The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৩, ২৮ আশ্বিন ১৪২০, ০৭ জেলহজ্জ, ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ড্র হল বাংলাদেশ- নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্ট ম্যাচ | আগামীকাল পবিত্র হজ্ব | আন্দোলন দমাতে 'টর্চার স্কোয়াড' গঠন করছে সরকার: বিএনপি | ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন দুই নেত্রী | ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে বাংলাদেশ | হ্যাটট্রিক করলেন সোহাগ গাজী | যুক্তরাজ্যকে ইরানের সাথে নতুন করে সম্পর্ক না করার আহ্বান ইসরাইলের | ঘূর্ণিঝড় পাইলিনে নিহত ৭

প্রাচ্যের শন পেন

রুদ্র মাহফুজ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন ভারতের নন্দিত অভিনেতা রাহুল বোস। ঢাকা সফরে শুটিংয়ের ফাঁকে তার সাথে আড্ডা হয়। টাইম সাময়িকী তাকে ভারতের শৈল্পিক ধারার চলচ্চিত্রের সুপারস্টার বলে অভিহিত করেছে। আর ম্যাক্সিম সাময়িকী তার নাম রেখেছে, 'প্রাচ্যের শন পেন'। মঞ্চনাটক দিয়ে শুরু, এরপর বড় পর্দায় 'ইংলিশ, অগাস্ট' (১৯৯৪), 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আয়ার' (২০০২), 'চামেলি' (২০০৩), 'পেয়ার কে সাইড ইফেক্টস' (২০০৬), 'কালপুরুষ' (২০০৮), 'দ্য জাপানিজ ওয়াইফ' (২০১০), 'মিডনাইটস চিলড্রেন' (২০১২), 'বিশ্বরূপম' (২০১২)। মূলধারার ব্যবসায়িক ও সৃজন চিন্তার চলচ্চিত্রে তিনি যেন সমান্তরাল। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ক্রিকেট খেলোয়াড় হোক। আর মা তাকে দেখতে চেয়েছেন মুষ্টিযোদ্ধা কিংবা রাগবি খেলোয়াড় হিসেবে। মুষ্টিযুদ্ধ করে রৌপ্যপদকও জিতেছিলেন। খেলেছেন ভারতের জাতীয় রাগবি দলে। কিন্তু রাহুল বোস একজন অভিনেতাই হতে চেয়েছিলেন। তাই সবকিছু বিসর্জন দিয়ে আপন করে নিয়েছেন অভিনয়কে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয় করতে আসা এই অভিনেতার সাথে এক বিকেলে আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন রুদ্র মাহফুজ

বাংলাদেশে সম্ভবত এ নিয়ে চতুর্থবার এলেন। কেমন দেখেছেন এখানকার পরিবেশ ও মানুষ?

হ্যাঁ, এ দেশে চারবার এসেছি। প্রথমবার ঢাকায় এসেছিলাম চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেনের একটি সেমিনারে অংশ নিতে। পরেরবার এসে চট্টগ্রামে গিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয় দেখে দারুণ লেগেছে। তৃতীয়বার এলাম ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দিতে। আর এবার এসেছি ছবি করতে। উপমহাদেশ আমার বরাবরই ভালো লাগে। এখানে আবেগ, উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা সবই পাই। এখানকার হৈচৈ, কোলাহল, আতিথেয়তা চমত্কার। উপমহাদেশে থাকলে নিজেকে প্রাণবন্ত মনে হয়। আপনাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম খুব ভালো লাগে আমার।

'আন্ডার কনস্ট্রাকশন' ছবিতে কাজ করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি আপনাকে উদ্বুদ্ধ করেছে?

আমি যখনই একটি ছবির জন্য 'হ্যাঁ' বলি, তখন পাঁচটা বিষয় থাকে। প্রথমে গল্প। এরপর দেখি চিত্রনাট্যে নাটকীয়তা আছে কি না। তৃতীয়ত গল্প ও চিত্রনাট্য ঠিকঠাক ফুটিয়ে তোলার মতো পরিচালক হতে হবে এবং চতুর্থ হলো সহশিল্পী। কারণ একা ভালো কাজ করতে পারব না। সহশিল্পী খারাপ দেওয়া হলে আমার কাজও খারাপই হবে। সবশেষে পর্যবেক্ষণ করি আমার চরিত্র। আমাকে দেওয়া চরিত্রটি যদি না থাকত তাহলে গল্পটা হতো কি? যদি চরিত্রটি গল্পে প্রয়োজন হয় তাহলে কাজটা করি।

ছবিতে আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে বলুন?

একজন বাংলাদেশি শিল্পানুরাগী, যিনি সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়ান শিল্পের সন্ধানে। এখানে শাহানারা (এই ছবির নায়িকা অভিনেত্রী শাহানা গোস্বামী) একটি প্রোডাকশন করছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রক্তকরবী'। এই সূত্রে তার সঙ্গে আমার পরিচয়, সম্পর্ক এবং সাইকোলজিক্যাল টানাপোড়েনের শুরু।

রুবাইয়াত হোসেনের পরিচালনা কেমন মনে হলো?

সে খুব ভদ্র একজন পরিচালক। খুব খাটে। দেড়-দুই বছর তার সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছিল এ ছবি নিয়ে। আমরা মুম্বাইয়ে দু'বার ও নিউইয়র্কে একবার আলোচনায় বসেছি। পরিচালক হিসেবে কী চান তা তিনি জানেন। বলার পাশাপাশি শোনার আগ্রহও আছে তার।

বাংলাদেশের ছবি নিয়ে কোনো ধারণা ছিল?

'মাটির ময়না' সম্পর্কে জানি। টরন্টো চলচ্চিত্র উত্সবে তারেক মাসুদ ছবিটির ১৫ মিনিটের বিশেষ অংশ দেখিয়েছিলেন। সম্ভবত দশ বছর আগে। ওই ১৫ মিনিট দেখেই বিমোহিত হয়েছি। তার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও হয়েছিল আমার।

আরও কেউ যদি এখানে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন, করবেন?

নিশ্চয়ই করব। সে ক্ষেত্রে নির্ভর করবে স্ক্রিপ্ট, নির্দেশক, চরিত্র—এসবের ওপর। যেকোনো ভালো কাজে আমার অমত নেই।

মুষ্টিযুদ্ধ ও রাগবিতে উত্সাহ পেয়েছিলেন মায়ের কাছে, তাই না?

আমার মা-বাবার শিকড় জানলেই এর উত্তর পেয়ে যাবেন। আমার বাবা বাঙালি আর মা মারাঠি। মা তার জন্মসূত্রেই একটু লড়াকু। ছোটবেলায় আমার স্কুলের লাঞ্চবক্স সকালে তৈরি করতেন বাবা, রোববারের ছুটিতে অয়েল-ম্যাসাজ

দিতেন তিনিই। বাবা চাইতেন আমি টুপি পড়ি, চামড়ায় রোদ লাগবে না। আমি

বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছি। পূজার ছুটিতে কলকাতায় গিয়ে মিষ্টি খেতাম। গণেশ উত্সবে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে আমাদের গ্রামে গিলিডান্ডা খেলতাম। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যেতাম পাঞ্জাবে। বাড়িতে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি চলত। পাঞ্জাবি পুরো বুঝতে পারি, কিন্তু বলতে পারি কিছুটা। মারাঠি পারি আরেকটু বেশি। সবচেয়ে ভালো পারি বাংলা।

আপনার জন্ম তো কলকাতায়। ছোটবেলার একটা অংশও কেটেছে ওখানে। তখনকার কোনো স্মৃতি?

একদম মনে নেই। আমরা যখন কলকাতা ছাড়ি, তখন আমার বয়স তিন কি সাড়ে তিন বছর। স্মৃতি বলতে যতটুকু মনে পড়ে, একটা ঘর, কিছু রাস্তাঘাট- এমন অস্পষ্ট কিছু চিত্র।

স্কুলে থাকতে ছয় বছর বয়সেই 'টম, দ্য পিপারস সান' নাটকে অভিনয় করেছেন। রাগবি আর বক্সিংয়েও নাম লিখিয়েছেন। স্কুল পার করে রাগবিতে চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছেন, বক্সিংয়ে সিলভার মেডেল জিতেছেন। ব্যাডমিন্টন, ফুটবল—এমনকি ক্রিকেটও খেলেছেন। আসলে জীবনের লক্ষ্যটা কী ছিল আপনার—একজন স্পোর্টসম্যান হওয়া, নাকি অভিনেতা হওয়া?

আসলে তখন তো নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নিয়ে কিছু করিনি। আমার বাবা বলেছিলেন, 'তোমার যা ইচ্ছা করে সেটাই করার চেষ্টা করবে।' তাই যখন যেটা ভালো লেগেছে করেছি। ফুটবল খেলেছি, রাগবি খেলেছি, বক্সিং করেছি, ক্রিকেট খেলেছি, আবার অভিনয়ও করেছি। এতে হয়েছে কী, ভেতরে ভেতরে দুটি সত্তা তৈরি হয়েছে—একটি স্ট্রং, অন্যটি সফট। এটা আমার ক্যারিয়ারে, বিশেষ করে অভিনয়জীবনে অনেক কাজে দিয়েছে।

সাইফ আলি খানের বাবা প্রয়াত মনসুর আলি খান পতৌদির তত্ত্বাবধানে ক্রিকেট শিখেছিলেন ওই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

অসাধারণ। তখন আমার বয়স ১২ বছর। বোম্বে জিমখানা ক্লাবে দুই মাস তার কাছে শেখার সুযোগ হয়েছিল। তিনি শিক্ষক হিসেবে চমত্কার। কাভারে কীভাবে ভালো ফিল্ডিং করা যায় তা বেশি শিখিয়েছেন। তিনি বলতেন, 'যখন ফিল্ডিং করবে তখন হাত পকেটে থাকবে না। সব সময় আক্রমণাত্মক ও ইতিবাচক থাকতে হবে।'

উপমন্যু চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে 'ইংলিশ, আগস্ট' আপনাকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। আর এই ছবিই প্রথম কোনো ভারতীয় ছবি, যেটা টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্স কিনেছিল?

আসলে তখন সময়টাই ছিল একটু অন্যরকম। কেউ নিশ্চিত ছিল না যে ইংরেজি ছবিরও দর্শক আছে, মার্কেট আছে। ছবিটির মাধ্যমে তিনটি ব্যাপার ঘটেছে—১. আমাদেরও যে স্ট্রং ইংলিশ স্পিকিং অডিয়েন্স আছে সেটা জানা গেছে, ২. আর্ট ফিল্মেও যে ফান থাকতে পারে সেটা প্রমাণিত হয়েছে এবং ৩. এ ধরনের ছবিরও যে থিয়েটার সেল ভ্যালু রয়েছে সেটা জানা গেছে। এ ছবির প্রধান টার্গেট ছিল তরুণরা। সব মিলিয়ে ছবিটি ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন একটা পথ দেখিয়েছে।

২০০১ সালে 'এভরিবডি সে'জ আ'ম ফাইন!' ছবি পরিচালনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাই। পরিচালনা নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

চলচ্চিত্র পরিচালনায় আমি বিশেষ একটা টান অনুভব করি। আর এই ছবিটি ছিল আমার প্রথম পরিচালিত ছবি। আরও ছবি পরিচালনার ইচ্ছা আছে। আসছে মার্চ মাসেই নতুন ছবির কাজ শুরু করছি। এখন স্ক্রিপ্ট লেখালেখি চলছে। তবে ছবির নামটা এখন প্রকাশ করতে চাই না। ছবিটি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারি, এ ছবিতেও ভারতীয় সমাজব্যবস্থা আর মানুষের সাইকোলজিক্যাল ব্যাপারগুলো প্রাধান্য পাবে। ছবিটি বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হবে। হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় তো থাকছেই, সেই সঙ্গে থাকছে বাংলা, পাঞ্জাবি, গুজরাট ও মারাঠি। সব মিলিয়ে ছবিটি নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী।

চিত্রনাট্য রচনার কাজও তো করেছেন?

'এভরিবডি সে'জ আ'ম ফাইন!' ছবির চিত্রনাট্যের কাজ করেছি। ২০০৯ সালে লিখেছি 'দ্য উইসপারারস'-এর স্ক্রিপ্ট। আমার লিখতে ভালো লাগে। নতুন যে ছবিটির কাজ শুরু করছি সেটার স্ক্রিপ্টও আমিই লিখছি।

তাহলে কি চিত্রনাট্য রচনায়ও নিয়মিত হচ্ছেন?

নিয়মিত কি না জানি না। ওই যে শুরুতে বলেছি না, ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার পরামর্শে যেটা করতে ভালো লাগে সেটাই করেছি। লেখালেখির এই কাজটিও আমি উপভোগ করি।

মঞ্চে 'দ্য স্কয়ার সার্কেল' নাটকে আপনি একই সঙ্গে লক্ষ্মী ও লক্ষ্মণ চরিত্রে অভিনয় করতেন...

ওই অভিজ্ঞতা অবিশ্বাস্য! বাড়িতে তখন লিপস্টিক মেখে শাড়ি, চুড়ি ও পরচুলা পরে সেজেগুজে চলতাম। আমার ভাগ্নেরা বলত, 'মামার কী হলো!' ওই নাটকে অভিনয়ের আগে চেন্নাইর বাইরে গ্রামীণ নারীদের পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলাম। তারা কেমন হাঁটে, কীভাবে কথা বলে—এসব নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছি। শেষমেশ ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে শাড়ি পরার দক্ষতা অর্জন করি। একই সঙ্গে ছেলেমেয়ের চরিত্রে আর অভিনয় করিনি।

'টপসি টারভি', 'আর দেয়ার টাইগারস ইন দ্য কঙ্গো', 'আর্ট', 'দ্য স্কয়ার সার্কেল' ও 'সি স্ক্যাপ উইথ শার্ক অ্যান্ড ড্যান্সার'-এ কাজ করেছেন। তারপরও মঞ্চ ছেড়ে দিলেন কেন?

আমি সর্বশেষ কাজ করেছি 'আর্ট'-এ। এরপর ২০০০ সাল থেকে আর মঞ্চের কোনো কাজ করা হয়নি। এর কারণটা হচ্ছে, একটা সময় বুঝতে পারলাম, আমি আর উন্নতি করতে পারছি না। থিয়েটারকে আমি আর নতুন কিছু দিতে পারছি না। বলতে পারেন, নতুন কিছু না দিতে পেরে থিয়েটার ছেড়েছি। ফলে আমার কাছে মনে হলো, আমি শুধু শুধু চুরি করছি। টাকা নিচ্ছি, কিন্তু আমার দ্বারা থিয়েটারের কোনো ইমপ্রুভমেন্ট হচ্ছে না। তাই মঞ্চটা ছেড়ে দিলাম।

গান করেন?

একদম না। 'অনুরণন' ছবিতে চিত্রনাট্য অনুযায়ী আমি আমার সহশিল্পীকে খুশি করার জন্য খালি গলায় দুটো লাইন গেয়েছিলাম। অনেকে ওটাকেই আমার গান গাওয়া বলে ধরে নেয়। আসলে পেশাগত আচরণে গান গাওয়াটা আমার কখনোই হয়নি।

অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর কলকাতার বাংলা ছবি 'অনুরণন'-এ কাজ করেছেন। এরপর বুদ্ধদেব দাসগুপ্তের 'কালপুরুষ' ছবিটি জিতে নিয়েছে ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার। অপর্ণা সেনের '১৫ পার্ক স্ট্রিট এভিনিউ' কিংবা 'জাপানিজ ওয়াইফ'সহ অনেক ছবিতেই কাজ করেছেন। বিশেষ করে অপর্ণা সেনের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা শুনতে চাই?

অপর্ণা কিংবা কঙ্কনার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা পরিবারের মতো। সব সময়ই যোগাযোগ হয়। অপর্ণা তো আমার খুবই ভালো বন্ধু। কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে বলব, অপর্ণার সেন্স অব হিউমার প্রবল। সে মানুষের স্বভাব, আচরণ খুব ভালো বোঝে। ফলে তার স্ক্রিপ্টটা এমন একটা স্ক্রিপ্ট হয় যে অভিনেতাকে আলাদা করে বলে দিতে হয় না, এখানে তার চলন-বলন কিংবা আচার-আচরণ কেমন হবে। স্ক্রিপ্ট পড়েই যেকোনো অভিনেতা ভালো রি-অ্যাকশন দিতে পারবে। তবে হ্যাঁ, অভিনেতার কাছ থেকে পরিচালক অপর্ণা কী চায়, সে ব্যাপারেও কিন্তু সে খুবই সচেতন। যতক্ষণ ধরে কাজটি মনের মতো না হচ্ছে, অপর্ণা শট 'ওকে' করবে না। 'জাপানিজ ওয়াইফ'-এর বেলায়ই সে আমাকে বলেছিল, 'এ ছবির ডাবিংটা তুমি পারবে না রাহুল। এটা অন্য কাউকে দিয়ে করাই। কারণ এই চরিত্রটা যে স্ট্যাটাসের, যে ভাষায় কথা বলে, তেমন করে বোধ হয় তুমি পারবে না।' আমি বললাম, অপর্ণা, আমি পারব। পুরো বিষয়টা আমি ভীষণ রকম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলাম। সাধারণত একটি ছবির ডাবিং করতে পাঁচ থেকে ছয় দিন লাগে। আর এ ছবিতে আমাকে ডাবিং করতে হয়েছে ২৯ দিন!

বলিউডে কাজ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গেও কাজ করেছেন, এবার বাংলাদেশে কাজ করছেন। তুলনামূলক একটা বিশ্লেষণ শুনতে চাই?

এটা আমকে দিয়ে একদম হবে না। ইন্ডাস্ট্রির খবর আমি একেবারেই রাখি না। ভারতেই ১২টি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আছে, আমি সর্বোচ্চ তিনটি ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে জানি। তাও খুব বেশি নয়। আসলে এ বিষয়ে বলাটাও একটু কঠিন। কারণ, আমরা যখন শুটিংয়ে যাই, তখন লোকেশন, চরিত্র বুঝে কাজ করতে হয়। কখনও হয়তো এমন লোকেশনে কাজ করছি যেখানে বিদ্যুত্ নেই, কেরোসিনের আলোয় কাজ করতে হচ্ছে। গাড়ি না থাকায় হেঁটে কিংবা নৌকায় লোকেশনে যেতে হচ্ছে। দুর্গম এলাকা হলে খাবার নিয়েও কষ্ট করতে হয়। এসব ঘটনা কিন্তু চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে যেকোনো ইন্ডাস্ট্রির ছবির জন্যই করতে হয়।

বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রগুলোকে দুই বাংলায় মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা উঠছে। আপনার কী মনে হয়, ব্যাপারটা ঠিক হবে? নাকি একটা অসম প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে?

দেখুন আমি মনে করি শিল্পের কোনো ধরাবাঁধা গণ্ডি থাকতে নেই। শিল্প সারা বিশ্বের, সবার। তবে দুটো ইন্ডাস্ট্রির যে প্রতিযোগিতার কথা বলছেন, এ সম্পর্কে সত্যিই আমি বলতে পারব না। ওই যে বললাম, আমি আসলে ইন্ডাস্ট্রিগুলো সম্পর্কে খুব একটা জানি না। আর এই প্রশ্নের একটা প্রত্যাশিত উত্তর বোধ করি আপনার প্রশ্নের মাঝেই লুকিয়ে আছে।

সামনের দিনগুলোতে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

অবশ্যই অভিনয় এবং পরিচালনায়। অভিনয় তো করেছি, করছি। তবে পরিচালনাটা আমাকে বিশেষ করে টানে।

আপনার সেরা ছবি কোনটি? 'মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আয়ার'?

আপনাদের কাছে এটা মনে হতে পারে। আমার প্রিয় অপর্ণা সেনের 'দ্য জাপানিজ ওয়াইফ'। এটাই আমার সেরা কাজ, তবে সেরা ছবি বলব না। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর 'কালপুরুষ'ও প্রিয়। মজা পেয়েছি 'পেয়ার কি সাইড ইফেক্টস', 'ঝঙ্কার বিটস', 'বিশ্বরূপম' ছবিতে কাজ করে।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন- '২৫ অক্টোবরের পর ঢাকায় বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।' আপনি কি তাই মনে করেন?
4 + 3 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
জুন - ২৪
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :