The Daily Ittefaq
ঢাকা, রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৩, ২৮ আশ্বিন ১৪২০, ০৭ জেলহজ্জ, ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ ড্র হল বাংলাদেশ- নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্ট ম্যাচ | আগামীকাল পবিত্র হজ্ব | আন্দোলন দমাতে 'টর্চার স্কোয়াড' গঠন করছে সরকার: বিএনপি | ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন দুই নেত্রী | ২৫৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে বাংলাদেশ | হ্যাটট্রিক করলেন সোহাগ গাজী | যুক্তরাজ্যকে ইরানের সাথে নতুন করে সম্পর্ক না করার আহ্বান ইসরাইলের | ঘূর্ণিঝড় পাইলিনে নিহত ৭

ছোটবেলার ঈদ

রিয়াদ খন্দকার

ঈদ ঘিরেই সারা বছরের আয়োজন। ঈদ এলেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে আমজনতা থেকে আকাশগঙ্গার ওপারে থাকা নক্ষত্রকূলের সকলেই। আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র কিংবা নির্মাণের হাট। প্রতি বছরই ঈদ আসে, ঈদ চলেও যায়। কিন্তু মনের কোণে লুকিয়ে থাকে ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি। আহা কেমন ছিল দিনগুলো!'। এবার আমরা শরণাপন্ন হলাম আমাদের প্রিয় তারকাদের কাছে। জানতে চাইলাম, কেমন ছিল তাদের ছোটবেলার ঈদের দিনগুলো। তাদের সেই গল্পগুলো নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার

আলী যাকের

ছোটবেলার ঈদ মানেই ছিল একটি অন্যরকম অনুভূতি। এটা যেভাবেই বলি না কেন কমই হবে। আগে থেকেই দিন গোনা শুরু হয়ে যেত—আর কতদিন বাকি ঈদের। যথারীতি সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই ঝটপট গোসল সেরে নিতাম। তারপর নতুন জামা পরে মায়ের হাতের খেয়ে চলে যেতাম নামাজ পরতে। বাবার কাছ থেকে সালামি পাওয়াটা ছিল অনেক মজার। অনেকগুলো পয়সা পকেটে, যেন শেষই হতে চাইত না। বড়বেলায় এসে সেই আমেজটি খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন আমার স্বপ্নের ঈদ মানে এমন এক ঈদ যেখানে একসাথে একই আনন্দে ঈদ করতে পারবে বাংলাদেশের আপামর জনগণ। ঈদের আনন্দ নির্মল, এতে যেন ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদাভেদ না থাকে। এখন আমাদের দেশে দেখা যায়, যারা ধনী তারা ঈদ উপলক্ষ করে সীমাহীন টাকা খরচ করেন। আর যাদের নেই তারা তাকিয়ে তাকিয়ে সেটা দেখেন। আমি স্বপ্নেও কখনও এটা দেখতে চাই না।

আসাদুজ্জামান নূর

তখন আমরা থাকতাম নীলফামারি সদরে। এখন যেটি শহীদ আলী হোসেন রোড নামে পরিচিত, সেখানকার বাসায়। মা-বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। তবে তারা রক্ষণশীল ছিলেন না। উদার মনের ছিলেন। আমার সঙ্গে গল্প করতেন। স্কুলের পড়া পড়াতেন। তখনকার ঈদের আনন্দটা অন্যরকম ছিল। ঈদের কদিন আগেই বাসায় দর্জি আসত। সাধারণত ঈদের কাপড় মা-বাবাই পছন্দ করতেন। ঈদের দিন এলে খুব মজা হতো তখন। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে গোসল সেরে ফেলতাম। নতুন জামা কখনও নতুন পাঞ্জাবি পড়তাম। বাবার সঙ্গে চলে যেতাম স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়তে। বাসায় এসে মুরুব্বিদের সালাম করতাম। সালাম করলেই সেলামি পেতাম। চার আনা, আট আনা। তখনকার সময়ে চার আনা, আট আনা ছিল অনেক টাকা। এক পয়সায় একটি লজেন্স কেনা যেত। এখন ছেলেমেয়েরা অনেক আধুনিক। সেলামির প্রচলন খুব একটা দেখি না। সেলামির আনুষ্ঠানিকতা শেষে এ-বাড়ি ও-বাড়ি হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে চলে যেতাম বিভিন্ন জায়গায়।

সুচন্দা

শৈশবের ঈদের কোনো তুলনা নেই। মনে আছে, বাবা যখন আমাদের জন্য নতুন পোশাক কিনে আনতেন, সেটা ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত লুকিয়ে রাখতাম। পোশাক লুকিয়ে রাখার কারণ হলো, আগে কেউ দেখে ফেললে প্রিয় পোশাক যদি পুরোনো হয়ে যায়! ঈদের দিন সকালে সেই পোশাক পরে পাড়া বেড়াতে বেরোতাম। এভাবে পুরো কিশোরী বয়স পার করেছি। তার পরই তো চলচ্চিত্রে এলাম। আমার মতে, এখন এত ব্যস্ততার মধ্যে আলাদা করে ঈদের আনন্দ সেভাবে ধরা দেয় না। তখন আনন্দের ক্ষেত্রও পরিবর্তন হয়—নিজের চেয়ে অন্যকে দিতে পারলেই বেশি ভালো লাগে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই আত্মীয়-স্বজনকে উপহার দিয়ে। মনে আছে, যখন প্রথম নিজে আয় করা শুরু করলাম, তখন থেকেই সবাইকে ঈদ উপহার দেওয়া শুরু করি।

চম্পা

ছোটবেলার ঈদই বেশি আনন্দের। মনে পড়ে, আমরা তখন গেন্ডারিয়ায় থাকতাম। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদের আগে মার্কেটে যেতাম। শপিং নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হতো। ভাই, বোন, বাবা-মা সবার কাছ থেকে আলাদা আলাদা করে জিনিস নিতাম। জামার কাপড় কিনে বন্ধুদের দেখাতাম না। জামা তৈরি হওয়ার পর দর্জিবাড়ি থেকে অবশিষ্ট ছোট টুকরাগুলোও নিয়ে আসতাম। যাতে কোনো বন্ধু আমার জামার রঙটা পর্যন্ত না জানতে পারে। ঈদের দিন জামা পরে বন্ধুদের সারপ্রাইজ দিতাম। আর জুতা ছিল আমার খুবই প্রিয়। নতুন জুতা কিনে বাক্সসহ বিছানায় মাথার কাছে রেখে ঘুমাতাম। ঘুমানোর আগে পায়ে দিয়ে কয়েকবার বিছানার ওপর হাঁটতাম। ধুলা লেগে যাবে, এজন্য মাটিতে হাঁটতাম না। ঈদের দিন নতুন জামা, জুতা পরে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতাম। এখন আর সেই মজা পাই না। কারণ, পরিবেশও আগের মতো নেই। যান্ত্রিক যুগ, মানুষের মনও যেন যান্ত্রিক হয়ে গেছে। ঈদের দিন কোথাও ঘুরতে যাব। শহরের জ্যামের কথা মনে হলেও ভয় লাগে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে যেতে সময় শেষ!

আইয়ুব বাচ্চু

ছোটবেলায় ঈদ করতাম চট্টগ্রামে গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু এখন নানা কাজের চাপে আর সেখানে গিয়ে ঈদ করা হয়ে ওঠে না। ওই সময়টার মজাই আলাদা। সুখের সময়ের স্মৃতিচারণ করার মধ্যে একটি নির্মল ভালো লাগা থাকে। আমার ছোটবেলার ঈদের মজাটাও ছিল তেমন নির্মল—মায়ের হাতের সেমাই, বাবার কাছ থেকে সালামি, বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো। পুরো দিনটাই কাটতো অন্যরকম অনুভূতি নিয়ে। এখন ঈদের দিনের বেশির ভাগ সময়টাই আমার ঘরে কাটে। পরিবারের সঙ্গে আনন্দেই কাটে সময়টা। এই ভালোলাগাটা ভিন্ন। আমার স্বপ্নের ঈদ হবে স্বপ্নের মতোই। দেশে কোনো বস্তি থাকবে না। সকলে একই রকমের খাবার এবং একই মূল্যমানের পোশাক পরবে।

ফাহমিদা নবী

আমরা ছোটবেলায় দিনাজপুরে ঈদ করতাম। ওটা খুব মনে হয়। নানির হাতে রান্না করা গরুর মাংসের স্বাদ ছিল অসাধারণ। অনেকেই বেড়াতে আসত। কেমন যেন অদ্ভুত একটা আনন্দ হতো। আর ঈদে যদি আব্বা দিনাজপুরে আসতেন, তাহলে তো ঈদের দিন অনেক মানুষ আসত মাহমুদুন্নবীকে দেখতে। এতে আমরা খুব মজা পেতাম। চাপকল আর কুয়োর পাড়ে বালতি দিয়ে পানি তুলে গোসল করার সেই মধুর স্মৃতি কখনোই ভুলতে পারব না আমি। আব্বা ঈদের আগের দিন বাজারে যেতেন। পরদিন আম্মা রান্না করতেন। আমরা দু-বোন সব সময় আম্মাকে সাহায্য করতাম। তবে আমি একটু ডানপিটে স্বভাবের ছিলাম। ঈদের দিনও পাশের বাসায় ফুল চুরি করতে যেতাম। সামিনা যেত, তবে সব কাজ শেষ করে আমার সহকারী হিসেবে। আব্বা আমাদের জন্য একটা বিশেষ সাবান নিয়ে আসতেন। 'ক্যামি' নামের ওই সাবান না হলে ঈদটা অসম্পূর্ণ মনে হতো।

মৌসুমী

ছোটবেলায় এক ধরনের ঈদ করতাম, বড় হয়ে আরেক ধরনের ঈদ। আর এখন তারকা হওয়ার পর অন্য ধরনের ঈদ করি। এখন তো ছেলেমেয়ের আনন্দই আমার আনন্দ। আগে ছোটবেলায় আমরা নিজের জামা কাউকে দেখাতাম না। এক্সক্লুসিভ ডিজাইন করে পোশাক বানাতাম, যাতে সবাই আমার পোশাক দেখার জন্য বাসায় আসে। আমার পোশাকটাই সেরা হতে হবে—এমনটা মনে করতাম। এখন তো দেশি-বিদেশি ডিজাইনারদের অনেক ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। আমি শুধু আমার ছেলেমেয়েদের পোশাক দিই তা নয়, ওদের শেয়ারিং বিষয়টা শেখানোর জন্য বলি, 'কাজিনদেরসহ তোমরা পোশাক কিনতে যাও।' নিজেরা একটা ভালো ব্র্যান্ডের বা দামি পোশাক পরার থেকে সবাই মিলে নতুন পোশাক পরলে ভালো লাগবে। ছোটবেলায় শুধু নিজেরটা ভাবতাম, এখন সবারটা ভাবি। তারকা হওয়ার আগে সারা দিন ঘোরাঘুরি করে রাতে 'আনন্দমেলা' দেখতাম বিটিভিতে। এখন এত চ্যানেল এত অনুষ্ঠানের ভিড়ে সব দেখা হয় না। তবে ঈদ মানেই খুশি। তাই এই খুশিকে উপভোগ আগেও করতাম, এখনও করি।

ফেরদৌস

ঈদের দিন খুব আগ্রহ নিয়ে ঈদের সালামি সংগ্রহ করতাম। সালামি পাওয়াটা খুব আনন্দের ছিল। সালামির টাকা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে রাজ্জাক, ববিতা, সালমান শাহ, অঞ্জু, ওয়াসিমের ছবি দেখতাম। তবে আমার সেরা দিন ছিল চাঁদরাত। ওই দিন বন্ধুরা মিলে এলিফ্যান্ট রোডে জুতা কিনতে যেতাম। সারা রাত হই-হুল্লোড় করে মার্কেটে ঘুরতাম। সকালে বাসায় ফিরে গোসল করে নামাজে যেতাম। তারকা হওয়ার পর সবকিছুই পাল্টে গেছে। তখন ঈদের সময় ছবি দেখতে যেমন আনন্দ পেতাম, এখন নিজের ছবি মুক্তি পেলে টেনশন লাগে। ছবিটি কেমন ব্যবসা করবে, সেই টেনশনেই অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তারকা হওয়ার পর মার্কেটে যাওয়াই হয় না। আমার দুই মেয়ে নুজহাত আর নামিয়াকে নিয়ে যখন মার্কেটে যাই, তখন নিজের ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ে। ঈদে অন্যদের সালামি দিতেই বেশি আনন্দ পাই।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন- '২৫ অক্টোবরের পর ঢাকায় বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।' আপনি কি তাই মনে করেন?
6 + 6 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
আগষ্ট - ২১
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :