The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৪ ভাদ্র ১৪২০ এবং ১ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ থ্রিজির নিলাম সম্পন্ন: প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২ কোটি ১০ লাখ ডলার | জামালপুরের নিজ বাড়িতে দম্পতি খুন | সিরিয়ায় সামরিক অভিযান প্রশ্নে সমর্থন বাড়ছে: যুক্তরাষ্ট্র | প্রধানমন্ত্রীর মাথা খারাপ, তার চিকিত্সার সুপারিশ করছি: খালেদা জিয়া

ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানের অমিয় ভাষণ

দৃষ্টিহীন সৌদি গ্র্যান্ড মুফতীর অজানা কথা

আনোয়ার আলদীন

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর অদূরে রহমত পাহাড়ের (জাবালে রহমত) পাদদেশে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হা'মদা ওয়াননি'মাতা লাকা ওয়ালমুলক'- মধুধ্বনি-প্রতিধ্বনি পাহাড় ঘেরা এ ময়দান ছাপিয়ে আকাশ-বাতাস মুখর ও প্রকম্পিত করে তোলে গোটা দুনিয়া থেকে আগত লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। আদিগন্ত এই মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে ওঠে। সফেদ-শুভ্র কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজীদের অবস্থানের কারণে 'জাবালে রাহমত' সাদা আর সাদায় একাকার। ৯ জিলহজ্ব সমবেত হাজীগণ শোনেন আরাফাতের ঐতিহাসিক অমিয় ভাষণ। উপস্থিত সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মুসলমান এবং তাদের মাধ্যমে গোটা মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশ্যে বছরের দীর্ঘ প্রত্যাশিত ঐতিহাসিক ভাষণ বা খুতবাটি প্রদান করেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতী ও খতীব শায়খ আবদুল আজীজ আলে শায়খ। একই সাথে এই খুতবার মূল পয়গাম যেন গোটা দুনিয়ার মানুষ সরাসরি শুনতে পারে সেজন্য সৌদি সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সরাসরি সমপ্রচার করা হয় টিভি ও ইন্টারনেটে। ফলে বছর ঘুরে এ দিনটি আসলেই পৃথিবীর কোটি কোটি মুমিন-মুসলমান নর-নারী অধীর অপেক্ষায় চেয়ে থাকেন ঐতিহাসিক আরাফাতের পানে। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনেন আরাফাতের ময়দানে প্রদত্ত সেই বিশেষ নির্দেশনামূলক খুতবা।

কারণ আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে এখানেই দাঁড়িয়ে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্বের ভাষণ দিয়েছিলেন। আর উপস্থিত তাঁর নিবেদিতপ্রাণ লক্ষাধিক সাহাবী আরাফাতের পয়গাম নিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের অমীয় বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে, যেখানে গেছেন সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জোয়ার বইয়ে দেন, উড্ডীন করেন সর্বত্র ইসলামের বিজয় কেতন। এই ময়দানে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর কাছে সর্বশেষ ওহি নাজিল করেছিলেন, 'আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে (ইসলাম) পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।' (সূরা আল মায়িদা, আয়াত-৩) বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার তিন মাসের মাথায় ইসলামের কাণ্ডারি রাহমাতুল্লিল আলামিন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন। এ ময়দানেই হাশরের সেই কঠিন দিনের বিচার বসবে।

সুতরাং ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে প্রদত্ত ভাষণের গুরুত্ব ও তাত্পর্য যেমন অপরিসীম তেমনি অপরিসীম সম্মান ও মর্যাদা সেই বক্তা ও খতীবের যাকে মহান আল্লাহ্ সারা বিশ্বের মুসলমানকে সম্বোধন করার সুযোগ ও তাওফিক দিয়েছেন।

আল্লামা ইকবাল এ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'ই সা'আদাত বঝো রে বাজু নীস্ত' অর্থাত্ এই পরম সৌভাগ্য গায়ের জোরে অর্জিত হয় না। এটা একান্ত আল্লাহ্ তা'আলার দান। তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। মহান আল্লাহ পাক ১৯৯৯ সাল থেকে এই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী করে রেখেছেন যাকে, তিনি একজন দৃষ্টিহীন। চোখের আলো না থাকলেও মনের আলো আছে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতী ও বিশ্বনন্দিত খতীব শায়খ আবদুল আজীজ আলে শায়খ। প্রতিবছর গোটাবিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান এই দৃস্টিহীন খতিবের মুখে খুতবা শোনার জন্যে অধীর অপেক্ষায় প্রহর গোনেন।

মুফতি শায়খ আবদুল আজীজ আলে শায়খের পূর্ণ নাম আবদুল আজীজ ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনে হাসান আলে শায়খ। ১৩৬০ হিজরী সালে সৌদি আরবের বর্তমান রাজধানী রিয়াদে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের পর থেকেই তিনি ভুগছিলেন চোখের জটিল সমস্যায়। ক্রমশ;অন্ধত্ব তাকে ঘিরে নিতে থাকে। ১৩৮১ হিজরী সম্পূর্ন দৃষ্টিহীন হয়ে যান। শায়খ আবদুল আজীজ আরাফাতের দিন ঐতিহাসিক মসজিদে নামিরার খতীব হওয়ার পাশাপাশি ইতিপূর্বে পবিত্র কা'বা শরীফেরও খতীব ছিলেন। পরে একসময় তিনি কা'বা শরীফে খুতবার দায়িত্ব পালন থেকে অপারগতা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি পূর্বে বিচার বিভাগীয় সুপ্রীম কাউন্সিলের প্রধান হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে তার পূর্বসূরী ভুবন নন্দিত হাদিস বিশারদ গ্র্যান্ড মুফতি জন্মান্ধ আবদুল্লাহ আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ ইন্তেকালের পর হতে বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতী। ১৪০২ হিজরী সাল থেকে তিনি পবিত্র আরাফাতের ময়দানে নিয়মিত খুতবা দিয়ে করে আসছেন। এই প্রসঙ্গে জানা যায়, যখন তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে একেবারেই অন্ধত্ব বরন করেন,তখন তাঁর মা প্রাণ-তড়পানো আকুলতা নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে এই বলে দু'আ করেছিলে যে, 'হে আল্লাহ্, হে আমার মালিক, তুমি আমার এ দৃষ্টিহীন সন্তানকে অনেক বড় করো। তাকে এমন খতীবের মর্যাদা দান কর- যে খতীব সারা বিশ্বকে সম্বোধন করতে পারে। দরদী মায়ের অন্তর থেকে বের হওয়া দু'আ মহান আল্লাহ্ কবুল করেছেন। দুই দশক যেতে না যেতেই তাঁর মায়ের এ স্বপ্ন আল্লাহ্ পূর্ণ করে দেন। ১৪০২ হিজরী থেকেই তাঁর সেই দৃষ্টিহীন সন্তান শায়খ আবদুল আজীজ আলে শায়খ গোটা বিশ্বকে সম্বোধন করে প্রতিবছর ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ খুতবা দিয়ে আসছেন। প্রতিবছর মাহে রমযান শেষ হবার পরপরই শায়খ আবদুল আজীজ ঐতিহাসিক আরাফাতের সেই খুতবার প্রস্তুতি শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে গোটা মুসলিম বিশ্বে চলমান সকল বিষয়, চিন্তা-চেতনা এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সংঘটিত নিত্য নতুন ঘটনাগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এভাবে দুইমাস ধারাবাহিকভাবে এ খুতবা প্রণয়নের পেছনে ব্যয় করেন। রমযান মাস শেষ হবার পর হজ্বের খুতবা রচনায় সবিস্তারে যখন হাত দেন শায়খ আবদুল আজীজ, প্রথমে কী কী বিষয় এর মধ্যে আসতে পারে তা নির্ধারণ করে নেন। এরপর নির্ধারিত বিষয়গুলোকে সুচারুরূপে বিন্যস্ত করেন। জিলক্বদ মাসের শুরু থেকে বিন্যস্ত বিষয় ও চিন্তাধারাগুলোকে নির্দিস্ট লেখক দিয়ে কাগজে লেখানোর ব্যবস্থা করেন। তারপর শুরু হয় মাশওয়ারা বা পরামর্শ নেয়ার পালা। কাগজে লিখিত খুতবার প্রতিটি বিষয় নিয়ে পুন: পুন: মতবিনিময় করেন তাঁর নিকটতম কোন বিজ্ঞ আলেমের সঙ্গে। জিলহজ্ব মাস শুরু হবার পূর্ব অবধি চলতে থাকে এই মতবিনিময় ও পুনর্বিবেচনার কাজ। এভাবে সর্বশেষ মতবিনিময়ের পর চূড়ান্তভাবে পুনরায় লেখা হয় খুতবাটি। তারপর শুরু হয় তার খুতবা আত্মস্থ-মুখস্ত করার পালা।

শায়খ আবদুল আজীজ তাঁর কোন একজন সহযোগীর কণ্ঠে পাঠ শোনেন আর খুতবাটি মুখস্থ করতে থাকেন। মুখস্থ করার সময় পবিত্র কুরআন ও হাদীস হতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উদ্ধৃতি সংযোগ করে নেন। এ দীর্ঘ সময়ে শায়খের চিন্তা ও চেতনা জুড়ে সর্বদা থাকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট। এছাড়া প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব অসংগতি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয় তা নির্ণয়পূর্বক সংশোধনের প্রতিও সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন খুতবায়। খুতবা তৈরির দীর্ঘ এ সময়ে শায়খের দরজা সব সময় উম্মুক্ত থাকে তালেবে ইলম তথা ছাত্রজনতা ও সাধারণ জনগণের জন্যে। আগন্তুকদের সাথে আলাপ ও মতবিনিময়ের মধ্যে যেসব কথা, ঘটনা বা সমস্যা সাধারণ মুসলমানদের প্রাত্যহিক বিষয়ের সাথে মিলে যায় সেগুলোকে কাজে লাগান তাঁর খুতবায়। সামপ্রতিক মুসলিম বিশ্বের অন্যতম তাত্পর্যমন্ডিত বিষয় হিসেবে ফিলিস্তিন সমস্যার প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় ঐতিহাসিক আরাফাতের এ খুতবায় এবং খুতবা প্রদানকালে এ বিষয়ের তাত্পর্য ও প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে শায়খের কণ্ঠে। এছাড়া শায়খ সবসময় তাঁর খুতবায় সর্বাবস্থায় একতা বজায় রাখা, বিবাদ ও অনৈক্য পরিত্যাগ এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনী বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিবদমান দূরত্বকে কমিয়ে আনার প্রতি প্রবল জোর দিয়ে থাকেন। খুতবার দিন যখন একেবারে ঘনিয়ে আসে তখন শায়খের মধ্যে বিশেষ ধরনের অবস্থা বিরাজ করে। খুতবা ও খুতবার অবস্থানের গুরুত্ব ও তাত্পর্য তাঁর নড়াচড়া ও কথাবার্তায় স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়। শেষ মুহূর্তে তাঁর অনুভব-অনুভূতি প্রকাশ করে যে সব উক্তি তিনি করে থাকেন তার মধ্যে অন্যতম- 'শীঘ্রই আমি এমন এক অবস্থানে দাঁড়াবো যেখানে একসময় স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ খুতবা গোটা বিশ্ব শুনবে। এটা মহান এক দায়িত্ব।' এই গ্র্যান্ড মুফতি সম্পর্কে একটি কথা প্রসিদ্ধ আছে যে, আরাফাতের দিন ফজর উদয় হওয়ার পর থেকে তিনি কোন খাবার গ্রহণ করেন না, ঘুমান না, আরাফাতের মসজিদে নামিরায় যাবার পূর্ব পর্যন্ত পুরো সময়টা কাটিয়ে থাকেন যিকির ও নামাযে নিমগ্ন অবস্থায়।

পবিত্র হজ্বের খুতবায় সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজীজ আলে শায়খ তাঁর প্রায় প্রতিবছরের খুতবায় সমগ্র মুসলিম জগতকে 'শিষাঢালা প্রাচীরের' মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে ইসলামই হবে পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে বিজয়ী এবং শক্তিশালী আদর্শ। কিন্তু দুঃখজনক হল আমরা মুসলমানরা আজ ঐক্যবদ্ধ নই। কেউ আমরা আমল নিয়ে, কেউ আকীদা নিয়ে আমরা বিভক্ত। আমাদের সকলের উচিত্ আজ শিষাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া। দুর্ভাগ্যজনক সত্য হচ্ছে, মুসলমানরা আজ ঐক্যবদ্ধ নয়। আর এ কারণেই তারা যেখানে সেখানে মার খাচ্ছে। অথচ মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন কুরআনে পাকে এরশাদ করেছেন, 'তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে আঁকড়ে ধর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।' কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য মুসলমান আজ শতধা বিভক্ত। মহান আল্লাহ এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম যেটা চাননি। এটা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। মুসলমান একটা দেহের মত। সে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক অন্য প্রান্তে কোন মুসলমান যদি আক্রান্ত হন, যদি আঘাতপ্রাপ্ত হন, তার সে কষ্টটা সে ততটুকু অনুভব করবে। পৃথিবীর বিপরীত প্রান্ত থেকেও আমাকে ততটুকু ব্যথিত হতে হবে। এটাই ইসলামের শিক্ষা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলমান জাতি একটা দেহের মত, যার কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হলে সমস্ত শরীরে ব্যাথা অনুভুত হয়। নেক আমলের গুরুত্ব সম্পর্কে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, মুসলমান হওয়ার পর ঈমান আনার পর সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ হচ্ছে নেক আমল, নামায, রোযা, তসবিহ, তহলিল। এসব কিছুই হচ্ছে নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। নেক আমলের গুরুত্ব অপরিসীম। যারা ঈমান আনবে তাদের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে নেক আমল করা। এ নেক আমলের মাধ্যমে একজন ঈমানদার মুসলমানের পজিশন বৃদ্ধি পায়। নেক আমল শূন্য কোন মুসলমান ফলশূন্য গাছের মতো। তার দিকে কেউ তাকায় না। কারণ, সেখান থেকে কেউ ফল পায় না। অর্থাত্ তার সে ঈমান ফলপ্রসূ হল না। রসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ঠিক এভাবেই উদাহরণ দিয়েছেন। সেকারণেই নাজাতের জন্য, আখেরাতের মুক্তির জন্য নেক আমলের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। নেক আমলের প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শয়তানের ওয়াসওয়াসা। এটা পরিহারের কথাও বলেন সম্মানিত গ্রান্ড মুফতি। মুসলমানের সবচেয়ে বড় জিহাদ হচ্ছে তার নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম। কারণ, এই নফসই তাকে কু-প্রবৃত্তির দিকে ধাবিত করে। সব মানুষ এক আদমের সন্তান। মহান রব একজন পুরুষ ও একজন মহিলা থেকে সমগ্র মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন। এ হিসেবে তারা সকলেই সমান। এর ওপরের ফজিলত হল তাকওয়ার ফজিলত ঈমানের ফজিলত। মুসলিম বিশ্বের কল্যাণ কামনার মাধ্যমে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

তথ্যসূত্র :১. মধ্যপ্রাচ্যের দৈনিক 'ওকায' ২. উইকিপিডিয়া

লেখক :সাংবাদিক

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
ফেলানী হত্যার বিচারকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান 'তামাশা' বলে মন্তব্য করেছেন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
3 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ৬
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :