The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০২ আশ্বিন ১৪২০ এবং ১০ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী | সরকারের এই মেয়াদেই রায় কার্যকর: হানিফ | চট্টগ্রামে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব, পুলিশের গাড়িতে আগুন | চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি

আলোকপাত

জনগণের রায়ই শেষ কথা

নাসির উদ্দিন সিকদার

সামনে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়া নানা রকম আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। অপরপক্ষে বিরোধী দলীয় নেত্রী বলছেন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন যেভাবে বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ নির্বাচন হয় সেভাবেই বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচন হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো, বিশেষ করে প্রশাসন স্বরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত সমস্ত মন্ত্রণালয়গুলি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাংলাদেশে ঐ রকম থাকবে কি? যদি থাকে তাহলে নির্বাচনকালে চলমান সরকার থাকলেও কিছু যায় আসে না। আমরা ভারতের দিকে তাকালেই পারি। ভারতে নির্বাচনকালীন সময় কোন মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে, বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন সময় নির্বাচন কমিশনের হাতে ঐ সমস্ত মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হউক। তাহলে কোন দলের তো কোন আপত্তি থাকার কথা না। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বসিয়ে দিলে তার কাধে চড়ে যে তৃতীয় শক্তি দেশের ক্ষমতা দখল করতে পারে, তাতো আমরা একবার দেখলাম। আবার বর্তমানে নির্বাচন কমিশন যে অবস্থায় আছে তাতে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সে নির্বাচনে সরকারের প্রভাব খাটানোর সুযোগ আছে। তাই বিরোধী দল বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনকালে যে সরকার ব্যবস্থাই আমরা চাই না কেন সংলাপের প্রয়োজন আছে, সরকার ও বিরোধী জোটের সংলাপে বসতে হবে। নইলে কোন সমাধান হবে না। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন দেখতে চাই। জনগণও তাই চায়। ৯৬ সনে বিএনপি একতরফা নির্বাচন করে জনগণের কাছে আস্থা হারিয়েছে। আমরা চাই না বর্তমান সরকার কোন একতরফা নির্বাচন করে জনগণের আস্থা হারাক।

ভারত স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সনে। জন্মলগ্ন থেকেই এ বৃহত্ দেশটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়ে আসছে। যতবার নির্বাচন হয়েছে কোনবারই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোন পক্ষ বিতর্ক উপস্থাপন করে নাই। তাহলে আমাদের এ সমস্যা কেন? বিশ্বে কোন দেশেই আমাদের মত কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে দুর্ভোগ পোহায় না। রাজপথে যুদ্ধ করে না। হরতাল দিয়ে দেশ অচল করে দেয় না। আসুন আমরা ভারতকে অনুসরণ করি অথবা যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করি অথবা ইউরোপকে অনুসরণ করি। তাই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা কি হবে তা আমরা গণতান্ত্রিক দেশকে অনুসরণ করলেই আমরা আমাদের জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারব। আমাদের নির্বাচনকালীন সরকারও ঠিক করে নিতে পারব। সুষ্ঠু নির্বাচনে কে ক্ষমতায় বসবে আর কে বিরোধী দলের আসনে বসবে তা নিয়ে দু'একটি কথা লিখতে চাই। একটা কথা প্রত্যেককে মনে-প্রাণে মেনে নিতে হবে যে, জনতার রায়ই চূড়ান্ত জনগণের রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে হবে। বিজয়ী দল ও পরাজিত দল উভয়কেই নির্বাচনের শেষে হাতে হাত মিলিয়ে সংসদে বসতে হবে। যদি ধরে নিই যে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে তাতে আওয়ামী লীগের হতাস হবার কিছুই নেই। জনগণ আর একবার দেখুক বিএনপি তার পূর্বের দোষত্রুটি সংশোধন করে আওয়ামী লীগের সহিত সুআচরণ করছে কি না। আর কোন ২১ আগস্ট বানাচ্ছে কি না। আবারও হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে দেশে নাশকতা করছে কি না। আর আওয়ামী লীগ যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসে সে ক্ষেত্রেও অনেক কিছু শিক্ষা নিবার আছে। অর্থাত্ বিএনপির শাসন আমল জনগণ ভুলে যায় নাই, বিএনপির আরো একবার সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে শেষ কথা হইল জনগণের রায় উভয়পক্ষকে মেনে নিয়ে উভয়কেই জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দেশ চালাতে হবে। আর বিরোধী দলে যে যাবে তাকেও জনগণের ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। সংসদকে অর্থবহ করতে হবে।

 লেখক : ব্যাংকার ও সাবেক ছাত্র নেতা

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গিরা আবার ফিরে আসবে। আবার বোমা হামলা করবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
7 + 7 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২১
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :