The Daily Ittefaq
ঢাকা, শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৩, ২৭ আশ্বিন ১৪২০, ০৬ জেলহজ্জ, ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০১, নিউজিল্যান্ড ১ উইকেটে ১১৭ | সোহাগ গাজীর প্রথম সেঞ্চুরি | আন্দোলন ঠেকাতে ২৪ অক্টোবরের পর সংসদ চালু রাখার দাবি :বিরোধী দলীয় হুইপ | বাস্তবে বিরোধী দলের কোন আন্দোলন দেখছি না :যোগাযোগমন্ত্রী | বিসিবির প্রথম নির্বাচিত সভাপতি হলেন পাপন | বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী | মহাজোট সরকারের নীতি হলো- ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : তথ্যমন্ত্রী | আজও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট | সঙ্গীত শিল্পী আরেফিন রুমি গ্রেফতার

মনের অসুর দমন করতেই দুর্গাপূজা

 অধ্যাপক নিখিল ভট্টাচার্য

দুর্গাপূজায় আমরা দেখতে পাই এক মহা উদার সার্বজনীন আবহ। প্রতিমার কাঠামোতে দেখি মা দুর্গা মধ্যমণি। তিনি ঈশ্বরের মাতৃরূপ। রোমান ক্যাথলিক সেন্ট ফ্রান্সিসের পিতৃরূপ ঈশ্বরের মত মা দুর্গা এখানে মাতৃরূপিণী ঈশ্বর। তিনি জগত্জননী। জগতের মানুষ সুন্দর জীবনযাপনের জন্য কি চায়? তারা চায় বিদ্যা, ধন, প্রতিপত্তি আর খ্যাতি। বিদ্যার দেবী সরস্বতী, ধনের লক্ষ্মী, প্রতিপত্তির কার্তিক আর খ্যাতির গণেশ

শরত্কালীন দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দুর জাতীয় উত্সব। শুধু হিন্দু কেন? বাঙালি মাত্রকেই এই উত্সব প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে স্পর্শ করে। সুতরাং শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির জাতীয় উত্সব। পূজক পূজো করেন, কুমোর প্রতিমা গড়েন, চন্দ্রবৈদ্য (নাপিত) দর্পণ দেন, ফুলমালী ফুল বেলপাতা যোগান, ভুঁইমালী পূজোর সময় নির্দেশ করেন, বাদ্যকর ঢাক বাজান, তাঁতী পূজোর বস্ত্র যোগান, কৃষক ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, চাল যোগান, শ্রমিক প্যান্ডেল তৈরি করেন, যানবাহন পূজোমণ্ডপে ভক্তদের বহন করে। বাঙালি সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। যারা প্রত্যক্ষভাবে দুর্গোপূজোয় যুক্ত হন না তারাও পরোক্ষভাবে যুক্ত হন। পূজোর সময় বাজারে দ্রব্যমূল্যের চাপ, যানবাহনের ঝঞ্ঝাট, বাদ্যবাজনার হৈ-হুল্লোড় ইত্যাদি তাদের সহ্য তো করতেই হয়। দেশের সকল মানুষের এই মহামহোত্সব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। অনুষ্ঠানের মর্যাদাবৃদ্ধির জন্য জাতীয় নেতা নেত্রীরা বাণী দেন, রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট নাগরিকদের সংবর্ধনা দেন। অতএব শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির জাতীয় উত্সব নিঃসন্দেহে।

অপরদিকে দুর্গাপূজায় আমরা দেখতে পাই এক মহা উদার সার্বজনীন আবহ। প্রতিমার কাঠামোতে দেখি মা দুর্গা মধ্যমণি। তিনি ঈশ্বরের মাতৃরূপ। রোমান ক্যাথলিক সেন্ট ফ্রান্সিসের পিতৃরূপ ঈশ্বরের মত মা দুর্গা এখানে মাতৃরূপিণী ঈশ্বর। তিনি জগত্জননী। জগতের মানুষ সুন্দর জীবনযাপনের জন্য কি চায়? তারা চায় বিদ্যা, ধন, প্রতিপত্তি আর খ্যাতি। বিদ্যার দেবী সরস্বতী, ধনের লক্ষ্মী, প্রতিপত্তির কার্তিক আর খ্যাতির গণেশ। অন্যভাবে বলা যায় সরস্বতী ব্রাহ্মণ, লক্ষ্মী বৈশ্য, কার্তিক ক্ষত্রিয় আর গণেশ শূদ্রের প্রতীক। মানব জাতি তো এই চার শ্রেণিতে বিভক্ত— ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য আর শূদ্র। ব্রাহ্মণ মানে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, ক্ষত্রিয় হচ্ছেন দেশরক্ষক ও শাসক শ্রেণি, বৈশ্য কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি আর শূদ্র শ্রমিক। সমগ্র মানব জাতি এই চার শ্রেণিতে বিভক্ত। সুতরাং মাতৃরূপিণী মা দূর্গা তাঁর সকল সন্তানকে (বিশ্বমানবকে) নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পূজা মণ্ডপে। এ এক সার্বজনীর রূপ। শুধু মানুষই নয় পশুও আছে। পশুরাজ সিংহ মায়ের বাহন। শুধু পশুরাজ নয় নগণ্য ঈঁদুরও আছে গণেশের বাহন হয়ে। পাখিদের মধ্যে সুন্দর ময়ূর আছে কার্তিকের বাহন, কুিসত পেঁচক লক্ষ্মীর বাহন, রাজহংস সরস্বতীর বাহন আর হিংসুক সর্প আছে মহাকারের প্রতীক শিবকে পেঁচিয়ে। সর্বোপরি অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরও মায়ের সঙ্গে। তাই আমরা দুর্গা প্রতিমার কাঠামোতে দেবশক্তি, মানবশক্তি, পশু-পাখি, ক্ষুদ্র-বৃহত্, সুন্দর, কুিসত, শুভ-অশুভের এক মহামিলন দেখতে পাই। এইতো সৃষ্টির বাস্তব সত্য। একে নিয়েই বাঁচতে হবে। বাঁচব কি করে? মা তাই দশহাতে অস্ত্র নিয়ে সংগ্রাম করছেন।

দুর্গাপূজার সার্বজনীনতার আরেকটি প্রতীক হচ্ছে কলা বৌ। কাঠামোর পাশে ছোট্ট একটা বৌ-এর মত সাজিয়ে কলা বৌকে রাখা হয়। বাংলা প্রকৃতির প্রতীক হিসাবে নয়টি ভিন্ন ভিন্ন চারাগাছকে একত্র করে বৌ সাজিয়ে পূজা করা হয়। তাতে উদ্ভিদও মায়ের কাঠামোতে স্থান পায়।

মায়ের পূজাতে যেসব দ্রব্য লাগে তাও বিস্ময়করভাবে সার্বজনীন। পূজায় লাগে সমুদ্রের জল আর কুয়াশা জল।' এ অসীম আর সসীমের মিলন। গঙ্গা জল আর স্বাভাবিক জলতো আছেই। আবার লাগে রাজদরজার মাটি এবং বেশ্যার দরজার মাটি। এ যেন নন্দিত আর নিন্দিতের মিলন। শরত্কালে যে সকল ফুল আর ফল পাওয়া যায় তা সব চাই মায়ের পূজায়।

পূজান্তে অগ্নি হোম যজ্ঞ। যজ্ঞে ঘৃতাহুতি দেয়া চাই মায়ের উদ্দেশে। যজ্ঞতো বৈদিক উপাসনা। এইটি আর্যদের উপাসনা পদ্ধতি। পূজা হচ্ছে তান্ত্রিক প্রথা। এইটি দ্রাবিড়দের উপাসনা পদ্ধতি। পূজান্তে যজ্ঞ করে বৈদিক আর তান্ত্রিক (আর্য আর দ্রাবিড়) প্রথার মিলন ঘটিয়ে মা দুর্গা হয়ে উঠেছেন আর্য অনার্য সকলের। এ এক সার্বজনীন মহামিলন। পূজান্তে প্রতিদিনই হাতে ফুল বেলপাতা নিয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করে মায়ের চরণে অঞ্জলি দেয়া হয়। সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে গোষ্ঠী, বর্ণ নির্বিশেষে স্ত্রী-পুরুষ সকলে এক সঙ্গে অঞ্জলি দেয়া মায়ের সার্বজনীনতার নিদর্শন। তিনদিন মায়ের পূজার পর চতুর্থ দিনে সন্ধ্যায় বিজয়া উত্সবে মিলিত হয়ে সমাজের সকল স্তর ও বর্ণের মানুষের মহামিলনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার সার্বজনীনতার পূর্ণতা ঘটে।

বৈদিক যুগে রাজারা অশ্বমেধ যজ্ঞ করতেন। তিন দিনব্যাপী চলত এ যজ্ঞ। শারদীয় দুর্গোত্সবও তিন দিনব্যাপী চলে। অশ্বমেধ যজ্ঞ ছিল ব্যয়বহুল মহাসমারোহপূর্ণ। শারদীয় দুর্গোত্সবও সমারোহপূর্ণ এবং বর্তমান যুগের পক্ষে ব্যয়বহুলও বটে। বর্তমানকালে শারদীয় দুর্গোত্সবই অশ্বমেধ যজ্ঞ সদৃশ।

মা দুর্গার কাঠামোর সকল দেবদেবী নিয়ে খানিক আলোচনা প্রয়োজন।

শ্রী শ্রী দুর্গা

শ্রী শ্রী চন্ডীগ্রন্থে আছে দুর্গম অসুরকে বধ করেন বলে মায়ের নাম হয়েছে দুর্গা। দুর্গম অসুর এক প্রতীকী নাম। যে অসুরকে দমন করা কষ্টসাধ্য সেই দুর্গম অসুর। আমাদের মনের স্বার্থান্ধতা আর অবিদ্যা হচ্ছে দুর্গম অসুর। কত বড় বড় নেতানেত্রী দেশ ও সমাজের জন্য কত কাজ করেও স্বার্থপরতা ত্যাগ করতে পারেন না। যার ফলে সমাজের জন্য আজীবন কাজ করেও স্বার্থান্ধতার কারণে এক সময় ঘৃণিত ও বিড়ম্বিত হয়ে পড়েন। অবিদ্যা হচ্ছে ভ্রান্ত দৃষ্টি যার ফলে মানুষ অসত্যকে সত্য বলে মানে। ঈশোপনিষদে আছে—'হিরণ্ময়েন পাত্রের সত্যস্য- পহিতং মুখং'। সুবর্ণ পাত্রের দ্বারা সত্যের মুখ আচ্ছাদিত। জগজ্জননীর কৃপায় সেই আচ্ছাদন উন্মুক্ত হলেই কেবল আমরা প্রকৃত সত্য দেখতে পারি বা বুঝতে পারি। তবেই আমরা স্বার্থান্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে জীবন-যাপন করতে পারি। হূদয়ের দুর্গম অসুর বধ না হলে মহতী বিনষ্টী। হূদয়ের দুর্গম অসুর বধ হলেই দুর্গাপূজা সার্থক।

মায়ের বাহন সিংহ। সেও মায়ের সঙ্গে অসুর বিনাশে যুদ্ধ করছে। সিংহ পশুরাজ, রজোগুণসম্পন্ন। তার পৃষ্ঠে মা ডান পা খানা রেখেছেন। এদ্বারা বুঝতে হবে যে রজোগুণকে নিয়ন্ত্রণে রাখলে তা মহত্ কাজে লাগে। পশুকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভাল কিছু কাজ হতে পারে। নিয়ন্ত্রণহীন হলে পশু শক্তি অকলাণ্যের কারণ হয়। মায়ের বাম পায়ের অঙ্গুষ্ঠ অসুরের বক্ষে অথবা কাঁধে। অসুর তমোগুণের প্রতীক। তমোকে জীবন থেকে ঠেলে ফেলে দিতে হবে। বাঁ পায়ের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা ঠেলে মা আমাদের তমোগুণ পরিহার করার শিক্ষা দিচ্ছেন। মায়ের দশ হাত। দশ হাত দশদিকের প্রতীক। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, অগ্নি, নৈঋত, বায়ু, ঊর্ধ্ব, আর অধঃ এই দশদিকেই মার হাত। অর্থাত্ ব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্রই ঈশ্বর। ঈশোপনিষদে আছে—'ঈশা বাস্যমিদং সর্বং যত্ কিঞ্চ জগত্যাং জগত্।'

শ্রী শ্রী লক্ষ্মীদেবী

দুর্গা মায়ের ডানপাশে লক্ষ্মী, প্রস্ফুটিত জলপদ্মের উপর দণ্ডায়মান। লক্ষ্মী ধনের দেবী। জলপদ্ম কাদায় জন্মে। কিন্তু প্রস্ফুটিত ফুলটি নির্মল। কর্দমাক্ত এই সংসারে অর্জিত ধন নির্মল অর্থাত্ সত্পথে আহরিত হওয়া চাই। লক্ষ্মীদেবীর দুই হাত। একহাতে নির্মলতার (সততা) প্রতীক পদ্মফুল অন্য হাতে ধনের প্রতীক শালি ধানের মঞ্জুরি। লক্ষ্মী ধনদেবী। তিনি বৈশ্যদের প্রতীক।

লক্ষ্মীর বাহন পেঁচক। পেঁচক কুিসত। ধন লাভ করে যারা ধনী হন তাদেরকে পেঁচকের এই বাহ্য স্বভাবটি পেয়ে বসে। কুিসত (অন্যায়) পথে ধন উপার্জনে তারা আকৃষ্ট হয়। প্রবঞ্চনা, মুনাফাখোরী, ঘুষখোরী ইত্যাদি হচ্ছে পেঁচকোচিত কুিসত স্বভাব। পেঁচক দিবান্ধ । ধনশালী ব্যক্তিরাও দিবান্ধ হয়ে যায়। তার চারপাশে রুগ্ন, ক্ষুধার্ত, বস্ত্রহীনকে সে আর দেখে না। এমনকি দরিদ্র ভাইকেও দেখে না। পেঁচক যমের দূত। ধনীর কুিসত স্বভাব ও অন্যায় উপার্জনের কথা সে যমকে জ্ঞাত করে। যমের বিচার দণ্ড এগিয়ে আসে। তাই ধনীর ধন বেশি দিন টেকে না।

শ্রী শ্রী গণেশ

গণেশ গণদেবতা (the god of the mass) মা দুর্গার দক্ষিণে লক্ষ্মী। তাঁর দক্ষিণে গণেশ। গণেশের বাহন ইঁদুর। ইঁদুর নগণ্য এবং ক্ষুদ্রকার প্রাণী। ইঁদুরের তুলনায় গণেশের বিশাল দেহ। ইঁদুর তা বহন করে কিভাবে? বহন করে। বাস্তবেই বহন করে। গণেশ গণদেবতা— জনগণের নেতা। নগণ্য অবহেলিত মানুষের ভোটেই নেতা গড়ে ওঠেন। ইঁদুর সেই নগণ্য সাধারণ মানুষের প্রতীক। গণেশ সমাজের কর্ণধার নেতা নেত্রীর প্রতীক।

গণেশের মাথাটা ঐরাবতের। সমাজপতির মাথাতে অনেক বুদ্ধি, জ্ঞান, চিন্তা-চেতনা থাকতে হবে। এই অর্থে সমাজপতির মাথাটাও বড়। এত বড় মাথার সমাজপতিকে সমাজপতি করেছে কৃষক, মজুর, কামার, কুমার, ছুতার সমাজের সকল মানুষ। সমাজে নগণ্য, কৃষক মজুর শ্রেণির মানুষইতো বেশি। সুতরাং সমাজপতি নেতা, নেত্রী, দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে এই সাধারণ মানুষই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যতই সাধারণ হোক তারা, তাদের তুচ্ছ করা যায় না। তাই প্রতীকী ইঁদুরও তুচ্ছ নয়।

শ্রী শ্রী সরস্বতী

সরস্বতী জ্ঞান ও সংস্কৃতির দেবতা। তাই তিনি ব্রাহ্মণ বা বুদ্ধিজীবী শ্রেণির প্রতীক। কাঠামোতে মা দুর্গার বামদিকে তাঁর স্থান।

সরস্বতীর বাহন হাঁস। হাঁস জল ও স্থলে বিচরণ করে, একটি উভচর প্রাণী। হাঁসের একটি বৈশিষ্ট্য সে কাদামাটিতে বিচরণ করে চপচপ করে কাদার মধ্য থেকে শস্যকণা বেছে নিতে পারে। হাঁসের এই গুণটি জ্ঞানী ব্যক্তির অনুকরণীয়। জ্ঞানীকেও অসত্য থেকে সত্য অন্বেষণ করে নিতে হয়, অসার থেকে সার সংগ্রহ করে নিতে হয়।

সরস্বতী শুক্ল বর্ণা, শুক্ল বসনা। শুক্ল বর্ণ সারল্যের প্রতীক, সারল্য জ্ঞানের ভিত্তি। জ্ঞান লাভের জন্য সারল্য চাই।

সাদা মনে এগিয়ে আসতে হবে। সরস্বতীর বাহ্যিক রং এবং বসন হচ্ছে বিদ্যার্থীর মনের প্রতীক।

সরস্বতীর দুই হাত। এক হাতে পুস্তক জ্ঞানের প্রতীক, অন্য হাতে বীণা সংস্কৃতির প্রতীক। সুন্দর জীবন-যাপনের জন্য জ্ঞান আর সংস্কৃতি দুটিই অপরিহার্য। জ্ঞান মানুষকে সত্যে প্রতিষ্ঠিত করে। সংস্কৃতি জীবনকে সুন্দর করে। সত্য আর সুন্দরের মিলনেই সৃষ্টি হয় সকল কল্যাণ। সরস্বতী ঈশ্বরের জ্ঞানশক্তি। জ্ঞানের চূড়ান্ত কথা- স অহং আমিই সেই। আমাদের নিশ্বাস, প্রশ্বাসে জন্মাবধি মৃত্যু পর্যন্ত ধ্বনিত হচ্ছে 'হং' 'সঃ'। নিশ্বাস প্রশ্বাসের এই অনবরত প্রক্রিয়া 'হং' 'স' আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই 'স' 'হং' বা আমিই সেই। 'হং' 'স' বারবার উচ্চারিত হতে হতে হয়ে যায় 'স' 'হং'।

শ্রী শ্রী কার্তিক

সরস্বতীর বামে কার্তিক। কার্তিক যুদ্ধের দেবতা। দেব সেনাপতি। তাই তিনি সমাজের ক্ষত্রিয় শ্রেণির প্রতীক।

কার্তিকের বাহন ময়ূর। ময়ূর পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। কার্তিকও সুন্দর। তার বর্ণ উত্তপ্ত কাঞ্চনের মতো। ময়ূর হিংসার বিরোধী। সর্প ধ্বংস করে। ময়ূর নারীর সতীত্ব রক্ষক। তাই ময়ূরও ক্ষাত্রশক্তির উত্তম ধারক। ময়ূর যখন যুদ্ধ করে তখন তার পেখম ঢালের কাজ করে, নখ আর ঠোঁট অস্ত্র। ময়ূর অত্যন্ত দ্রুতগামী প্রাণী। যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের দ্রুত গমনাগমন প্রয়োজন। ময়ূর নিরলস প্রাণী। সৈনিকেরও আলস্য থাকলে চলবে না। ময়ূর নিদ্রাজয়ী। সৈনিককেও বিনিদ্র রজনী যাপন করে দেশের সীমান্ত প্রহরায় ব্যাপ্ত থাকতে হবে।

অসুর

জগতে দুটি শক্তি— শিষ্ট আর দুষ্ট। এই দুষ্টই অসুর। সুর হচ্ছে শিষ্ট। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনই মা দুর্গার কাজ।

অপহরণ, ব্যভিচার ইত্যাদি অসুরদের দৈনন্দিন কর্ম। অসুরদের এই দুষ্কর্মের ফলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। সমাজের শিষ্ট মানুষদের কল্যাণে এসব অসুর মানুষের দমন একান্ত অপরিহার্য।

আমাদের ভেতরের অসুর আমাদের অসত্য, অন্যায় ও স্বার্থপরতার পথে চালাতে চায়। আমাদের ভেতরেও দুটি শক্তি— শুভ আর অশুভ, ন্যায় আর অন্যায়। অন্যায়ভাবে স্বার্থ হাসিলের লোভ আমাদের হয়, অন্যায়কে আশ্রয় করে জয়ী হবার লোভ আমাদের হয়। এইতো আমাদের ভেতরের অসুর। অন্যায় পথকে নেতি নেতি করে অস্বীকার করতে হবে। ভেতরের অসুরকে দমন করতে না পারলে আমরা ঘোর অন্ধকারে পতিত হবো। দুর্গাপূজা আমাদের শিক্ষা দেয়— ভেতরের ও বাইরের অসুরকে দমন করে জীবন ও সমাজকে সুন্দর করে। মনের অসুরটা দমিত হলেই শুদ্ধ মানুষটা জেগে উঠবে।

মা দুর্গার আশীর্বাদ আমাদের উপর বর্ষিত হোক। আমরা যেন আমাদের ভেতর ও বাইরের অসুরকে দমন করতে পারি।

লেখক: অবঃ অধ্যক্ষ, সরকারি কলেজ, প্রতিষ্ঠাতা আচার্য, কৃষ্ণ দ্বৈপায়ণ বেদ মন্দির, হবিগঞ্জ (বেদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)। সভাপতি, রামকৃষ্ণ মিশন, হবিগঞ্জ

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, '২৪ অক্টোবর নিয়ে অনিশ্চয়তার কিছুই নেই।' আপনি কি তার

সাথে একমত?
2 + 2 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ২৮
ফজর৫:০২
যোহর১১:৪৭
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :