্তা মজুরি শ্রমের উত্স বের করা। শ্রমিকরা যে উদ্বৃত্ত মূল্য তৈরি করে, দেশীয় উদ্যোক্তারা একটা অংশ পায় বটে, তবে বড় অংশটা তারা পায় না। বাংলাদেশি মালিকরা উদ্বৃত্ত মূল্য আদায়ের ব্যবস্থাটি সংগঠিত করলেও তার বড় অংশটি নিয়ে যায় উত্তরের কোম্পানিগুলো। আমাদের মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক বিকাশ কখনো কোনো সরলরেখা ধরে হয় না। কোনো কোনো যুগে শিল্পদ্যোক্তারা এবং তার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ আধিপত্যাধীন ট্রেড ইউনিয়নও নারী শ্রমিকদের গার্হস্থ্যকর্মের দায়িত্বের কথা বলে তাদেরকে কারখানা থেকে ব্যাপক হারে বের করে দিয়েছে।

তথ্য সূত্র :

১। এশীয় অর্থনীতিতে পুঁজির সঞ্চয় ও নারীশ্রম, পি.জে.জে.এম কাসটারস

২। মুঘল যুগে কৃষি অর্থনীতি ও কৃষক বিদ্রোহ, গৌতম ভদ্র।

৩। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি সাময়িকী ২০১০, ১ম খণ্ড।

লেখক : আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
1 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
সেপ্টেম্বর - ১৮
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :