The Daily Ittefaq
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ০৯ কার্তিক ১৪২০, ১৮ জেলহজ্জ ১৪৩৪
সর্বশেষ সংবাদ শর্ত সাপেক্ষে কাল ঢাকায় সমাবেশের অনুমোতি পেয়েছে বিএনপি | চট্টগ্রামে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে নোমানের নেতৃত্বে মিছিল | মমিনুলের শতকে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ | এবার খুলনায়ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ | চলে গেলেন মান্না দে | কাল রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত | তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই সরকার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে: তথ্যমন্ত্রী | নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত, সময় মতো তফসিল:সিইসি

৬২ কোম্পানি শনাক্ত, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি ২৯টি ওষুধ

পরীক্ষার ফলাফলে বদলে যায় ওষুধের গুণগত মান

নেপথ্যে কোটি টাকার দুর্নীতি

আবুল খায়ের

নিম্নমান, ভেজাল কিংবা বিষাক্ত দ্রব্যের সংমিশ্রণে তৈরি করা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বাজারজাত করছে একশ্রেণির কোম্পানি। সরকারি ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি তাদের পরীক্ষার রিপোর্টে ঐ সব কোম্পানির ওষুধের গুণগত মান ভাল দেখিয়ে পাঠিয়ে দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে। এ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ঐসব কোম্পানির উত্পাদিত নিম্নমান, ভেজাল ও বিষাক্ত ওষুধ প্রশাসন থেকে ছাড়পত্র পেয়ে যায়। ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির পরীক্ষার রিপোর্ট ও বাজারজাতকরণের ছাড়পত্র পেতে এরা কোটি কোটি টাকা ঘুষ পর্যন্ত দেয়। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরিতে দুর্নীতি চলছে বহু বছর ধরে। এ দুর্নীতির সাথে জড়িত ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের একশ্রেণির কর্মকর্তা।

একটি বিশেষজ্ঞ দল সমপ্রতি তদন্ত করে ৬২টি কোম্পানির নিম্নমান, ভেজাল ও বিষাক্ত ওষুধ তৈরির প্রমাণ পেয়েছে। এরমধ্যে ২৯টি কোম্পানির ওষুধে প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐসব কোম্পানি নিজেরা নিম্নমানের ওষুধ তৈরির পাশাপাশি নামিদামি কোম্পানির উন্নতমানের ওষুধ হুবহু নকল করে বাজারজাত করে আসছে। প্রকাশ্যে চলতে থাকে এসব ওষুধের বাজারজাত। আর এসব ভেজাল ও বিষাক্ত ওষুধ খেয়ে শিশু মৃত্যুসহ বাড়ছে নানা ধরনের অঙ্গহানির ঘটনা।

বিশেষজ্ঞ দল জানায়, ওষুধ প্রশাসন এসব কর্মকর্তার দুর্নীতিই ভেজাল, নিম্নমান ও বিষাক্ত ওষুধের বাজার সয়লাব হওয়ার অন্যতম কারণ। এসব কর্মকর্তা নিয়মিত ঐসব কোম্পানি থেকে কোটি কোটি টাকার ভাগ পেয়ে থাকে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কাছে ওষুধ প্রশাসন জিম্মি। ওষুধ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসব কর্মকর্তাকে বসানো হয়। তাদের কারণে ওষুধ প্রশাসনের দুর্নীতিরোধ করা সম্ভব হয় না।

দুই কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ১৯৯৩ সালে বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ৭ শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ঐ সময় ৬টি ওষুধ কোম্পানির বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি ও বিশেষজ্ঞরা। এ ঘটনার আজ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি হয়নি। জড়িত কোম্পানির মালিকরা নিরাপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বিষাক্ত ওষুধ উত্পাদনকারীদের সাহস আরো বেড়ে গেছে।

এসব কোম্পানি প্রকাশ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে ভেজাল, নিম্নমান ও বিষাক্ত ওষুধ বাজারজাত করছে। এর প্রমাণ হচ্ছে, ২০১০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উত্পাদিত একটি কোম্পানির প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে বেশ কিছু শিশুর প্রাণহানি ঘটে। শুরু হয় দেশব্যাপী তোলপাড়। তদন্ত রিপোর্টেও উঠে আসে বিষয়টি। ঐ কোম্পানির মালিক একজন রাজনৈতিক নেতা। ক্ষমতার দাপটে বিগত সরকারের আমলে তিনি ঐ কোম্পানি বাগিয়ে নিয়েছেন। ঐ কোম্পানির দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিকার হয়নি।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের দুই কর্মকর্তা বলেন, ড্রাগ অর্ডিন্যান্স শাস্তি বিধান সীমিত পরিসরে রয়েছে। দুর্বল ড্রাগ অর্ডিন্যান্সের কারণে বিষাক্ত, নকল, ভেজাল ও নিম্নমান ওষুধ উত্পাদনকারী ও বিক্রেতারা সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে। থাইল্যান্ড, চীন ও আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত ভেজাল, বিষাক্ত, নকল ও নিম্নমান ওষুধ সামগ্রী উত্পাদনকারীর বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক মৃত্যুদণ্ড বিধান থাকলে ভেজালের পথে আর কেউ পা ফেলার সাহস পেতো না বলে এসব কর্মকর্তারা অভিমত দেন।

বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ভেজাল, নিম্নমান, নকল ও বিষাক্ত ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের ভাবমূর্তি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য এ্যালোপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন ও তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। এ সংসদীয় কমিটির অধীনে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে থেকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি এক বছর উত্পাদিত ওষুধ কোম্পানিগুলোর কারখানা সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন ও তদন্ত করেন। ৬২টি কোম্পানি নিম্নমান, ভেজাল, নকল ও বিষাক্ত ওষুধ তৈরির জন্য শনাক্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটি এসব ওষুধের মধ্যে এন্টিবোয়োটিক ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধও বাজারজাত করার প্রমাণ পেয়ে বিস্মিত হন। উল্লেখ্য, এদেশ থেকে ৮৫টি দেশে ওষুধ রফতানি করা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা বলেন, কিভাবে ঠাণ্ডা মাথায় এ ধরনের বিষাক্ত ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করছে, তা ভাবতে অবাক লাগে। তারা নিরবে বিষাক্ত ওষুধ খাইয়ে রোগীদের হত্যা করছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগার ও প্রশাসনের সাগর চুরি দুর্নীতির তথ্য। বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯টি কোম্পানির ওষুধ খেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। ঐসব কোম্পানির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে ওষুধ তৈরির কোন প্রযুক্তিই নেই। বিশেষজ্ঞ কমিটি ৬২টি কোম্পানির তালিকাসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ দেয়। আধুনিক প্রযুক্তিতে ওষুধ তৈরির ব্যবস্থাপনা চালু করার জন্য ঐ সব কোম্পানিকে কয়েক মাসের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু সুযোগ তারা গ্রহণ না করে আগের মত নকল, ভেজাল, নিম্নমান ও বিষাক্ত ওষুধ তৈরি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষজ্ঞ দলটি পুনরায় যাচাই করতে গিয়ে এর প্রমাণ পেয়েছেন। সমপ্রতি টাঙ্গাইলে একটি কোম্পানির ইনজেকশন দেয়ার পর চার নবজাতকের তাত্ক্ষণিক মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছে। কিন্তু এ কমিটিও ঐ কোম্পানির পক্ষে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর পেছনেও মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে। ঐ কোম্পানি একশ্রেণির চিকিত্সককে গাড়ি, বাড়ি, বিদেশ যাতায়াতের টিকেটসহ নানা নামিদামি উপহার সামগ্রী দিয়ে তাদের ওষুধ বাজারজাত করছে। ফরেনসিক বিভাগের এক বিশেষজ্ঞ জানান, চার নবজাতকের ময়না তদন্ত করে তাদের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষা করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হতো। তবে এসব নবজাতকদের লাশের ময়না তদন্ত পর্যন্ত করা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, তদন্তে ইনজেকশন দেয়ার নব জাতকদের মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবহূত ইনজেকশনের রাসায়নিক পরীক্ষা করার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিক বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটি কর্তৃক নিম্নমানের ওষুধ তৈরি কোন তালিকা এখনও তিনি পাননি। তালিকা আসলে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।

font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
সংসদে খালেদা জিয়ার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বিএনপি, আপনি কি মনে করেন সংসদ তার প্রস্তাব বিবেচনা করবে?
8 + 1 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
নভেম্বর - ১৫
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :