The Daily Ittefaq
ঢাকা, সোমবার ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২৪ মহররম ১৪৩৪

রোকেয়া দিবসে অবরোধ কর্মসূচি পালনকারীদের ধিক্কার দিন

----------------------------------- প্রধানমন্ত্রী

বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম রোকেয়া দিবসে দেশব্যাপী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের জন্য বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন।

ওসমানী মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া পদক-২০১২ হস্তান্তরকালে। তিনি বলেন, 'বিএনপি ও জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বেগম রোকেয়া দিবসে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। এ জন্য আমি বেগম রোকেয়া দিবসে যারা বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে তাদের প্রতি ঘৃণা জানাতে দেশের নারীর সমাজের প্রতি আহ্বান জানাই। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে মন্ত্রণালয়ের সচিব তরিকুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য প্রফেসর মাহফুজা খানম ও সৈয়দ জেবুন্নেসা হক এমপির হাতে বেগম রোকেয়া পদক-২০১২ তুলে দেন। সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে বাংলাদেশের টাইগারদের পাঁচদিনের সাহারা কাপ জয়ের পরদিন বিজয়োত্সব করতে বাধা দেয়ায় বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয়োত্সবের পরিবর্তে এই কর্মসূচি দিয়ে রাস্তায় ভাঙচুর ও গাড়ি জ্বালাও পোড়াও করা হচ্ছে। তারা বিজয়ের এই মাসে বাংলাদেশের জয় মেনে নিতে পারেনি।

শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা বা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার আন্দোলনের নামে তারা আসলে কি চায়? প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যাযজ্ঞ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও লাখ লাখ ঘরবাড়ি জ্বালাও পোড়াওয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা মানবতাবিরোধী হিংস্র অপরাধের জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি এবং আমরা অবশ্যই এই বিচার সম্পন্ন করবো। শেখ হাসিনা ধর্মের নামে যারা দেশে নারী উন্নয়ন ব্যাহত করতে চায় তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন পূরণ করে আরো দৃঢ়চিত্ত হয়ে সকলের সমান অধিকার, সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট হই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনে সক্ষম হবো। পরে শেখ হাসিনা এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

'রোকেয়ার মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করতে হবে'

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বেগম রোকেয়া যে সাম্যসমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা শুধু নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপের মধ্য দিয়েই ঘটবে না এজন্য ইহজাগতিক বোধের সাধনাও জরুরি। রোকেয়ার চিন্তায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদেরও সমন্বয়ধর্মী, শ্রেণী-বৈষম্যবর্জিত এবং জেন্ডার-সমতাবাদী মুক্তসমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতে হবে।

রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমী আয়োজিত একক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন অধ্যাপক সোনিয়া নিশাত আমিন। তিনি বলেন, রোকেয়া রচনা পুনর্পাঠের দাবি রাখে, কারণ সাহিত্যিক মূল্যের পাশাপাশি তাঁর রচনার সমাজ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সমান তাত্পর্যপূর্ণ।

একাডেমীর পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর ফেলো অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম বলেন, রোকেয়া ছিলেন সাহিত্যসাধক ও সমাজসংস্কারের পথিকৃত্। তিনি বিশ্বাস করতেন শিক্ষা ব্যতীত নারীমুক্তি অসম্ভব। সমকালীন সমাজের ভ্রূকুটি উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন তা সত্যি দৃষ্টান্তস্থানীয়।

শামসুজ্জামান খান বলেন, রোকেয়া অন্ধকার সময়ে বাতিঘর হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি শুধু নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরোধাই নন বরং চিন্তার প্রাগ্রসরতায় তিনি বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীও বটে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্যপ্রয়াত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উত্সব

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উত্সবের দ্বিতীয় দিন রবিবার ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদায়ী গান, দেশাত্মবোধক নৃত্য, আবৃত্তি, পথনাটক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মোমবাতি প্রজ্বলন ও এক মিনিট নীরবতা পালন ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে গেন্ডারিয়া ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠে বিজয় উত্সব অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। আলোচক ছিলেন সীমান্ত খেলাঘরের সভাপতি মোরশেদ চৌধুরী, গ্লোরিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার সভাপতি সফিউর রহমার দুলু, নিগার চৌধুরী প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর। মানজারুল ইসলাম চৌধুরী সুইটের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে সীমান্ত খেলাঘর, সুরসাধনা, ভিন্নধারা, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী। আবৃত্তি পরিবেশন করে স্বরূপ আবৃত্তি একাডেমী। সবশেষে দেখানো হয় হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র 'আগুনের পরশমণি'। গত শুক্রবার 'রুখে দাঁড়াও পরাজিতের হুংকার, যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবেই এবার' শ্লোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় উত্সবের উদ্বোধন হয়। আজ সোমবার ১০ ডিসেম্বর লক্ষ্মীবাজারের বাহাদুর শাহ্ পার্কে অনুষ্ঠিত হবে উত্সবের তৃতীয় দিন। বিজয় উত্সবের আনুষ্ঠানিক সমাপনী হবে ২৮ ডিসেম্বর রাজশাহী এবং ২৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারের রামুতে।

চেন্নাই ব্যাঙ্গালোর চলচ্চিত্র উত্সবে

হুমায়ূন আহমেদের 'ঘেটুপুত্র কমলা'

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ও কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' দেশের একমাত্র ছবি হিসাবে এবার ভারতের দুইটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে যোগ দিচ্ছে। আগামী ১৩-২০ ডিসেম্বর ভারতের চলচ্চিত্র নগরী চেন্নাইতে অনুষ্ঠিতব্য ১০তম চেন্নাই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এ চলচ্চিত্রটি অংশ নিচ্ছে। এ উত্সবে সারা বিশ্বের মোট ৪৫টি দেশের ১৬০টি চলচ্চিত্র অংশ নিচ্ছে।

এছাড়া আগামী ২০-২৭ ডিসেম্বর ব্যাঙ্গালোর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও অংশ নিচ্ছে 'ঘেটুপুত্র কমলা'। এখানেও মোট ৪৫টি দেশের ১৭৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসাবে 'ঘেটুপুত্র কমলা'র অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। উত্সবে অংশ নেবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চার হাজার ডেলিগেট। বাংলাদেশ থেকে উত্সবে প্রতিনিধিত্ব করবেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

কপিরাইট ফোরামের কর্মশালা

মেধাস্বত্ব সম্পদ নিয়ে সাংবাদিকদের জন্য এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার শিল্পকলা একাডেমীর সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরাম। 'মেধাস্বত্ব সম্পদ ও গণমাধ্যম : করণীয় বর্জনীয়' শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ম. হামিদ। কর্মশালায় কপিরাইট আইনের নানা দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমীর সচিব ও বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের সাবেক রেজিস্ট্রার মনজুরুর রহমান, বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরামের প্রধান নির্বাহী ব্যারিস্টার এবিএম হামিদুল মিজবাহ এবং কপিরাইট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাহেলা আক্তার। কপিরাইট অফিস, বাংলাদেশ ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) সহযোগিতায় অনুষ্ঠেয় এই কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৩০ জন সিনিয়র সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, এনজিও কর্মীরা অংশ নেন।

এই পাতার আরো খবর -
font
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
পদ্মাসেতু ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলাকালে হঠাত্ বিবৃতি দিয়ে বিশ্বব্যাংক অন্যায় করেছে। অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য যৌক্তিক বলে মনে করেন?
7 + 8 =  
ফলাফল
আজকের নামাজের সময়সূচী
অক্টোবর - ১৯
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮
archive
বছর : মাস :
The Daily Ittefaq
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তাসমিমা হোসেন। উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন। ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে তারিন হোসেন কর্তৃক ৪০, কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ থেকে প্রকাশিত ও মুহিবুল আহসান কর্তৃক নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস, কাজলারপাড়, ডেমরা রোড, ঢাকা-১২৩২ থেকে মুদ্রিত। কাওরান বাজার ফোন: পিএবিএক্স: ৭১২২৬৬০, ৮১৮৯৯৬০, বার্ত ফ্যাক্স: ৮১৮৯০১৭-৮, মফস্বল ফ্যাক্স : ৮১৮৯৩৮৪, বিজ্ঞাপন-ফোন: ৮১৮৯৯৭১, ৭১২২৬৬৪ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭২, e-mail: [email protected], সার্কুলেশন ফ্যাক্স: ৮১৮৯৯৭৩। www.ittefaq.com.bd, e-mail: [email protected]
Copyright The Daily Ittefaq © 2014 Developed By :