The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৪ ভাদ্র ১৪২০ এবং ১ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ থ্রিজির নিলাম সম্পন্ন: প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২ কোটি ১০ লাখ ডলার | জামালপুরের নিজ বাড়িতে দম্পতি খুন | সিরিয়ায় সামরিক অভিযান প্রশ্নে সমর্থন বাড়ছে: যুক্তরাষ্ট্র | প্রধানমন্ত্রীর মাথা খারাপ, তার চিকিত্সার সুপারিশ করছি: খালেদা জিয়া

শিক্ষা

সাংবিধানিক অবস্থান ও শিক্ষানীতির আলোকে সাক্ষরতা

মজিবুর রহমান

সাংবিধানিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন থেকে শুরু করে অধুনা প্রণীত শিক্ষা নীতি ২০১০-তে এ নিরক্ষরতা দূর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে সাক্ষর করে তোলার জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা ও ভবিষ্যত্ কার্যক্রমের সম্পর্কে শিক্ষানীতি ২০১০-এ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিক্ষানীতির 'উপানুষ্ঠানিক ও বয়স্ক শিক্ষা' উপ অধ্যায়ে বয়স্ক শিক্ষা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সাক্ষরতা প্রসারের জন্য যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা পূরণের নিমিত্তে প্রয়োজনে যথাযথ আইনগত কাঠামো প্রবর্তনের বিষয়টি স্বীকৃত হয় নতুন শিক্ষানীতিতে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। ইশতেহার-২০০৮ এর 'মানব উন্নয়ন' শিরোনামে ১০.১ দফায় এবং ভিশন ২০২১ এর ৮ দফায় বর্তমান সরকার সবার জন্য শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যালয় গমনোপযোগী শতভাগ শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ এবং ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, শিক্ষানীতি ২০১০ এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির আলোকে ২০১১ সালে বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করার বিষয়টি ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের সকল রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়েছে। ফলে সাক্ষরতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বিরাট বাধা আতিক্রম করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। বিদ্যালয় থেকে শিশুর ঝরে পড়ার হার হরাস করার জন্য নানাবিধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ফলে এক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি অনেকাংশে প্রতিপালন করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধি, সাক্ষরতা সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে সাক্ষরতার হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে— নিরক্ষরতার অন্ধকার হচ্ছে দূরীভুত। তবে এক্ষেত্রে আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হইনি। দেশের সাক্ষরতার হার এখনও উল্লেখ করার মতো নয়। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারে নি।

এমনিতর অবস্থায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের সকল নাগরিকের মধ্যে সাক্ষরতার আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য গতানুগতিক পদ্ধতি ও কৌশলের পাশাপাশি নতুন পরিকল্পনা ও কৌশল অবলম্বন করতে হবে। শিক্ষার দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে গ্রহণ, Public-Private Partnership-PPP-র আওতায় সাক্ষরতা কর্মসূচিকে নিয়ে আসা, নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্পোরেট জগতকে উত্সাহিত করা, প্রকল্পভিত্তিক বাস্তবায়ন কৌশল বাদ দিয়ে কার্যক্রম ভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ, নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার সংস্থাসমূহের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা এবং বিদ্যমান প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য 'প্রতিজনে একজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করা' কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা— এসব পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গণশিক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সাক্ষরতার আলো ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। এর পাশাপশি সাক্ষরতার বিকাশের জন্যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে আরো দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭ (গ) এ প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি "২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করা" বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টিও অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ফলে এ ক্ষেত্রে কোন ধরনের কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ নিরক্ষরতা মুক্ত হবে, অভিশাপমুক্ত হবে এ দেশের জনগণ- এ প্রত্যাশা সকল নাগরিকের।

লেখক :গবেষক ও সদস্য, বাংলা একাডেমী এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ফেলানী হত্যার বিচারকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান 'তামাশা' বলে মন্তব্য করেছেন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
2 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ২০
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :