The Daily Ittefaq
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ০২ আশ্বিন ১৪২০ এবং ১০ জিলক্বদ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী | সরকারের এই মেয়াদেই রায় কার্যকর: হানিফ | চট্টগ্রামে জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব, পুলিশের গাড়িতে আগুন | চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি

রাজশাহীর জনসভায় খালেদা জিয়া

হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন হতে দেব না

সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করুন, না করলে পালানোর পথ পাবেন না। নৌকা ফুটো, ডুবন্ত নৌকায় তিনি তলিয়ে যাবেন

আনোয়ার আলদীন ও আনিসুজ্জামান, রাজশাহী থেকে

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ২৫ অক্টোবরের মধ্যে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে পরিণতি যা হওয়ার তা হবে। তখন পালাবার সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে। সংবিধান কোনো কোরআন-বাইবেল নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না। হটাও আওয়ামী লীগ বাঁচাও দেশ- এই শ্লোগান পুনর্বার উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন হবে না। হতে দেয়া হবে না। নৌকার তলি ফুটা হয়ে গেছে। পানি ঢুকতে ঢুকতে ডুবতে বসেছে। ডুবন্ত তরীতে কেউ আর উঠবে না। ২৫ অক্টোবরের পর নতুন কর্মসূচি দেব। ঢাকায় সমাবেশে আপনারা যাবেন।

উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ দিনে গতকাল সোমবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১৮ দল আয়োজিত এক বিরাট জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে খালেদা জিয়া আরো বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আমরা বিএনপি ও ১৮ দল আন্দোলন করছি। আরো অনেকে এ দাবি জানাচ্ছেন। সেইসব নেতাদের বলবো, আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে বসি। কে ছোট নেতা, কে বড় নেতা, কোন্ দল বড়, কোন্ দল ছোট, কে ডান, কে বাম—সেদিকে তাকানোর সময় নেই। দেশ রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হই। সরকারকে সরাতে এক জায়গায় আসি। বসি, আলোচনা করি। দেখি, আমাদের ওপর কেমন করে গুলি চালায়।

নির্বাচন কমিশনকে অথর্ব, অপদার্থ ও মেরুদণ্ডহীন অভিহিত করে গমের শীষ প্রতীকসহ বিএনএফকে নিবন্ধন দেয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগ তো একক নির্বাচন করতে চায়। কোনো ছোট দল নির্বাচনে যেতে চায় না। তাই এখন পরগাছা নতুন নতুন দল বানাচ্ছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ ীয় যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে এই জনসভায় বিভাগের আটটি জেলা থেকে আগত কর্মী-সমর্থক আর নগরীর মানুষ যোগ দেয়। বেগম খালেদা জিয়া বেলা ১২টায় বগুড়া সার্কিট হাউজ থেকে গাড়িবহর নিয়ে যাত্রা করে রাজশাহী পৌঁছান অপরাহ্ন সাড়ে ৩টায়। ১২৬ কিলোমিটারের এ দীর্ঘ পথ জুড়ে ছিল নেতাকর্মীদের নির্বাচনমুখী শোডাউন। সমাবেশস্থল মাদ্রাসা মাঠ সকাল থেকে প্রায় পুরোটাই দখল করে নেয় জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা।

বেগম খালেদা জিয়া বিকাল ৪টা ৫৮ মিনিট থেকে ৫টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত ৫০ মিনিটের বক্তৃতায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, সরকারের দুর্নীতি, জুলুম, অত্যাচার, নিপীড়ন, দুঃশাসনের খণ্ডচিত্রগুলো তুলে ধরেন।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। আপনাদের হিসাব করে চলা উচিত। তারা কথায় কথায় মিথ্যা বলে। বলে আমরা সরকারে গেলে নাকি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে চাকরি থেকে বের করে দেব। আমরা এটা করি না। অন্যায়ভাবে কিছু করি না। এই সরকারের হাতে মাত্র তিন মাস সময় আছে। আপনারা সরকারের অন্যায় আদেশ মানবেন না।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক কেন এসেছে? ১৯৯৬ সালে তখন জামায়াত খুব ভাল ছিল। জামায়াতকে নিয়ে আন্দোলন করেছেন, বৈঠক করেছেন। কত দহরম মহরম ছিল। আর এখন জামায়াত খারাপ। কারণ জামায়াত আপনাদের সাথে নেই। তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বানিয়েছেন। আপনাদের মাথা গেছে খারাপ হয়ে।

বেগম জিয়া বলেন, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছিলাম। এটা আপনাদের দাবি ছিল। এখন আমরা দাবি করছি। শুধু আমরা না দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। তাহলে কেন দেবেন না। আদালতও বলেছে, আরো তিনটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে। সংসদে বসে আলোচনা করে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে আমরা আলাচনা করবো।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন করছে। ১৮ জন সাংবাদিককে তারা হত্যা করেছে। সাগর-রুনি দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে। তাদেরকে হত্যা করা হলো কেন। তারা সরকারের বিদ্যুত্ ও গ্যাসের দুর্নীতি বের করেছিল- একথা জানতে পেরে সরকার রাতেই তাদেরকে হত্যা করেছে। তাদের বাসা থেকে কিছুই চুরি হয়নি। কেবল ল্যাপটপ চুরি হলো! কারণ ওই ল্যাপটপে দুর্নীতির তথ্য ছিল।

বিরোধী নেতা বলেন, এই সরকারের হাতে রক্ত আর রক্ত। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেখানে অনেক সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোনো পদক্ষেপই নেননি। তার নির্দেশেই এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলেই তিনি নীরব ছিলেন। খুনীদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছে। শেরাটন থেকে তাদের খাবার এনে খাইয়েছে। যারা বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, মাইকিং করে তাদেরকে পালানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

ব্লগাররা যেভাবে রাসূল সা. কে কটূক্তি করেছিল, তার প্রতিবাদ জানাতে হেফাজতে ইসলাম অনুমতি নিয়েই মতিঝিলে সমাবেশ করেছিল। তাদের হাতে ছিল জায়নামাজ, কোরআন শরীফ ও তসবীহ। তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল। তাদের আমীর আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের জন্য তারা অপেক্ষা করছিল। তিনি গিয়ে তাদের বলবেন, এরপর তারা নতুন কর্মসূচি নিয়ে চলে যাবে। কিন্তু আমীরকে পরিকল্পিতভাবে আসতে দেয়নি সরকার। সরকার বলছে, তাদেরকে কেবল বের করে দিয়েছে। কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তাহলে কেন মাইকিং করা হয়নি। লাইট কেন বন্ধ করে দেয়া হলো। টিভি চ্যানেলকে কেন সরিয়ে দেয়া হলো। অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন বিরোধী দলীয় নেতা।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নাকি চমক দেখাবে। তাদের চমক কাল দেখেছে মানুষ। ছোট একটি দল সিপিবি তাদের নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পাঁচ সিটিতে জনগণ দেখিয়ে দিয়েছে, সরকারকে শিক্ষা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে সিভিল প্রশাসন, সেনা বাহিনী সব নিরপেক্ষভাবে করা হবে। সেনা বাহিনীকে সেইভাবে গড়ে তোলা হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচন কমিশন অথর্ব, মেরুদণ্ডহীন ও সরকারের আজ্ঞাবহ। তাদের কোনো ক্ষমতা নেই। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় খরচে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। তারা কিছু বলে না।

বিএনপি সংখ্যালঘু বান্ধব একথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা হয়। তাদের নারীদের ওপর জুলুম করা হয়। হিন্দুদের বাড়িঘর মন্দির শ্মশান দখল করা হয়। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হবে।

তিনি বলেন, এই সরকার লুটপাট করার জন্য ও দেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর জন্য ক্ষমতায় এসেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নয়। বিপক্ষের। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, এলডিপির মহাসচিব কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসহাক, বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াত কর্মপরিষদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, বরকত উল্লা বুলু প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন, রাজশাহী জেলা বিএনপি সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

মঞ্চে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মে. জে. (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি কারাবন্দি দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি ছাড়াও রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া রাতে রাজশাহী সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় এলে জঙ্গিরা আবার ফিরে আসবে। আবার বোমা হামলা করবে।' আপনি কি তার সাথে একমত?
1 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৭
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :