The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১ শ্রাবণ ১৪২০ এবং ২৬ রামাযান ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ হাইকোর্টের রায় বহাল; নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জামায়াত | আপিল করেছেন গোলাম আযম | অষ্টম মজুরি বোর্ডের সুপারিশে মন্ত্রিসভার একমত

গল্প

আবু ফারাজ করিম বলাই এইসব মানুষ

সালেহা চৌধুরী

ওরা একটা ঘরে চার জন থাকে। ঘরটা ঢাকার এক ছোটখাটো বস্তিতে। করিম, ফারাজ, আবু আর বলাই। ফারাজ রাস্তার ধারে বই বিক্রি করে। বলাই লুঙ্গি-গেঞ্জি, আবুরও তেমনি একটা দোকান আছে। করিম এটা সেটা করে। ছোটখাটো বিক্রিবাট্টা এতদিন শুরু করেনি। এখন একটা কেতলি আর গ্যাসের চুলা কিনে চা বানাতে শুরু করেছে। ওরা তিন জন করিমকে একটু সাহায্য করেছে। —ফারাজ বলে, প্রেথমে আল্লাহ তারপর হিল্লা। আমরা একটু হিল্লার কাজ করলাম। করিম বড়ই কৃতজ্ঞ এই তিনজনের কাছে। নয়ানগর থেকে এসেছে ফারাজ। ওখানে ওর বউ, মেয়ে মোতি আর মরি থাকে। বাকি তিনজন আশপাশের আর কোনো জায়গা থেকে। ফারাজ বউটার দু-একখানা সোনার গয়না, একটুআধটু জমানো টাকা দিয়ে পুরোনো বইয়ের দোকান খুলেছে বায়তুল মোকররমে। দু-একটা সস্তা দামের নতুন বইও আছে। কিছু ধর্মের বই। রাতের বেলা বলাই বলে—ভাবিসাব তোমার খোঁজ-খবর করতেছিল। তোমার তো আবার মোবাইল নাই। ওদের মধ্যে একমাত্র বলাই-এর মোবাইল আছে। সেটা দিয়েই ওদের জানাশোনা মানুষজন খোঁজ-খবর করে। ওরাও চাঁদা দিয়ে বলাই-এর মোবাইলটা ব্যবহার করতে পারে।

কী কয় ফুলকি? বুঝছি পরামানিকের দোকানে গিয়া মোবাইল নিয়া ফোন করছে। কী কয় আমার বউ? আবার প্রশ্ন করে ও।

কী আর কইব। কী কর কী খাও এইসব। তা বউয়ের সঙ্গে কথাবার্তা কও না ক্যান?

কমু কমু। হাতে এট্টু পয়সা হইলে একটা মোবাইল কিইনা কথা কমু। বাড়িত যামু দুই মাস বাদে। একটু সওদাপাতি কইরা তারপর। বাসে উঠমু আর বাড়ি যামু। গিয়া তারপর অবাক করমু।

তোমার ব্যবসা ভালো। বই বিক্রি কর। ভালা কাজ।

আর তোমারডা কি খারাপ? লুঙ্গি গেঞ্জি। মানুষের আবরু তোমার ব্যবসায়। মানুষ কি এখনও বেহেশতে থাকে, ল্যাংটা হইয়া থাকব।

হয়। সেউডা তো ঠিকই কথা। আমারডাও খারাপ না। তবে বই হইছে পবিত্র জিনিস। বই দিয়াই তো ভগবান মানুষরে সিধা পথে নিতে চায়। তোমার কোরান, আমার গীতা, আর একজনার বাইবেল সবই বই, বুজছো নাকি। সব ধর্মেই একটা কইরা বই আছে। বলাই মাঝে মাঝে বেশ জ্ঞানের কথাও বলে। রাজনীতির কথাও ও ওর নিজের ভাষায় বয়ান-ব্যাখ্যা করে। ওরা বলাই-এর জ্ঞানবুদ্ধিকে তারিফ করে।

ফারাজ হাসে। তার দুই মেয়ে পাঠশালায় যায়। ও স্কুল বলে না। বলে, পাঠশালা। ওরা বই পড়ে। ওর খুব ইচ্ছা মেয়েদের যতদূর পারবে পড়াবে। বলে—দেশে জমিজিরাত নাই। এডা সেডা করে দিন চলে না। বউটা এই বাড়ি সেই বাড়ির কাম-কাজ করে। এখন তো ওই সব চালাইতেছে। তাই কই, হাতে এট্টু টাকা হইলে জিনিসপত্র নিয়া বাড়ি যামু। ব্যবসাটা তেমন জমতাছে না। তবে জমব আশা করতাছি। সক্কলে কয়, ঢাকাত যাও ভাগ্য ফিরাও। তাই আসলাম।

বলাই বলে তখন—হয় এখানে আইলে একটা না হয় আর একটা কাম হইতে পারে। করিম একটা গ্যাসের চুলা আর কেতলি পাইবার পর চা বেচতে শুরু করছে। দু-এক টাকা পাইতেছে। ঘর ভাড়া, ওর খাওয়া-দাওয়া। তবে এখনো বিয়াশাদি করে নাই। করলে এট্টু মুশকিল। তখন খরচপাতি বাইড়া যায়। মুশকিল কারণ। মুখের হা বাইড়া যায়। সেই হা আবার ভাতপানি চায়। আমার বউটা কোনোমতে একটা বেড়ার বাড়িত থাকে। পোলাপান নাই। তবু কত খরচ। তাই ঢাকায় আসলাম।

মুশকিল আর কী? আল্লাহই মুশকিল আসান।

ওরা চার জন কাজের পরে গল্প করতে করতে সময় পার করে। একটা বড় হাঁড়িতে ভাত। তার সঙ্গে একটু ডাল-টাল হলেই হয়। এর বেশি ওরা পারে না। একটু কাঁচামরিচ। কুটুসকাটুস কামড়ে খায়। এক টিন মুড়ি আছে। তাই ভাগ করে খায় সকালে। ঢাকায় এমন অনেকে ভাগ্য ফেরাতে আসে, ওরা সেই অনেকের একজন। রোদবৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করে। বলে ফারাজ—বিষ্টি-টিষ্টি না হইলেই বালা। বৃষ্টির দিন বই নিয়া বসতে পারি না।

এর মধ্যে আবার পুলিশের সঙ্গে একটু খাতির করা লাগে। টাকাপয়সা দেওয়া লাগে। না হলে কখন যে লাঠি মেরে ওদের ভাগায় তার তো ঠিক নাই। একটু চাঁদাফাঁদার ব্যাপার থাকে। সব দিয়ে থুয়ে তেমন কিছু থাকে না। তবু ওরা আশা করে আরও ভালো কিছু হবে। — মিয়ারা সবকিছু আরও ভালো হইবার জন্যই চারপাশে এত মারামারি চলতাছে। বলাই জ্ঞানী মানুষের মতো নানা কথায় ওদের বোঝায়।

আমার বাপে কয় তিরিশ লক্ষ লোক মইরা তার বাদে আমরা দেশ স্বাধীন করছি। হের বাদে আবার এত মারামারি কাটাকাটি জ্বালানি-পোড়ানি কিয়ের লাগি? ওরা রাজনীতি ঠিক বোঝে না। কাদের বিচার হওয়া দরকার আর দরকার নাই সেটা ওদের মাথায় ঢোকে না। কে ক্ষমতা পাবে আর পাবে না সেটাও ওদের বোঝার বিষয় নয়। কেবল বোঝে, ভালো একটা কিছু হবার জন্যই এইসব।

ভালো কিছু হইলে আমরা কী দোকান বড় করতে পারব? আবু বলে বিড়ি টানতে টানতে। —পারবা মানে, অবশ্যই বড় করতে পারবা, নিজে বউ পোলাপান নিয়া ঢাকায় আসতে পারবা। সব পারবা। বলাই যেন আল্লাহর ফেরেশতা—এমন ভাবে কথা বলে। যেন ওর সামনে একটা ক্রিস্টালবল আছে। সেটা থেকেই সব খবরাখবর পেয়ে যায়।

হগ্গলে থাকার মতো বাড়ি পামু?

সেডা কেমনে কই। কিন্তু বলাই যে বেশি বোঝে বলে ওদের ধারণা। সে বলে—দেশ স্বাধীন হইতে তিরিশ লাখ আরও ভালো হইতে আরও তিরিশ লাখ। হের বাদে দেখি সব ঠিক হয় কি না।

হেইডা সেইডাই যত লোক মরে প্রেত্যেকদিন, আরও তিরিশ লাখ হইতে বাকি আছে নাকি? আবু ওদের সকলকে এক কাপ করে বিনা পয়সার চা খাওয়ায়। সে-ই ফট করে বলে ফেলে কথাটা। ওদের আসরটা বেশ জমে ওঠে।

যারা খারাপ তাগো ফাঁসি হইব হেইডা বুঝলাম। আর যারা প্রেত্যেকদিন মানুষ মারে তাগো ফাঁসি হইব না?

হইব না ক্যান? তাগো ফাঁসিও হইব। চন্দ্রিমা উদ্যানের কাছে লম্বা লোহার রডে হুক লাগাইয়া সব কয়টারে ঝুলাইব। গাড়ির পচা ড্রাইভার, খানাখাদ্যে ভেজাল দেওনের মানুষ, মুখে এসিড মারার শয়তান, পকেটমার, চোর এমনি নানা সব শয়তান ফাঁসিতে ঝুলব। সেইদিন আইতে আর দেরি নাই। তোমরা আছ কই। একটা একটা কইরা ফাঁসি দেওনের অনেক সময় নষ্ট। তাই লম্বা লোহার রড টানাইয়া সবকয়টারে ঝুলাইব। দেখবা মরা মানুষের গন্ধে রাস্তা দিয়া হাঁটতে পারবা না। তখন অন্য রাস্তা দিয়া চলাফেরা করবা বুঝছো।

বুঝছি, ফারাজ বলে। সব কথা যে বিশ্বাস করে তা নয়। তবে বলাই-এর কথা বলবার ধরনটা এত মজার, ওরা শুনতে ভালোবাসে।

বলাই এবার ঘুমাবে। বলে—এখন ঘুমাও। ফাঁসিফুঁসির কথা পরে আলোচনা কইর। ব্যবসা ঠিকমতো চালাইতে না পারলে তোমরা না খাইয়া মরবা, বাড়ির সবকয়টা মানুষ ভিখ করব। ভিখ পাইব না। এত ফকিররে ভিখ দেয় কেডা। বলাই খানিক পরে নাক ডাকতে শুরু করবে।

তুমি খালি ডরানোর কথা কও। বালা কিছু কইতে পার না? এবার করিম মুখ ভার করে প্রশ্ন করে।

নাকের ডাক থেমে যায় বলাই-এর। সে ঘুম ঘুম গলায় বলে—দেশ বালা হইব। ফারাজের দোকান বড় হইব। খালি পুরোনো বই বেচব না। নয়া কড়কড়া বই বেচব। কোনখানে তুই দোকান চাস রে ফারাজ?

নিউমার্কেট।

এত জাগা থাকতে নিউমার্কেট ক্যান?

জায়গাডা আমার পছন্দ। আমি জায়গাডারে অনেকদিন থিকা জানি। পুরোনো জায়গা কিন্তু হেইডা কোনো কথা না।

ওইখানেই হইব তোর দোকান। কী নাম রাখবি দোকানটার?

ফারাজ ভেবে বলে—বই কেনো আলো পাও। তারপর একটু ভেবে বলে—না। নামটা বড়। আমি রাখব—ফুলকি বইঘর। বউটার সবকিছু নিয়া ব্যবসায় নামছি। তার নামে দোকানটা দিলে ইমান ঠিক থাকব। হিসাবও ঠিক থাকব।

এবার করিম প্রশ্ন করে—আমার কিছু হইব না ও বলাইদাদা?

হইব না ক্যান। একটা ভালো চায়ের দোকান দিবি। কোন জায়গায় দোকানডা দিবি তুই? জায়গা ঠিক করছস?

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড।

এত জায়গা থাকতে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড? ক্যান?

কত লোকজন ওই জায়গায় বাস থিকা নামে। নাইমাই আমার দোকানে বইসা এক কাপ গরম চা খাইব। তারপর যেদিকে যায় যাক।

খুব ভালো জায়গা। ওখানেই চায়ের দোকান দিবি। চা রাখবি, বড় বড় কাচের বোয়ামে বিস্কুট রাখবি। কেক রাখবি। ঝমঝমাইয়া টাকা হইব তোর।

তা বলাইদাদা তোমার লুঙ্গিগেঞ্জির দোকান? ওইটা বড় কইরা কোন জায়গায় দিবা?

রাপাপ্লাজা।

আবু জানে না সে কী করবে। বলাই বলে—আমার দোকানের ম্যানেজার হইবি আবু। শেয়ারে বিজনেস করব। আমি টাকা-পয়সার হিসাব দেখাদেখি করব আর তুই জিনিসপত্র কিনবি, পারবি না?

পারব না ক্যান। আমি টাকাপয়সারও হিসাব জানি। আমি হিসাব দেখতেও পারি।

ওইডা আমার হাতে রাখতে চাই। তোর ভোলা মন। গরু খাওয়া গরম মাথা। হিসাবে ভুল হইতে পারে।

তুমি আমারে বিশ্বাস কর না? আবু মুখ ভার করে বলে। তারপর সেখানে যোগ করে—আর তোমার কাছিম খাওয়া মাথাত খালি অংক আর আমার...

গাধা রে গাধা তুই। বিশ্বাস না করলে শেয়ারে ব্যবসা করতে চাই। সর আর মন খারাপ করিস না। এক মাস তুই হিসাব দেখিস আর একমাস আমি। হইছে? কাছিম খাই বইলাই তো কাছিমের মতো আস্তে আস্তে হিসাব রাখতে পারব। এবার রাগ ফালাইয়া চিন্তা কর দোকানডার কী নাম দিবি।

এমন সমাধানে আবুর মুখ উজ্জ্বল হয়। বলে সে—তুমিই নাম রাখবা। আমার মনে হয় বস্ত্রালয় খুব ভালো নাম।

বলাই বলে—নে এইবার ঘুমা। তোর নাম খারাপ না। আমারে এট্টু ভাবতে দে। আমার বড় খাটনি গেছে আজ। খাড়াইতে খাড়াইতে পায়ের গোছা ফুইলা গেছে। পায়ে যে এট্টু তেলমালিশ করব সেই তেলও নাই। বউটা কাছে থাকলে তেল মালিশ করত। আহারে আমার পদ্মফুল!

ফারাজ বলে হঠাত্—ও বলাইদাদা আমার মাথাত একটা বুদ্ধি আসছে।

কীসের বুদ্ধি? বলাই ইট-শার্টের বালিশে এবার সোজা চিত্ হয়ে শোয়। বলে আবার—কেমন বুদ্ধি?

আমি কই কী বলাইদাদা, সবগুলারে ফাঁসিতে না ঝুলাইয়া একটি লোহার খাঁচার মধ্যে রাখা যায় না? একটা মানুষের একটা খাঁচা। আমি চিড়িয়াখানায় দেখছি।

চিড়িয়াখানায় মানুষ দেখছিস না পশু দেখছিস। বাঘ, ভালুক, সিংহ।

কথা তো একই। যে মানুষ মানুষের মতো কাজ করে না সেই তো পশু। তা মানুষ-পশুরে খাঁচায় রাখতে অসুবিধা কী? সক্কলে পয়সা দিয়া দেখব, কতটাকা রোজগার হইব।

এত খাঁচা রাখার বড় ময়দান নাই। মানুষ-পশুর চিড়িয়াখানা বানান অনেক অসুবিধার ব্যাপার। বই বেইচা বেইচা মনে হয় তোর জ্ঞান বাড়তাছে। মানুষের-পশুখানা? এই বলে বলাই আবার দেয়ালের দিকে মুখ করে। আবু আর করিম ফিক ফিক করে হাসছে। —ফারাজের মগজে কত বুদ্ধি হইছে আজকাল দেখছ নাকি।

বুদ্ধি খুলতাছে। নে এইবার তোর আল্লাহ-রসুলের নাম নিয়া ঘুমা। কাল কাম আছে না। যতসব প্যাঁচাল। —ভগবান! ভগবান! বলাই দেয়ালের দিকে মুখ করে।

ওরা তিন জন এইসব ভাবতে ভাবতে সত্যিই একসময় ঘুমিয়ে পড়ে।

কোনোমতে কুণ্ডলি পাকিয়ে চার জন ঘুমে রাত পার করে পরদিন সকালের আশায়। সারাদিনের কাজের পর মশামাছি নিয়ে কে আর ভাবে। ওখানে কোনো চকি বা খাট নেই। মেঝেতে চাটাই বিছিয়ে তার ওপরে এটা সেটা বিছিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বালিশ হলো একটা ইট ওদের পরনের কাপড় জড়ানো, কিম্বা কয়েকটা বই, না-বেচা কাপড়ের বান্ডিল। আশা আছে, ঠিকমতো ব্যবসা জমলে তারা বালিশ কিনে ফেলবে। মশারির কথা ওরা ভাবে না। শীত নামলে তখন লেপের কথা ভাববে। একটা বিছা একবার কাকে যেন কামড়ে ছিল। এই কারণে ঘুমানোর আগে ভালো করে দেখে নেয় বিছা-টিছা আছে কি না। তবু কোনো কোনোদিন পায়ের ওপর দিয়ে কী সব হেঁটে যায়। ঘুমের ঘোরে ফারাজ বলে— তোমারাও কি ঢাকাত ভাগ্য ফিরাইতে আইছ নাকি? আমাগো ক্যান ত্যক্ত কর?

হয় হয় ওগলাও আসছে ভাগ্য ফিরাইতে। বলাই জবাব দেয়। আমাগো পিছে পিছে আইসা পড়ছে।

বলেই আবার পাশ ফিরে শোয়। দিনটা যখন ঝকঝকা ওদের মন বড়ই খুশি। বলে—আল্লাহ তুমি প্রেত্যেক দিন এমন ঝকঝকা করবা। যারা বৃষ্টি ভালোবাসে বা বৃষ্টির দিনে গান শুনতে চায়, তাদের কথা ফারাজ জানে না। তিরিশ বছরের জীবনে প্রথমবারের মতো সে ঢাকায় এসেছে ভাগ্য ফেরাতে। তার মেঘের দিন মানেই লোকসান, খরা খরা রোদ রোদ দিনেই ওরা সকলে ভালো করতে পারে। ঘরের এক কোনায় ওর না বেচা বইগুলো রাখে। আর সকলে তাদের গাটরি-পোটলা। করিমের কেতলি আর গ্যাসের চুলা। সেই দিকে তাকিয়ে বলাই হেসে বলে—এখন আমরা ব্যবসায়ী। ইংরাজিতে কয় বিজনেসম্যান। বলাই-এর কথায় ওদের শরীরটা কেমন গরম গরম হয়। পরদিন আবার বের হয় এই চার বিজনেসম্যান।

দুই

ফুলকি একটা বাড়িতে কাজ করে বাড়ি এসেছে। ওকে ওরা কিছু চালের আটা দিয়েছে। ভাবছে, কয়েকটা পিঠা বানাবে। চিতই পিঠা। মেয়ে দুটো পিঠা খেতে ভালোবাসে। পাশের বাড়ির ফিরু এসেছে ফুলকির কাছে। ফুলকি চুল বাঁধতে পারে ভালো। ওর ছয়মাস হলো বিয়ে হয়েছে। জামাই থাকে ঢাকায়। গার্মেন্টে কাজ করে। ফিরু এসেই বলে—আগে ভালো কইরা তেল বসাইয়া চুল বান্দো ফুলকিখালা।

ক্যা, তোর স্বামী আজ আসব নাকি রে ফিরোজা বেগম?

ফিক করে হেসে ফিরু জানায়, না। আমার এক ননদ আসব। আমারে আগে দেখে নাই। আজ আসতাছে। উনি আসে ক্যামনে, কাম-কাজ আছে না? তা ফারাজভাই কোনদিন আসব?

জানি না। তুই ঢাকা যাবি না?

উনি কইছেন ওইখানে বাসা বানাইয়া আমারে নিব। বিয়ার পরের দিনই নিতে চাইছিল। বাপজান দেয় নাই। যে ফিরু ছেঁড়া কামিজ বা শাড়ি পরতো তার এখন গোটা কয় নতুন শাড়ি হয়েছে। হাতে কাচের চুড়ি। কানে সোনার দুল। সে স্নো-পাউডার মাখে। সাবানে মুখ ধোয়। ফিরু মাথা পেতে দিয়ে বলে—আমরা দুই জন তখন একসঙ্গে কাম করমু। কত টাকা হইব আমাদের। একটা বাসা নিয়া নিমু। সংসার সাজাইমু। ফিরু হাসছে। ভবিষ্যতের স্বপ্নে।

দুইজনে মিলা কাম করলে কত টাকা হয়। তোর খালুতো আমারে নিব না। নিলে আমিও কাম করতাম। ফুলকির গলার স্বর বিষণ্ন। —ও খালা, তুমি ঢাকাত গিয়া কী করবা? ফিরু প্রশ্ন করে।

ঢাকাত কত কাম থাকে। জানে না সেখানে কী করতে পারে ফুলকি। কেবল ভাবে, একটা কিছু করতে পারবে সে। বলে—ক্যান, ঝাঁটা দিয়া রাস্তা পরিষ্কার করমু।

ফিরু হাসে। বলে—হ সেইটা তো অবশ্যই তুমি করতে পারবা। দুনিয়া সাফসুতরা রাখা ভালো কাজ।

ফুলকি তার তালিমারা শাড়িতে ঘোমটা তুলে দেয়। ফিরুর বাবা একটা পাতায় করে খানিকটা চিংড়ি মাছ এনেছে। —এই যে ফারাজের বউ মাছ লয়। অনেকগুলা ছোট ছোট চিংড়ি মাছ পাইছি আজ।

ফুলকি ওঠে। এমন করে বাড়িতে মাছ দিতে আসার ঘটনা খুব বেশি ঘটে না ওর জীবনে। সে একটা বাটি এগিয়ে দেয়। মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ফিরুর আব্বা—চুল বাইন্ধা তাড়াতাড়ি বাড়িত আসিস। তারপর ফুলকির দিকে তাকিয়ে বলে—কদু দিয়া রাইন্দো। ফুলকি মনে মনে ভাবে, এখন কদু পাই কোনখানে। না পাই তাতে কী? কলমির শাক দিয়া রান্দলেও মজা। মাছের গন্ধ গন্ধ ভাব হয় কলমির শাকের মধ্যে একটু মাছ পড়লে। ভাত গড় গড় কইরা গলা দিয়া নামে। পানি গিলা গিলা নামাইতে হয় না।

তুমি যাও আব্বা। আমি আসতাছি। শাড়ির তালির ফাঁক দিয়ে ফুলকির একটু চুল বেরিয়ে আছে। সেদিকে তাকিয়ে ফিরু বলে—খালু তোমার জন্য নয়া শাড়ি আনব খালা। আর কত কী? তুমি কয়টা দিন সবুর কর।

ফিরুর কথায় একটু হাসে। —হয় হয় নয়া শাড়ি। আগে আসুক তো। দেখি কী আনে। এক জোড়া সোনার মাকড়ি, একটা নাকের ফুল বেইচা তারে ব্যবসা করবার জন্য টাকা দিছি। একটা কৌটাত কিছু টাকা জমাইছিলাম সেডাও তিনি নিছেন। কইছেন—আমার টাকা তিনি সুদে আসলে ফেরত দিবেন। হায় রে আমার কথা।

মেঘের মতো চুলে প্রায় এক বাটি তেল খরচ করে চুল বেঁধে দেয় ফুলকি। স্বামী ফিরুকে এখন তেল সাবান কিনে দেয়। এ কথা সে কথা বলে ফুলকি। মেয়েরা পাঠশালা থেকে এসেই একটু মুড়ি খেয়ে আবার বই নিয়ে বসেছে। মতি বলে একসময়—মা, তুমি আজ পিঠা করবা কইছিলা।

করব। দাঁড়া আগে ফিরুর চুল ঠিক করি। তারপর।

মতি আর মরি আবার বই পড়তে শুরু করে। ওরা শুনেছে, ওদের বাবা বইয়ের ব্যবসা করছে। এখন ওরা সকলকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে—আমাগো আব্বার বইয়ের বিজনেস। আব্বা আসার সময় আমাদের জন্য নতুন বই আনব। দেখিস কেমন সব ঝকঝকা বই। সেকথা শুনে ওর স্কুলের মেয়েরা হাসে। সে হাসি ওরা গ্রাহ্য করে না। ওরা দুজন ওদের আব্বার আশায় দিন গুনছে।

ফিরু চলে গেল। মতি আর মরির কথামতো আজ ফুলকি পিঠা বানাবে না। কেন বানাবে না, কে বলতে পারে। এমন ফকফকা চালের আটার পিঠা একজন খুব সোয়াদ করে খায়। সে একজন ফারাজ। তার সঙ্গে একটু গুড় থাকলে লোকটা দুনিয়া ভুলে যায়। আর কয়টা দিন দেখি তারপর পিঠা বানাব। এমনি একটা ইচ্ছা আছে মনে। মেয়েদের বলে অন্য কথা। বলে—শুক্রবারে পিঠা করব। কয়টা মসজিদে দিব। অর কাজ-কাম যেন আল্লাহ ভালো করে তাই।

মেয়েরা কিছু বলে না। বোধহয় মায়ের মনের ইচ্ছা জানা আছে তাই।

তিন

পরদির বলাই এবং আর সকলে কাজে যায়। চারিদিকে নানা গোলমাল। তেমন বিক্রি-টিক্রি হয় না। কেবল করিমের চায়ের দোকানটা চলে ভালো। কারণ, লোকজন নানা কথা বলতে বলতে গলা শুকিয়ে ফেলে। করিম কেতলিতে পানি গরম করে। আর চামুচের খটখট শব্দ শোনে সকলে। এমন শব্দ করতে পছন্দ করিমের। যেন এই শব্দ যাদুকরের যাদুরকাঠির শব্দের মতো। বলাই সে রাতে আবার ওদের নানা গল্প শোনায়। ওদের ব্যবসার জায়গা বদল হয়। এখান থেকে ওরা চলে যায়—নিউমার্কেটে, জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে, রাপাপ্লাজায়। ফাঁসির মানুষ এবার ঝোলে রমনাপার্কে। বলে—আহা মরণের সময় পার্কই বালা। পার্কের বাতাস খাইতে খাইতে মরব। বালা না?

তুমি খালি ফাঁসি ফাঁসি কর ক্যান?

তাহলে? এইসব বদমায়েশ থাকলে দুনিয়া ঠিক হয়? চোর-বাটপার, গুন্ডা-ডাকাত। সব শালার মরা উচিত। যেই শালা আজ লুঙ্গি নিয়া টাকা দিল না, সেই মস্তানের আগে মরা উচিত। চার জন মস্তান আইসা এইটা সেইটা দেইখা টাকা না দিয়া লুঙ্গি নিয়া ভাগছে। অগো কি ফাঁসি হওয়া উচিত না? তোরা ঠিক কর, কী শাস্তি দিবার চাস। তবে খাঁচা খাঁচা করিস না। ওইডা সম্ভব না। অতো বড় ময়দান নাই ঢাকা শহরে।

ফারাজ বলে, হাত কাইটা ফেলা দরকার। সউদিত তা-ই করে। তারপর বলে—আর আমার বই? এমনিই নিবার চায়। কয়—পুরান বইয়ের আবার কী দাম। কও দেখি আমি কি এমনি এমনি বই দিতে পারি। একটা কিনে আর তিনটা হাতায়ে নেয়। আমার ফুলকি, মোতি, মরি পথের দিকে তাকাইয়া আছে। বেইচা টেইচা কিছু পয়সা হইব তারপর অগো শাড়ি-জামা নিয়া বাড়ি যাব। এমনি এমনি দেই কেমনে?

তুই ভাবিস না। ওরা সব মরব। সবগুলার ফাঁসি হইব। মাথাত বাজ পড়ব। আকাশের রাজা উপর থিকা সব দেখতাছে। এখনো বিচার হাতে নেয় নাই। হাতে যেদিন নিব জগত্ সাফসুতরো হইব। এমন থাকব না। তখন লোকে এক হাতে জিনিস নিব আর অন্য হাতে দাম দিব। আছিস কোনখানে। বলাই বোধকরি ক্রিস্টালবলের দিকে তাকিয়ে আছে।

তুমি খালি ডরের কথা কও না বলাইদাদা, আশার কথাও কও। করিম আজও বলে একই কথা। কুপি জ্বালিয়ে অন্ধকারে চার জন বসে থাকে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে। কুপির শিখা বাতাস পেয়ে দপ দপ করে ওঠে। এরপর বলাই বলে—জগত্ ঠিক হইতে সময় লাগে। ডর কিসের। একটু ধৈর্য ধইরা থাক। সবুর কর। সবই ঠিক হইয়া এই জগতের মধ্যে স্বর্গের বাতাস বইব। সবুরে মেওয়া ফলে জানিস না? ধৈর্য নিয়া বইসা থাক। সব ঠিক হইতে আর বেশি সময় নাই। আকাশের রাজা একদিন সব ঠিক করব, এখন একটু ঘুমের মধ্যে আছে। বুড়া হইছে বুঝিস না।

ওরা বলাই-এর কথায় হাসে। ভালো কইছ—আকাশের রাজা ঘুমের মধ্যে আছে। মশা নাই, ছারপোকা নাই, বালিশ মাথায় দিয়া কত আরামে ঘুমাইতেছে দেখ না।

বালিশ, চাদর অর আর কিয়ের অভাব। আবু বলে।

চার

ফুলকি আজ পিঠা বানিয়েছে। কয়েকটা মসজিদেও দিয়েছে। বলেছে মোতিকে, তোর বাপের লাগি দোওয়া করতে বলবি। কইবি, আব্বার ব্যবসা যেন ফুইলাফাঁইপা ওঠে। আচ্ছা—বলে মোতি চলে যায়। মেয়েরা পিঠা খেলেও ফুলকি খেতে পারে না। ফারাজ নাই। সে কেমন করে পিঠা খায়। মেয়েরা খেয়াল করে না। ওরা পিঠা-টিঠা খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। রাত দশটার দিকে কিসের শব্দে তিনজন উঠে বসে। বাড়ি ফিরেছে ফারাজ। তার দোকান পুড়ে গেছে। বলাইয়ের দোকানও নাই। কেবল করিমের চায়ের কেতলি আর গ্যাসের চুলা নিয়া দৌড় দিবার জন্য ওগুলো বেঁচে গেছে। তবে একটা কনডেন্সড মিল্কের কৌটা, একটা হরলিক্সের বয়াম চিনি আর কিছু গুঁড়া চা উদ্ধার করতে পারেনি। কয়েকটা কাপ ছিল সেগুলো গুঁড়া গুঁড়া। সে দুই হাতে দুই জিনিস নিয়ে যে দিকে দুই চোখ যায় পালিয়ে গেছে। একটা গ্যাসের চুলা আর একটা বড় কেতলি—তার ব্যবসার ক্যাপিটাল। ফারাজের সঙ্গে কয়েকটা পোড়া আধপোড়া বই। ফুলকি স্বামীকে দেখে। সব শোনে। ফারাজের বয়ান—কত বই রে ফুলকি, জ্ঞানের বই, ধর্মের বই, কবিতার বই, গল্পের বই কোনোটা বাদ দেয়নি। আল্লাহর বইতেও আগুন দিছে। বলতে বলতে সে কাঁদতে থাকে।

মেয়েরা সেই আধপোড়া বই নিয়ে ঘরে যায়। একটা ঘর আর একটা বারান্দা। বারান্দার একপাশে ফুলকির রান্নাবাড়ি। আর একপাশে চকি পাতা। এখানে ওরা ঘুমায় কখনো কখনো। বৃষ্টি-বাদলাতে চার জন ঘর ভাগ করে যেমন করে পারে। ফারাজ কিছু খায় না। সে কেবল কাঁদছে। —কেমন করে পুড়ে গেল সব, তারই বিবরণ দিতে দিতে কান্না থামাতে পারে না। ফুলকি চোখ মোছায়।

মেয়েমানুষের মতো এত কান্নাকাটি কিসের? একটা কিছু কইরেন। আর আমি তো আছিই।

কী করব এইখানে? খালি এই বাড়িটা। আর কী আছে আমার? তাই তো ঢাকায় গিয়া ভাগ্যটারে একটু ঠিক করতে চাইছিলাম। পারলাম না। একটা ব্যবসা করতে চাইছিলাম। সবটা গেল। কুপির মতো দপ কইরা নিভা গেল।

আবার যাইয়েন। ফুলকির গলার স্বর স্বাভাবিক। ফারাজ কাঁদতে কাঁদতে বোধকরি ঘুমিয়ে গেল। আজ বলাইয়ের গল্প নেই চারপাশে, নিউমার্কেট বা রাপাপ্লাজার দোকান দেবার গল্পের ঝাঁপি খুলে বসেনি ও। বড় বড় দোকান, টাকা-পয়সা। পোড়া কাপড়-চোপড় ফেলে প্রাণ নিয়ে যে কোথায় গেল, কে জানে। পালাতে পালাতে দৌড়াতে দৌড়াতে চিত্কার করল—শালারা, আমরা কী করছি? বলাই-এর এমন কথার উত্তর দেবার কোনো শালাকে দেখতে পাওয়া যায় না আশেপাশে। সে কি খুঁজছে সেইসব মানুষদের, যাদের ও রমনাপার্কে অথবা চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশে সারি সারি ঝুলতে দেখার স্বপ্ন দেখে। আজ সে ওখানে আরও কিছু নতুন মানুষকে ঝুলতে দেখে কল্পনায়। বলে কেবল—আমরা কী করছি রে শালারা? শালা বানচোত, কোনখানে তোরা? এই সব বলতে বলতে কেবল পকেটে জীবন ভরে সে ছুটে কোথায় গেল, কে জানে।

কোথায় যাবে, বাড়িতে? একটা বেড়ার বাড়ি পুড়তে সময় লাগে? সে খবর বলাই জানে না।

আর আবু? যদি বেঁচে যায়, তাহলে বলতে হবে ওর ভাগ্য ভালো।

দুপুর রাতে আর একটা আর্ত চিত্কারে সকলে জেগে ওঠে আবার। কাঁদছে ফিরু। ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। আজ তার স্বামীর লাশ পাওয়া গেছে। —তুমি কইছিলা আমারে নিবা। ফিরুর কান্নার পর ফারাজের কান্না থেমে যায়। —গার্মেন্টের দালানের তলায় চাপা পড়ে ছিল তার স্বামী। দেহ আছে প্রাণ নাই। — আমারে নিবা কইয়া কই গেলা তুমি? একই কথা বলে বার বার।

তোরে নিব মরবার জন্য। ওর বাবার গলা। আল্লাহ যেইডা করে ভালোর জন্য। তুই তো বিয়ার পরদিন যাইবি বইলা পা তুইলা বইসা ছিলি। কইছিলি সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা হইয়া গেছে তুই গেলেই কাম পাবি। আমি বাধা না দিলে কী হইত? পচাগলা লাশ হইতি। আমার এত সময় আছে তোর ফটো নিয়া দিনের পর দিন খাড়াইয়া থাকি?

বাঁইচা থাইকা আমার লাভ?

ফিরুর আব্বা বলে—বাঁইচা আছিস, সেইটাই বড় কথা। জানটা আছে। ফিরুর মাও মেয়ের গলা ধরে কাঁদছে। পাড়াপ্রতিবেশী সে কান্না শোনে। মা ও মেয়ের ডুকরে ডুকরে কান্না। তারপর আবার ঘুমায়। পরদিন সকালে কত কাজ ওদের। পাশ ফিরতে ফিরতে বোধকরি বলে—ভাগ্য আল্লাহ বানায়। তুই আর কাইন্দা কী করবি ফিরু। যা কপালে আছে সেডা কেউ খণ্ডাইতে পারে?

ফিরুর কান্না, ফারাজের কান্না। এতকিছু শুনে আর কী লাভ। বলাই বলে—দেশ ভালো করতে গেলে কত প্রাণ যায়। তারপর দেশ আর জগত্ ভালো হয়। তোরা ডরাস ক্যা? সেই বলাই এখন কোথায়?

ফুলকি বলে একসময়—আল্লাহর কত মেহেরবান দেখছেন নাকি। আপনারে জিন্দা ফিরাইয়া আনছে। এই বলে এতক্ষণ পর জিন্দা মানুষের কারণে বোধকরি চোখ মোছে। বলে খসখসে গলায়—বাটিত দুইখান পিঠা আছে, কাল সকালে খাইবেন। আমি একটু গুড়ও লুকাইয়া রাখছি।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, 'রাজনৈতিক দল হিসাবে কর্মকাণ্ড করার কোনো অধিকার জামায়াত রাখে না।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
5 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :