The Daily Ittefaq
বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২৯ শ্রাবণ ১৪২১, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭৮.৩৩ শতাংশ | প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রভাব ফলাফলে পড়েনি: শিক্ষামন্ত্রী | পাসের হারে মেয়েরা, জিপিএ-৫-এ ছেলেরা এগিয়ে

সংকটে চারঘাটের খয়ের শিল্প

চারঘাট (রাজশাহী) সংবাদদাতা

যে শিল্পের জন্য রাজশাহীর চারঘাট সারাদেশে পরিচিতি লাভ করে সেই ঐতিহ্যবাহী খয়ের শিল্প বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে। ১৯৫২ সালে মুন্সী নুরুল হকের উদ্যোগে চারঘাটে খয়ের শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পঞ্চাশের দশকে তদানীন্তন ভারত থেকে আগত বিহারীদের মাধ্যমে এই শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসার ঘটে। সে সময় স্থানীয় ব্যক্তিরা ব্যাপকভাবে এই শিল্পের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

খয়ের প্রধানত খাদ্য হিসেবে পানের সাথে ব্যবহূত হলেও রঙ, ওষুধ, কেমিক্যাল প্রভৃতি তৈরিতেও ব্যবহূত হয়। খয়েরের বৈজ্ঞানিক নাম 'একাচিয়া ক্যাটেচু'। খয়ের শিল্পের কাঁচামাল খয়ের গাছ। রাজশাহীর চারঘাট ছাড়াও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, ঈশ্বরদী, পাবনা, নাটোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে খয়ের গাছ উত্পন্ন হয়।

উত্পাদন প্রক্রিয়ার দিক থেকে খয়ের দুই প্রকার। লালি খয়ের ও গুটি খয়ের। খয়ের গাছের বাকল তুলে সার অংশটুকু কুচি করে কেটে পানিতে দুই ঘণ্টা ফোটালে কাঠ থেকে যে নির্যাস বের হয় তা জাল করলে খয়ের উত্পন্ন হয়। এভাবে উত্পন্ন খয়েরকে লালি খয়ের বলে। লালি খয়ের স্থানীয় বাজারে মণপ্রতি ১৪/১৫ হাজার টাকা দরে বেচা-কেনা হয়। চারঘাট ছাড়াও উত্পাদিত লালি খয়ের রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়। লালি খয়ের বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে চাপ মেশিনের মাধ্যমে রস বের করা হয়। তারপর প্রাকৃতিক পরিবেশে ২/৩ মাস শুকিয়ে সাইজ করে কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। এই খয়েরই গুটি খয়ের বা জনকপুরী খয়ের নামে পরিচিত। ঢাকার মৌলভীবাজার ও চকবাজারের মহাজনরা চারঘাট থেকে ৩৫/৩৬ হাজার টাকা মণ দরে গুটি খয়ের ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে।

বিগত শতাব্দীর ষাট, সত্তর ও আশির দশক ছিল খয়ের শিল্পের সুবর্ণ সময়। সেই সময় চারঘাটের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ খয়ের শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু নব্বই-এর দশকের প্রথম দিক থেকে নানা কারণে এই শিল্পে ধস নামে। খয়ের শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হন এবং ১৯৯৫ সালে 'চারঘাট বাজার খয়ের ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি' গঠন করেন। পরে চারঘাট পৌরসভা খয়ের ব্যবসায়ী সমিতি নামে আরেকটি সমিতি গঠিত হয়। তারপরেও খয়ের ব্যবসায় টিকে থাকা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। বর্তমানে চারঘাটে গুটি খয়ের ব্যবসায়ীদের সংখ্যা মাত্র ৫৬ জন এবং খয়ের শিল্পের মাধ্যমে এখনও জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় এক হাজার পরিবার। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খয়ের শিল্পের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তা হলো-প্রাচীন উত্পাদন পদ্ধতি, আমদানিকৃত বিদেশি খয়েরের সাথে অসম প্রতিযোগিতা, কাঁচামালের অভাব, ইজারাদার ও মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের দৌরাত্ম্য, নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি বা বাজারজাতকরণের অসুবিধা, বিক্রিত পণ্যের মূল্য পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব।

খয়ের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ও ইব্রাহিম খলিল বলেন, সরকারি উদ্যোগে খয়ের গাছের উত্পাদন বৃদ্ধি করা, উত্পাদন পদ্ধতির আধুনিকীকরণ, শিল্পের সাথে জড়িত মালিক ও শ্রমিকদের কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, মধ্যস্বত্বভোগী দালালদের উচ্ছেদ করা, অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টি ও বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা এবং বিদেশি খয়ের আমদানির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে চারঘাটের ঐতিহ্যবাহী খয়ের শিল্প ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় কারো নৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ৬
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:১০
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :