The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ০৯ কার্তিক ১৪২০, ১৮ জেলহজ্জ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ শর্ত সাপেক্ষে কাল ঢাকায় সমাবেশের অনুমোতি পেয়েছে বিএনপি | চট্টগ্রামে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে নোমানের নেতৃত্বে মিছিল | মমিনুলের শতকে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ | এবার খুলনায়ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ | চলে গেলেন মান্না দে | কাল রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত | তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই সরকার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে: তথ্যমন্ত্রী | নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত, সময় মতো তফসিল:সিইসি

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া

কাল থেকে এই সরকার অবৈধ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ২৫ অক্টোবর থেকে বর্তমান সরকার 'অবৈধ'। এই 'অবৈধ' সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা এখন নাগরিক দায়িত্ব, এবং আমরা তা করবো। কারণ মানুষ এ সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। 'দুনীতিবাজ, দলবাজ ও অত্যাচারী' এ সরকারকে সরিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করে দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে শিক্ষকসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

সরকারকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি নিয়ে আপনারা টালবাহানা করছেন। এতদিন আপনারা আমাদের বলেছেন-ফর্মুলা দিন, আমাদের বলছেন-সংসদে প্রস্তাব দিতে। আপনাদের কথামতো আমরা সবকিছু করলাম, কোনো কিছু বাদ নেই। কাজেই বল এখন আপনাদের কোর্টে। এখন আপনাদেরই অ্যাক্ট করতে হবে। সংবিধান সম্মতভাবেই আমাদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা বলেছি প্রয়োজনে নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচিত করে আনুন, যারা ওই সরকারে থাকবেন তারা কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না। দেশে শিক্ষিত, যোগ্য ও নিরপেক্ষ বহু লোক রয়েছেন। তাদের অধীনে একটি অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

বিরোধী দলীয় নেতা সরকারের উদ্দেশ আরও বলেন, দেশের মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কেন আপনারা তড়িঘড়ি করে সংবিধান সংশোধন করলেন? এটার তো কোনো দরকার ছিল না। এই তত্ত্বাবধায়কের দাবিও তো আপনাদেরই ছিল। এরজন্য আপনারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছেন। বহু জ্বালাও-পোড়াও করেছেন, গান পাউডার দিয়ে বাসযাত্রীদের পুড়িয়ে মেরেছেন, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে মেরেছেন। আপনাদের দাবি মেনেই আমরা তত্ত্বাবধায়ক দিয়েছিলাম। তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনে কখনও বিএনপি, কখনও আওয়ামী লীগ জিতেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, মানুষ যাকে খুশি ভোট দিয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, সেই তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে আপনারা চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করেছেন। এর আগেও ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য আপনারা বাকশাল করেছিলেন। কিন্তু থাকতে পারেননি। এখন যে বলছেন-সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বেন না, এই সংবিধান অনুযায়ীই আপনারা নির্বাচন করবেন। এই চিন্তা ছেড়ে দিন, একতরফা নির্বাচনের কথা ভুলে যান। আপনাদের অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতেও দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, এ সরকার দাবি করে তারা নাকি খুব জনপ্রিয়, তারা নাকি দেশের অনেক উন্নয়ন করেছে। আপনারা যদি এতই জনপ্রিয় হয়ে থাকেন, তাহলে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। কিন্তু আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি নিজেই ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করে জিতেন, তাহলে সেটির মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই। আপনি ক্ষমতায় থাকলে দেশে কী নির্বাচন হবে! এখন সবখানে ১৪৪ ধারা দেয়া হচ্ছে। এ থেকেই বোঝা যায়, তারা নির্বাচনকে কত ভয় পায়।

আজ শুক্রবার ঢাকায় ১৮ দলের সমাবেশে সরকার নানাভাবে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টি করছে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রাস্তা—ঘাট থেকে নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অনেককে গুম করা হচ্ছে, অনেককে রিমান্ডে ও অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রতি পদে পদে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সরকারকে বলবো-কোনো ধানাই-পানাই করবেন না, সমাবেশে বাধা-বিপত্তি সৃষ্টি করে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। আজকের সমাবেশে শিক্ষক-কর্মচারীসহ সবাইকে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে আমরা সরকারে গেলে আপনাদের সব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। এখন আপনাদের উচিত দেশে গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের সহযোগিতা করা। আমরা ক্ষমতায় গেলে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। আমরা জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করবো। তাই বলবো-আসুন, দেশ রক্ষায় ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সবাই একসঙ্গে কাজ করি। তাহলে সবার দাবি পূরণ হবে।

অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা আপনাদের বাদ দিয়ে কিছু করবো না। আপনারা যা করেছেন আমরা তা করবো না। ইতোমধ্যে আমি ক্ষমা করার কথা বলেছি। আপনারা যে অত্যাচার, নির্যাতন করেছেন, মিথ্যা মামল দিয়েছেন-আমরা সেগুলো করবো না। কারণ গত পাঁচ বছরে আপনারা দেশে যে ক্ষতি করেছেন, তা পুষিয়ে ওঠার দিকেই আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার চালাচ্ছে। তার নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে। অথচ মানুষের যে মৌলিক অধিকার সেই সভা-সমাবেশ পর্যন্ত করতে দেয়া হচ্ছে না, আলোচনা করতে দিচ্ছে না। টেলিভিশনের টকশোতে সবাই যার যার মত প্রকাশ করতে পারছে না। এটা কী গণতন্ত্র! দেশে বিদ্যুত্, পানিসহ নানা সমস্যায় মানুষ জর্জরিত। দেশের এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে গণতান্ত্রিক ও জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, এ সরকার এদেশের মানুষের সরকার নয়। এটা শুধু আওয়ামী লীগের সরকার, সেজন্য তারা শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই কাজ করে। এ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ টেন্ডার বা কাজ পায় না, এমন কি চাকরিও পায় না। তারা কাজ না করেও টাকা নিয়ে যায়। এই আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আস েতখনই লুটপাট করে। '৯৬ সালেও তারা শেয়ারবাজার লুট করেছিল, এবারও ক্ষমতায় এসে লুট করেছে। এবার তারা হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, ডেসটিনি ও পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি করেছে। সরকারি ব্যাংকগুলো লুট করে দেউলিয়া করে দিয়েছে। তারপরেও তারা বলে তারা ক্ষমতায় এলে নাকি দেশ এগোয়, আাার বিএনপি এলে নাকি দেশ পিছিয়ে যায়। আসলে বিএনপি আসলে দেশ বহুগুণে এগিয়ে যায়।

সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকার একটি স্বৈরাচারি সরকার। তারা জনগণের বুকের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে। সব পেশার মানুষের জীবন তারা দুর্বিসহ করে তুলেছে। দেশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ বিপন্ন। আজ (বৃহস্পতিবার) এ সরকারের শেষ দিন। নৈতিকতা থাকলে তাদের উচিত ছিল আজ পদত্যাগ করা। কিন্তু করেনি। কারণ তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। তিনি বলেন, নির্দলীয় ব্যবস্থা ছাড়া আমরা কোনো ব্যবস্থা মানবো না। এটাই চূড়ান্ত কথা।

সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, এ সরকার শিক্ষকদের জন্য কিছুই করেনি। শিক্ষামন্ত্রী একজন 'কমিউনিস্ট' ও 'নাস্তিক'। তাকে দিয়ে শিক্ষকদের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি নেতা বরকত উল্যাহ বুলু, আমান উল্যাহ আমান, এহছানুল হক মিলন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদিন সবুজ ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ।

আজকের এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেসক্লাবের চারপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের শর্তসাপেক্ষে অনুমতি পাওয়া এই সমাবেশে আগতদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও এক ধরনের আতঙ্ক লক্ষ্য করা যায়।

সর্বশেষ আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংসদে খালেদা জিয়ার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বিএনপি, আপনি কি মনে করেন সংসদ তার প্রস্তাব বিবেচনা করবে?
3 + 4 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৭
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :