The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৪ ভাদ্র ১৪২০ এবং ১ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ থ্রিজির নিলাম সম্পন্ন: প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২ কোটি ১০ লাখ ডলার | জামালপুরের নিজ বাড়িতে দম্পতি খুন | সিরিয়ায় সামরিক অভিযান প্রশ্নে সমর্থন বাড়ছে: যুক্তরাষ্ট্র | প্রধানমন্ত্রীর মাথা খারাপ, তার চিকিত্সার সুপারিশ করছি: খালেদা জিয়া

নৌপথের উন্নয়নে সুষ্ঠু পরিকল্পনার বিকল্প নাই

নৌ-রুটের নাব্যতা লইয়া অতীতেও নানান কথা হইয়াছে। আবারও নৌপথ আলোচনায় আসিয়াছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হইয়াছে মর্মে খবরও প্রকাশিত হইয়াছে। উদ্বেগের বিষয় হইতেছে যে, এইখানে একবার যদি ফেরি চলাচল বন্ধ হইয়া যায়, তাহা হইলে কল্পনাতীত ভোগান্তির আর অন্ত থাকে না। খবরে জানা যায়, ফেরি ডুবোচরে আটকে পড়ায় এবং পারাপার বন্ধ থাকায় সরকার আড়াই কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব হারাইয়াছে। বাংলাদেশের ভৌগলিক কারণেই নৌপথগুলি দিয়া উজান হইতে প্রচুর পলি আসে। ইহার ফলে সামপ্রতিক সময়ে কয়েক দফায় অন্তত ৮৫ ঘন্টার মত ডুবোচরে আটকা পড়িয়াছিল ফেরি। এই আটকা পড়িবার কাহিনীও নূতন নহে। খনন করিয়াও এই চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো সম্ভব হইতেছে না। ইহার কারণ হিসাবে অনেকেই বলিয়াছেন অপরিকল্পিত খননের কথা। কাহারও মতে, খনন কার্যক্রমে দুর্নীতিও এই ধরনের ভোগান্তির কারণ। এইদিকে, ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে জানা গিয়াছে, বরিশাল নগর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর একপ্রান্তে ভয়াবহ ভাঙন ও অপর প্রান্তে পলি পড়িয়া নাব্যতা এমন সংকটের সৃষ্টি করিয়াছে, যাহার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়িয়াছেন লঞ্চযাত্রীরা। নদী ভাঙনে চরকাউয়া ফেরিঘাট ও খেয়াঘাটসহ বাজারের বিশাল একটি অংশ ইতোমধ্যেই বিলীন হইয়া গিয়াছে। একই সময় ভরাট হইয়া যাইবার ফলে পশ্চিম তীরের লঞ্চঘাটটি নাব্যতা হারাইয়াছে। ইহাতে করিয়া বর্ষা মৌসুমেও এই ঘাট হইতে নৌযান চলাচল করিতে পারিতেছে না। প্রায়শই যানবাহন লইয়া ফেরিগুলি মাঝ নদীতে আটকা পড়িতেছে।

অবস্থাদৃষ্টে ইহাই প্রতীয়মান হইতেছে যে, নদী খননের বিষয়টি লইয়া সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা সরকারের নাই। বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া গতানুগতিক ধারায় চলিবার ফল আজকের এই অচলাবস্থা। সুষ্ঠু পরিকল্পনা লইয়া আগাইলে হয়তো এতটা কঠিন পরিস্থিতি হইতো না। যদিও লক্ষ্য রাখিতে হইবে যে, ড্রেজিং করিবার সময় সঠিকভাবে করা হইতেছে কি না, কিংবা ড্রেজিং অব্যাহত রহিয়াছে কি না, তাহাও তদারকির ব্যাপার রহিয়াছে। বাংলাদেশে এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা খুউব ভাল নহে। দুর্নীতির বিষয়টি বরাবরই আলোচিত হইয়া থাকে। ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টিও আরও বেশি আলোচ্য। কেননা, জনমনে এমন ধারণা রহিয়াছে যে, ড্রেজিং কাজ সুচারুভাবে সুসম্পন্ন হয় না। যেই পরিমাণ ড্রেজিংয়ের দরকার হয়, তাহা করা হয় না। এইসব কাজ যে নিয়মিত করিতে হয়, সেইদিকেও ভ্রুক্ষেপ থাকে না। বলিতে হয় যে, বাংলাদেশে নৌপথে কোন সিগন্যালও নাই। নৌপথ প্রধান দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কথাই যদি বলি, এইপথে যেই পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করিয়া থাকে, কিংবা পণ্য পরিবাহিত হয়, সেই তুলনায় ইহার রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত।

বিশেষজ্ঞরা বলিয়া থাকেন, অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশের নৌ-চ্যানেলে পলি আসিবেই। ভারতের ব্রক্ষ্মপুত্র, গঙ্গাসহ অপরাপর নদী, যেইগুলি বাংলাদেশের উপর দিয়া প্রবাহিত হইতেছে; সেই নদীগুলি প্রচুর পরিমাণে পলি লইয়া আসে। এইসব পলি একদিকে ভাল যে, আমাদের জমিতে উর্বরতা বাড়াইতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু জমিতে এইগুলি সঠিকভাবে যাইতে না পারিলে নৌপথকেই বরং বিপর্যস্ত করিয়া তোলে। সেই কারণেই ড্রেজিংয়ে বিশেষ মনোযোগী হইতে হইবে। ইহার মানে অবশ্যই এইরকম নহে যে, ড্রেজিংয়ের নামে অর্থের অপচয় করা হইবে। সঠিক প্রাক্কলন করিয়া পরিকল্পনামাফিক ড্রেজিং করিলে নৌপথে নাব্যতা যেমন আসিবে, তেমনি ইহা নৌযান চলাচলে সহায়ক ভূমিকা রাখিবে। মনে রাখিতে হইবে যে, নৌপথে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ব্যাপক সুযোগ বাংলাদেশের রহিয়াছে। এই পথে খরচও কম। নদী পথে পণ্য পরিবহন করিলে ব্যয় কমিবে, ক্রেতারাও কম মূল্যে পণ্য কিনিবার সুযোগ পাইবেন। কাজেই সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিষয়টি বিবেচনায় রাখিয়া নদীর নাব্যতা ঠিক রাখিবার প্রয়াস লইতে হইবে। ইহাই এই সময়ের দাবি।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ফেলানী হত্যার বিচারকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান 'তামাশা' বলে মন্তব্য করেছেন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
6 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
মে - ২২
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :