The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৪ ভাদ্র ১৪২০ এবং ১ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ থ্রিজির নিলাম সম্পন্ন: প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২ কোটি ১০ লাখ ডলার | জামালপুরের নিজ বাড়িতে দম্পতি খুন | সিরিয়ায় সামরিক অভিযান প্রশ্নে সমর্থন বাড়ছে: যুক্তরাষ্ট্র | প্রধানমন্ত্রীর মাথা খারাপ, তার চিকিত্সার সুপারিশ করছি: খালেদা জিয়া

সংকট নিয়ে নেপথ্যে আলোচনা চলছে

শামছুদ্দীন আহমেদ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান দৃশ্যত অনড় মনে হলেও ভেতরের খবর কিছুটা ভিন্ন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে পর্দার আড়ালে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা হচ্ছে। এই অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যম হিসাবে মূলত কাজ করছেন ঢাকায় নিযুক্ত কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা। ঘরোয়া এসব আলোচনায় বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারি দল ও কূটনীতিকদের এমন বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং ফলাফল পাল্টাবে না-এমন নিশ্চয়তা পেলেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। অন্যদিকে,

সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বার্তা হচ্ছে, বিদ্যমান সংবিধানের ভেতরে থেকেই সমঝোতা হতে পারে। অন্যথায় অন্য কেউ আসুক বা না আসুক নির্বাচন হয়ে যাবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, 'নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবো না', আনুষ্ঠানিক সভা-সমাবেশে জোর দিয়ে এমন কথা বলা হলেও ভেতরে-ভেতরে দলটির অবস্থান কিছুটা নমনীয়। দলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে, সরকার বিরোধী জনমত সৃষ্টি এবং আন্দোলনের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশ্যে অনড় অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে। দলটির নেতারা জানান, পূর্বের তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি আর ফিরে আসবে না— এটা তারাও জানেন। সম্পূর্ণ নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থাও আওয়ামী লীগ মেনে নেবে না, এটাও তারা বুঝতে পারছেন। এ অবস্থায় সমঝোতার জন্য মাঝামাঝি কোনো উপায় বের করাই দলটির মূল লক্ষ্য। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে এবং প্রকৃত ফলাফল পাল্টে যাবে না, এমন নিশ্চয়তা পেলেই নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত বিএনপি। দলটির নেতাদের বিশ্বাস, এমন নিশ্চয়তা পেলেই নির্বাচনে তাদের জয়ের ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই। আর এই বিষয়টিই তারা কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরছেন।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করে জানা গেছে, অনির্বাচিত কারো হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা না দেয়ার সিদ্ধান্তে তারা অনড়। বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই সমঝোতার পথ খুঁজতে হবে। বিরোধী দল এতে সম্মত হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সেই পথের সন্ধান মিলতে পারে। বিএনপি নেতারা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমঝোতার উপায় বের হয়ে আসবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, সমঝোতার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে-একথা ঠিক নয়। আওয়ামী লীগ সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করতে চায়। এজন্য বিএনপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা হচ্ছে। শুক্রবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি আরও জানিয়েছেন, বিরোধী দলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে আমাদের অনেক জায়গাতেই অনানুষ্ঠানিক আলাপ হচ্ছে। কিভাবে কি করা যায়, সংবিধানের ভেতরে থেকেই কিভাবে সমঝোতার পথ বের করা যায়, এসব নিয়ে কথা চলছে। শেষ পর্যন্ত নিশ্চয়ই একটা উপায় বের হতেও পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মতিয়া চৌধুরী। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও গতকাল শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।

মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য অস্বীকার করছেন না বিএনপি নেতারাও। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, অনানুষ্ঠানিক কথা হচ্ছে-এটা ঠিক। কূটনীতিকদের বাসায়, বিয়ে-জন্মদিন-বিবাহবার্ষিকীসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত এসব আলোচনা আনুষ্ঠানিকতা না পাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সবকিছু অনিশ্চয়তায় দুলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হুবহু আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়- এটা আমরাও বুঝি। এজন্য ইতোমধ্যে আমরাও অনেকটাই সরে এসেছি। নির্দলীয়, তত্ত্বাবধায়ক-যে শব্দ কিংবা যেই ভাষাতেই আমরা বক্তব্য দিচ্ছি না কেন, আমাদের দাবির মূল স্পিরিট (সারমর্ম) হচ্ছে- নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা ঠিকভাবে হতে হবে- এই নিশ্চয়তাই আমার চাচ্ছি। সেটা যদি সংবিধানের ভেতরে থেকেও সম্ভব হয় তাহলেও আমাদের খুব আপত্তি নেই। কূটনীতিক পর্যায়ে কিংবা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যেখানে দেখা হচ্ছে সেখানে আমরা এ কথাটিই বলছি।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরও দু'জন সদস্যও প্রায় অভিন্ন তথ্য জানান ইত্তেফাককে। তারা জানান, বিএনপির এখন প্রধান টার্গেট সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আদায় করা। এছাড়া নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার না থাকা এবং ওই সরকারে বিরোধী দলেরও অংশীদারিত্বও চায় বিএনপি। এই দাবি মিটলেই মূলত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম গতকাল ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিরোধী দল যদি নির্বাচনকালীন সরকারে অংশীদার হতে চায় তাহলে সংসদে এসে তা বলুক, সরকার তখন সেটি বিবেচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দলটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদকও গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, কূটনৈতিক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলাপ হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর্যায়ে যাওয়ার মত পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। আগামী নির্বাচন সম্পর্কে দলীয় অবস্থানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা জানান, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। এর ভেতরে যদি কোনো সমঝোতা হয় তাহলে আওয়ামী লীগের আপত্তি থাকবে না। তা না হলে বিএনপি বা অন্য আরও কেউ নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন অনুষ্ঠান করার বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ইত্তেফাককে বলেন, সমঝোতা অসম্ভব বা কঠিন কিছু নয়। এখানে দরকার দুইপক্ষের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। সেক্ষেত্রে বিএনপির আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। এখন যে বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়েছে সেগুলো আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে এই আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই। তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিষয়গুলো নিয়ে আগে উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রীকেই মূল উদ্যোগটি নিতে হবে। অন্যথায় কোনো অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা খুব একটা ফল দেবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে খোকা বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। সবাই আস্থা রাখতে পারবেন, এমন একটি ভালো নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। আওয়ামী লীগেরই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত, কারণ তা না হলে একসময় তো তাদেরও এই সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কূটনীতিকসহ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অঙ্গনে প্রভাবশালীরাও নানাভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। 'সামাজিক' অনুষ্ঠানের নামে আয়োজন করা হচ্ছে মতবিনিময়ের। যেখানে রাজনৈতিক আলোচনাই মুখ্য হয়ে উঠছে। গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের গুলশানের বাসায় নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বৈঠক করেছেন বলে শোনা গেছে। তবে এই ধরনের কোনো বৈঠকের কথা অস্বীকার করে ড. দেবপ্রিয় গতকাল বিকালে ইত্তেফাককে বলেন 'আমি সারাদিন আমার অফিসে, এখনও অফিসে। আমার সাথে তাদের কোনো বৈঠক হয়নি।'

অবশ্য বৃহস্পতিবার রাতে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বাসায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ আহমেদ, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, কানাডার হাইকমিশনার হিথার ক্রুডেন ও জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। এছাড়াও এখন কয়েকদিন পরপরই কূটনীতিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা একত্রিত হচ্ছেন। এসব মতবিনিময়ের প্রধান আলোচ্য বিষয় থাকছে-বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ফেলানী হত্যার বিচারকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান 'তামাশা' বলে মন্তব্য করেছেন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
4 + 5 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২৬
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :