The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০২ আশ্বিন ১৪২০ এবং ১০ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী | সরকারের এই মেয়াদেই রায় কার্যকর: হানিফ | চট্টগ্রামে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব, পুলিশের গাড়িতে আগুন | চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি

[ রা জ নী তি ]

অব্যাহত দ্বন্দ্ব এবং স্বস্তির আশা

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

দ্ব্বন্দ্ব শব্দটি দর্শনে বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। পৃথিবীর তাবত্ ঘটনা দুর্ঘটনা দ্বান্দ্বিক পথেই এগিয়ে চলে। যেখানে দ্বন্দ্ব আছে, সেখানে পরিবর্তন ও গতি আছে। রাজনীতি যেহেতু একটি গতিশীল বিষয় সেখানে দ্বন্দ্ব আছে গতি আছে এবং বিবর্তন আছে। রাজনীতি তথা জগতের জীবন ও সমাজকে এই দ্বান্দ্বিকতা দ্বারা সর্বতোভাবে অবশেষে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কসবাদীরা। দ্বন্দ্ব সতত এবং সর্বত্র ক্রিয়াশীল। দ্বন্দ্ব থেকেই গতির সঞ্চার। মার্কসবাদে দ্বন্দ্বের আবর্তন আছে। দ্বন্দ্ব এগিয়ে চলে। একটি দ্বন্দ্ব অবস্থা বা ঘটনা থেকে যাত্রা শুরু করে। এ অবস্থাকেই বলা যায় অস্তি, ধারণা বা তত্ত্ব। ইংরেজীতে এ শব্দটিকে থিসিস(Thesis) বলা হয়। আপনি যখন 'হ্যাঁ' বলেন তখন এর বিপরীতে 'না' আছে। অর্থাত্ অস্তিই নাস্তি সৃষ্টি করে। অস্তির বিপরীত অবস্থান নাস্তি। ইংরেজীতে এর নাম এন্টি থিসিস (Anti-thesis)। এই অস্তি নাস্তির দ্বন্দ্ব সংগ্রামে নতুন তত্ত্বের সংমিশ্রিত ধারণার সৃষ্টি হয়। এ ধারণা মিথস্ক্রিয়ার ফসল। দ্বন্দ্ব ও গতির সমন্বিত ফল। বলা যায় সমঝোতার এক নতুন রূপ। দার্শনিকরা বলেন সিনথেসিস (Synthesis) বাংলায় অস্তি-নাস্তি অবশেষে এর নাম স্বস্তি। এমনিতেই বাংলা ভাষায় স্বস্তি শব্দটি দ্বন্দ্ব নিরসন জ্ঞাপক। শান্তি ও নিরাপত্তার পরিপূরক।

খ. দর্শনের চিরায়ত সূত্রের এসব কপকচানি আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের উদ্বিগ্ন নাগরিক সাধারণকে একটু আশার আলো শোনানোর জন্য। অন্ধকার শেষে আলো আসবেই। রাত যত গভীর হবে আগামী দিনের সূর্যোদয় তত এগিয়ে আসবে। তবে রাত কত দীর্ঘ হবে এটা দিন ক্ষণ আলো আঁধারের খেলার উপর নির্ভরশীল।

গ. এখন সমঝোতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। সাম্প্রতিককালে বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অভ্যন্তরীণ জন আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর। সমান্তরালভাবে এমন তীব্রতর বৈদেশিক চাপ আর কখনও অনুভূত হয়নি। জাতিসংঘ মহাসচিব আর কখনও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এমনভাবে হস্তক্ষেপ করেন নি। এবারই প্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রদূতবর্গ এমনভাবে তাদের উদ্বেগ উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেন নি। নির্বাচন নিয়ে গৃহযুদ্ধাবস্থার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির দ্বন্দ্ব বিশেষত: ক্ষমতাসীনদের অনড় অবস্থানের কারণে এ আশঙ্কা অমূলক নয়। ইতিপূর্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় এবং হেফাজতে ইসলাম দমনে সরকার যে নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার পরিচয় দিয়েছে তা গৃহযুদ্ধাবস্থার কথাই মনে করিয়ে দেয়। বর্তমান সরকার ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র মনে করার পর রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে সমরাস্ত্র ক্রয়, সার্ক আদলে মূলত ভারতের সাথে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স গঠন, অভ্যন্তরে তথাকথিত জঙ্গীদমনের নামে বিশেষ বাহিনী গঠন সরকারের গণবিরোধী যুদ্ধ প্রস্তুতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় টিক্কা খান নাকি বলেছিল পূর্বাংশে তারা 'মিট্টি চাহতেহে আদমে নেহি'। সেরকম বর্তমান সরকার বিগত ৫ বছরে নিজ জনসাধারণের উপর যে নির্বিচার হত্যা যজ্ঞ চালিয়েছে তা পাকিস্তানী সেই বর্বরতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য হেন অপকর্ম নেই যা বর্তমান সরকার করছে না। সুতরাং যে কেউ এ মন্তব্য করতে পারে তারা এ দেশের ক্ষমতা চায় মানুষ চায় না। মোবারক, গাদ্দাফি অথবা বাশারের ভূত চেপে বসেছে এদের মাথায়। স্বৈরাচারী কায়দায় এক দলীয় বোগাস নির্বাচনের নীল নকশা নিয়ে এগুচ্ছে তারা- এ অভিযোগ উত্তর-দক্ষিণ পূর্ব-পশ্চিম সব মহলের।

ঘ. যে কোন সমঝোতার পূর্ব শর্ত হল শক্তিমান বা কর্তত্ববানদের অধিকতর নমনীয়তা। সমঝোতা কখনও এক তরফা হয় না। রাবিন্দ্রীক ভাষায়: " দিবে আর নিবে মিলাবে মিলবে"। কিন্তু প্রথম থেকেই লক্ষণীয় যে সরকার সেই নমনীয়তা প্রদর্শন করছে না। ক্ষমতার রদবদল একটা খেলার মত। খেলায় যেমন হার-জিত আছে, নির্বাচনেও তেমনি জয়- পরাজয় আছে। এ জাতির দুর্ভাগ্য যে দুই প্রধান দলের মধ্যে সে খেলোয়ারি মনোভাব সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অথচ তারা দেখতে পাচ্ছে ১৯৯০ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার বিরুদ্ধে যাবতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেই মানুষ ভোট দিয়ে আসছে। ক্ষমতার সতত প্রবণতাই এরকম যে ক্ষমতাকে যে বা যারা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইবে ক্ষমতা তাদেরই 'গুডবাই' বলবে। সাধারণ মানুষ ক্ষমতাশ্রয়ী রাজনীতি পছন্দ করে না। অতীতে আওয়ামী লীগ (১৯৭১-৭৫) ক্ষমতাশ্রয়ী রাজনীতি করেছে। বাকশাল কায়েম করে মানুষের মুখে তালা এঁটে দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে যখন তারা ক্ষমতাসীন হয় তখনও তাদের শাসনসংস্কৃতিতে বাকশালী প্রবণতা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে সময়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তারা কর্তৃত্বকে নিরঙ্কুশ করতে পারেনি। কিন্তু এবার (২০০৮) যখন তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে তখন প্রতি পদে পদে অনুভূত হয় সেই নিরঙ্কুশ নিষ্ঠুরতা। আওয়ামী লীগ সরকারের ভাল ভাল কাজগুলো সেই বাকশাল প্রবণতার বাঁকা পথেই হারিয়ে যায়। তারা সেই দল যারা স্বাধীনতা সগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ স্বাধীনতার মর্মবাণী তাদের বুটের তলায় নিষ্পেষিত হয়েছে সবচেয়ে বেশী। কেন তারা বুঝে না যে স্বাধীনতা হচ্ছে জীবনের মতই অনিবার্য। মানুষ ভাত চায় কিন্তু স্বাধীনতার বিনিময়ে নয়। মানুষ উন্নয়ন চায় কিন্তু স্বাধীনতার বিনিময়ে নয়। একজন ব্যক্তিকে যদি বলা হয় রাজপ্রাসাদে বন্দী থাকবে। তাকে কোর্মা পোলাও কাবাব খাওয়ানো হবে প্রতিদিন। সে কি বন্দী থাকতে চাইবে? মানুষের স্বভাবজাত স্বাধীনতার যদি কোন মূল্যই না থাকতো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যেত না। মানুষের স্বাধীনতার যদি আহাজারি না থাকতো আইয়ুব এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হত না। স্বাধীনতার যদি কোন মূল্যই না থাকতো তাহলে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। সুতরাং ডিজিটালের নামে অন্তত ২০২১ সাল পর্যন্ত মসনদ আঁকড়ে থাকার যে রোডম্যাপ কষছেন তা ডিগবাজি খেতে বাধ্য।

ঙ. বর্তমান শাসক আওয়ামীলীগ সোনার হরিণের পিছনে এতটাই ধাবমান যে অভ্যন্তরীণ নিরঙ্কুশ জনমত এবং বহিস্থ প্রবল চাপকে উপেক্ষা ক েতারা নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে কোন ছাড় বা সংলাপে রাজি নয়। তারা বরাবরের মত এখনও বলছে চলমান জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধান বিরোধীদল যদি কোন প্রস্তাব উত্থাপন করে তবে তা নিয়ে আলোচনায় রাজি আছে। শর্ত হচ্ছে দৃশ্যত: ১৫ দশ সংশোধনীর পরে গৃহীত সংবিধান মোতাবেক হতে হবে। দ্বিতীয়ত: অনির্বাচিত কোন ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগ যাবে না। ক্ষমতাসীন দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে নির্বাচনকালীন সময়ে শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। তারা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রশ্নে অর্থাত্ গঠিত ছোট সরকারে বি এন পির প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনায় রাজি। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করেন তারা যদি এ সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকে তাহলে সাধারণ্যে তাদের শক্ত অবস্থান সমাদৃত হবে। কর্মীদের মনোবল সুদৃঢ় থাকবে। এতে চূড়ান্ত জয়লাভ সূচিত হবে।

আওয়ামী লীগ জাতিসংঘ মহাসচিবের ফোন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির চিঠি, ইইউ এর প্রস্তাব- কোন কিছুতেই পাত্তা দিচ্ছে না। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন কেরির চিঠি নিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে যান তখন প্রধানমন্ত্রী অনির্ধারিত প্রোগ্রামের দোহাই দিয়ে তার সাথে দেখাই করেন নি। পরে অন্য কেউ তার পক্ষে চিঠিটি গ্রহণ করে। মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা বিরোধীনেত্রীর সাথে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুরূপ দেখা করতে চাইলে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়া হয়নি। চীন কখনই অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে না। বাংলাদেশ পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে চীনা রাষ্ট্রদূতও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। সুদূর ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতও অনুরূপ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। দৃশ্যত: আওয়ামী লীগ এক ঘরে হয়ে গিয়েছে। সমগ্র বিশ্ব থেকে সে এখন বিচ্ছিন্ন। এ ধরনের প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন: ভারতকে তারা একাই একশ মনে করেন। হয়তো তারা মনে করেন ভারতের প্রযত্ন তাদের এতটাই প্রশ্রয় দেবে যে অন্যকোন দেশ বা শক্তির তোয়াক্কা করতে হবে না। স্মরণ করা যেতে পারে যে ভারত প্রকাশ্যেই বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি অর্থাত্ আওয়ামী লীগের প্রতি তারা দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছে। লন্ডন ভিত্তিক পৃথিবী বিখ্যাত সাময়িকী দ্যা ইকোনোমিষ্টের মতে, ভারতের শলা পরামর্শ আর বস্তা বস্তা টাকা বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের কারণ ছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের পরে ভারত তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের কথাও বলেছে। সুতরাং বর্তমানের সম্ভাব্য আর অতীতের অভিজ্ঞতা আওয়ামী লীগকে অধিকতর ভারত নির্ভরশীল করে তুলছে।

চ. এর বিপরীতে দেখা যাক প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান কি? বিএনপি প্রথম থেকেই নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলতে তাদের আপত্তি নেই। এমন কি নির্বাচনকালীন সরকার বলতেও তারা রাজি। তাদের বক্তব্য একটাই: নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপির এ নমনীয় অবস্থান প্রশংসিত হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন: বিএনপি কথা বলতে চায়। আনুষ্ঠানিক সংলাপেও প্রস্তুত। সরকার চাইলে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবও দিতে রাজি। এমনকি বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে সমঝোতার মনোভাব প্রকাশ করেছে বিএনপি। অথচ সরকার কিছুই করছে না। বস্তুত: আওয়ামী লীগের চরিত্রই এমন যে তারা কখনই যুক্তির কাছে, আইনের কাছে, নৈতিকতার কাছে হার মানতে রাজি নয়। শুধুমাত্র তারা শক্তিকেই গ্রাহ্য করে। পাঠকদের মনে করিয়ে দেই হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের নমনীয় সুর লক্ষ্য করা যায়। যখন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামকে নির্মমভাবে দমন করা হল- তখন তাদের সুর পাল্টে গেল।

ছ. সমগ্র জনমত বুদ্ধিজীবীদের বিবৃতি, দৈনিকগুলোতে প্রতিফলিত জনমত, টকশোতে উচ্চারিত গরিষ্ঠতা, ডান-বাম নির্বিশেষে এমনকি মহাজোটের সকল অংশিদাররা বর্তমান সংকট উত্তরণে সংলাপের পক্ষে সুদৃঢ় মতামত দিচ্ছেন। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার নির্বিকার। তাহলে কি তারা অতীতের মত ক্ষমতাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন করে দেশটিকে গৃহযুদ্ধের পাদপীষ্ঠে ঠেলে দেবেন?

জ. ইতোমধ্যে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধীদলের মর্যাদা দেয়ার নীল নকশা আঁটা হয়েছে। বিএনপির আদলে বিএনএফ সৃষ্টির ঘৃণ্য পায়তারা চলছে। বিএনপিকে ভাঙ্গার দূরভিসন্ধিও শোনা যাচ্ছে। ১৮ দলীয় জোটের কোন কোন নাম নেহাত দলকে হাতিয়ে নেয়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। মহাজোটের নেতারা মহাজোট সম্প্রসারণেরও ঘোষণা দিয়েছেন। এক দলীয় নির্বাচনের নীল নকশা চূড়ান্ত প্রায়।

ঝ. গোটা জাতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে নীল নকশার একক নির্বাচন কি সম্ভব? মনস্তাত্ত্বিকভাবে গোটা জাতি এ নির্বাচনের ঘোরতর বিরোধী। অবশ্য নির্বাচন কমিশন এ ধরনের নির্বাচন করার জন্য এক পায়ে খাড়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের নির্বাচন দিয়ে অবশেষে পরাজয়ের গ্লানি ভোগ করেছেন। এবারেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। স্বীকার করতেই হবে ঐ বোগাস নির্বাচনকালীন সময়ের চেয়ে বর্তমান সময় ভিন্নতর। ১৯৯৬ থেকে ২০১৩ জাতি অনেক পথ অতিক্রম করেছে। পদ্মা মেঘনা যমুনায় অনেক পানি গড়িয়েছে ইতোমধ্যে। সুতরাং একক নির্বাচনের স্বপ্ন পূরণ হবে না। যদিও এরশাদের কথায় মানুষের বিশ্বাস কম তবুও তার সর্বশেষ উক্তি সব দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত তিনিও নির্বাচনে যাবেন না। সরকারের সাথে যোগসাজসের অভিযোগে অভিযুক্ত দেশের অন্যতম প্রধান ইসলামী শক্তি চরমোনাইর পীর ছাহেবও জানিয়ে দিয়েছেন ঐ রকম পাতানো নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন না। সুতরাং পাতানো নির্বাচন পরিত্যক্ত হতে বাধ্য।

ঞ. সরকার যে কোন মূল্যে তার প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এমন কি সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে নির্বাচন করতে চাইবে। মাঠে থাকবে আওয়ামী মাসেল পাওয়ার- ছাত্রলীগ, যুবলীগ ইত্যাদি। নির্বাচন প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। তার বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ নীরব জনসমর্থন পুষ্ট। ছাত্রদল যুবদল নিশ্চয়ই তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। তার সাথে রয়েছে ইতোমধ্যে মারমুখোর বদনাম কুড়ানো জামায়াত শিবির। সুতরাং তখন একটি অনিবার্য সংঘাতে উত্তপ্ত হবে গোটাদেশ। এমনিতেই মানুষ সরকারি দলের উপর মনে মনে ভয়ানক ক্ষিপ্ত হয়ে আছে। ঐ সুযোগ সারাদেশে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজকতা বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে। এরই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে তৃতীয় শক্তি। এ তৃতীয় শক্তি দেশি বা বিদেশি দুটোই হতে পারে। তখন ১/১১ এর মত হস্তক্ষেপকে স্বাগত জানাবে আওয়ামী লীগ। মনে করিয়ে দেই যে প্রধানমন্ত্রীর নিকট অতীতে অনেকবার ১/১১ এর পরিস্থিতির কথা বলে এর একটি যোক্তিক গ্রাউন্ড বা মনস্তাত্ত্বিক গড়ন তৈরী করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সান্ত্বনা থাকবে জেদের ভাত কাককে খাওয়াবে তবুও শত্রুকে খেতে দেবে না। আর বিএনপি এর আত্মতুষ্টি থাকবে আওয়ামী আপদ থেকে তো রক্ষা পাওয়া গেল।

ট. এসব হল দুঃস্বপ্নের কথা। এ দুঃস্বপ্ন সত্যি হোক এটা কেউ চায় না। দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ, ঝগড়া-বিবাদ কথিত দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে অস্তি-নাস্তি-অবশেষে আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে দর্শনতত্ত্ব তাই বলে। 'সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি'। আমাদের অতীতের দ্বন্দ্ব গতি সঞ্চার করবে। পরিবর্তনের আবহ তৈরী করবে। এ রকম স্বাভাবিক ও সঙ্গত একটি মিথস্ক্রিয়া সকল দুঃখের প্রদীপ জ্বেলে রজনী শেষে সুপ্রভাত বয়ে আনবে। স্বস্তি- স্থিতি- শান্তি অর্জিত হবে অবশেষে।

লেখক :প্রফেসর, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ইমেইল[email protected]

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গিরা আবার ফিরে আসবে। আবার বোমা হামলা করবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
4 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৪
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :