The Daily Ittefaq
বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২৯ শ্রাবণ ১৪২১, ১৬ শাওয়াল ১৪৩৫
সর্বশেষ সংবাদ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭৮.৩৩ শতাংশ | প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রভাব ফলাফলে পড়েনি: শিক্ষামন্ত্রী | পাসের হারে মেয়েরা, জিপিএ-৫-এ ছেলেরা এগিয়ে

নৌযান উদ্ধারে নেই আধুনিক ব্যবস্থা

উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম চলত্শক্তিহীন। কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে অন্য জাহাজের সাহায্যে টেনে নিয়ে যেতে হয়

লিটন বাশার, বরিশাল অফিস

দেশের নৌপথে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটলেও দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চ বা জাহাজ উদ্ধারে নেই কোন অত্যাধুনিক নৌ-যান। যাত্রীবাহী লঞ্চ, ট্রলার, পণ্যবাহী কার্গো ও ফেরি ডুবির দুর্ঘটনার পর তা নদীর তলদেশেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ'র উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে আর রুস্তুম সংগ্রহ করা হয় ১৯৮৪ সালে। ঐ দু'টি জাহাজের ক্রেনের উত্তোলন ক্ষমতা ৬০ টন করে। এ দুটি জাহাজ একযোগে কাজ করলে মোট ১২০ টন উত্তোলনে সক্ষম। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ'র এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, রুস্তম ও হামজা সংযোজনের সময় ৬০ টন উত্তোলন ক্ষমতা থাকলেও এখন সেই ক্ষমতা নেই।

দীর্ঘ ২৯ বছর পর গত বছর এপ্রিল মাসে কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয় নির্ভিক ও প্রত্যয় নামে দু'টি উদ্ধারকারী নৌ-যান। এ দু'টির উত্তোলন ক্ষমতা আড়াইশ' টন করে। প্রত্যয় ও নির্ভিকের উত্তোলন ক্ষমতা ৫শ' টন হলেও এরা রুস্তম ও হামজার মতো একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারে না। গভীর পানি ছাড়া চলতেও পারে না নতুন এ জাহাজ দু'টি। এসব কারণে ৩৬৫ কোটি টাকা খরচ করে কোরিয়ার ডক ইয়াডে নির্মাণ করা এ উদ্ধারকারী জলযান তেমন কোন উপকারে আসছে না।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, রুস্তম ও হামজা ৭ থেকে ৮ ফুট পানিতে চলাচল করতে পারে। কিন্তু নির্ভিক ও প্রত্যয় চলাচলের জন্য দ্বিগুন গভীরতার প্রয়োজন। যদিও সংস্থাটির পরিচালক (নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন) মোহম্মদ হোসেন ইত্তেফাককে জানান নির্ভিক ও প্রত্যয় ১০/১২ ফুট পানিতে চলতে পারে। দু'টি জাহাজ একত্রে অভিযানে না যাওয়ার ব্যাপারে তিনি জানান, নিমজ্জিত নৌ-যানে ক্রেন যুক্ত করার পর সেই ওজন প্রত্যয় ও নির্ভিকে সমান ভাগে ভাগ করে দিতে হয়। দু'টি ক্রেনের ওজন সমান না হলে বিকল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি

লঞ্চ মালিকদের মতে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ উদ্ধারকারী জাহাজের সাহায্যে অতি সহজে নদীর তলদেশে নৌযানের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব। আধুনিক জাহাজ তো দূরের কথা বাংলাদেশে অহরহ উদ্ধার অভিযানে যাওয়া হামজা ও রুস্তমে ইকো সাউন্ডার পর্যন্ত নেই। হামজা ও রুস্তম চলত্শক্তিহীন। কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে টাগ বা অন্য জাহাজের সাহায্যে তাকে টেনে নিয়ে যেতে হয়। টাগ বা জাহাজ প্রতি ঘন্টায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার চলতে পারে। ভাটার সময় এর গতি আরো কমে যায়। ফলে লক্ষ্মীপুরসহ চাঁদপুরের আনাচে-কানাচে কিংবা বরগুনার বিষখালী, খাতাচেড়া কিংবা আগুন মুখা নদীতে দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ থেকে রুস্তম-হামজার অকুস্থলে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর বিআইডব্লিউটিএ যে দু'টি উদ্ধার ইউনিট যুক্ত করেছে তাও তেমন কাজে আসছে না। দেশের বিশাল নৌ-পথ যখন নাব্যতা সঙ্কটে রয়েছে তখন গভীর জলের প্রাণীর মত প্রত্যয় ও নির্ভিক দুর্ঘটনাস্থলে কীভাবে পৌঁছাবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসাব মিলিয়ে ঐ দু'টি ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও একটি মাত্র ইউনিট কাজ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে মান্ধাতার আমলের তৈরি হামজা ও রুস্তমের সাথে যুক্ত করে ঐ ইউনিট কতটা সাফাল্য দেখাতে পারবে তা নিয়ে সন্দিহান নৌ-যান মালিকরা।

তলদেশেই থেকে যায় জাহাজ

আধুনিক জলযান না থাকায় পিনাক নিমজ্জিত হওয়ার আগেও ডুবে যাওয়া লঞ্চ বা জাহাজ উদ্ধারে তেমন কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি কোন জলযান। চলতি বছরের ৯ মার্চ রাতে কীর্তনখোলা নদীতে নিমজ্জিত হয় পণ্যবাহী কার্গো কর্ণফুলী-৫। সাড়ে ৯শ' টন কাঁচামাল নিয়ে নিমজ্জিত এ কার্গো উদ্ধারের ক্ষমতা বিআইডব্লিউটিএ'র নেই জানিয়ে দিয়ে নিমজ্জিত কার্গোর মালিককে ব্যক্তিগত উদ্যোগে উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হয়। সিমেন্ট বোঝাই জাহাজটি থেকে গেছে কীর্তনখোলা নদীর তলদেশেই।

২০১২ সালের ২৫ জুলাই মেঘনায় তেলবাহী ট্যাংকার এমটি মেহেরজান নিমজ্জিত হয়। নিমজ্জিত জাহাজ থেকে মেঘনায় তেল ছড়িয়ে পড়ার খবরে উদ্ধার অভিযানে নামে বিআইডব্লিউটিএ। পিনাক উদ্ধারের মতোই এক পর্যায়ে নৌ-বাহিনীর সহায়তা নেয়া হয়। এ অভিযানে সংস্থার বিপুল টাকা খরচ হলেও একশ' ফুট পানির নিচেই থেকে গেছে এমটি মেহেরজান। গভীর পানিতে নিমজ্জিত নৌ-যান সনাক্ত করতে পারে না রুস্তম বা হামজা। রশির সাথে এঙ্কর বেঁধে জাহাজ অনুসন্ধানের জন্য সন্ধানী ও অগ্রগামী নামের দু'টি জাহাজ রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ'র। এমটি মেহেরজানকে একশ' ফুট পানির নিচে সনাক্ত করতেই সন্ধানী ও অগ্রগামীর সময় লেগেছে ৩ দিন। এরপর হামজা ও রুস্তম বার বার ব্যর্থ হলে ৫ দিন পর চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ সৈকত অকুস্থলে পৌঁছায়। তারা টানা ৩৯ ঘন্টা অভিযান চালিয়েও পায়নি কোন সাফল্য। ৩ আগস্ট মেহেরজানকে পরিত্যক্ত করে অভিযান সমাপ্ত করা হয়।

২০১২ সালের ১২ মার্চ অপর এক দুর্ঘটনায় মেঘনায় শরিয়তপুর-১ লঞ্চ নিমজ্জিত হওয়ার পর উদ্ধারকারী জাহাজের বেহালদশার কারণে ঠিক একই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

২০০৯ সালে ভোলার লালমোহনে কোকো দুর্ঘটনার পর রুস্তম- হামজাকে একত্রিত করেও লঞ্চটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দু'বছর পর অবশ্য বেসরকারি উদ্ধার কোম্পানির সহায়তায় কোকোকে উদ্ধার করা হয়।

২০০৩ সালের ৮ জুলাই চাঁদপুরের ষাটনলে নিমজ্জিত ঢাকা-লালমোহন রুটের এমএল নাসরিনকে পিনাকের মতোই ভাগ্যবরণ করতে হয়েছে। নাসরিনকেও পানির নীচে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। শত শত যাত্রী নিখোঁজ অবস্থায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ঐ উদ্ধার অভিযান। ১৯৮৪ সালে মেঘনার হিজলা এলাকায় এমভি সামিয়া নিমজ্জিত হয়েছিল। হামজা ও রুস্তুম সম্মিলিতভাবে ঐ জাহাজ উদ্ধারেও হিমশিম খায়।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় কারো নৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়নি।' আপনিও কি তাই মনে করেন?
6 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ৫
ফজর৫:০৬
যোহর১১:৪৯
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :