The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০২ আশ্বিন ১৪২০ এবং ১০ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী | সরকারের এই মেয়াদেই রায় কার্যকর: হানিফ | চট্টগ্রামে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব, পুলিশের গাড়িতে আগুন | চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি

আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরণা যোগায় লালপুরের শহীদ মিনার

মোজাম্মেল হক, লালপুর সংবাদদাতা

১৯৬৮ সালে গোপালপুরে নির্মিত হয় প্রথম শহীদ মিনার। ঐ বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস পালন করে স্থানীয় ছাত্ররা। প্রভাত ফেরি শেষে নর্থ বেঙ্গলে সুগার মিল হাইস্কুল মাঠের এক পাশে ফুল দেয়া হয়। স্মৃতি বিজড়িত এই শহীদ মিনারটি ৬টি পর্যায় শেষে জাতীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মিত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে তত্কালীন ছাত্র নেতা শহীদ সৈয়দ আনছার হোসেন ছিলেন গোপালপুরে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা। তাকে সহযোগিতা করেন শ্রমিক নেতা সুশীল কুমার পাল, সৈয়দ আক্তার হোসেন, জিল্লুর রহমান, স্বপন ভদ্র, শহীদ নাসির উদ্দিন, মোশারফ হোসেন বাবুসহ আরও অনেকে। অর্ধবৃত্ত বেদীর উপর ত্রিভুজ আকৃতির এই শহীদ মিনারটির নকশা তৈরি করেন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের তত্কালীন প্রকৌশলী আব্দুর রহিম খান। প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার মিনারটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ভেঙ্গে দেয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সিঁড়ির মত করে ৩টি ধাপবিশিষ্ট শহীদ মিনার তৈরি করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এই মিনারটি তৈরি করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ১৯৭৪ সালে বৃত্তাকার বেদীর উপর ত্রিভুজ আকৃতির বিচ্ছিন্ন ৩টি দেয়ালের মাঝে গোলাকৃতির স্তম্ভবিশিষ্ট শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শ্রমিক নেতা সুশীল কুমার পাল, সৈয়দ আক্তার হোসেনের উদ্যোগে শহীদ মিনারটি নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতা করেন মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে এটি ভেঙে ১ স্তম্ভবিশিষ্ট শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৬ সালে নির্মিত হয় ৩ স্তম্ভবিশিষ্ট শহীদ মিনার। ২০১০ সালে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার কামালের চেষ্টায় নাটোর জেলা পরিষদ ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের অর্থায়নে নির্মিত হয় বর্তমানের শহীদ মিনারটি। এখানেই বিভিন্ন দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাক হানাদার বাহিনী বিলমাড়ীয়া বাজারে গণহত্যা চালায়। সেখানে ৭০জন বাঙালি শহীদ হন। ১৯৭২ সালে শহীদদের গণকবরের উপর একটি শহীদ মিনার নির্মিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর, আজবার আলী, আব্দুল জাব্বার প্রমুখ এর উদ্যেক্তা ছিলেন। গৌরীপুর হাইস্কুলের পাশে আব্দুর রাজ্জাক মালিথা, আবুল কাসেম, নজির উদ্দিন প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। ২০০১ সালে শহীদ মিনারটি পুন:নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ এর উদ্যেগে ওয়ালিয়া বাজারে শহীদ মিনার স্থাপিত হয় ।১৯৭৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন আব্দুলপুর রেল স্টেশনের পাশে চংধুপইল ইউনিয়ন পরিষদে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। ২০১০ সালে শহীদ মিনারটি স্থানান্তর ও পুনঃনির্মাণ করা হয়। ঐ বছর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক, আকিয়াব হোসেন ও হুমায়ুন কবির পানার উদ্যোগে লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে সড়কের পাশে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। ১৯৮৪ সালে সেখানে নির্মিত হয় ৩ স্তম্ভবিশিষ্ট শহীদ মিনার। বর্তমানেরটি নির্মিত হয় ২০১৩ সালে। এছাড়া উপজেলার ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ২০১১ সালে মহিলা এমপি শেফালী মমতাজের অনুদানে কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুড়দুড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। বর্তমানে এই উপজেলায় শহীদ মিনারের সংখ্যা ২৪টি। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেখানে বাঁশ, কাঠ ও বেঞ্চ ব্যবহার করে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গিরা আবার ফিরে আসবে। আবার বোমা হামলা করবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
6 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :